বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা পার্ট ৩

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩০ পয়েন্ট)



X রাজনীতির নেতা হয়ে যাবে। রাজনীতির নেতাদের দেখেছি সব সময় বানিয়ে বানিয়ে অনেক কথা বলতে হয় । কাজেই দেখাই যাচ্ছে এখন আমাদের স্কুলের কোনো নাম ডাক না থাকতে পারে কিন্তু আজ থেকে পনেরো কিংবা বিশ বছর পরে আমাদের স্কুল থেকে অনেক বিখ্যাত (কিংবা কুখ্যাত মানুষ বের হবে। ফুটবল প্লেয়ার, দার্শনিক, সিরিয়াল কিলার, মাদক সম্রাজ্ঞী, নায়িকা, পীর, শীর্ষ সন্ত্রাসী, সাহিত্যিক কিংবা নেতা এরকম অনেক কিছু তৈরী হলেও এই স্কুল থেকে কোনো বৈজ্ঞানিক বের হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা গেল আমাদের হাজী মহব্বতজান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন খাঁটি বৈজ্ঞানিক বের হওয়ারও একটা বিশাল সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। তবে এটাকে সম্ভাবনা বলব না আশংকা বলব সেটাও অবশ্যি আমরা এখনো ঠিক জানি না । ঘটনাটা শুরু হয়েছে এভাবে ।বুধবার রাত্রি বেলা ভয়ংকর একটা শব্দে আমাদের ছোট শহরটা কেঁপে উঠল— কিসের শব্দ কোথায় শব্দ কেমন করে শব্দ কিছুই আমরা জানতে পারলাম না । শব্দটা মনে হয় দক্ষিণ দিক থেকে এসেছে এছাড়া কিছুই টের পাওয়া গেল না । যখন কোনো কিছু জানা না যায়, তখন নানা রকম গুজব ডালপালা ছড়ায়, তাই এবারেও নানারকম গুজব শুনতে পেলাম । সবচেয়ে পানশে গুজব হচ্ছে কাছাকাছি একটা ট্রান্সফর্মার ফেটে গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ গুজবটা হল চীন আর আমেরিকার মাঝে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, আমেরিকা থেকে চীনের দিকে একটা মিসাইল ছুঁড়েছে, পুরোটা যেতে পারে নাই মাঝখানে আমাদের শহরের ওপর পড়েছে । শহরের দক্ষিণ দিকটা পুরো বাতাস হয়ে উড়ে গেছে । আমি একটু দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, অক্সব্রীজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল শহরের দক্ষিণ দিকে, সেই স্কুল বাতাস হয়ে উড়ে গেলে আমাদের কী লাভ? আমাদের স্কুল শহরের উত্তরে, যদি উত্তর দিক বাতাস হয়ে উড়ে যেতো আমাদের কিছু একটা লাভ হত । পরদিন স্কুলে গিয়ে দেখলাম বগা এক কপি দৈনিক মহব্বত নিয়ে এসেছে, সেই পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় বড় বড় করে হেড লাইন “প্রচণ্ড বিস্ফোরণে অক্সবীজ স্কুল বিধ্বস্ত। স্কুল অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা।” ভিতরে ছোট ছোট করে লেখা আনুমানিক রাত আটটা তিরিশ মিনিটে একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণে স্কুলের মূল ভবনটি ধ্বসে পড়েছে । কোথায় কেন কীভাবে সেটি ঘটেছে কেউ জানে না। অনুমান করা হচ্ছে স্কুলের ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণের সূত্রপাত । স্কুলের গার্ড বলেছে, সে রাত আটটার দিকে দশ বারো বছরের একটি ছেলেকে দোতালার বারান্দা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছে ৷ ল্যাবরেটরির দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞান শিক্ষককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে । ল্যাবরেটরির একটা চাবির কোনো হদিস নেই । অনেকবড় বিস্ফোরণ হলেও কোনো মানুষ আহত হয়নি কিংবা মারা যায়নি । খবরটা পড়ে আমাদের খুব দুঃখ হল । ঘটনাটা যদি অক্সব্রীজ স্কুলে না হয়ে আমাদের স্কুলে হতো তাহলে কী মজাই না হতো, অনির্দিষ্ট কালের জন্যে স্কুল বন্ধের আনন্দটাই অন্যরকম— আমি লিখে দিতে পারি অক্সবীজ স্কুলের ছেলেমেয়েরা কোনোদিন এই আনন্দ উপভোগ করতে পারবে না। বরং তাদের নিশ্চয়ই মন খারাপ যে তারা স্কুলে যেতে পারছে না। পরের কয়েকদিন আমরা খুব মনোযোগ দিয়ে দৈনিক মহব্বত পড়লাম, সেখানে একটা রহস্যময় বালকের কথা লেখা হল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টা ধামাচাপা দিয়ে রাখল। আমরা একদিন অক্সবীজ স্কুলটা দেখে এলাম, তাদের সুন্দর বিল্ডিংয়ের বড় অংশ এখনো ধ্বসে পড়ে আছে । কবে সেই স্কুল আবার দাড়া হবে কে জানে । এর দুইদিন পর আমাদের স্কুলে একটা নূতন ছেলে ভর্তি হল । আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েরা যেহেতু লেখাপড়া করে না— তাই কখনো তাদের চোেখ খারাপ হয় না। সেজন্যে আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েদের কারো চোখে চশমা নেই । আমাদের স্কুলে যে নূতন ছেলেটা ভর্তি হল তার চোখে চশমা এবং দেখেই বুঝতে পারলাম তার চশমার অনেক পাওয়ার ছেলেটার জামা কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, শুধু তাই না আমরা দেখলাম তাকে একটা গাড়ী থেকে নামিয়ে দেয়া হল । স্কুলে ঢোকার আগে গাড়ী থেকে নেমে একজন মহিলা নিশ্চয়ই ছেলেটার মা— অনেকক্ষণ ছেলেটায় সাথে কথা বললেন । দূর থেকে কথা শোনা যাচ্ছিল না, আমরা শুধু অনুমান করতে চেষ্টা করলাম কী বলছেন। ঝুম্পা বলল, “বলছেন, এই বাদমাইস পাজীর পা ঝাড়া একটান দিয়ে তোর কল্লা ছিড়ে ফেলব, ঘুষি মেরে তোর ভূড়ি ফাঁসিয়ে দেব। তোর মতো অপদার্থ বেজন্মাকে জন্ম দেওয়ার কারণে আজকে আমার এতো বড় অপমান, মহব্বতজান স্কুলে তোকে ভর্তি করাতে হচ্ছে, চৌদ্দ গুষ্ঠির সামনে আমি মুখ দেখাতে পারব না। ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ!” ফারা বলল, “উহুঁ, মায়ের চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে মা এরকম খারাপ খারাপ কথা বলতে পারেন না। আমার মনে হয় মা বলছেন, আমি তোকে নিয়ে আর পারি না। বাবা তুই আর আমাকে কতো জ্বালাতন করবি? তোর অন্য ভাইবোন তো তোর মতো না। তারা ঠিকমত লেখাপড়া করে ভালো ব্যবহার করে । তুই কেন এরকম? এই শহরে কী আরো এক ডজনভালো স্কুল নাই? তাহলে তোকে কেন মহব্বতজান স্কুলে ভর্তি করতে হচ্ছে?” বগা বলল, “আমার কী মনে হয় জানিস? আমার মনে হয় মা বলছেন, তোর চেহারা দেখে কেউ অনুমান করতে পারবে তুই এতো দুষ্টু? ভালোমানুষের মত চেহারা, আর তলায় তলায় এতো দুষ্টুমি? তোকে কোনো ভদ্র স্কুল নিতে রাজী হচ্ছে না— শেষ পর্যন্ত মহব্বতজান স্কুলে এনে ভর্তি করতে হচ্ছে? আমি এখন কোথায় যাব?” আমি কিছু বললাম না, ছেলেটাকে দূর থেকে ভালো করে লক্ষ্য করলাম । মা যখন তার সাথে কথা বলছে তখন তাকে দেখে মনে হলো কথাগুলো তার এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে । কথাগুলো মনে হয় সে শুনছেই না কিংবা শুনলেও বুঝছে না। ছেলেটা কেমন যেন উদাস উদাস ভাবে দাঁড়িয়ে রইল। মাঝে মাঝেই ডান হাতটা তুলে বুকের কাছে নিয়ে আসছে । মনে হয় পকেটে কিছু একটা আছে যেটা একটু পরে পরে হাত দিয়ে দেখছে সেটা আছে না চলে গেছে। মা বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে ছেলেটাকে ছেড়ে দিলেন তখন ছেলেটা স্কুলের দিকে এগিয়ে এল ৷ সে কোন ক্লাশে ভর্তি হবে আমরা তখনো জানি না, তাই তাকিয়ে তাকে লক্ষ্য করতে লাগলাম। মহব্বতজান স্কুলের কোনো ছিরি ছাদ নাই, কোনটা কোন ক্লাশ সেটা কোথাও লেখাও নাই । শুধু তাই না, ক্লাশ রুম গুলো সাজানোও নাই, ক্লাশ থ্রীয়ের পাশে ক্লাশ এইট, সেভেনের পাশে টেন এরকম কেউ যদি না জানে কোনোভাবেই সে তার ক্লাশ খুঁজে পাবে না। আমাদের স্যার ম্যাডামেরাও খুঁজে পান না, তাই তারা মাঝে-মধ্যে ভুলভাল ক্লাশে এসে বসে থাকেন, কিন্তু তারা যেহেতু কোনো কিছু পড়ান না কারো কোনো সমস্যা হয় না। একবার জলীল স্যার আমাদের বেদম পিটাচ্ছিলেন, আমি স্পষ্ট শুনলাম স্যার বিড়বিড় করে বলছেন, “এতো বড় বড় ছেলেমেয়ে এখনে৷ ক্লাশ থ্রীতে পড়ে!” আমরা তখন ক্লাশ এইটে পড়ি যাই হোক ছেলেটাকে খুবই বিভ্রান্ত দেখা গেল, তখন হঠাৎ সে আমাদেরকে দেখতে পেল । সে আবার ডান হাতটা তার বুকের কাছে ধরে বুক পকেটের জিনিসটা পরীক্ষা করে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে, কাছাকাছি এসে চশমার ফাঁক দিয়ে আমাদেরকে এক নজর দেখে বলল, “ক্লাশ এইট কোটা বলতে পার?”বগা জিজ্ঞেস করল, “তুমি ক্লাশ এইটে পড়?" ফারা বলল, “তোমাকে যে নামিয়ে দিলেন, উনি কী তোমার আম্মু? যা সুইট !” ঝুম্পা জিজ্ঞেস করল, “তোমার নাম কী?” আমি বললাম, “তোমার পকেটে কী?” ছেলেটা ঝট করে সোজা হয়ে গেল, তারপর কেমন যেন ভ্যাবাচেকা খেয়ে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল । বোঝাই যাচ্ছে পকেটে যে জিনিষটা আছে সেটার কথা সে কাউকে জানাতে চায় না। আমি ছেলেটার চোখের দিকে তাকালাম । মুখ দিয়ে কোনো কথা না বলে শুধু চোখের দৃষ্টি দিয়েও কথা বলা যায়, আমি তখন চোখের দৃষ্টি দিয়ে ছেলেটাকে বললাম, “আমি জানি তোমার পকেটে যে জিনিষটা আছে সেটা গোপন এবং মনে হয় বেআইনী । কিন্তু তোমার কোনো ভয় নাই, তুমি আমাদেরকে সেটা বলতে পার । আমরা কাউকে বলব না ।” ছেলেটি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল, তার চোখে প্রথমে এক ধরণের ভয় দেখা গেল— আস্তে আস্তে ভয়টা একটু কমে এল । তখন সে বগার দিকে তাকিয়ে বলল, “হ্যা, আমি ক্লাশ এইটে পড়ি।” তারপর সে ঘুরে ফারার দিকে তাকাল, বলল, “হ্যা আমার মা আমাকে নামিয়ে দিয়েছে।” তারপর সে একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলল, সেটাকে একটা দীর্ঘশ্বাসের মত শোনাল। বলল, “সবার ধারণা আম্মু খুব সুইট আসলে আম্মুর মেজাজ খুবই গরম । আমাকে ঝাড়ি দেওয়া হচ্ছে আম্মুর হবি।” কথা শেষ করে সে ঝুম্পার দিকে তাকাল, বলল, “আমার নাম মিঠুন” । সবার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সে আমার দিকে তাকাল, জিজ্ঞেস করল, “আমার পকেটে কিছু একটা আছে সেটা তুমি কেমন করে বুঝতে পেরেছ?” আমি বললাম, “না বোঝার কি আছে? তোমার চালুক চুলুক ভাব দেখলেই বোঝা যায়।” “চালুক চুলুক?” “হ্যা । বোঝাই যাচ্ছে কিছু একটা বেআইনী জিনিষ আছে- লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছ ।” মিঠুন নামের ছেলেটা মাথা নাড়ল, বলল, “তুমি ঠিকই বলেছ ।” বলে সে শীষ দেওয়ার মত একটা শব্দ করল, আমি ভাবলাম এখন সে বলবে তার পকেটে কী আছে । কিন্তু সে বলল না চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা পার্ট ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...