বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা পার্ট ২

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩০ পয়েন্ট)



X কেউ যেন মনে না করে আমাদের স্কুলের সব মেয়েই ঝুম্পার মতোন জঙ্গী টাইপের, সেটা সত্যি নয়। ঝুম্পা একটু বেশী অন্যরকম । অন্য মেয়েরা প্রায় স্বাভাবিক, যেমন ফারা খুবই নরম স্বভাবের মেয়ে, হাসিখুশী, মিষ্টি স্বভাবের, পৃথিবীর সবার জন্যে তার ভালোবাসা— দেখে মনে হয় সে বুঝি একটা ছোটখাটো মাদার টেরেসা, শুধু মাত্র বেগম রোকেয়াকে সে দুই চোখে দেখতে পারে না। তার নাম শুনলেই সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে, দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “এই মহিলার জন্যে আজ আমার এই অবস্থা।” প্রথমবার যখন শুনেছিলাম তখন আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কী অবস্থা? বেগম রোকেয়া কী করেছেন?” “কী করেছেন মানে? তার জন্যেই তো মেয়েদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে। না হলে আজ আমরা কতো আরামে থাকতে পারতাম। কোনো লেখাপড়া করতে হতো না।” ফারা যখন এটা বলছে তখন দেখলাম অনেক মেয়ে মাথা নাড়ছে, ভাগ্যিস বেগম রোকেয়া বেঁচে নাই । বেঁচে থাকলে এই দৃশ্য দেখলে নিশ্চয়ই অনেক মন খারাপ করতেন একদিক দিয়ে মেয়েদের অবস্থা আমাদের থেকে ভালো, তারা বেগম রোকেয়াকে দোষ দিয়ে মনটা হালকা করতে পারছে, আমাদের সেই কপাল নাই, কাউকে দোষ দিতে পারি না। তবে এই ব্যাপারে বগার একটা থিওরি আছে। বেগম রোকেয়ার উপর ফারা আর অন্যান্য মেয়েরা যতই রেগে থাকুক এখন নাকী তারাই বেশী লেখাপড়া করছে। বগা বলেছে সে নাকী কোন পত্রিকায় পড়েছে যে লেখাপড়াটা আস্তে আস্তে মেয়েদের কাছে চলে যাচ্ছে, এই ভাবে আর কিছুদিন গেলে নাকী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বৈজ্ঞানিক, পুলিশ, মিলিটারি, জজ, ব্যারিস্টার, অফিসার সব কিছু হবে মেয়ে । তখন ছেলেদের আর কিছুই করতে হবে না। ভালো দেখে চালাক চতুর একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেললেই সারা জীবনের জন্যে নিশ্চিন্ত মেয়েটা চাকরী বাকরী করে টাকা পয়সা উপার্জন করবে, ছেলেরা বাসায় বসে বসে স্পোর্টস চ্যানেলে ক্রিকেট না হলে কুস্তি দেখবে । বগার কথাটা সত্যি হলে খারাপ হয় না, তাহলে আমাদের এতো কষ্ট করে আর লেখাপড়া করতে হবে না । তবে বগার কথাটা কতটুকু বিশ্বাস করা যায় জানি না— বগা অবশ্যি আমাদের মত এতো গুলপট্টি মারে না, সে খুবই সিরিয়াস । আমার মনে হয় সেটা হয়েছে তার নামটার কারণে। একজন মানুষের সাথে নামের এতোমিল থাকতে পারে সেটা বগাকে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না, বগা দেখতে হুবহু একটা বকের মতো। শুকনা, পাতলা, লম্বা লম্বা ঠ্যাং, লম্বা একটা গলা, গলার মাঝে উঁচু কণ্ঠার হাড়, নাকটা শুধু লম্বা না, লম্বা হয়ে একটু বাঁকা হয়ে গেছে গায়ের রং বকের মতো সাদা। বগা হাঁটেও বকের মত লম্বা লম্বা পা ফেলে । বগা নাম রাখার কারণে বগার চেহারা বকের মত হয়েছে নাকী জন্ম হবার পর তার মা-বাবা দেখেছে বাচ্চার চেহারা বকের মতন সেই জন্যে তার নাম রেখেছে বগা সেটা কেউ পরিষ্কার করে জানে না । ঝুম্পা ফারা আর বগা ছাড়াও আমাদের ক্লাশে আরো অনেক ছেলেমেয়ে আছে যাদের যে কোনো একজনকে নিয়ে একটা আস্ত বই কিংবা তেরো পর্বের টিভি সিরিয়াল লেখা যায়। যেমন আমাদের গুললু, সে সাইজে বেশী বড় না কিন্তু তার হাত পা ঘাড় মাথা পেট সবকিছু মনে হয় স্টীলের তৈরি । শুধুমাত্র গুললু সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলে বলে প্রত্যেক বছর আমাদের স্কুল ফুটবল খেলায় ফাইনাল পর্যন্ত উঠে যায়। গুললু যখন বল পায় তখন সে যেভাবে বলটাকে নিয়ে এগিয়ে যায় সেটা দেখলে মনে হয় একটা ট্যাংক এগিয়ে যাচ্ছে। তার ধারে কাছে কেউ আসতে পারে না, না বুঝে যদি কোনো প্লেয়ার চলে আসে তখন গুললুর হাত পা কিংবা ঘাড়ের একটা ঝটকা খেয়ে সে দশ হাত দূরে ছিটক পড়ে। খেলা শুরু হবার কিছুক্ষণের ভিতর রেফারী লাল কার্ড দিয়ে গুললুকে বের করে দেয় । লাল কার্ড দেওয়ার আগে গুললু যদি গোটা চারেক গোল দিয়ে ফেলতে পারে তাহলেই সাধারণত আমরা চ্যাম্পিয়ান হয়ে যাই। আমাদের হাজী মহব্বতজান উচ্চ বিদ্যালয় এই ফুটবল খেলা ছাড়া আর কোনো কিছুতে যেতে পারে না। কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা, ডিবেট, নাটক, গান, ছবি আঁকা, গণিত অলিম্পিয়াড এই ধরণের কোনো কিছুতে আমাদের স্কুলের কেউ কোনোদিন কোনো পুরস্কার পায় নাই, শুধু গুললুর কারণে আমরা মাঝে মাঝে ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন আর রানার্স আপ হয়েছি। এমনিতে গুললুর মেজাজ খুব গরম তাই মারপিট হাঙ্গামা করে সে যদি জেলখানায় চলে না যায় তাহলে আ থেকে দশ বছর পর সে নিশ্চয়ই এই দেশের ন্যাশনাল ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন হয়ে যাবে । হবেই হবে । তারপর যেমন ধরা যাক রোল নম্বর তেতাল্লিশের কথা, সে কোনোদিন কোনো কথা বলে না, সে শুধু কথা শোনে। আমরা তার নামও জানি না। রোল নম্বর তেতাল্লিশের চোখ বরফের মত ঠাণ্ডা, সে কী বোকা না বুদ্ধিমান,রাগী না শান্ত আমরা তার কিছুই জানি না। তার মনের ভিতরে কী আছে আমরা তার কিছুই অনুমান করতে পারি না সেইজন্যে আমরা ভিতরে ভিতরে সবাই তাকে একটু ভয় পাই। গুললু পর্যন্ত রোল নম্বর তেতাল্লিশকে ঘাটায় না । সে বড় হয়ে কী হবে সেটা নিয়ে আমাদের নিজেদের ভিতরে দুইটা ভাগ আছে । এক ভাগ মনে করে সে বড় হয়ে সিরিয়াল কিলার হবে আরেক ভাগ মনে করে সে অনেক বড় দার্শনিক হবে। শুধু বগার ধারণা রোল নম্বর তেতাল্লিশ দিনের বেলা দার্শনিক আর রাতের বেলা সিরিয়াল কিলার হবে । মেয়েদের ভিতরে মৌসুমীর কথাও বলা যায় । সে কী হবে এখনো ঠিক করতে পারে নাই― কিন্তু মোটামুটি গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় যে লেখাপড়া না করে যা কিছু হওয়া সম্ভব সে তার যে কোনোটাই হতে পারবে । কিছুদিন আগে খবরের কাগজে একজন মাদক সাম্রাজ্ঞীর খবর পড়ে তার ইচ্ছে ছিল সে মাদক সাম্রাজ্ঞী হবে । এখন সে তার মত বদলে ফেলে নায়িকা হবার পরিকল্পনা করেছে। মোটামুটি অনুমান করা যায় এটাও বেশীদিন থাকবে না কয়দিন পরেই হয়তো বলবে সে বুটিকের দোকান দিবে । আমাদের ক্লাশে এই রকম আরো অনেক আছে সে সবার কথা বলে শেষ করা যাবে না । জুননুন যেরকম ঠিক করেছে বড় হয়ে একটা খানকায় শরীফ দিয়ে পীর হয়ে যাবে। লাখ খানেক মুরীদ যদি করে ফেলতে পারে তাহলে তার আর টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না । পীর কেমন করে হতে হয়, পীর হওয়ার আলাদা স্কুল আছে কী না, সেখানে জিপিএ ফাইভ পেয়ে পাশ করতে হয় কি না সেটা জুননুনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারে নাই। তবে তার ভাবভঙ্গী দেখে বোঝা গেল— যদি সে পীর হতে না পারে তাহলে শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে যাবে- তার টাকা পয়সার অনেক দরকার । হাজার হাজার না, লাখ লাখও না তার দরকার কোটি কোটি টাকা। জুননুন ছাড়াও আমাদের ক্লাশে আছে বাপ্পা, তার মত মিথ্যা কথা আর কেউ বলতে পারে না। চোখের পাতি না ফেলে সে ভয়ংকর ভয়ংকর মিথ্যা কথা বলে ফেলে । মিথ্যা কথা বলতে বলতে তার এমন অভ্যাস হয়েছে যে যখন সত্য কথা বললে লাভ হয় তখনো সে মিথ্যা কথা বলে বিপদে পড়ে যায় । বাপ্পাকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বড় হয়ে সে নিশ্চয়ই সাহিত্যিক হবে, শুধুমাত্র যারা সাহিত্যিক তারাই মনে হয় এইভাবে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা দিয়ে বোঝাই করে বই লিখে ফেলে। যদি কোনো কারণে বাপ্পা সাহিত্যিক হতে না পারে তাহলে নিশ্চয়ই সে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা পার্ট ৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...