বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গুটুর অনলাইন ক্লাস☺️

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩০ পয়েন্ট)



X স্কুল খুলে যাচ্ছে, এই খবর শোনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক তাফাজ্জল স্যার শিশুদের মতো আনন্দে লাফিয়ে উঠছেন। প্রতিদিন অফিসে আসছেন তিনি। স্কুলের পিয়ন হিরণবাবুকে ডেকে বললেন, স্কুল খোলার দিন ভোরে শাহবাগ থেকে এক হাজার লাল গোলাপ নিয়ে আসতে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে স্কুলের গেট দিয়ে ঢোকার সময় লাল গোলাপ শুভেচ্ছা দিয়ে জানানো হবে সাদর সম্ভাষণ। লাল গোলাপের কথা শুনে হিরণবাবু ভীষণ বিরক্ত। মনে মনে বলছেন, দীর্ঘদিন বাসায় থাকতে থাকতে হেডস্যারের মাথা মনে হয় আউলা হয়ে গেছে। লাল গোলাপের কী দরকার! স্কুলে তো ছাত্রছাত্রী আসবে, এলাকার এমপি–মন্ত্রী তো আসবে না! স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে তরুণ শিক্ষক আকতার। সারা দিন ফেসবুকে দেশ-দুনিয়া উদ্ধার করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এই লম্বা সময়। হেডস্যার মনে মনে হজম করেছেন এত দিন, এবার তাকে ব্যস্ত করার একটা মোক্ষম সুযোগ পেয়েছেন। অফিসে ডেকে আনানো হলো আকতার স্যারকে। হেডস্যার বললেন, ‘দীর্ঘদিন ছেলেমেয়েরা স্কুলে না আসায় তাদের স্কুলের প্রতি একটা অনীহা তৈরি হয়ে আছে। এখন এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা স্কুলে আসার প্রতি টান অনুভব করে।’ হেডস্যার সিদ্ধান্ত নিলেন, স্কুল খোলার প্রথম সপ্তাহ বিশেষ কোনো পড়াশোনা হবে না, নানা রকম বিনোদনমূলক কার্যক্রম দিয়ে সাজানো হবে। কী কী বিনোদনমূলক ব্যবস্থা রাখা যায়, তার একটা আইডিয়া বের করতে দায়িত্ব দেওয়া হলো আকতার স্যারকে। সময় ৭২ ঘণ্টা। সংযুক্তি হিসেবে হেডস্যার আগেই বলে দিয়েছেন, যেহেতু বর্ষাকাল, তাই মাঠে খেলাধুলার আয়োজন থাকবে কম। বিকল্প চিন্তা করতে হবে। তারপর একটা পান মুখে দিয়ে পানের ডাঁটা দিয়ে জিবে চুন ঘষলেন স্যার। খুব উৎসাহ নিয়ে বললেন, গোলাপ দিয়ে ছেলেমেয়েদের গেটে রিসিভ করার আইডিয়া যে একটা যুগান্তকারী ব্যাপার হতে যাচ্ছে। আনন্দে চেয়ারে লম্বা টান টান হয়ে হেলান দিয়ে ফেললেন। আরেকটু হলেই পড়েই যাচ্ছিলেন, কিন্তু আনন্দের কমতি হলো না তাতে।টানা তিন দিন নানা চিন্তা করে আকতার স্যার হাজির হলেন হেডস্যারের রুমে। স্কুলের সব শিক্ষকই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। অনেকগুলো আইডিয়ার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়টা প্রথমে বলবেন বলে ছোট নোট নিয়ে এসেছেন আকতার স্যার। খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বললেন, ‘স্যার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক দিন বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েরা ঘরে থাকতে থাকতে একঘেয়ে হয়ে আছে, আমরা তাদের নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরে এলে দারুণ ব্যাপার হবে! ছেলেমেয়েরা একদম চাঙা হয়ে উঠবে মানসিকভাবে!’ হেডস্যার প্রায় ধমক দিয়ে বলে উঠলেন, ‘আপনাকে বলা হলো ছেলেমেয়েদের স্কুলে মন ফেরানোর উপায় বের করতে আর আপনি নিয়ে এলেন বনে-জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব! আরে, আপনি তো বড় হলে বেকুব হবেন দেখছি।’ আকতার স্যারের ভান্ডারে আরও আইডিয়া ছিল, কিন্তু ঝাড়ি খেয়ে এমন চুপসে গেলেন তিনি যে আর কিছু বলার সাহস পেলেন না। এক ফাঁকে মল্লিকা ম্যাডাম গান গেয়ে উৎসবে আরও নতুন রং যোগ করে দিলেন। হেডস্যার বললেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিক্ষকের এমন সারপ্রাইজ পরিবেশনা থাকছে। এরপর সব শিক্ষককে নিয়ে দফায় দফায় মিটিং হওয়ার পর চূড়ান্ত হলো, সপ্তাহব্যাপী উৎসব আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিনে থাকবে চমক আর চমক। গুটুরা স্কুলে আসার আগপর্যন্ত এসব আয়োজনের কিছুই জানে না। গেটে বিশাল লাল গোলাপের স্তূপ দেখে চমকের শুরু। স্কুল মাঠে সবার হাতে হাতে গোলাপ। কিন্তু কতক্ষণ আর গোলাপ হাতে নিয়ে ঘোরা যায়। শুরু হলো গোলাপের পাপড়ি খুলে এদিক–সেদিক ছড়ানো। স্কুলের মাঠে রাখা বিশাল সাউন্ড বক্সে হেডস্যার ঘোষণা দিলেন, ‘আজ স্কুলকে ভালোবাসা দিবস!’ সবুজ ঘাসের ওপর লাল গোলাপের পাপড়ি মিলেমিশে একাকার। অনেক দিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে জড়িয়ে ধরার উল্লাসে স্কুল মাঠ তখন এক স্বপ্নপুরী হয়ে উঠেছে। দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছে। তারপর কনসার্ট হবে, সে আয়োজনও শুরু হয়ে গেছে। আজ যে ক্লাস হবে না, এই পূর্বাভাস সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ায় উৎসব আরও বেড়ে গেল। বিকেলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হোসেন স্যার যখন ‘এমন যদি হতো আমি পাখির মতো উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ’ গানের পর ঘোষণা দিলেন, এই উৎসব কেবল আজকের জন্যই না, এটা চলবে সপ্তাহব্যাপী, তখন গুটুরা সবাই একসঙ্গে এমনভাবে হর্ষধ্বনি দিয়ে আকাশ–বাতাস কাঁপিয়ে দিল, যেন স্কুল মাঠ পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় একটা জায়গা। এত দিন বন্ধ থেকে কী মিসটাই না তারা করেছে!আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনার মাঝে স্কুলের ছেলেমেয়েরা যারা গান গাইতে বা নাচতে চাইছে, তাদেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এক ফাঁকে মল্লিকা ম্যাডাম গান গেয়ে উৎসবে আরও নতুন রং যোগ করে দিলেন। হেডস্যার বললেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিক্ষকের এমন সারপ্রাইজ পরিবেশনা থাকছে। স্কুলের এক কোণে মেলার মতো আয়োজন করা হয়েছে। দিনভর নাগরদোলা ঘোরার কড়কড় শব্দ আর ছেলেমেয়েদের উল্লাসের শব্দ বেজে যাচ্ছে। আরেক কোণে বানরের খেলা দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে অনেকে। কোথা থেকে যেন বিশাল আকৃতির এক লুডু খেলার ঘর আনা হয়েছে। সেখানে ব্যস্ত আছে আরেক দল। মেয়েদের জটলা লেগে আছে সকাল থেকেই মেহেদি লাগানোর অংশে। এই রকম আনন্দে আত্মহারা অবস্থার একপর্যায়ে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল গুটুর মায়ের চিৎকার শুনে। গুটুর মা চেঁচিয়ে বলছে, ‘এভাবে অনলাইন ক্লাস চালু করে দিয়ে শুয়ে শুয়ে ঘুমানো হচ্ছে! এই হলো পড়াশোনার নমুনা? উঠো, যাও, চোখে পানি দিয়ে এসে ঠিকমতো ভিডিও অন করে অনলাইন ক্লাসে বসো!’ ইশ্‌, অনলাইন ক্লাসের ফাঁকে কী সুন্দর একটা স্বপ্নই না দেখে ফেলল গুটু! এই গল্পটার লেখক আমি না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...