বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গরু পিটিয়ে মানুষ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩০ পয়েন্ট)



X এক গ্রামে এক বুড়ি ছিল। তাঁর ছিল দুটি গরু। একটি গরু সাদা রঙের এবং সেটি খুব শান্ত। আরেকটি লাল রঙের এবং সেটি খুবই দুষ্টু ও বদমেজাজি। ওই গ্রামে একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর খুবই নামডাক ছিল। তিনি সব খারাপ ছাত্রছাত্রীকেও ভালো ছাত্রছাত্রী বানিয়ে দিতেন। তাই সবাই বলত, শিক্ষকটি গরু পিটিয়ে মানুষ করতে পারেন। বুড়িটি এ কথা শুনে তাঁর গরু দুটি নিয়ে সেই শিক্ষকের কাছে গেলেন। তাঁকে বললেন, ‘বাবা, আমি তো বুড়ো হয়ে গেছি, আর কত দিন বাঁচব জানি না। আমি শুনেছি, তুমি গরু পিটিয়ে মানুষ করতে পারো। আমার এই গরু দুটি নিয়ে এদেরও মানুষ করে দেবে।’ শিক্ষকটির মাথায় তখন এক দুষ্টু বুদ্ধি এল। তিনি বুড়িকে বললেন, ‘বুড়ি মা, আমি তোমার গরু দুটিকে মানুষ করব কিন্তু তুমি রোজ রোজ গরুর কাছে আসবে না। তিন মাস পর আসবে।’ বুড়ি তখন বললেন, ‘কিন্তু বাবা, আমি কেন রোজ গরুর কাছে আসতে পারব না।’ তখন শিক্ষকটি বললেন, ‘তুমি রোজ গরুর কাছে এলে গরু আমার দেওয়া শিক্ষা গ্রহণ করবে না।’ ‘ও আচ্ছা। তাহলে আমি মাস খানেক পরই আসব। আমার সাদা গরুটি খুবই শান্ত, সে তোমায় কিছু করবে না। কিন্তু লাল গরুটি একটু বদমেজাজি। ওর থেকে একটু সাবধানে থেকো।’ বলে বুড়ি চলে গেলেন। দুই দিন পর শিক্ষক গরু দুটি বিক্রি করে দিলেন। এদিকে আবার মাস খানেক বাদে বুড়ি এলেন তাঁর গরু দুটি দেখতে। বুড়ির ডাক শুনে শিক্ষক ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। বুড়ি জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাবা, আমার গরু দুটি?’ শিক্ষক বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমার মনে আছে।’ বুড়ি বললেন, ‘আমার গরু দুটি কোথায় বাবা। অনেক দিন ধরে দেখি না। দেখতে খুব ইচ্ছে করছে।’ শিক্ষক তখন অনেক ভেবে বললেন, ‘হ্যাঁ বুড়িমা। তোমার গরু দুটি তো এখন অনেক বড় মানুষ হয়েছে। সাদা গরুটি শহরের বড় ডিসি হয়েছে এবং লাল গরুটি শহরের পুলিশ অফিসার (এসপি) হয়েছে।’ বুড়ি এ কথা শুনে খুব খুশি হয়ে তাদের দেখতে যেতে চাইলেন। প্রথমে গেলেন শহরের ডিসি অফিসে অর্থাত্ তাঁর সাদা গরুর কাছে। অফিসের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলছেন, ‘বাবা, আমার ছেলেটা এখানকার ডিসি। আমি তার সঙ্গে দেখা করব।’ দারোয়ান বলল, ‘কী, তুমি ডিসি স্যারের মা? আমাকে কী পাগল পেয়েছ নাকি। ওসব দেখাটেখা হবে না, যাও।’তখন ডিসি গাড়িতে করে বাড়ি ফিরবেন। তিনি দরজার কাছে এসে বুড়িকে দেখলেন। দারোয়ানের কাছে সব শুনলেন। তিনি মনে করলেন, বুড়ি বুঝি ভুল করে এখানে চলে এসেছেন। ডিসি সাহেব খুব ভালো মনের মানুষ। তিনি বুড়িকে নিয়ে তাঁর ঘরে বসালেন। বুড়ির সব কথা শুনে তাঁকে পেট ভরে খেতে দিলেন। সবশেষে তাঁকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বললেন, ‘এই নাও বুড়ি মা। এখন তো অনেক বিকেল হলো। তোমাকে আবার গ্রামে ফিরতে হবে। তুমি যাও।’ বুড়ি মনের সুখে অফিস থেকে বের হয়ে এলেন। এখন বুড়ি যাবেন পুলিশ অফিসার অর্থাত্ তাঁর লাল গরুর কাছে। বুড়ি থানায় পৌঁছালেন। হাবিলদারকে বললেন, এসপির সঙ্গে দেখা করবেন। হাবিলদার বুড়িকে বসতে বললেন। পুলিশের এসপি ছিলেন খুব রাগী। বুড়ির কাছে গিয়ে লাঠি দিয়ে জোরে শব্দ করলেন। বুড়ি চমকে উঠে বললেন, ‘বাবা, কেমন আছিস। আমি বুড়ি মা। মনে আছে?’ পুলিশ রাগান্বিত স্বরে বললেন, ‘কী বলছেন এসব। আমি তো আপনাকে চিনি না। কাজ কিছু থাকলে বলেন আর না হলে চলে যান।’ বুড়ি এ কথা শুনে চলে এলেন। তারপর গ্রামে এসে শিক্ষককে বললেন, ‘বাবা, আমার সাদা গরুটা আগের মতোই আছে। খুব শান্ত। আমার সঙ্গে খুব ভালো করে কথা বলেছে। আমাকে বাড়ি ফেরার জন্য, ভালো থাকার জন্য টাকাও দিয়েছে। আর আমার লাল গরুটা সেই আগের মতোই রগচটা আছে। আমার সঙ্গে কী রাগটাই না করল সে।’ শিক্ষক বললেন, ‘তো বুড়ি মা, এখন তুমি যাও। তোমার গরুগুলোকে তো মানুষ করলামই।’ বুড়ি বললেন, ‘হ্যাঁ বাবা। তুমি অনেক ভালো। আমার গরু দুটিকে মানুষ করলে। তোমার অনেক ভালো হবে।’ তারপর বুড়ি বাড়ি এসে খুব ভালোভাবে বাস করতে লাগলেন। এই গল্পটির আসলে লেখক আমি না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...