বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দাইয়ুস

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★ রোদেলা রিদা ‎★ (০ পয়েন্ট)



X আসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আজমল সাহেব খুব ধার্মিক মানুষ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, প্রতি মাসেই কুরআন শরীফ খতম দেন,তাহাজ্জুদ পড়েন, সবসময় দ্বীন ইসলামের কথা বলেন, ধর্মের কথা বলেন!! ওনাকে ভালো লাগত! মানুষটা ধার্মিক! তবে সেদিন আমি হতভম্ব হয়ে যাই ওনার স্ত্রী, মেয়েগুলেকে দেখে!!! মেয়েগুলো কি পোশাক পড়েছে!! ছেলেদের পোশাক! টপস!পর্দা নেই, স্টাইল করে চুল আঁচড়ানো, হিজাব নেই! এমনকি ওড়নাও নেই!! আমি দেখে খুবই অবাক হয়ে গেলাম! এমন বাবার এমন মেয়ে! আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! ছোটো আপু পড়েছে মানলাম বড় আপু টিও একিরকম পোশাক পড়েছে ওড়নাও নেয় নি! অ্যান্টিও পর্দা করেননি, মাথা ঢাকেননি, চুলগুলো খোলা! সত্যিই আমি অনেক হতভম্ব হয়ে গেলাম! আজমল সাহেব কতো ধার্মিক আর ওনার স্ত্রী, সন্তান!! তাদের দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল!! তারপর কিছুদিন পর আমি জানতে পারি দাইয়ুস সম্পর্কে! ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ুস বলে - যে তার স্ত্রী কে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অশ্লীল কাজ ও ব্যভিচারের সুযোগ দেয় এবং শরীয়াহ বিরোধী কাজকে মেনে নেয়, তাকে দাইয়ুস বলে। যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানদের বেপর্দা বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার সুযোগ দেয় তাকেও দাইয়ুস বলে! দাইয়ুস জাহান্নামী এবং কবিরা গুনাহকারী। মহানবি (সা) বলেছেন, " তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন - ১) যে মদ তৈরী করে ২) যে মাতা পিতার নফরমানি করে এবং ৩) দাইয়ুস ব্যক্তি।" (আহমাদঃ৫৮৩৯) তিনি আরও বলছেন, " এমন তিনজন ব্যক্তি আছে , যাদের আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকাবেন না। তারা হচ্ছে - ১)যে পিতামাতার অবাধ্য, ২)যে নারী বেশভূষায় পুরুষদের অনুকরণ করে, ৩) দাইয়ুস ব্যক্তি।" যে তার নিজ ঘরে ইসলামি অনুশাসনে শিথিলতা করে, মেয়েদের পর্দা করতে উৎসাহ দেয় না, আদেশ করে না, এই রকম সব শরীয়াহ বিরোধী কাজকে মেনে নেয় সেই হলো দাইয়ুস! তাহলে কি আজমল সাহেব দাইয়ুস? হ্যাঁ, তিনি দাইয়ুস! এতো ধার্মিক হয়েও তিনি কিভাবে মেনে নিলেন তার স্ত্রী - কন্যার এমন পাপ কাজ! এতো ধর্মের জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তিনি কিভাবে অমান্য করলেন আল্লাহর আদেশ! রাসুলুল্লাহ (সা) নির্দেশ!! কিভাবে তিনি তার কন্যাদের বেশভুষা পুরুষদের মতো করে সাজা দেখেও তা জায়েজ হিসেবে মেনে নিলেন!! এটাই কি তার ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান!! ইসলামের জ্ঞান থাকলে তিনি কি দাইয়ুস সম্পর্কে জানেন না?? সত্যিই ভাবায়!! এখন প্রশ্ন উঠতে পারে 'তিনি তো তার ইবাদত ঠিক মতো করছেন, তাহলে তার স্ত্রী - সন্তানের পাপের বোঝা তিনি কেন নিবেন?' এ সম্পর্কে রাসুল (সা) বলেছেন, " প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহি করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব, সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যকেই দায়িত্বশীল। অতএব, প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থদের দায়িত্বশীল ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।" (বুখারীঃ৮৯৩) দাইয়ুসদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এমন অনেক মানুষ রয়েছে আজমল সাহেবের মতো যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, এমনকি তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে কিন্তু তার অধীনস্থ মেয়ে, বোন বা স্ত্রী কি করছে, কোথায় চলছে, কি পোশাক পড়ছে, কাদের সাথে মিশছে সে বিষয়ে কোন খোঁজ খবর নেই। এমন ব্যক্তির পরিণাম সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলােইহি ওয়া সাল্লাম কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। আমাদের সমাজে অনেক হাজ্বী - গাজী, টুপিওয়ালা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী লোক দেখা যায়। কিন্তু তাদের স্ত্রী ও মেয়েদেরকে দেখা যায় রাস্তা - ঘাটে বেপর্দা হয়ে বের হতে! কি কাজে আসবে তার এই পরহেজগারিতায়! দাইয়ুস হয়ে তাকে যেতে হবে জাহান্নামে! কারণ, হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, "দাইয়ুস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" মানুষকে নামাজ - রোজার মতো গুরূত্বপূর্ণ ইবাদত যথাযথ পালনের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর অন্যান্য হুকম-আহকামগুলো পালন করতে হবে! আল্লাহর বান্দারা যদি আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে, বেহায়াপনা-অশ্লীলতা-বেপর্দা পরিহার করে। তবে সমাজে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। হে পিতারা, মা- রা, বোনেরা তোমরা সাবধান হও! এক আল্লাহকে ভয় করো। তওবা করে সঠিক পথে ফিরে এসো। অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকো, ও পথে যেও না! তাহলে একাল পরকাল চিরকালেই শান্তি পাবে! মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন, সঠিক বুঝ দান করুন, সঠিক পথে হেদায়াত দান করুন এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে চিরশান্তিতে সুখময় জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন!! আমিন। রোদেলা রিদা..... ..................….............................................................. (পরিশেষে ভুল - ত্রুটি ক্ষমার নজরে দেখবেন, আর এটা আমার নিজের লিখা, হ্যাঁ ইন্টারনেট থেকে একটু সাহায্য নিয়েছি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...