বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিউজপেপার (২)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ZAiM (০ পয়েন্ট)



X সীমান্ত মুচকি হাসি দিয়ে কাশিম চাচার দিকে তাকিয়ে বললো , আরেহ চাচা তুমি যে আমার কত বড় উপকার করলে তুমি নিজেও জানো না । কাশিম চাচা এমনেও সীমান্তকে ততটা সিরিয়াসলি নেয় না । বোকার মত কথা বলতে দেখে তাকে পড়তে বসতে বলে তিনি একদম উপেক্ষা করেই রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন । তিনি অনার্স মাস্টার্স শেষ করে সরকারি বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাথে বিভিন্ন চাকরি প্রচেষ্টা । তবে নিউজপেপার এর সাথে তার আড়মিল টা কোথায় সেটা সীমান্ত ধরতে পারেনি এখনো । যদিও মাসিক নিউজপেপার গুলো পড়তেন সবসময় তিনি যেগুলোতে প্রস্তুতির অনেক কিছুই আছে । তবে এর আগে কখনো কাশিম চাচাকে সে এতগুলো নিউজপেপার নিয়ে এতটা আগ্রহী হতে দেখেনি । এক কার্টন নিউজপেপার ? কি করবে এসব এ সে ? মানুষ যে বোকা এটা আর বলার বাকি কি । তবে আমার জন্যে ভালোই হলো । ভাবতে ভাবতে হাসতে লাগলো সীমান্ত । এখন সমস্যা একটা , সে চাইলেই এ নিউজপেপার গুলো খালি হাতে ধরতে পারবে না । এগুলো তার টিকিট বলা চলে । একবার ছুঁলেই টিকিটের এক্সপাইয়ার্ড ডেট চলে যাবে । সাবধানে সে কার্টনটি সরিয়ে রুমের কোনায় রাখলো । অবশ্য হাতে কাপড় দিয়ে ধরেছে যাতে সে ভুলেও যেন নিউজপেপার না ছুঁই । এবার তাড়াহুড়া করে চৌকির বেডসিট এর নিচে উল্টোনো লাগলো সে । একটা পঞ্চাশ আর একটা বিশ টাকার নোট সাথে দুই তিনটা ভাঙা পয়সা । সে সব গুলো পকেটে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল । তার উদ্দেশ্য গ্লাভস কিনতে হবে । খেলার মাঠে যে পাশে চায়ের দোকান ঠিক তার পাশেই রয়েছে ফার্মেসী । প্রয়োজনীয় সব ওষুধ ই পাওয়া যায় সেখানে । রাবার গ্লাভস পেতেও অসুবিধা হবে না জেনে সীমান্ত ঐ দোকানে যেয়ে গ্লাভস কিনে নিলো । বিশ টাকায় দুইটি । এর আগেও সে কিনেছিল এই দোকান থেকে । প্র্যাকটিক্যাল এক্সাম এ যখন পরিপূর্ণ সরঞ্জাম এর প্রয়োজন হচ্ছিল তখন গ্লাভসটাই বাদ পড়ে যায় সেবার । আর তখন সে এ দোকান থেকেই গ্লাভস কিনে বেঁচে যায় । আসার পথে চায়ের দোকানে সে তাকাতেই দেখে চায়ের টেবিলে দুইটা নিউজপেপার । গ্লাভস পরে সে রোকন মামাকে জানিয়ে নিউজ পেপার দুইটি বাসায় নিয়ে আসলো । রোকন মামা ওই চায়ের দোকানের মালিক । একই এলাকার মানুষ বলে সীমান্তকে কমবেশি সবাই স্নেহ করে । এর জন্য কাশিম চাচার অবদান বেশি বলতে গেলে । চায়ের দোকানে সারাক্ষন আড্ডা দেওয়ার বেলায় গর্বে ফুলে কাশিম চাচা সীমান্তের তারিফ করে বেড়ায় , সে যে কিভাবে পড়ালেখায় মগ্ন আর একজন খুব বিচক্ষণ ছাত্র। আসলে সীমান্ত ততটা ভালো ছাত্র না হলেও পড়ালেখায় সে প্রচুর আগ্রহী । আর এ বিষয়টা কাশিম চাচা অনেক পছন্দ করেন । বাসায় এসে সে দুই নিউজপেপার টেবিলে রাখলো । একটি গত কালকের অন্যটি পরশু । হ্যাঁ বাইশ-মে । একই নিউজপেপার তবে অন্য কপি। সাথে আগের নিউজপেপারটি ও আছে পাশে । এবার শুধু একটা ঘড়ি দরকার । সীমান্ত ড্রায়ার থেকে ডিজিটাল ঘড়িটা নিলো । পরীক্ষার সময় এ ঘড়ি কত যে সাহায্য করেছিল সীমান্ত কে । এ কথা সীমান্ত আর তার ঘড়ি ছাড়া কেউ জানার কথা না। ঘড়ি প্রয়োজন তার দুইটা কারনে , সময় নির্ধারণ করার জন্য আর , কতটুক সময় পর হলো সেটা স্টপওয়াচ এ রেকর্ড করে রাখার জন্য । বিচক্ষণতার সাথে সে তার সীমান্ত-থিওরি আবার এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য প্রস্তুত সে । যদি সফল হয় তবে তার ভবিষ্যৎ অনেক পাল্টে যাবে । শয়তানি হাসি অর্থাৎ ডেভিল স্মাইল দিতে দিতে সীমান্ত গ্লাভস হাত থেকে খুলে নিল । স্টপওয়াচ রেডি , সময় দশটা বেজে বিশ মিনিট । তার হাতে আছে দশটা পঞ্চাশ পর্যন্ত সময় । এর মধ্যে তার দুইটা থিওরি যাচাই করতে হবে । এক একই নিউজপেপার এর অন্য কপি দিয়ে অতীতে ডাইভ করা যায় কিনা । দুই আধা-ঘন্টা সময়ের আগে কি ইচ্ছাকৃত ভাবে বর্তমানে ফিরে আসা যায় কিনা । বাকি থিওরি অন্য এক্সপেরিমেন্ট এর জন্য বরাদ্দ রইলো । গতকালকের কাশিম চাচার যে নিউজপেপার টি ছুঁয়েছিল সীমান্ত , সেটি হাতে নিয়ে আবার ছুঁয়ে দেখলো । না আসলেই কোনো কিছু হয়নি । এবার ওই একই নিউজপেপার এর অন্য কপি যেটা সে একটু আগে চায়ের দোকান থেকে এনেছিল সেটা ছুঁয়ে নিলো । আর পলকেই সে নিজেকে আবিষ্কার করলো রান্না ঘরে , হাতে ছুরি আর পাশে লেবু আর গ্লাস । সে সারা ঘর দেখে নিলো । কেউ নেই , ওই দিন সে রহিমের মেসেজ পাওয়ার পর পড়ার শেষে লেবুর শরবত বানাচ্ছিল । হাতে ডিজিটাল ঘড়িটা ও আছে এবং স্টপ ওয়াচ ঠিকঠাক ই কাজ করছে । মাত্র একমিনিট পার করলো সে । ড্রায়ার এ গিয়ে তার ঘড়িটা খুঁজছে । আরেহ একই ঘড়ি তার হাতেও আবার ড্রায়ার এ ও । এটাকেই বলে নেক্সাস অবজেক্ট বা নেক্সাস ভেরিয়েন্ট । নেক্সাস অবজেক্ট বা নেক্সাস ভেরিয়েন্ট হচ্ছে কোনো টাইম লাইনে কোনো একজন ব্যক্তি যদি অতীতে গিয়ে তার নিজের সাথে দেখা করে তখন তৈরি হবে একটা নেক্সাস ইভেন্ট , যেখানে দুইজন ই একই সময়ে অবস্থান করবে। যেটা প্রকৃত পক্ষে কখনো সম্ভব না । তবে এমনটা হলে তাদের একজন হবে নেক্সাস অবজেক্ট বা নেক্সাস ভেরিয়েন্ট অন্য জন হবে আসল ব্যক্তি। এখানে অবজেক্ট শুধু জড়বস্তুকে বোঝানো হয়েছে । এগুলো সে ইংরেজি চলচিত্র থেকে শিখেছে । এটা নিয়ে অনেক কিছু ভাবার আছে এখন এসব চিন্তা করা যাবে না । এই বলে সীমান্ত ড্রায়ার বন্ধ করে নিলো । এবার সে চোখ বন্ধ করে দেখলো , নাহ কিছু পরিবর্তন হয় নি । নিজেকে একটি চিমটি ও দিয়ে দেখলো । কাজের না । অতীতে সে আধা ঘন্টার জন্য আটকে আছে । নিজের ইচ্ছায় কি সময় ফুরাবার আগে বর্তমানে ফেরা যায় না ?? এর পর তার কেন জানি মনে হল তার দুই হাত দিয়ে তালি দিলে তার মনের আসা পূরণ হবে । ঠিক একই অনুভূতি যেটা নিউজপেপার প্রথম বার ছুঁতে গিয়ে অনুভূত হয়েছিল তার । সে এখন ভালো ভাবেই জানে এমনটা করলে সে আসলেই সময় ফুরাবার আগে বর্তমান এ ফিরে আসবে । নাহ আরেকটু অপেক্ষা করে দেখি । এই আধা ঘন্টা শেষ হওয়ার আগে না হয় তালি দিব । এর মধ্যে যা পারি যাচাই করে নিই কি কি যাচাই করা যায় । এমনটা বলতেই দরজার হুট হুট আওয়াজ শুনতে পেল আর সাথে সাথে ভুলে সে তালি দিয়ে ফেললো । এমনটাই হওয়ার কথা , সে আবার পড়ার টেবিলে । ঘড়ির স্টপ ওয়াচ এ তখনো পাঁচ ছয় মিনিট পার করলো মাত্র । পরশু যখন সে লেবুর শরবত খেয়ে আবার পড়তে যাচ্ছিল তখন কাশিম চাচা কোনো এক প্রাইভেট কোম্পানির ইন্টারভিও দিয়ে এসেছিল । আরেহ আমার এটা বুঝা উচিৎ ছিল । যাক আমার এক্সপেরিমেন্ট তো এটলিস্ট সাকসেসফুল । সীমান্ত এখন অনেক মজার অভিজ্ঞতাই অবজারিত । তার এ অদ্ভুত শক্তি টা এখন বুঝতে অসুবিধা নেই আর। সে এই এক্সপেরিমেন্ট এর সবকটা তথ্য একটা ছোট নোট বই এ নোট করে নিলো বিভিন্ন পয়েন্টে । এক , আমার শরীরের সাথে লাগানো থাকলে যে কোনো কিছুই আমার সাথে অতীতে যেতে পারে । তার উদাহরণ আমার ঘড়ি । দুই , ইচ্ছাকৃত ভাবে বর্তমান এ ফিরে আসা যায় । তিন , যে নিউজপেপার ধরে একবার অতীতে গেলাম সেটা দ্বিতীয়বার কাজ না করলেও একই তারিখ সম্পন্ন ওই নিউজপেপার এর অন্য কপি ধরে অতীতে যাওয়া যায় । তবে ওটাও একবার ব্যবহৃত হলে দ্বিতীয় বার আর কাজ করবে না । এবার সীমান্ত চিন্তা করছে তার পরের এক্সপেরিমেন্ট এর কথা । যেটা দিয়ে সে জানতে পারবে সে ঠিক কতটুক অতীতে যেতে পারবে ! অর্থাৎ , সব থেকে পুরোনো নিউজপেপার ধরে কি ওই নিউজপেপার এর উল্লেখিত দিনটি আধঘন্টার জন্য ভ্রমন করতে পারবে কি সে ? এটা দেখার পালা এবার । সীমান্ত তার পরবর্তী এক্সপেরিমেন্ট এর প্রস্তুতি নিচ্ছে টেবিলে বসে বসে । ঠিক পরমুহূর্তেই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলে উঠলো । তুমি তাহলে বুঝতে পেরেছো তোমার শক্তি কি ?? কথাটা শুনতেই সীমান্তের হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে গেল । টেবিল থেকে উঠে সে পিছনে তাকাতেই দেখে , দরজার পাশে একজন বৃদ্ধপ্রায় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যার সারা শরীর চাদরে ঘিরা , নোংরা ধূসর চাদর আর হাতে একটা অদ্ভুত লাঠি । তার দিকে তাকিয়ে হাসছে সে ...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিউজপেপার (৪)
→ নিউজপেপার (৩)
→ নিউজপেপার (১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...