বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চশমা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ᴍᴅ. ɪǫʙᴀʟ ᴍᴀʜᴍᴜᴅ (২৫১ পয়েন্ট)



X জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা কিশোরকণ্ঠ জাতীয় গল্প লেখা প্রতিযোগিতা ২০২০-এর ক-গ্রুপে পঞ্চম স্থান (যৌথ) অধিকারী গল্প চশমা মেহেদী হাসান আশিক আমার একটি চশমা ছিল। কী সুন্দর দেখতে ছিল সেটি! কালো অ্যালুমোনিয়াম ফ্রেমের বাহারি ভাঁজ আর বিচিত্র নকশা করা সেই চশমার কেমন একটা আভিজাত্যের ছাপ আর সৌন্দর্যের ছোঁয়া মিলেমিশে ছিল। এটা ছিল আমার জীবনের দ্বিতীয় এবং নিজের পছন্দ করা প্রথম চশমা। কোন এক মায়াবী জগতের কারিগর কালো রঙের সবগুলো শেড দিয়ে নিখুঁতভাবে যেন শুধু আমার জন্যই তৈরি করেছে ওটা। চশমাটি বেশ মানাত আমাকে। জ্ঞানী জ্ঞানী চেহারায় তাকিয়ে থাকা যেত চশমার ভেতর দিয়ে। কত রাতেই তো ঘুম ভেঙে গেলে ছুঁয়ে দেখেছি সেই চশমার শীতল দেহ। হয়তো মনে হয়েছে, হারিয়ে গেল না তো চশমাটি! একদিন কলেজ ক্যান্টিনে বসে আছি। চশমার ভেতর দিয়ে তাকিয়ে আছি লেকের দিকে। এক বক ভেসে ওঠা মাছের দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। পরক্ষণেই ছুটে গেল সে, ছোঁ মারল। কিছু মাছ ততক্ষণে চলে গেছে। আবার চেষ্টা করল সেই ক্ষুধার্ত বক। ব্যর্থ হলো। ব্যথিত হৃদয়ের সেই বককে দেখে আমার মনে হল-জীবনের লাল স্বপ্নেরা, নিজেকে বলা সেই বাক্যেরা আর পূরণ করার আশায় থাকা লক্ষ্যেরা যেন মাছগুলোর মতই। এদেরকে ধরতে হলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আক্রমণ চালাতে হয়। চেষ্টা করতে হয় বেশ জোরেশোরে। তবুও স্রোতের টানে ফসকে যেতে পারে ওরা, এই মাছের মত করেই। কারণে-অকারণে, সময়ে-অসময়ে। চশমাটি দিয়ে অনেক দেখেছি আমি। রাস্তার মোড়ের বিলবোর্ডে দেখলাম হ্যান্ডওয়াশের বিজ্ঞাপন। লাল টুকটুকে জামা পরা এক ছেলের সামনে হরেক রকমের খাবার সাজানো। কিন্তু সে খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিচ্ছে। চকচকে কাগজের নোটের মত ফুটফুটে এই ছেলেটির দিকে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে আছে রাস্তার দাঁড়ানো শিশুটি। ময়লা-ছেঁড়া কাগজের নোটের মতো চামড়াফাটা এই বিহ্বল শিশুটির হাতেও দেখা যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের সেই টেবিলে সাজানো গোলাপ ফুলের কয়েকটি তোড়া। গাড়ি দেখলেই ছুটে যাচ্ছে সে। এই বিজ্ঞাপনের শিশুটির মত কখনোই হাত ধোয়ার দরকার হবে না ছেলেটার। হঠাৎ আমার কাছে বিজ্ঞাপনটা অর্থহীন মনে হয়। আমি চোখ ফিরিয়ে নেই। একটু মুক্ত আকাশের দিকে তাকাতে ইচ্ছা হয়। কিন্তু একখণ্ড অখণ্ড আকাশ আর আমার চশমার মাঝে অসংখ্য তার একে অপরকে জড়িয়ে থাকে। সেই তারে বসা অনেকগুলো কাক ঝগড়ায় ব্যস্ত। জাদুবাস্তব এই শহরের দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে বাজারের দিকে যাই। চশমার গ্লাস মুছে নেই একবার, আবার পরি সেটা। এখন তাকিয়ে আছি জালের ভেতরে থাকা মুরগিগুলোর দিকে। একটা একটা করে জবাই করে কেটেকুটে ফেলা হচ্ছে ওদের। নেটের ভেতরে গাদাগাদি করে থাকা মুরগিগুলোর চোখে তীব্র আতঙ্ক আমি দেখেছি। ওরা ছটফট করছে, ছিঁড়তে চাইছে এই জাল, মুক্তি চাইছে। কিন্তু মুক্তি পাচ্ছে না। মেনে নিতেই হচ্ছে এক নির্ধারিত পরিণতি। আমাদের সাথে এই মুরগিদের কোথায় যেন মিল আছে। এই ব্যস্ত শহরে তারচেয়েও ব্যস্ত রাস্তায় অন্ধকার রাতের বার্তা নিয়ে সন্ধ্যা নামছে। লোকজন ছুটে চলছে। সবাই যেন ক্রমাগত ধাবমান এই সময়ে একে অপরকে পেছনে ফেলে ছুটছে। সদরঘাটের কাছে ব্যস্ত জায়গাটিতে আমি বসে আছি চশমা পরে। চরম ব্যস্ততার এই শহরে কেউ আমাকে খেয়াল করার সময় পাচ্ছে না। এতেই তৈরি হয়েছে পকেটের মত অবসর, একান্ত সময় গ্রন্থি। ঘোরলাগা সেই সময়ে হঠাৎ আমার চশমাটি কথা বলে উঠল, ‘ভালোবাস আমাকে?’ ‘আমি সত্য ভালোবাসি। তুমি সেই সত্য দেখার মাধ্যম। কাজেই…’ ‘আমি তোমার প্রেমে মুগ্ধ। সব চশমারই ক্ষমতা থাকে তার মনিবকে জীবনে একটা সত্য ঘটনা দেখানোর। তবে সবার দেখার মতো চোখ থাকে না। তাই আমরা তাদের দেখাইও না। কিন্তু তোমাকে দেখাচ্ছি। মনোযোগ দিয়ে দেখ। আমি একটা ছায়া দেখতে পাচ্ছি। আলো-আঁধারি সেই অদ্ভুত ছায়া দিয়ে মাঠের পাশের একটা জায়গা দেখাচ্ছে। সেই ছায়া তার সমস্ত শক্তি দিয়ে দলছুট এক সাংবাদিককে কী যেন বলতে চাইছে। বড়ো আজব এই ছায়া কি এক জাদু বাস্তব দৃশ্য? মাথায় এক ধরনের ভোঁতা যন্ত্রণা অনুভব করছি। সময়ের উল্টা স্রোত বইছে। সূর্য পশ্চিম থেকে পূর্বে যাচ্ছে, ভেঙে যাওয়া ডিমের খণ্ডগুলো একসাথে জোড়া লেগে আস্তডিম হচ্ছে, ক্রসফায়ারে বের হওয়া বুলেট বন্দুকে ফিরে যাচ্ছে, গুম হওয়া মানুষগুলো ঘরে ফিরে আসছে, ছোপ ছোপ রক্তের দাগগুলো মিশে যাচ্ছে কোথায় যেন। হঠাৎ উল্টা-স্রোত থামল। কোন একটা ঘটনা শুরু থেকে দেখছি আমি। আজন্ম সংগ্রাম করা সোহাগীর নতুন সংগ্রাম শুরু হয়েছে এই জাদুর শহর ঢাকায়। ছোট এক ছেলে, এক মেয়ে আর এক তেজস্ক্রিয় পর্দাথ স্বামীকে নিয়েই তার জীবন। এই জীবনে দেখা যাচ্ছে সোহাগী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, বাসায় এসে রান্না করছে, অল্প কিছুক্ষণ ঘুমাচ্ছে আর স্বল্প কিছু স্বপ্ন দেখছে। আর তার স্বামী (?) এসে লুকিয়ে রাখা টাকা বের করে মদ খাচ্ছে, গভীর রাতে বাসায় ফিরছে। কিছু বলতে গেলেই সোহাগীকে পেটাচ্ছে। এভাবেই সোহাগীর মনে বিষ জমতে থাকে। একদিন স্বামীকে ছেড়ে চলে আসে সোহাগী। বছর দুয়েকের ছেলে আর নয় বছরের মেয়েকে নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে সে? মাথা গোঁজার একটা জায়গাতো দরকার। অনেক চেষ্টা করার পরে একটা স্টাফ কোয়ার্টারে কোনমতে একটা কক্ষ পায় সে। ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা। সেই থেকে ওদের যুদ্ধ করতে করতে চারটা বছর পার হলো। ছেলেমেয়েদের কত রকমের শখই তো হয় আজকাল। কখনো ওভারটাইম ডিউটি করে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে জামাকাপড় বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে হয়েছে সোহাগীর। এই তো সেদিন তেরো বছরের মেয়ে চাঁদনীকে কিনে দিলো লিপস্টিক আর পাম্প সু। ছয় বছরের আরাফাত এইবার ক্লাস ওয়ানে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। খুব ঘড়ির শখ ছেলেটার। কিনে দিতে হলো পেন্সিল বক্স, রং পেন্সিল, লাল সানগ্লাস আর গোলাপি রঙের একটা ঘড়ি। সারাদিন ঘড়িটা পরে থাকে ও, সুযোগ পেলেই পরে নেয় চশমা। স্টাফ কোয়ার্টারের ময়লা দেয়ালে একের পর এক ছবি আঁকে নতুন কেনা রং পেন্সিল দিয়ে। পক্ষীরাজ ঘোড়া, ফুল আর পাখির ছবি দেখা যায় দেয়ালে। আরো দেখা যায় বিশাল দর্শন এক রাক্ষসকে। এই স্টাফ কোয়ার্টারেই দেখা যায় আরো কিছু প্রাণীকে। যেমন দলিল উদ্দীন। পেশায় কেরানি। ক্ষুদ্র কিন্তু ক্ষমতাবান। কোন এক জাদুবলে অনেক সম্পদ আর ক্ষমতা আছে তার। পরিস্থান পরিবহনের বেশ কয়েকটা বাসের মালিক সে-এটা তার সম্পদের নমুনা। ক্ষমতার নমুনা হলো-এই আবাসিক কোয়ার্টারেও সে যখন খুশি তার বাসগুলো রেখে দেয়, কেউ কিছু বলে না। দলিল উদ্দীনকে দেখতে ইঁদুরের মতো। ইঁদুর স্বভাব প্রবলভাবেই আছে তার চরিত্রে। ওকে সবসময় সঙ্গ দেয় ওর ড্রাইভার মতলব হাশেম। তাকে দেখে জিব বের করা কুকুরের কথা মনে পড়ে যায়। মাঝে মধ্যেই অফিস ফাঁকি দিয়ে দিনের বেলাতেও বিড়ি-সিগারেটের আসর বসায় ওরা এই স্টাফ কোয়ার্টারেই। চাঁদনীকে দেখে বাজে অঙ্গভঙ্গি করে। চাঁদনীর কেমন যেন অস্বস্তি বোধ হয়। মাকে কি নালিশ করবে সে ওদের নামে? নালিশ করেই বা কী লাভ হবে? এখন রোজার মাস। অদ্ভুত আঁধার চিরে একটা প্রকাণ্ড চাঁদ উঠেছে। মুসল্লিরা আর মুসল্লির সাজে থাকা মানুষগুলো তারাবির নামাজে দাঁড়িয়ে গেছে। তৈরি হয়েছে আলো আঁধারের কাব্য। সেই মায়াবী সময়ে হঠাৎ খুব আইসক্রিম খাওয়ার শখ হলো আরাফাতের। মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাইয়ের হাত ধরে আইসক্রিম কিনতে গেল চাঁদনি। কোয়ার্টারের সামনের দোকানে একাই যেতে হলো চাঁদনীকে। মাঝপথে কিসের একটা টানে মাঠের কাছেই থেমে গেল আরাফাত। যে মাঠে সে প্রতিদিন খেলে সেই কোয়ার্টারের মাঠেই সে আরেকটু থাকতে চায়, ছুটতে চায়। এদিকে দলিল উদ্দীন তার ড্রাইভারের কাছে গাড়ি চালানো শিখছে। রাতের বেলা এক আবাসিক কোয়ার্টারের মধ্যে গাড়ি চালানোও তার কাছে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। মাঠের কোনা দিয়ে ছুটে আসছে বাসটা। মুহূর্তেই আরাফাতের খুব কাছে চলে এলো বাসটি। চোখের সামনে নিজের আঁকানো রাক্ষসের মতোই শুধু একপলক দেখতে পেল দলিলকে। ড্রাগনের চোখের মতোই আগুনের হলকা বের হতে দেখল সে হেডলাইট দুটি থেকে। কপালের যে অংশটাতে দুঃখিনী মা চুমো এঁকে দিত, সেই খানটাতেই আঘাত করল গাড়ির একটা কোনা। সবকিছু কেমন যেন থমকে গেল। উড়ে গেল গাছের ডালে বসা কাকেরা। বড়ো আদরের ছোট্ট শরীরটা মাটিতে পড়ে গেল। পালিয়ে গেল দলিল উদ্দিন। কিছুক্ষণ পর ছুটে এলো মা। শোকে পাথর হওয়া সেই মা সন্তানকে নিয়ে ছুটল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। হাত-পা ভাঙা নরকবাসীদের দেখভাল করা অর্থপ্যাডিক ডাক্তার ঘোর কৃষ্ণবর্ণের নরকের প্রহরীর মতো মুখখানা দিয়ে বলল যে, দেরি হয়ে গেছে। আরেকটু আগে আনলে বাঁচানো যেত। সন্তানের লাশ নিয়ে বসে থাকা এক মায়ের কান্না, ভয় আর বিচারের আশায় বারবার চোয়াল শক্ত হতে হতে এক দুর্বিষহ শীতল রাত কেটে গেল। এরপর দেখলাম সোহাগী থানায় গেল জিডি করতে। কোন এক অদ্ভুত কারণে সেই জিডির কাগজ ওসি সাহেব ছিঁড়ে প্রমাণ করলেন তিনি কতটা শক্তিমান আর কী কী ছিঁড়তে পারেন। মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে এই খবর ছাপানো হলো না। তাদের কাছে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ খবর আছে। যেমন, ‘গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া, জনমনে নাভিশ্বাস’ ‘ইরানকে শক্তহাতে প্রতিহত করা হবে! ট্রাম্প’ ‘আর কত শিশু আইরিনের লাশ দেখব?’ ‘২৪৭ কোটি টাকায় ড্রেজিং করা সব বালি নদীতে, আবারো ৫৫৭ কোটি টাকায় টেন্ডার দাবি’ ‘ঝিনাইদহে ক্রসফায়ারে নিহত হলো মাদক ব্যবসায়ী’ ‘বাস মেরামতের নামে ফেনসিডিল পাচার’ ‘গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ, (লিবারম্যান)’ ‘রফতানি হচ্ছে শিং কই বোয়াল’ ‘গরু ছাগলে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ’ ‘রোডসের বিষণœ বিদায়’ ‘ট্রাম্পের ভাষ্য “কিডনি থাকে হৃৎপিণ্ডে”’ এতগুলো শিরোনাম দেখেই আমরা হাঁপিয়ে উঠি। যেখানে এমন হাজার হাজার সংবাদ ভিড় করে থাকে সেখানে সাংবাদিকগণের কাছে আরাফাতের মৃত্যু এক তুচ্ছ ঘটনা। অতি তুচ্ছ এই ঘটনা নিয়ে কয়েকজন মূলধারার বাইরের সাংবাদিক একটু লেখালেখি করল, জড়িতদের প্রশ্ন করল। কয়েক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হলো। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা ঘোষণা দিলেন, ‘সোহাগী এই সংস্থায় কাজ করে না। তাই তাদের এইখানে ঘর ভাড়া নেয়াই বেআইনি একটা কাজ। এই অন্যায় কীভাবে হলো সেটা শিগগিরই খুঁজে বের করা হবে।’ শিশু আরাফাতের মৃত্যুর চেয়েও যে বাসা ভাড়াটার আইনি ভিত্তি নিয়ে তোলা প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হবে এটা আমি না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আরো দেখলাম মামলাটি শেষ পর্যন্ত নেয়া হলো ৩০৪ ধারার দুর্ঘটনার কেসে। সোহাগী এই জাদুবাস্তব দেশে দাঁড়িয়েও সাহস করে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিলো। মামলাটি সে করতে চায় ৩০২ ধারায়। একটি হত্যামামলা। হায়রে নির্বোধ সোহাগী! কেস চালাতে মাত্র এগারো হাজার টাকা খরচ করেই তোমার ভান্ডার শূন্য হলো? দিন যায় রাত আসে। ভয়, আশঙ্কা, অনিশ্চছুায় দিন কাটে সোহাগী আর চাঁদনীর। মেয়েকে ঘরের বাইরে যেতে দেয় না মা। ভয় হয়। ওরা যদি কিছু করে ফেলে চাঁদনীর! গোপনে ঘরের অন্ধকারে কেঁদে ওঠে সোহাগী। তারপর একদিন… নাহ! আর দেখতে চাই না আমি। চশমাটি খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম আমি। ভেঙে গেল আমার এই প্রিয় চশমা। এরপরে কী কী হতে পারে আমি জানি। সেগুলো দেখার কোনো ইচ্ছা বা সাহস আমার নেই। তবুও তো মাথার ভেতরে নাড়া দেয় কতগুলো সম্ভাবনা- ১. চাঁদনীকে ধর্ষণ করা হতে পারে। ২. ধর্ষণের পরে খুন করা যেতে পারে। ৩. মা-মেয়ে দুজনের ওপরেই হামলা হতে পারে। ৪. স্টাফ কোয়ার্টার থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে এদেরকে। ৫. এদের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে শর্টপুট প্র্যাকটিস করা যেতে পারে। ৬. কোন এক কদাকার নাটকে মা-মেয়েকে ফাঁসিয়ে এদেরকে চরিত্রহীনা প্রমাণ করা যেতে পারে। ইত্যাদি… ভাববাদীরা বলে, জগৎ একটা মায়া। এর কিছুই বাস্তব না। হিন্দু পুরাণে আছে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড হলো পরমাত্মার কাছে থাকা সাপের মাথায় চলা এক স্বপ্ন। আমরা সবাই কল্পনা মাত্র। বাস্তব অস্তিত্বহীন এই প্রকাণ্ড মহাবিশ্বের মাঝে বালির চেয়েও ছোট মাপের এই পৃথিবীতে তার চেয়েও ছোট এক দেশের ছোট ছোট মানুষদের এই ঘটনা কতটা বাস্তব? কতটা গুরুত্বপূর্ণ? জগৎ মায়া হতে পারে কিন্তু এই মায়ের কান্না সত্য। অবশ্যই সত্য। সূরা আর রহমানে আছে, ‘কুল্লু মান আলাইহা ফান। (মহাবিশ্বে) এর সবই বিলীন হয়ে যাবে।’ আসলেই সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আমরা ভুলে যাচ্ছি। একের পর এক ঘটনা ঘটছে। আমরা দেখছি আর ভুলে যাচ্ছি। জীবন এমন কতো সহস্র গল্প লিখে যাচ্ছে প্রতিনিছু। সময় সাগরের ঢেউয়ে সেগুলো ভেসে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে রক্ত, গন্ধ, লাশ। বিলীন হচ্ছে আমাদের স্মৃতি। শেষ হয়ে যাচ্ছে অনুভূতিগুলো। ভুলে যাওয়ার অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত আমরা সবাই। ত্বকী, তনু, রাজনের মায়েরাও কি ভুলে যেতে পারে না আমাদের মতো?..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চশমা,,
→ চশমা পড়ায় যা যা করতে পারিনি আমি ✌✌
→ ♦আমার চশমার গল্প♦
→ বিপিনবাবুর চশমা
→ চশমা পড়া মেয়ে
→ রোদচশমা কিংবা নিভৃতচারিণীর গল্প
→ প্রাকপুরুষের চশমা-১২ (শেষ)
→ প্রাকপুরুষের চশমা-১১
→ প্রাকপুরুষের চশমা-১০
→ প্রাকপুরুষের চশমা-০৯
→ প্রাকপুরুষের চশমা-০৮
→ প্রাকপুরুষের চশমা-০৭
→ প্রাকপুরুষের চশমা-০৬
→ প্রাকপুরুষের চশমা-০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...