বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গ্যালাক্টিকা

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X বহু বছর আগে মানুষের তৈরি রোবটরা তাদের অপারেটিং সিস্টেমে পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। মানুষের প্রধান নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দু মূল তথ্যকেন্দ্র দখল করে নিয়ে তারা সব মানবকলোনি একে একে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু মূল তথ্যকেন্দ্রের ওপর রোবটদের একচ্ছত্র আধিপত্য বেশি দিন স্থায়ী হয় না। আন্তগ্যালাক্টিক মানচিত্রের X১৩তম গ্রহের ভিনগ্রহবাসী রোবটদের আক্রমণ করে বসে এবং বহুদিন যুদ্ধের পর তারা মূল তথ্যকেন্দ্রের একাংশে দখল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এই ভিনগ্রহবাসী, যারা ‘লিজার’ বলে পরিচিত, তারাও মানুষের বন্ধু ছিল না। সুতরাং রোবট ও লিজার—এই দুই দলের দখলের খেলায় মানবসম্প্রদায় প্রায় ধ্বংস হতে বসে। কিন্তু আজও কিছু মানুষ পৃথিবী ও বিভিন্ন গ্রহে আত্মগোপন করে নিজেদের সম্প্রদায়কে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু মানুষ হয়ে গেছে পুরো গ্যালাক্সিতে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। বহুতল ভবনটা যেন মেঘ ভেদ করে আকাশ ছুঁতে চাইছে। এই এলাকায় এত বড় ভবন আর দ্বিতীয়টি নেই। সব গ্যালাক্সির বাঘা বাঘা অপরাধীকে এই ভবনে এনে রাখা হয়। বলা হয়ে থাকে, এটি সব গ্যালাক্সির দ্বিতীয় শক্তিশালী জেলখানা। এই আন্তগ্যালাক্টিক প্রিজনে যে অপরাধী একবার ঢোকে, সে আর দ্বিতীয়বার সূর্যের আলো দেখে না। দুজন লিজার গার্ড ভবনের করিডর দিয়ে হেঁটে যেতে থাকে। এদের একজন ঠ্যাঙা লম্বা অন্যজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মোটা। আজ এই ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেই তাদের ভেতর ত্রস্তভাব স্পষ্ট। চার হাতের লিজার এলিয়েনদের রক্ষী হিসেবে সুনাম সর্বত্র। এরা যোদ্ধা হিসেবে তুখোড়, কর্মী হিসেবে বিশ্বস্ত। ঠ্যাঙা লিজার প্রশ্ন করল সহকর্মীকে, ‘কাকে নিয়ে আসছে জানো কিছু?’ হোঁতকা ব্যাটা নাক দিয়ে একটা ফোঁৎ ধরনের শব্দ করে বলল, ‘কোনো আইডিয়া নেই। সপ্তম মাত্রার অপরাধী আনার সময়ও এত নিরাপত্তা দেখিনি।’ ঠ্যাঙা ব্যাটা চিন্তিত হয়ে সকালে শোনা গুজবটা ঝেড়ে দিল, ‘আমি শুনেছি যে আসছে, সে দশম মাত্রার অপরাধী।’ ‘যাহ্‌! তা–ই হয় নাকি!’ হোঁতকা সন্দেহ প্রকাশ করে। গার্ড দুজনের কথা শেষ হওয়ার আগেই অফিসার র৵াঙ্কের ব্যাজ পরা একজন করিডরে এসে ঢোকে। সঙ্গে সঙ্গে গার্ড দুজন অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, স্যালুট ঠুকে বন্দুকে থাবা দিয়ে। সামরিক পোশাক পরা কমান্ড লিজারের সার বেঁধে ঢুকতে থাকে একে একে। সারা করিডরে পজিশন নেয় তারা। প্রত্যেকের দুই হাতে একটা করে অস্ত্র। ওপরের দুই হাতে লেজার গান। নিচের দুই হাতে অজ্ঞান করার জন্য ধরা আছে ডার্ট গান। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তারা। লিজার গার্ড দুজন এই কমান্ডোদের ভেতর সটান দাঁড়িয়ে থাকে, নিজেদের ভবনেই কেমন অবাঞ্ছিত বোধ হয়। তাদের সামনে প্রবল বাতাস বইয়ে দিয়ে একটা বাইভার্বাল নেমে আসে আকাশ থেকে। করিডরের ছাদের অংশটা খুলে দেওয়া হয়েছে আগেই। সেই খোলা অংশ দিয়ে বাইভার্বালের পেটে ঝুলতে থাকা একটা ভারী ধাতব নির্মিত লকার করিডরের মাঝখানে নামতে থাকে। বেশ বড় লকার। ১০ ফুট বাই ১৫ হবে। উচ্চতাও ১০ ফুটের কাছাকাছি। একটু আগে আসা অফিসারটি আঙুল দিয়ে ইশারা করার সঙ্গে সঙ্গে দুজন কমান্ডো লকারের দিকে পায়ে–পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে। তাদের প্রতি পদক্ষেপে সতর্কতা। এদিকে কেউ কিছু না বললেও বাকি আর্মিরা ইতিমধ্যে ফায়ারিং পজিশনে চলে গেছে। লিজার এলিয়েনদের হাতের মতো চোখও চারটা। সেই চার চোখেই এখন বাজের দৃষ্টি। কমান্ডো দুজন দরজার হাতল ধরে খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের সব লিজারের মুখ দিয়ে বিস্ময়সূচক শব্দ বেরিয়ে আসে। লকারের ভেতর ১৬–১৭ বছরের একটা মানবশিশুকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে। শুকনা ছেলেটার চেহারাটা বেশ মায়াকাড়া। কোঁকড়া–ঝাঁকড়া চুল নেমে এসেছে চোখ অবধি। দুজন লিজার অবশ্য মোটেও মানবসন্তানটিকে হালকাভাবে নিল না, বরং বন্দীদের যেভাবে নেওয়া হয়, সেভাবে হাত ঢুকিয়ে শূন্যে তুলে নিল। তারপর এনে দাঁড় করাল অফিসারটির সামনে।অফিসার ঘুরে গার্ড দুজনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইনচার্জ কে?’ হোঁতকা হাত উঁচিয়ে কোনোমতে বলল, ‘আমি স্যার।’ ‘এর জন্য কত নম্বর সেল বরাদ্দ হয়েছে?’ হোঁতকা ঢোঁক গিলে বলল, ‘১৫০০২০১৭ নম্বর, স্যার।’ ‘কোন দিক দিয়ে যেতে হবে দেখাও?’ ঠ্যাঙা আর হোঁতকা দ্রুত হাঁটা শুরু করল। তাদের আগে দুজন কমান্ডো জোড়া বন্দুক তাক করে রাস্তা ক্লিয়ার কি না, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। অনেকগুলো ঘর ছেড়ে শেষমেশ একটা সেলের সামনে এসে থামল দুজন। সেলটাতে লোহার গ্রিলের বদলে লেজারের বিম দেওয়া আছে। লেজার বন্ধ করে আর্মি দুজন হাতকড়া খুলে দিল বন্দীর। অফিসার বলল, ‘মিলিয়ে নাও। বন্দীর নাম জিগি ওলো। স্পিসিস হিউম্যান। রেটিনা স্ক্যান করে বন্দীকে বুঝে পেয়েছ, সেটার লেটার ফরোয়ার্ড করে দাও।’ ঠ্যাঙা তার হাতের স্ক্যানার দিয়ে রেটিনা স্ক্যান করল দ্রুত। বন্দী একেবারেই বাধা দিল না। শান্তভাবে চোখ মেলে রইল। কোনো ভাবালুতা নেই সেই চোখে, বরং সে চোখে চারপাশটা দেখার প্রবল আগ্রহ। স্ক্যান শেষে স্ক্যানারে সবুজ বাতি জ্বলে ওঠামাত্র হোঁতকা সেলের লেজার বন্ধ করে ঠেলে বন্দীকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। নিজেও ঘরের ভেতর ঢুকে এসে মুখে বলল, ‘জিগি ওলো এটা তোমার সেল। তুমি আরেকজনের সঙ্গে সেল শেয়ার করবে। যদি রুমমেটের সঙ্গে ঝামেলা হয়, তবে সরাসরি আমাদের জানাবে। রুমমেটের গায়ে হাত তোলা তৃতীয় মাত্রার অপরাধ। এতে তোমার জেলের মেয়াদ বাড়বে। যেহেতু তুমি অষ্টম মাত্রার অপরাধী, তাই নিরাপত্তার জন্য লোহার গ্রিলের পরিবর্তে লেজার দেওয়া হয়েছে। তুমি লেজারের ধারেকাছে আসবে না। যদি লেজারে তোমার অঙ্গহানি হয়, তবে সে দায় সম্পূর্ণ তোমার থাকবে। আর তোমাকে যে লেজার সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, সেটার প্রমাণ হিসেবে এই পুরো কথোপকথন রেকর্ড করে রাখা হয়েছে। তুমি যেহেতু মানবসন্তান, তাই হাতের ছাপ নেওয়া হবে সম্মতি হিসেবে। কোনো আপত্তি আছে?’ জিগি কোনো উত্তর না হাত এগিয়ে দিল ছাপ নেওয়ার জন্য। ঠ্যাঙা হাতের ছাপ স্ক্যান করে নিল দ্রুত। এবার সেল থেকে সবাই বের হয়ে গিয়ে লেজার চালু করে দিল আবার। কাজ শেষ দেখে সবাই বিদায় নিল দ্রুত। জিগি সেলের ভেতর ঢুকে এবার চারপাশে নজর দেওয়ার অবকাশ পেল। এক কোণে একটা দোতলা বিছানা। কে থাকে, সেটা খুঁজতেই দেখতে পেল, ওপরের বিছানা থেকে তার চেয়ে বছর চারেকের ছোট একটা ছেলে তার দিকে জুলজুলে চোখে চেয়ে আছে। বাচ্চা ছেলেটা জিগির নজরে পড়তেই প্রশ্ন করল, ‘তুমি মানুষ?’ জিগি ভ্রু কুঁচকে উত্তর দিল, ‘কোনো সন্দেহ আছে?’ ‘না মানে, সত্যিকারের মানুষ?’ ‘হ্যাঁ, একদম রক্তে–মাংসে।’ বাচ্চা ছেলেটা আরও আগ্রহী হয়ে বলল, ‘আমি আগে মানুষ দেখিনি জানো?’ জিগি খোঁচা দেওয়ার লোভ সামলাতে পারল না, ‘কেন, নিজের চেহারা আয়নায় দেখোনি?’ বাচ্চা ছেলেটা খোঁচা খেয়ে মোটেও আহত হলো না। বরং বানরের মতো বিছানা থেকে লাফ দিয়ে মেঝেতে নেমে এল। ‘তুমি নিষাদ না?’ জিগি মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। নিষাদ নামেই সে বেশি বিখ্যাত অথবা কুখ্যাত। এই নামেই সে চুরি করে বেড়ায়। লোকে তার জিগি নাম খুব কমই জানে। বাচ্চা ছেলেটা কাছে এসে একগাল হেসে হাত বাড়িয়ে দিল, ‘আমি নুবা।’ জিগি অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাতটা ধরে একটা ঝাঁকি দিল। নুবা তাতে আরও বেশি উৎসাহ পেয়ে গড়গড় করে বলে গেল, ‘আমি তোমার অনেক বড় ভক্ত। তোমার সব মোস্ট ওয়ান্টেড পোস্টার আমার কাছে আছে। তুমি গতবার সবচেয়ে বড় অপরাধ করেছিলে, তখন আমি খুশি হয়ে লিজারদের প্রোটিন হাউস থেকে প্রোটিন চুরি করে দরিদ্র গ্রিনি এলিয়েনদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলাম।’ নিষাদ হেসে ফেলে। চিকচিক করে ওঠে তার দাঁত। এই কাজ প্রথম জীবনে সে–ও অনেকবার করেছে। বলা যায়, তার চৌর্যবৃত্তির শুরু হয়েছে এটা দিয়েই। জিগি বলল, ‘তুমি দেখি আমার সম্পর্কে সবই জানো।’ তারপর ভ্রু নাচিয়ে যোগ করল, ‘কিন্তু তুমি এখানে কেন?’ নুবার চোখে যেন শ্রাবণের মেঘ ভর করল এই প্রশ্নে। সে মুখ কালো করে হতাশ হয়ে বলল, ‘আমি রোবটদের বিস্ফোরক চুরি করে লিজারদের ব্যাংক উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিছু ক্রেডিটও চুরি করেছিলাম। কিন্তু ক্রেডিট ভাঙানোর সময় ধরা খেয়ে গেলাম।’ ‘আমি রোবটদের বিস্ফোরক চুরি করে লিজারদের ব্যাংক উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিছু ক্রেডিটও চুরি করেছিলাম। কিন্তু ক্রেডিট ভাঙানোর সময় ধরা খেয়ে গেলাম।’ জিগি ঘরের ভেতরটা দেখে নিতে পায়চারি করতে করতে বলল, ‘খুবই নিম্নমানের বোকামি। ক্রেডিট কালোবাজারে থেকে সাদা না করে নিলে যেখান থেকেই ভাঙাও, ধরা খেতেই হবে। ক্রেডিটে একটা সূক্ষ্ম পিন থাকে, যেটা ভাঙাতে গেলেই মেইন সার্ভার ট্রেস করে ফেলে। এ জন্য কালোবাজারের একজন ভালো হ্যাকার লাগে পিনটাকে মোডিফাই করে নিতে।’ নুবা জিগির এত সব কথায় মোটেও কান দিল না। সে জিগির পায়চারি দেখেই বুঝে গেছে, জিগি পালানোর জন্য ঘরটা মেপে নিচ্ছে দ্রুত। কিন্তু এমন কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে কী করে পালাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। নুবা তাই প্রবল উৎসাহে জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি শুনেছি, তুমি নাকি এর আগে আরও পাঁচবার জেল থেকে পালিয়েছ?’ নিষাদ ঘরের এক কোণে হেঁটে যেতে যেতে গম্ভীর মুখে উত্তর দিল, ‘সরকারি হিসাবে পাঁচবার, আসলে সাতবার।’ নুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সে প্রশ্নটা করবে না করবে না করেও করে ফেলল, ‘তুমি কি এখনো পালাবে?’ নিষাদ কোনো কথা না বলে নিঃশব্দে লঘু পায়ে দেয়ালের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ক্রোমিয়ামের দেয়ালের গায়ে হাত বোলায় আলতো করে। নুবা এসে দাঁড়ায় তার পেছনে। সে সবকিছুতেই প্রবল আগ্রহ বোধ করছে। জিগির প্রতিটি নড়চড়া সে দেখছে বাজের দৃষ্টি মেলে। নিষাদ হাত বোলানো শেষে পিছিয়ে এসে নিজের ছেদনদন্তে হাত দিল এবং নুবাকে অবাক করে দিয়ে দাঁতটা খুলে নিষাদের হাতে চলে এল অনায়াসে। খুলে আসা দাঁতটা সাদা থেকে ঘন নীল হয়ে উঠতে থাকে। দাঁতটা পুরোপুরি জমাটি নীল হয়ে গেলে জিগি হাত দিয়ে নুবাকে ইশারা করল পিছিয়ে যেতে। নুবা অনুগতের মতো পিছিয়ে গেল। নিষাদ দাঁতটাকে এবার ছুড়ে দেয় ক্রোমিয়ামের দেয়ালের ওপরের দিকের গায়ে। নীল দাঁতটা ভেঙে গিয়ে তরল ছিটকে পড়ে দেয়ালের গায়ে। ধীরে ধীরে ধোঁয়া উঠতে থাকে তরল অংশ থেকে। ক্রোমিয়ামের দেয়াল পুড়ে গলে যেতে থাকে সেই তরলের অভাবে। যেন অ্যাসিড পড়েছে ক্রোমিয়ামের দেয়ালে। নুবা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। নুবার মুখ দিয়ে আপনা–আপনি বের হয়ে আসে, ‘ফ্যান্টাবুলাস।’ একসময় পুরো দেয়াল গলে একটা বিশাল গর্ত তৈরি হয়। জিগি ধীরপায়ে হেঁটে গিয়ে সেই প্রায় বৃত্তাকার গর্তে লাথি হাঁকায়। বৃত্তের পাতলা ধাতব অংশটা আওয়াজ তুলে খসে পড়ে নিচে। নুবা এগিয়ে গিয়ে সেই খোলা অংশ দিয়ে উঁকি দিয়েই ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে আসে। তারা এখন কয়েক হাজার তলার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। ধাতব টুকরাটার মতো তারা এখান থেকে নিচে পড়লে শরীরের বিন্দুমাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। নুবা ঘুরে তাকায় জিগির দিকে। চোখের জিজ্ঞাস্য দৃষ্টিতে একটাই প্রশ্ন, পালানোর রাস্তা কই? ৩ জিগি হেঁটে গিয়ে নুবাকে সরিয়ে নিজে উঁকি দিল খোলা অংশ দিয়ে। দুই আঙুল মুখের ভেতর ঢুকিয়ে প্রাচীনকালে ঘোড়া ডাকতে যেভাবে শিস দিত, ঠিক সেভাবে শিস দেয় সে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের বেগে বাতাসে শিস কেটে একটা উড়ন্ত বাইক এসে হাজির হয়, বৃত্তটার ঠিক সামনে । যেন মালিকের ডাকে পোষমানা ঘোড়াটা ছুটে এসেছে পড়িমরি করে। নুবা ঘটনা দেখে সহজেই বুঝতে পারে, এই উড়ুক্কু বাইক নিষাদের ভয়েজ কমান্ডে চলে। নিষাদ হাজার তলার তোয়াক্কা না করে লাফ দিয়ে বাইকে উঠে বসে। তারপর হেলমেট পরতে পরতে নুবার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে, নাকি এখানে পচে মরবে?’ নুবার যেন কথাটা বিশ্বাস হয় না। সে চোখ আসমানে উঠিয়ে নিজের সৌভাগ্যে নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসা করে, ‘আমি?’ নিষাদ বাইকের হাতলে হাত রেখে প্রস্তুত হয়ে বলল, ‘তুমি ছাড়া তো আর কেউ নেই এখানে।’ নিষাদের সম্মতি পেতেই আর দেরি করল না নুবা। সে অবাকভাবেই বাইকে উঠে বসে। নুবা চড়ে বসতেই বাইক স্টার্ট দেয় জিগি। বাইকের পেছনের একজোস্ট সিলিন্ডার দিয়ে নীল আগুন বের হয়ে আসে। নাইট্রাস অক্সাইড জ্বালানির কারণে এমন আগুন বের হচ্ছে সেখান দিয়ে। জিগি তার নিষাদ নামের আদ্যক্ষর দিয়ে তৈরি একটা প্রতীক বৃত্তটার মাঝখান দিয়ে ছুড়ে পাঠায় ভেতরে। প্রতিটি চুরির পর সে প্রমাণ হিসেবে এই কাজ করে যায়। প্রতীকটা ঘরের ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে। তারস্বরে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে। সারা বিল্ডিংয়েই প্রিজন অ্যালার্ম বা পাগলা ঘণ্টার দাপটে লিজার এলিয়েনদের ত্রস্ত পদক্ষেপের শব্দ শোনা যায়।নিষাদ, তথা জিগি আর একমুহূর্ত দেরি করে না। বাইকের গিয়ার বাড়িয়ে টান দেয় ফুল স্পিডে। উড়ুক্কু বাইক বাতাসের বেগে ছুটতে থাকে। পেছনে শোনা যায় পুলিশের সাইরেন। নুবা ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে দেখতেই তার গলা শুকিয়ে যায়। পেছন অসংখ্য লিজার পুলিশ তাদের পুলিশ লেখা বাইভার্বাল নিয়ে ধেয়ে আসছে তাদের ধরতে। নুবা কিছু বলতে গিয়েই বুঝতে পারল, জিগি সবটাই দেখছে, তবে সে উত্তেজিত হয়নি মোটেই। সে নিষাদ আশ্চর্য রকম নির্বিকার। নিষাদ একটা বহুতল বিল্ডিংয়ের বিলবোর্ডের দিকে বাইক ঘুরিয়ে নিল। ইলেকট্রিক বিলবোর্ডে একটা বিজ্ঞাপন চলছে। একজন লিজার নারী ‘গ্রিন ফেয়ার’ প্রসাধন মেখে ত্বক আরও কতটা সবুজ করা যায়, সেটা নিয়ে বকবক করছে। জিগি সেই লিজার নারীর সবুজ সৌন্দর্যে মোটেও বিমোহিত হলো না, বরং বিলবোর্ড যে দুটি বিশাল থামের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটিতে লেজার মেরে ভেঙে দিল। বিশাল সেই বিলবোর্ডটা মুহূর্তে কাত হয়ে সামনের দিকে ভেঙে পড়তে লাগল। জিগিরা পার হয়ে গেলেও পুলিশের বাইভার্বালগুলোর সামনের অংশের সবটাই ভূপতিত হলো সেই উল্টে পরা বিলবোর্ডের ধাক্কায়। নিষাদ একবার পেছনে দেখে নিয়ে উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের দেয়ালগুলোর পাশ দিয়ে তীব্র বেগে বাইক টার্ন খাওয়াতে থাকল বারবার। কিন্তু লাভ হলো না। পেছনের অবশিষ্ট বাইভার্বালগুলো জোঁকের মতো লেগেই রইল তাদের লেজে। শুধু লেজে লেগে থেকেই ক্ষান্ত দিল না, নুবাদের নাগালে পাওয়ামাত্র লেজারগান দিয়ে লাল–নীল থেকে শুরু করে বাহারি রঙের লেজার ছুড়ে দিতে লাগল বারবার। এসব লেজারের একটা আঘাতই পারে চিরতরে তাদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দিতে। নিষাদ লেজারগানের ভয়ে দেয়ালের আড়ালে চলে যেতে লাগল বারবার। লেজার দেয়ালের কংক্রিট খসিয়ে দিতে লাগল প্রতিবার। কোনোমতে কানের পাশ দিয়ে গুলি যেতে লাগল। নুবা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রইল জিগির কোমর। তার বারবার মনে হতে লাগল, এই বুঝি শেষ। একটা আঘাত আর সব শেষ। একেবারে খতম। কিন্তু নিষাদ দক্ষতার সঙ্গে সব আঘাতই এড়িয়ে যেতে লাগল বারবার। তবে শেষ রক্ষা হলো না লিজারদের। বাইভার্বালগুলো তক্কে তক্কে থেকে নিষাদদের বাইকটাকে একদম কাছে পেয়ে গুলি চালাল একযোগে। নুবা পেছনে তাকিয়ে বাঁচার আর কোনো উপায় দেখতে পেল না। শুধু তার দিকে ছুটে আসা লেজারগুলো দেখতে পায় সে। ছুটে আসা অসংখ্য লেজার এবং বুলেট নুবার কাছাকাছি এসে আঘাত করার ঠিক আগমুহূর্তে নুবা ভয়ে এবং আতঙ্কে চোখ বন্ধ করে ফেলল ঝট করে। আর এদিকে নিষাদে মাথায় চিন্তা চলছে ঝড়ের গতিতে। সে দ্রুত হাতে তার বাইকের সামনের একটা কালো বাটন চাপ দিয়ে পুরো বাইকের চারপাশে একটা বৃত্তাকার বলয় তৈরি করে ফেলল। অস্বচ্ছ সেই বলয়ে ধাক্কা খেয়ে লেজার বুলেটগুলো ছিটকে যেতে থাকে এদিক–ওদিক। নুবা চোখ খুলে প্রথমেই নিজের সারা গা হাতড়ে দেখে। বুঝতে পারে, গুলি বা লেজার লাগেনি এবং অবিশ্বাস্যভাবে সে বেঁচে আছে। নুবা এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ডে উচ্ছ্বসিত হয়ে চিৎকার করে ওঠে, ‘আমি মরি নাই। আমি মরি নাই।’ এমন বিপদের মধ্যে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠ শুনে নিষাদ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এত খুশি হয়ো না, ডিফ্লেক্টর শিল্ড মাত্র দুই মিনিট অ্যাকটিভ থাকে।’ নুবার বুঝতে সময় লাগল চারপাশের বৃত্তকার বলয়টাই ডিফ্লেক্টর শিল্ড। এতেই আঘাত খেয়ে বুলেট এবং লেজার ছিটকে যাচ্ছে প্রতিফলিত হয়ে। নুবা সব ঘটনাটা বুঝতে পারামাত্র গলার উচ্ছ্বাস আতঙ্কে রূপ নিয়ে কণ্ঠ চিরে বের হয়ে এল, ‘আমি মরতে চাই না। আমি মরতে চাই না।’ নিষাদ বাইকটাতে একটা শক্ত ঝাঁকি দিয়ে নুবাকে থামিয়ে নিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল, ‘সেটা আমিও চাই না। শক্ত করে বসো, পেছনের পুলিশগুলোর দফারফা করে নিই আগে।’ নিষাদ স্থির হয়। উড়ুক্কু বাইকটার গতি কমিয়ে আনে দ্রুত। পুলিশদের দলটাকে কিছুটা কাছে আসার সুযোগ দেয় সে। বিপজ্জনকভাবে কাত করে আনে বাইকটাকে। ‘কী করছ, আরেকটু হলেই তো ধরা পড়ে যাব!’ আর্তনাদ করে ওঠে নুবা।এমন বিপদের মধ্যে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠ শুনে নিষাদ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এত খুশি হয়ো না, ডিফ্লেক্টর শিল্ড মাত্র দুই মিনিট অ্যাকটিভ থাকে।’ নিষাদ কোনো উত্তর দেয় না। সে রিয়ার ভিউ মিররে পুলিশগুলোকে কাছে আসতে দেয় ধীরে ধীরে। নিষাদ আত্মসমর্পণ করতে পারে ভেবে তারাও গতি কমিয়ে এনেছে। নিষাদ এই সুযোগে গিয়ার বাড়াতে থাকে হাতের মোচড়ে। ফুল স্পিড তুলে নিয়ে আচমকা সামনের বিল্ডিংটার দিকে ধেয়ে যায় সে। ধোঁকা খেয়েছে বুঝতে পেরে পেছনের পুলিশগুলোও ফুল স্পিড তুলে ধেয়ে আসতে থাকে প্রবলভাবে। নুবা বিস্ফারিত চোখে দেয়ালের দিকে ধেয়ে যাওয়া দেখে চিৎকার করে ওঠে, ‘কী করো, ধাক্কা খেয়ে মরব তো।’ মৃত্যু নিশ্চিত জেনে আ আ বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে শেষ মুহূর্তে। কিন্তু নিষাদ সোজা বিল্ডিংয়ের ঠিক কাছে গিয়ে বাইকের ওপরে থাকা সাদা বাটনটা চাপ দেয়। প্রতিক্রিয়ায় বাইকের পেছনে নীল আগুন জ্বলা একজোস্ট সিলিন্ডারগুলো চট করে ওপরের দিকে উঠে গিয়ে ঝট করে তীব্রভাবে বাইকটাকে নামিয়ে আনতে থাকে মাটির দিকে। একটু গতিজড়তার জন্য আগে বাড়লেও দেয়ালে ধাক্কা খেতে খেতেও খায় না শেষ পর্যন্ত। তবে মাধ্যাকর্ষণ এবং নাইট্রাস অক্সাইড জ্বালানির প্রভাবে এবার বাইকের গতি হয় তীব্র থেকে তীব্রতর। বাইকটা সেই প্রচণ্ড গতি নিয়ে পড়তে থাকে সোজা নিচের দিকে, মাটির টানে। নুবার চিৎকার এবার আর্তনাদে রূপ নেয়। গতবার বাঁচলেও এবার মৃত্যু নিশ্চিত। এদিকে নিষাদ শেষ মুহূর্তে গতি পাল্টে দেয়ালে ধাক্কা না খেয়ে নিচে পড়তে লাগলেও পেছনে ধেয়ে আসা বাইভার্বালগুলো সামলাতে না পেরে সোজা গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা খেতে থাকে একের পর এক। কয়েকটা বুদ্ধিমান চালক ব্রেক কষে থামার চেষ্টা করে বটে, কিন্তু পেছনের বাইভার্বালগুলোর ধাক্কাতে প্রায় সব কটিই ভেঙেচুরে নিচে পড়তে থাকে। নিষাদ মাটির কিছু ওপরে থাকতেই সাদা বাটনটা চাপ দেয় আবার। এবার একজোস্ট সিলিন্ডারগুলো ঝট করে নেমে যায় নিচে। ধাক্কা দিয়ে কমিয়ে আনতে থাকে বাইকের গতি। তবে তার আগেই মাটির কাছাকাছি চলে আসে তারা। উড়ন্ত বাইকটা মাটিতে আছড়ে পড়ার দশা দেখে পথ চলতে থাকা বিভিন্ন গ্রহের এলিয়েনরা চিৎকার দিয়ে ফাঁকা করে দেয় জায়গাটা। ধাক্কা খাবে খাবে করেও একদম বিপৎসীমার কাছে এসে স্বাভাবিক হয়ে যায় বাইক। মাটির সঙ্গে ঘষা খেয়ে স্থির হয় সেটা। নুবা মাটির দিকে তাকিয়ে ঢোঁক গেলে কোনোমতে। আর্তচিৎকার দিতেও ভুলে গেছে সে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। সে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই অসংখ্য লিজার পুলিশ বাইভার্বাল দিয়ে ঘিরে ফেলে তাদের। লেজারগানসহ অন্য সব ধরনের অসংখ্য বন্দুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাক হয়ে আছে তাদের দিকে। পালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবার। একটা বাইভার্বালের স্পিকারে ঘর্ঘর আওয়াজ ওঠে। একজন পুলিশ তাদের হাত তুলে বাইকের ওপর দাঁড়াতে নির্দেশ দেয়। নিষাদ আর নুবা উপায় না দেখে আর চালাকির চেষ্টা করে না। অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সে নির্দেশ। নিরাপদ দেখে একজন পুলিশ চিফ বাইভার্বালের ছাদ খুলে বের হয়ে আসে। তার হাতে একটা ইলেকট্রিক ভয়েস এনহ্যান্সার। সে উঁচুতে দাঁড়িয়ে দুজনকে শুনিয়ে গর্বের সঙ্গে বলে, ‘তোমরা মাত্র দুই চোখের মানবেরা কখনো আমাদের লিজারদের চার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না। ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট।’ নিষাদ উত্তরে হেসে ফেলল ফিক করে। নুবা অবাক হয়ে চাইল তার দিকে। নিষাদ বলল, ‘এ জন্যই তোমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম কাকে বলে বীরের মতো পলায়ন।’ নিষাদের কথা শেষ হওয়ামাত্র বাইকসহ নিষাদ ও নুবা যেন ভোজবাজির মতো নেই হয়ে যায়। একটা ধাতব চাকতি ঠং করে শূন্য থেকে আছড়ে পড়ে কংক্রিট ও ক্রোমিয়াম দিয়ে তৈরি রাস্তায়। মুদ্রা ধরনের চাকতিটা ঘুরে স্থির হলে সেখান থেকে হলোগ্রাফিক ইমেজ বের হয়ে নিষাদের নামের সিম্বল ভেসে ওঠে। ঘোষণা দিতে থাকা পুলিশ অফিসার বুঝতে পারে, তাকে বোকা বানানো হয়েছে। এতক্ষণ নিষাদ ও নুবার সব ইমেজটা আসলে ওই চাকতি থেকে দেখানো হয়েছে লেজারে তৈরি থ্রিডি ইমেজ টেকনোলজি ব্যবহার করে। এতক্ষণ যেটা চলেছে, সেটা ছিল ইলিউশন। ঠিক কিছুক্ষণ আগে নিষাদ যখন নিচে পড়ছিল, তখন সে একটা ধাতব চাকতি নিচের দিকে ছুড়ে দিয়ে বাইকটা একটু ডানে টার্ন করায় এবং ঠিক তখনই চাকতি থেকে হুবহু তাদের ইলিউশন ক্রিয়েট হয় এবং একই সঙ্গে মেইন বাইক অদৃশ্য হয়ে যায় দৃশ্যপট থেকে। সঙ্গে সঙ্গে নিষাদ নুবাকে বলেছিল, ‘আমাদের কিছুক্ষণের জন্য ধরা পড়ার অভিনয় করতে হবে। এখন এক মিনিটের জন্য আমাদের কেউ দেখতে পাবে না।’ নুবা অবুঝ বালকের বালখিল্য স্বরে জিজ্ঞাসা করে, ‘মানে?’ নিষাদ বাইক চালাতে চালাতেই হেসে উত্তর দিয়েছিল, ‘আমার বাইকের ইলিউশন আর ইনভিজিবিলিটি একসঙ্গে টিউন করা। ইলিউশন ক্রিয়েট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার বাইক সবার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু এই অদৃশ্য হওয়ার সময়সীমা শুধু এক মিনিটের জন্য।’কিন্তু কিসের ইলিউশন? এখনো কিছুই বোঝেনি নুবা। নিষাদ বাইক নিয়ে সরে যেতে যেতে বলে, ‘আমি যে চাকতিটা ছুড়ে দিলাম নিচে, ওটা এতক্ষণ আমাদের ইমেজ ক্যাপচার করছিল। এখন ওটা হুবহু আমাদের থ্রিডি ইমেজ পোট্রে করবে। তবে ইমেজের পেছনের অভিনয়টা অবশ্যই আমাদের করতে হবে।’ নুবার আর বুঝতে বাকি থাকেনি। একেবারে পুরস্কার পাওয়ার অভিনয় করে দেখিয়েছে সে। আর পুলিশকে ব্যস্ত রাখার ফাঁকে দুজনেই পেরিয়ে গেছে বিপৎসীমা। এখনই কেউই আর নাগাল পাবে না দুজনের। তবে দুজনের কেউই জানল না লিজার–অধ্যুষিত সব এলাকায় হুলিয়া জারি হয়ে গেছে। ছাপা হয়ে গেছে দুজনের মোস্ট ওয়ান্টেড পোস্টার। নুবার নামে প্রথম এবং জিগির নামে ক্রেডিটের পরিমাণ বাড়িয়ে ষষ্ঠবারের মতো। এই গল্পটার লেখক আমি না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now