বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আঁখি এবং আমরা ক'জন (৬)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X আমরা ধরেই নিয়েছিলাম আমাদের স্কুলের লাইব্রেরিটা সবসময়ই বন্ধ থাকবে। আমরা জানালার ফাঁক দিয়ে বড় বড় আলমারি বোঝাই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকব আর বড় বড় নিশ্বাস ফেলব। কিন্তু একদিন খুব বিচিত্র একটা ব্যাপার ঘটল। আমরা স্কুলের মাঠে খেলছি, খেলতে খেলতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে তখন খেলা বন্ধ করে আমরা বাসায় রওনা দিয়েছি। হঠাৎ মাসুম বলল, “ঐ দেখ।” আমরা মাসুমের সাথে সাথে স্কুল বিল্ডিংয়ের দিকে তাকালাম। দোতলার একটা ঘরে আলো জ্বলছে-আমরা সবাই এই ঘরটাকে চিনি। এটা আমাদের লাইব্রেরি ঘর। নিচ থেকে ভালো বোঝা যায় না কিন্তু মনে হল ভেতরে একজন মানুষ ঘোরাঘুরি করছে। মামুন বলল, “লাইব্রেরির ভিতরে কে যেন ঢুকেছে।” আমি বললাম, “মনে হয় ভূত।” “ভূত? ভূত কেন হবে?” “লাইব্রেরিতে ভূত ছাড়া আর কে ঢুকবে।” মামুন একটু বৈজ্ঞানিক ধরনের হলেও অন্য সব দিকে সে গাধা টাইপের মানুষ তাই সে গাধার মতো বলল, “মনে হয় লাইব্রেরিটা পরিষ্কার করছে, এখন সেটা আমাদের জন্যে খুলে দেবে আর আমরা বই নিতে পারব।” তার কথা শুনে আমরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম। মাসুম বলল, “গাধা কোথাকার। ক্লাসে আমাদের ব্যাগে গল্পের বই পাওয়া গেলে আমাদের পিটিয়ে লম্বা করে দেয় আর লাইব্রেরি খুলে দেবে গল্পের বই পড়ার জন্যে? তুই আসলেই গাধা।” মামুন মাথা নেড়ে স্বীকার করে নিল সে গাধা। আমরা তাই তাকে নিয়ে আর বেশি টিটকারি দিলাম না। যখন নতুন ম্যাডাম এসে আমাদের স্কুলটাকে একেবারে অন্যরকম করে ফেলবেন অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে আমরা দেখলাম আমাদের হেড মাস্টার নাই তার জায়গায় একজন কমবয়সী ছোটখাটো শুকনো-পাতলা হাসিখুশি মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। সোনার বাংলা গান গেয়ে জাতীয় পতাকা তোলা হল, আমরা দেখলাম, কমবয়সী ছোটখাটো হালকাঁপাতলা হাসিখুশি মহিলাটি খুব উৎসাহ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সাথে পুরো গানটা গাইলেন। কী আশ্চর্য! এর আগে আমাদের স্যার-ম্যাডামরা কখনো সোনার বাংলা গান গায়নি–পুরোটা তারা জানে কি না আমার সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এরপর আমাদের বাংলা স্যার একটু এগিয়ে এসে গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, “তোমরা হয়তো এখনো খবর পাওনি যে আমাদের হেড মাস্টার স্যার বদলি হয়ে গেছেন। তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন ড. রাইসা খালেদ। আমি রাইসা খালেদকে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে কিছু বলার জন্যে অনুরোধ করছি।” কমবয়সী ছোটখাটো হালকাঁপাতলা হাসিখুশি মহিলাটা একজন ডাক্তার–আবার আমাদের হেড মাস্টার। কী আশ্চর্য! আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম, দেখলাম মহিলাটা আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, হেসে বললেন, “আমি আসলে পরশু দিন দায়িত্ব নিয়েছি–তারপর দুই দিন স্কুল বন্ধ তাই। তোমাদের সাথে দেখা হয়নি! আজকে প্রথম দেখা হল।” ভদ্রমহিলা বড় বড় চোখ করে আমাদের সবার দিকে তাকালেন, আমরাও বড় বড় চোখ করে তার দিকে তাকালাম। ভদ্রমহিলা বললেন, “মনে কর না আমি এই দুই দিন বসেছিলাম–আমি এই দুই দিন স্কুলটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি, দেখে অনেক কিছু আবিষ্কার করেছি।” ভদ্রমহিলা আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বল দেখি, আমি কী আবিষ্কার করেছি?” কী আশ্চর্য ব্যাপার! আমাদের অ্যাসেম্বলিতে কখনো এই ব্যাপারটা ঘটেনি! অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে কথা বলা মানেই বিশাল অপরাধ, সাথে সাথে কানে ধরে ভয়ংকর কোনো শাস্তি! আর এই হাসিখুশি ভদ্রমহিলা আমাদের কথা বলতে বলছেন। আমরা সবাই একসাথে কথা বলে উঠলাম, কেউ বলল তেলাপোকা, কেউ বলল মাকড়সা, কেউ বলল হ্যান্ড গ্রেনেড, কেউ বলল ফেন্সিডিল আর বেশিরভাগই বলল, তারা জানে না। হাসিখুশি ভদ্রমহিলা মাথা নেড়ে বললেন, “হয়নি! আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটা এখনি আমি তোমাদের দেখাব।” তখন তিনি পিছনে কাউকে ডাকলেন আর আমাদের স্কুলের দপ্তরি মানিক অনেকগুলো নানা সাইজের বেত নিয়ে এলো। স্যারদের অনেকে এই বেত হাতে নিয়ে ক্লাসে ঢোকেন, অনেকে দরকার পড়লে অফিস থেকে আনিয়ে নেন। আমরা সবাই কখনো না কখনো এই বেতগুলোর নিচে হাত পেতেছি। মানিকের হাতে ধরে রাখা বেতগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমাদের হাসিখুশি নতুন হেড মাস্টার ম্যাডামের চোখ-মুখ কেমন যেন কঠিন হয়ে গেল এবং তাকে দেখে রীতিমতো আমাদের ভয় করতে লাগল। ম্যাডাম বললেন, “ছেলেমেয়েদের গায়ে হাত তোলা বাংলাদেশে বেআইনি। শুধু বেআইনি না, কেউ যদি ছেলেমেয়েদের গায়ে হাত তোলে তা হলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার মানে বুঝেছ?” আমরা সবাই জোরে জোরে মাথা নাড়লাম। ম্যাডাম বললেন, “তার মানে হচ্ছে আমাদের কোনো শিক্ষক যদি তোমাদের গায়ে হাত তোলে, তোমাদের বেত মারে আর তোমরা যদি কমপ্লেইন কর তা হলে শিক্ষকদের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে যাবে–” ছোট ক্লাস থেকে রিনরিনে গলায় একটা ছোট মেয়ে জিজ্ঞেস করল, “কান ধরে টানলে?” “কান ধরে টানাও শারীরিক শাস্তি। এটা করাও বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজেই আমাদের শিক্ষকদের এখন খুবই সতর্ক থাকতে হবে-আমরা ভুলেও যেন কোনো ছেলেমেয়ের গায়ে হাত না তুলি। আমি এই স্কুলে এসে এই বেতগুলো পেয়েছি–এটা খুবই বিপজ্জনক। বাইরে যদি খবর যায় তা হলে আমাদের শিক্ষকরা খুব বড় বিপদে পড়ে যেতে পারেন। আমি নিশ্চিত তারা কখনোই বেতগুলো দিয়ে তোমাদের মারেননি, শুধুমাত্র ভয় দেখানোর জন্যে এগুলো রেখেছেন—” তখন অ্যাসেম্বলির সব ছেলেমেয়ে একসাথে চিৎকার করে উঠল, বলল–”মেরেছেন! মেরেছেন।” ম্যাডাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তার মুখটা দেখতে দেখতে কঠিন হয়ে গেল, কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে থমথমে গলায় বললেন, “যদি মেরে থাকেন তা হলে খুব বড় অন্যায় করেছেন। যাই হোক যেটা হয়ে গেছে আমি সেটাকে আর ফিরাতে পারব না। কিন্তু আমি তোমাদের কথা দিচ্ছি এই স্কুলে আমার কোনো ছেলেমেয়ের গায়ে আর কেউ কোনোদিন হাত তুলতে পারবে না!” আমরা সবাই তখন আনন্দে চিৎকার করতে লাগলাম। দুষ্টুমি করার জন্যে যারা সবচেয়ে বেশি পিটুনি খেয়েছে তারা আনন্দে রীতিমতো লাফাতে লাগল। আর যে স্যারেরা বেত দিয়ে আমাদের সকাল-বিকাল পিটিয়েছেন তাদের মুখ দেখে মনে হতে লাগল কেউ তাদের জোর করে আলকাতরা খাইয়ে দিয়েছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প


Warning: mysqli_fetch_array() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/story.php on line 344

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...