বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[গত সংখ্যার পর]
৫.
ওদের কান্ড দেখে হেসে ফেলে ওরা দু’জন। কুর্ট ন্যান্সিকে বলে-
: দেখলি তো, ভালো কাজই হলো। এখন সামনে এগোই চল।
আরো একটু পথ এগোয় ওরা। এবার সমস্যা। আগুনের আলোয় দেখল, সামনে দু’দিকে চলে গেছে দু’টি পথ। ন্যান্সি বলে ওঠে-
: ভারি ঝামেলা তো! কোন দিকে যাব এখন?
কুর্ট বলে-
: তুই এখানে দাঁড়িয়ে থাক। আমি চট করে পথ দুটো দেখে আসি। দেরি করব না।
: সাবধানে যাস। ভাইকে সতর্ক করে দেয় ন্যান্সি।
কুর্ট এগিয়ে যায়। সামনে পড়ে একটা বড় পাথর। সাবধানে পাথরের ওপর ওঠে সে। দেখে, ওপাশে সেই বড় গুহাটায় এক সাথে বসে আছে লোকগুলো। নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। কুর্ট দেখল, নেতা চেহারার সে লোকটি এখন নির্দেশনা দিচ্ছে। সবাই তার কথা মনোযোগের সাথে শুনছে। তার মানে এ লোকটিই এ খারাপ লোকগুলোর নেতা। তাদের কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করে সে। এখন কাজের দায়িত্ব ভাগ চলছে। লোকটা বলছে, রবার্ট আর সিম্পসন কোকেনের চালান নিয়ে যাবে ডাবলিনে। ক্রিস্টোফার আর স্যামসন হেরোইনের একটি চালান নিয়ে যাবে বেলফাস্টে। হ্যানসেন আর উইলিয়াম হেরোইনের আরেকটি চালান নিয়ে যাবে প্যারিসে এবং ডেভিড আর রন কোকেনের আরেকটি চালান নিয়ে ব্রাসেলসে যাবে। খুব সাবধান। সবগুলো প্যাকেটই আগের মত গোপন ব্যবস্থায় যাবে। তোমরা সবাই নির্দিষ্ট ঠিকানাগুলোতে গিয়ে নগদ টাকা নিয়ে দ্রুত ফিরে আসবে।
এতক্ষণে কুর্ট নিশ্চিত হয় যে এরা এক বিরাট মাদক চক্রের লোকজন। সে অনুমান করে যে সাগরপথে মাদকের চালান এনে এ গুহায় রাখা হয়।
কুর্টের অনুমান অনেকটাই ঠিক। এ সাগর সৈকতটায় লোকজন কম আসে। আর এখানকার গুহাগুলোও মানুষের কাছে আকর্ষণীয় নয়। বিশেষ করে কিছু গুহা পানিতে ভেজা থাকায় পিচ্ছিল হয়ে থাকে। পা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এগুলোতে কেউ আসে না। কিন্তু একটু উঁচুতে যে কিছু গুহা সব সময়ই শুষ্ক থাকে তা হয়ত কেউ খেয়াল করেনি। তার জানা নেই যে টিলার ওপাশের সদর রাস্তা থেকে একটি শাখা পথ ঘুরে এ গুহাগুলোতে যাতায়াত করা যায়। এই মাদক চক্র যেভাবেই হোক, গুহাগুলোর সন্ধান পেয়েছে এবং তাদের ব্যবহারের উপযোগী করে নিয়েছে। এটা তাদের মাদকের গুদাম। সাগরপথে নৌকায় করে গভীর রাতে তারা এগুলো এনে এখানে জমা করে। তারপর প্রয়োজন মত গাড়িতে করে নানা জায়গায় পাঠায়।
কুর্ট বুঝতে পারে, সকালে তারা হঠাৎ করে এখানে এসে পড়ায় বিপত্তি বেধেছে। তারই শিকার হয়েছে বেচারি লিন। তবে মনে হচ্ছে, এ লোকগুলো মাদক পাচারের সাথে জড়িত হলেও পাকা অপরাধী হয়ত নয়। কারণ, অপরাধীদের কাছে বহু অস্ত্র থাকে- বন্দুক, পিস্তল-রিভলবার, ছুরি, বোমা ইত্যাদি। কিন্তু এদের কাছে সে সব কিছুই নেই। এদিকে লিনকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তাকে কোথায় রেখেছে কে জানে। কী করবে বুঝে উঠতে পারে না কুর্ট।
হঠাৎ নেতা লোকটি উঠে দাঁড়ায়। সবার উদ্দেশ্যে কথা বলে সে-
: মেয়েটিকে কোণের ছোট ঘরটায় রেখেছ তো? সে খুবই ছোট। তাই তার দ্বারা কোনো ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না। তবু খেয়াল রেখ তার দিকে। সকালে তাকে ছেড়ে দেয়া যাবে।
তার কথা শুনে স্বস্তির শ্বাস ফেলে কুর্ট। যাক, লিন কোথায় আছে তা জানা গেল। এখন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে।
এ সময় আবার কথা বলে নেতা। তার গলা বেশ গম্ভীর, ভয় ধরানো। বলে-
: এখন আমি যা বলছি সবাই মনোযোগ দিয়ে শোনো। এখানে আমরা আছি বারো জন। সবাই পোড়খাওয়া, সাহসী মানুষ। এখানে যে হেরোইন ও কোকেন আছে তার দাম এক কোটি ডলার। আমরা যদি সব ঠিকানায় চালানগুলো ঠিকমত পৌঁছে দিতে পারি তাহলে দ্বিগুণ অর্থ পাব অর্থাৎ শুধু লাভের পরিমাণই হবে পঞ্চাশ লাখ ডলার। তার মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় আট-দশ লাখ ডলার দিতে হবে। বাকি ডলার আমাদের মধ্যে ভাগ হবে। এ দিয়ে কিছুদিন সবারই ভালোভাবে কাটবে। এদিকে নতুন চালান আনার চেষ্টা চলতে থাকবে। কারণ সব দেশেই মাদকের চাহিদা ভীষণভাবে বাড়ছে। সুতরাং সবাই যে যার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করবে। কোনো ভুল যে করবে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
একটু থামে নেতা। তারপর আবার কথা শুরু করে, আজ আমাদের বিরাট কাজ রয়েছে। প্রথম কথা হচ্ছে, আটক মেয়েটিকে উদ্ধার করার একটা চেষ্টা করা হতে পারে। তাই অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের দু’জন লোক সারাক্ষণ গুহার প্রবেশ পথে পাহারা দেবে। আমার জানা মতে, পুলিশ এ গুহার কথা জানে না। কিন্তু তাদের অসাধ্য কিছু নেই। তাই যে কোনো জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য আরো দু’জন সাহসী লোক থাকবে এখানে। বাকি সবাই এখন যাব যেখানে গুপ্তধন আছে বলে মনে করা হয় সে গুহাটাতে। শেষ অংশটুকু খুঁড়ে দেখব আসলেই ঐ গুহায় গুপ্তধন লুকোনো আছে কিনা। যদি কোনো সমস্যা বা বিপদ দেখা দেয় তাহলে এরা দ্রুত আমাদের খবর দেবে। কেউ অসতর্ক থাকবে না। বিপদ ঘটলে সবাই মিলে গোপন পথ দিয়ে বেরিয়ে যাব। কেউ আমাদের সন্ধান পাবে না।
অনেক খবরই জানা গেল- ভাবল কুর্ট। কোনো শব্দ না করে সে পাথর থেকে নেমে আসে। চাপা গলায় সব কিছু জানায় দু’জনকে। বলে, লিনকে এ গুহার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।
: চলো, এখুনি লিনকে উদ্ধার করে আনি আমরা। বলে ডেভ।
ওর পিঠে হাত রাখে ন্যান্সি। বলে-
: না রে ভাই, বিষয়টা এত সহজ নয়। বুদ্ধি করে কাজ করতে হবে আমাদের।
কুর্টের প্যান্টের এখানে সেখানে কম করে হলেও গোটা পাঁচ-ছয় পকেট রয়েছে। তেমনি ওর গায়ের জ্যাকেটেও আছে আরো গোটা কয়েক। এসব পকেটে যে কি আছে আর কি নেই তা বলা মুশকিল। দাদুবাড়ি আসার আগে সে পকেটে নিয়ে এসেছে ছোট লাইটার, সাদা চক, অনেক মোটা কয়েক গজ সুতা যা চিকন দড়ির কাজ করে, কাপড়ের টুকরো ইত্যাদি নানা জিনিসপত্র। সে সাথে ওর প্রিয় সুইস নাইফ তো আছেই। বহু কাজের কাজী এ জিনিসটা। চকের টুকরো বের করে আনে সে এ পকেট ও পকেট খুঁজে। সেটা দিয়ে কালো মেঝের ওপর এ গুহার যেটুকু দেখেছে তার ভিত্তিতে একটা ম্যাপ আঁকে কুর্ট। তাতে মাদক চক্রের লোকজন কোথায় বসেছিল ও লিনকে কোনদিকে রাখা হতে পারে, তা দেখানোর চেষ্টা করে সে। গুহাটা বেশ বড়। তার কয়েক জায়গায় আবার ছোট গুহার মত আছে। সেগুলো ঢুকে গেছে ভেতরের দিকে। তৈরি হয়েছে ছোট ছোট ঘর। সেগুলো মাদক চক্রের লোকজন ব্যবহার করে। তারই একটাতে লিনকে রাখা হয়েছে। ওরা যাতে ভালো করে দেখতে পায় সে জন্য হাতের আড়াল করে টর্চ জ্বালে কুর্ট। এতে ন্যান্সি ও ডেভ গুহার ভেতরের পথ ও বড় গুহা সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে যায়।
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now