বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিজ্ঞান [পর্ব২]

"বিজ্ঞান " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তুষার কবির (০ পয়েন্ট)



X 2. বিজ্ঞান বনাম প্রযুক্তি মা এবং সন্তানের মাঝে তুলনা করতে গিয়ে একটা খুব সুন্দর কথা বলা হয়, কথাটা হচ্ছে। “কুপুত্র যদিবা হয়, কুমাতা কখনো নয়।” সন্তানের জন্যে মায়ের ভালোবাসা দিয়েই একটা জীবন শুরু হয় তাই মায়ের উপর এত বড় একটা বিশ্বাস থাকবে বিচিত্র কী? কুপুত্র এবং কুমাতা নিয়ে এই কথাটা একটু পরিবর্তন করে আমরা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির জন্যে ব্যবহার করতে পারি, কথাটি হবে এরকম, “কু-প্রযুক্তি যদি বা হয়, কু-বিজ্ঞান কখনো নয়।” যার অর্থ বিজ্ঞানটা হচ্ছে জ্ঞান আর প্রযুক্তিটা হচ্ছে তার ব্যবহার, জ্ঞানটা কখনোই খারাপ হতে পারে না, কিন্তু প্রযুক্তিটা খুব সহজেই ভয়ংকর হতে পারে। আইনস্টাইন যখন তার আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে করতে লিখলেন E = mc^2 তখন তার বুক একবারও আতঙ্কে কেঁপে উঠে নি। কিন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষের দিকে যখন হিরোশিমা আর নাগাসাকি শহরে নিউক্লিয়ার বোমা এক মুহূর্তে কয়েক লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলল তখন সারা পৃথিবীর মানুষের বুক আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল। এখানে E = mc^2 হচ্ছে বিজ্ঞান আর নিউক্লিয়ার বোমাটা হচ্ছে প্রযুক্তি–দুটোর মাঝে যোজন যোজন দূরত্ব। প্রযুক্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমেই একটা কুৎসিত উদাহরণ দিয়ে সবার মন বিষিয়ে দেয়ার আমার কোনো ইচ্ছা নেই। কিন্তু মানুষ ক্রমাগত বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিকে গুলিয়ে ফেলে কাজেই দুটো বিষয়কে একটু জোর করে হলেও আলাদা করে রাখা ভালো। বিজ্ঞানের একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে, আজকালকার ধর্মের বইগুলো দেখলেই সেটা বোঝা যায়। ধর্মীয় কোনো একটা মতকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্যে ফুটনোটে লেখা হয় “ইহা বিজ্ঞান মতে প্রমাণিত।” বিজ্ঞানের এই ঢালাও গ্রহণযোগ্যতাকে ব্যবহার করে প্রযুক্তি যদি ছদ্মবেশে আমাদের জীবনের মাঝে জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে তার থেকে আমাদের একটু সতর্ক থাকা উচিৎ। এটি কেউ অস্বীকার করবে না, প্রযুক্তির কারণে, আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা ধরা যাক, প্লেন গাড়ি জাহাজ করে আমরা চোখের পলকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে যাই। একসময় প্রকৃতির সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হতো আজকাল আমরা তার অনেকটাই আমাদের দখলে নিয়ে এসেছি। আজকাল আমদের দেশেই উচ্চবিত্ত মানুষেরা গরমের দিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে শীতল হিমেল বাতাসে শরীরকে জুড়িয়ে রাখতে পারেন। এ-রকম উদাহরণের কোনো শেষ নেই, জীবনকে সহজ করার জন্যে চমৎকার সব প্রযুক্তি, এর বিরুদ্ধে কারো কী কিছু বলার আছে? একটু খুটিয়ে দেখলে কেমন হয়? প্লেন-গাড়ি-জাহাজ (কিংবা কলকারখানায়) আমরা জ্বালানী তেল বা গ্যাস ব্যবহার করি, সেটাকে পুড়িয়ে তার থেকে শক্তি বের করে এনে সেই শক্তিটাকে ব্যবহার করি। এই শক্তিটাকে ব্যবহার করার জন্যে আমাদের একটা মূল্য দিতে হয়। সেই মূল্যটার নাম হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইড। যখনই বাতাসে আমরা কিছু পোড়াই তখনই আমরা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি করি। এটি কোনো বিচিত্র গ্যাস নয়, আমরা নিশ্বাসের সময় ফুসফুসে অক্সিজেন টেনে নিয়ে প্রশ্বাসের সময় কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দিই। পৃথিবীর সব জীবিত প্রাণী নিশ্বাসে নিশ্বাসে অক্সিজেন টেনে নিয়ে, কিংবা কলকারখানা গাড়ি প্লেনের ইঞ্জিনে জ্বালানী তেল পুড়িয়ে একসময় পৃথিবীর সব অক্সিজেন শেষ করে ফেলবে তার আশঙ্কা নেই। তার কারণ পৃথিবীর জীবিত প্রাণীর জন্যে প্রকৃতি খুব সুন্দর একটা ব্যবস্থা করে রেখেছে, আমরা নিশ্বাসে যে অক্সিজেন খরচ করে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করে ফেলি, সুবজ গাছপালা সেই কার্বন ডাই অক্সাইডকে সালোকসংশ্লেষণের ভেতর দিয়ে তাদের খাবার তৈরি করার জন্যে ব্যবহার করে। তাদের খাবার আসলে আমাদেরও খাবার, শুধু যে খাবার তাই নয় সালোকসংশ্লেষণের সেই প্রকিয়ার ভেতর দিয়ে সবুজ গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে সেই অক্সিজেনটা আবার আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজনের জন্যে আমরা সবুজ গাছপালার কাছে অসম্ভব রকম ঋণী। সবুজ পৃথিবী শুধু যে দেখতে সুন্দর তা নয় (আমাদের চোখের রেটিনা সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল এই সবুজ রংয়ে) আমাদের নিশ্বাসের নিশ্চয়তা আসে এই সবুজ গাছপালা থেকে। পৃথিবীতে বেশি বেশি জ্বালানী পোড়ানোর কারণে অক্সিজেন কমে যাবে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাবে সেটি অবশ্যি এখনো দুশ্চিন্তার বিষয় নয়, দুশ্চিন্তার কারণ আসলে অন্য একটি বিষয়, যারা পৃথিবীর খোঁজখবর রাখেন তারা নিশ্চয়ই সেই বিষয়টির কথা জানেন, বিষয়টি হচ্ছে গ্রীন হাউস এফেক্ট। গ্রীন হাউস জিনিসটির আমাদের দেশে সেরকম প্রচলন নেই। আমাদের দেশে তাপমাত্রা কখনোই খুব একটা বেশি কমে যায় না তাই শীতে গাছপালা বাঁচিয়ে রাখার জন্যে (বা সবুজ রাখার জন্য) গ্রীন হাউস তৈরি করতে হয় না। শীতের দেশে গ্রীন হাউসের প্রচলন আছে, সেখানে বাইরে কনকনে ঠাণ্ডা থাকলেও গ্রীন হাউসের ভেতরে গাছপালাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে থাকে এটা একটা আরামদায়ক উষ্ণতা। গ্রীন হাউস ব্যাপারটি আসলে খুব সহজ–একটা কাচের ঘর। সূর্যের আলো কাচের ভেতর দিয়ে গ্রীন হাউসে ঢুকে কিন্তু বের হতে পারে না, তাপটাকে ভেতরে ধরে রাখে। প্রশ্ন উঠতে পারে কাচের ভেতর দিয়ে যেটা ঢুকে যেতে পারে–সেটা তো বেরও হয়ে যেতে পারে তাহলে ভেতরে আটকে থাকে কেন? তার কারণ আলো হিসেবে যেটা কাচের ভেতর দিয়ে গ্রীন হাউসে ঢুকে যায় সেটা ভেতরকার মাটি দেয়াল বা গাছে শোষিত হয়ে যায়। তারপর সেগুলো যখন বিকিরণ করে তখন সেটা বিকিরণ করে তাপ হিসেবে। আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ছোট, সেগুলো কাচের ভেতর দিয়ে চলে যেতে পারে; তাপের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লম্বা, সেগুলো কিন্তু কাচের ভেতর দিয়ে এত সহজে যেতে পারে না। তাই আলো হিসেবে শক্তিটুকু গ্রীন হাউসের ভেতরে ঢুকে তাপ হিসেবে আটকা পড়ে যায়। মানুষ অনেকদিন থেকেই তাদের ঘরে বাড়িতে নার্সারীতে এ-রকম ছোট ছোট গ্রীন হাউস তৈরি করে এসেছে, কিন্তু গত এক শতাব্দীতে তারা নিজের অজান্তেই বিশাল একটা গ্রীন হাউস তৈরি করে বসে আছে। এই গ্রীন হাউসটি হচ্ছে আমাদের পৃথিবী এবং সেখানে কাচের ঘর হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। কাচ যেভাবে গ্রীন হাউসের ভেতরে সূর্যের আলোটাকে তাপে পরিণত করে সেটাকে আটকে রাখে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসও হুবহু সেই একই উপায়ে পৃথিবীতে তাপ আটকে রাখে। তাই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যদি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে পৃথিবীর তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন মানুষের জ্বালানী ব্যবহার করার কারণে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় 14 শতাংশ বেড়ে গেছে। তার কারণে এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা যেটুকু হওয়া দরকার তার থেকে দুই কিংবা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন। মনে হতে পারে এটি আর এমন কী! কিন্তু আসলে এই দুই তিন ডিগ্রিই পৃথিবীর অনেক কিছু ওলট-পালট করে দিতে পারে। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে বিশাল পরিমাণ বরফ জমা হয়ে আছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা অল্প একটু বাড়লেই সেই বরফের খানিকটা গলে গিয়ে নিচু অঞ্চলকে প্লাবিত করে দেবে। সবার আগে পানির নিচে তলিয়ে যাবে যেই দেশটি তার নাম হচ্ছে বাংলাদেশ তার কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই দেশটির গড় উচ্চতা মাত্র বিশ ফুট । প্লেন গাড়ি জাহাজ আর বড় বড় কলকারখানায় জ্বালানী পুড়িয়ে বিলাসী জীবনযাপন করবে পাশ্চাত্তের বড় বড় দেশ আর তার জন্যে পুরো দেশকে পানির নিচে তলিয়ে দেবার মূল্য দেবে বাংলাদেশ, তার থেকে বড় অবিচার আর কী হতে পারে? প্লেন-গাড়ি-জাহাজ চালানোর মতো নিরীহ একটা প্রযুক্তি পৃথিবীতে কত বড় সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে কেউ কী খেয়াল করে দেখেছে? ______,চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মনোবিজ্ঞানের বিখ্যাত কিছু পরীক্ষা
→ বিজ্ঞান [পর্ব ৪]
→ বিজ্ঞান [পর্ব ৩]
→ বেকার বিজ্ঞানী মজনু মামা
→ বিজ্ঞান [পর্ব১]
→ বিজ্ঞান এবং ধর্ম
→ বিজ্ঞান এবং ধর্ম
→ বিজ্ঞানী হওয়ার রহস্য
→ ভূতের অস্তিত্ব আছে, কি নেই,সমাধান দিল বিজ্ঞান
→ সর্বকালের সেরা ১০ জন বিজ্ঞানী
→ বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
→ কুকুর সম্পর্কে ইসলাম ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দেশনা
→ মুসলিম বিজ্ঞানীদের সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ ইবনুন নাফিস
→ কল্পবিজ্ঞানের কথা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...