বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সফল সমাপ্তি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উড়ন্ত পায়রা (৯০ পয়েন্ট)



X জোৎস্না রাতে নানুবাড়ির উঠোনে বসে আছি! শীতল বাতাস আর ঝিঁঝিঁপোকার ডাক পরিবেশের সৌন্দর্য যেন বাড়িয়ে তুলছে,,পাশেই বহুপুরোনো পারিবারিক কবরস্থান! কবরস্থান বলতে যে একটা ভৌতিক আভাস থাকে,এখানে তেমনটা নেই,সবসময়ই মানুষের সমাগমে আর পাঁচটা জায়গার মতোই সহজ ও স্বাভাবিক জায়গায় পরিণত হয়েছে এই পারিবারিক কবরস্থান!নানুদের ঘর একদম কবরস্থান লাগোয়া,মাঝখানে সরু মেঠোপথ চলে গেছে পিঠনদিকের ফসলি মাঠে,বাড়ির পিছন দিকটা দখল করে আছে বাঁশঝাড়,,আর সামনের দিকে উঠোন পেরিয়ে মস্ত পুকুর,দুপুর বেলা ছোট বাচ্চাদের লাফালাফি ছাড়াও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে পুকুরপাড়! এই হল মোটামুটি চারপাশের পরিবেশের ধারণা,এখন চলে আসি বর্তমানে, . আমি মাঝউঠোনে বসে আছি আমার সঙ্গী মামাতো বোন অনুর সাথে,অনেকদিন পর দেখা হওয়ায় নানা ধরণের গল্পে মশগুল হয়ে আছি,তবে সব ছাপিয়ে আমাদের গল্পের মূল বিষয় হয়ে উঠলো কিছু ছবি,!অনু খুব আগ্রহসহকারে আমাকে জিগ্যেস করলো, ''আপু এই ছবিগুলা কার? অনেকগুলা দেখছি,একে তো কোনোদিন দেখিনি''' আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পরলাম,তবে অনুর কাছে গোপন করার তেমন কিছু ছিলোনা আমার,অনুর সাথে আমার সম্পর্কটা বোনের চাইতে বন্ধুত্বের বেশি,প্রতিটা মানুষের জন্যই বুঝি কিছু একান্ত ব্যক্তিগত কেউ থাকে,যাকে দেখলে নিজের সত্ত্বাকেই দেখতে পাওয়া যায়,অনু তেমনই একজন! আমি আমার কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে ওর পাশ ঘেষে বসলাম,ওকে বলতে যাব কিছু কথা, তখনি বাড়ির ভিতর থেকে মামির ডাক শুনতে পেলাম,কন্ঠ শুনে বোঝা যাচ্ছে খুব তড়িঘড়ি করেই আমাদের যেতে হবে,,আমার অব্যক্ত কথাগুলো বাক্সবন্দী করে উঠে পরলাম আমরা দুজনে,রাতের খাবারের জন্যই এত তাড়া দিচ্ছিলো,গ্রামের বাড়িতে রাতটা একটু তাড়াতাড়িই নেমে আসে সাথে ঘুমও,এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়, আমরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম.তখনি অনুর আবার সেই প্রশ্ন, ''আপু ছবির ছেলেটা কে?''' এবার আর নিশ্চুপ থাকার কোনো কারণ নেই আমার,ওকে বলতে লাগলাম আমার ফোনের সেই ছবিটার সম্পর্কে,, .. """এই ছেলেটাকে আমি পছন্দ করি,পছন্দ বললে ভুল হবে,ভালোবাসি বলা যায়,তবে ওকে আমি বাস্তবে কোনোদিন দেখিনি,ওর সাথে টুকিটাকি কথা হতো অনলাইনে,সেই থেকে ওর প্রতি দূর্বলতার শুরু''''' আমার কথা শুনেই অনুর হাসি যেন আর থামেনা,আমাকে প্রশ্ন করলো, ''গল্প বলতেছো কেন আপু,একে যদি বাস্তবে নাই দেখো তাহলে আবার পছন্দ করো কিভাবে!'আর ছেলেটা কেমন এসব তো জানোনা,'' আসলেই অনুর প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই. না দেখে কি করে কাউকে পছন্দ করা যায়,এটার কোনো উত্তর আমি দিতেই পারব না এখন,এটা বোধহয় পরবর্তীতে বলা যাবে! রাতের আধার গাঢ় হতে গাঢ়তর হচ্ছে,আমাদের চোখে ঘুম যেন অতিথি হয়ে চলে এসেছে,,ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতে মানা করেনি কেউ/ প্রায় ২ সপ্তাহ পর নানুবাড়ি থেকে চলে আসলাম,পারিপার্শ্বিক নানা চাপে দিনগুলো কেটে যাচ্ছে,অনুর সাথে আর ফোনে কথা বলা হয়ে ওঠেনা প্রতিদিন,১৫/২০ দিন পরপর কথা হয় ওর সাথে,আর ওর প্রতিবার ফোনকলেই একটা প্রশ্ন থাকে,""ওই ভাইয়াটা কেমন আছে?""আমি প্রতিবার ওকে উত্তর দেই সেই ছেলেটা ভালো আছে, অনুর মনে ভয় আছে আমার কি হবে ভেবে এটা আমি ভালোই বুঝতে পারি,,তবে আমি ওকে আশ্বস্তও করতে পারিনা,আবার নিরাশ হওয়া থেকেও আটকাতে পারিনা,অনু এতদিনে বুঝে নিয়েছে আমি ওই ছবির মানুষটার প্রতি ভীষণ দূর্বল,,অনু আঘাত করতে চায়না আমার অনুভূতিতে,তবে আমার জন্য ওর উৎকন্ঠা আমি অনুভব করতে পারি! আমার গ্যালারিতে ছেলেটির আরো কিছু ছবি যুক্ত হয়ে গেছে নানান ভাবে,হয় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নয় তার মিউচুয়াল ফ্রেন্ডদের অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করেছি তার আরো অনেক ছবি! এরপর যখন অনুর সাথে দেথা হবে,অনুকে দেখিয়ে বলব,''দেখতো অনু,ছেলেটার সাথে আমার বিয়ে হলে কেমন লাগবে একসাথে?"'' অনু হয়তো হেসেই কুটিকুটি হয়ে যাবে,হয়তো বলবে,আপু পাগল হয়ে গেছো তুমি,কিন্তু একটু পর আমার গোমড়ামুখ দেখে বলবে,''হুম ভালোই মানাবে,ফুপুকে বলতে হবে এই ছেলের কথা,যাতে দুলাভাই পেয়ে যাই'"" হ্যা আমি অনেকটা ভেবে রেখেছি এই ছবির মানুষটাকে নিয়ে,,আচ্ছা মানুষটা কেমন হবে বাস্তবে? আমার এই "কেমন হবে মানুষটা" ভাবনার পরে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর,প্রায় ৩/৪ বছর তো হবেই, এই অনেকটা সময়ের মধ্যই পেয়ে গেছি সেই মানুষটা কেমন হবে এর উত্তর/,ছবি থেকে বাস্তবে,এই জার্নিটা খুব সহজ ছিলোনা,,অনলাইনে কথা বলে কাউকে ভালো লেগে যাওয়া,তারপর তাকে জানানো,মাঝে হাজাারটা প্রশ্ন,,'"বাস্তবে সে কেমন হবে!"",""তার জীবনের রহস্যগুলো ভেদ্য হবে কিনা''' শেষপর্যন্ত হাজার জনের হাজারটা কথা শুনে হাজারো ভবিষ্যতবাণী মিথ্যে হয়ে সেই মানুষটাকেই দেখতে থাকাটা আসলেই রোমান্চকর,,,সম্পর্কের সমীকরনের ওঠাপড়া,কিছু তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ,সমান তালে ছুটে যাওয়া সন্দেহ আর স্বেচ্ছাচারিতার রেলগাড়ি,সবকিছুর উর্ধে গিয়েই সেই ছবিকে বাস্তবে পেয়ে যাওয়া---গল্পটা অন্যরকম! এইসবের পরে প্রায় ৩০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে,খুব ব্যস্ত সবাই ঘর সাজানোয়,ফুলের গুদামঘর হয়ে গেছে যেন,তবে সবই প্লাস্টিকের,আসল ফুল ছিড়ে এনে তা দিয়ে কিছু করা ভীষণ অপছন্দ একজনের,তাই তার মন রক্ষার্থে গাছের ফুলগুলো গাছেই দিব্যি আছে,আরশির তাড়াহুড়ো যেন সবচেয়ে বেশি,কেন এখানে ভালো লাগছেনা,কেন ওখানে ওটা কম,এভাবে সবার মাথা যেন খারাপ করে দিচ্ছে চিল্লাচিল্লি করে,! এমন সময় সদর দরজা দিয়ে কাউকে আসতে দেখে সব কাজ কর্মের দেখভাল ফেলে ছুটে চলে যায় সেই আগন্তুকের কাছে!তার হাতখানা যত্নসহকারে ধরে চলে যায় পর্দার আড়ালে! প্রায় মিনিট তিরেশেক পরে ভিতরের ঘর থেকে বেরিয়ে এলো যুগল,যাদের জন্য আজকের এই এতো আয়োজন,মহুয়া-রানা দম্পতি!বয়েসটা হয়েছে বৈকি,তবে ভালোবাসা হয়তো কোনকালেই বুড়িয়ে যায়না,দম্পতির মুখের অমলিন হাসিই বলে দেয়,এই ভালোবাসা চলুক আরো কয়েক শতাব্দী! আড়ম্বরের মাঝেই উদযাপিত হচ্ছে ৩০ তম বিবাহবার্ষিকি!ফোনের রিংটোন ছন্দিত শব্দে বেজে যাচ্ছে,কারো ফোনকল এটা,,কারো সাথে কথোপকথন হচ্ছে মহুয়ার, ""শুভ বিবাহবার্ষিকি মহুয়া"""(কলার) ""ধন্যবাদ,আজকে দিনে তোরা থাকলে খুশি হতাম,আমার কিন্তু আজকের দিনটা কাটছে সেই অনলাইনের মানুষটার সাথেই''''(মহুয়া) """ওহ আচ্ছা,সরি রে,অনেক অপমান করেছি তোকে তোর এই সম্পর্ক নিয়ে,ভেবেছিলাম সবই লোকদেখানো আর ভিত্তিহীন,আজকে সত্যিই তোকে দেখে খুব ইচ্ছে করছে ভালোবাসার কাউকে পেতে""(কলার) """আচ্ছা আজ রাখি,আজকের দিনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ,পরে কথা হবে"""(মহুয়া) এই কলার শুধু একজন নয়,অনেক মানুষের প্রতিচ্ছবি,যারা শুরু থেকে বিষিয়ে দিতে চেয়েছিলো সবকিছু,শেষমেশ জিতে গেলো মহুয়ার বিশ্বাস আর ভরসা!,ফোনের ওপার থেকে আজ অনেক দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসছিলো,আক্ষেপে জর্জরিত আত্নার অভিব্যাক্তি,! স্মৃতির পাতায় অতীতে চলে গেলেও রানার কন্ঠ শুনে মহুয়া যেন বাস্তবে ফিরে এলো,! সব অনুষ্ঠান শেষ ঘরোয়া,! সবাই যে যার মতো চলে গেছে,অনু এসেছিলো বহুবছর পরে,তাকে বাসায় পৌছে দিতে গিয়েছে একজন| অনু এখন পাক্কা গিন্নী,বাড়ির বাইরে বেশিক্ষণ সে থাকতে পারেনা| আজ রাতটা জোৎস্নায় পূর্ন,চাঁদ যেন উজাড় করে দিয়েছে সমস্তটা,ভরা জোৎস্নায় নদীর পাড় দিয়ে হাঁটছে এক যুগল স্পন্দন!এ যেন বহুবছরের পুরোনো এক রাত আবার নেমে এসেছে ধরায়! সে তো গল্প হয়েও গল্প না, সত্যি হয়েও কল্পনা!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সমাপ্তিটা অন্যরকম হলেও পারতো
→ বিশ্বাসঘাতকতা (সমাপ্তি পর্ব)
→ হারানো সমাপ্তি
→ "এই রকম অনেক কারণেই গভীর ভালোবাসার সমাপ্তি ঘটে"
→ খুনসুটির সমাপ্তি
→ জীবনের সমাপ্তি
→ সমাপ্তি
→ সমাপ্তিটা ভালোবাসার
→ খুনসুটির সমাপ্তি
→ সমাপ্তি গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...