বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমর সৈনিক-১

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saniat Ahmed (০ পয়েন্ট)



X #অমর_সৈনিক #প্রথম_পর্ব #সানিয়াত_আহমেদ_আবির সৈনিকদের অভিধানে স্বর্ণের অক্ষরে লেখা সাহস এবং দেশপ্রেমের প্রতীক সূর্য সবসময় বলতো "আমার মাতৃভূমি আমার স্বর্গরাজ্য; আমি আমাদের দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য আমার দেহের রক্তের প্রতিটি বিন্দু দিয়ে দেবো। তার আদর্শই হলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জয়ের লড়াই; শত্রুদের ভয়ে পশ্চাদাপসরণ কখনও মনে স্থান দেয় না। "যদিও সহজেই ভালো ইউনিভার্সিটি থেকে এম বি এ করতে পারতো যেহেতু ওর বাবা স্থানীয় ঋণদাতার কাছ থেকে ওর শিক্ষা গ্রহণের জন্য কিছু ঋণ গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু চলার রাস্তা বেছে নেয় আধাসামরিক বাহিনী। শুধুমাত্র আর্থিক উপার্জনকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য না করে দেশ সেবার জন্য একটা দুঃসাহসিক জীবনের আনন্দ উপভোগ করাই ওর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার সহিত কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবার পর দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঘন জঙ্গল আচ্ছাদিত ছত্তিশগড়ের এক দুর্গম এলাকায় ওকে চাকরি করবার সুযোগ দেওয়া হয়। কলেজে শিক্ষা গ্রহণের সময় আলোর সাথে ওর এক নিবিড় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আলো পড়াশুনা করছিলো এক স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য। চাকরিতে যোগদানের পর কঠোর পরিশ্রমের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে ছুটি নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিকালে আলোর সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিনের পর স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা নিয়ে আলো ওর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলো। অনেকদিন পরে ওকে দেখে আনন্দে খুব উত্তেজিত হয়ে বললো, -"ওহ ! তুমি সূর্য, সূর্যের গতি পরিবর্তন করে একবারে ব্রেভ ওয়ারিয়র হয়ে গেলে? " সূর্য: আমি দেখেছি আপনিও বদলে গেছেন; আপনি একজন স্কুল শিক্ষিকার মত হয়ে গেছেন, অবশ্যই আপনার মাস্টার ডিগ্রির পরে শিক্ষার্থীদের যখন শেখাবেন তখন আমি আপনার প্ররোশনী! আলো: সূর্য, তুমি আমার সঙ্গে মজা করছো? কেন আমি একজন শিক্ষিকা হতে যাবো? আমি তো একজন সাহসী যোদ্ধা বা বীরের সহযোগী হয়ে তার পাশে পাশে সবসময় থাকতে পারি! সূর্য : একবার চিন্তা করো আলো, একজন বীর যোদ্ধার জীবন খুবই কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ; যে কোন সময় অশুভ ঘটনা ঘটতে পারে। আলো : হ্যাঁ, আমি একবার যাকে গ্রহণ করি তাকে কখনো পরিত্যাগ করি না, এটা কোনো জীবন নয় যেখানে কোন সাহসিকতা নেই, কেবল খাওয়া-দাওয়া, অর্থ সঞ্চয় আর ঘুম - এটাই কি জীবন? আমার কাছে এইরকম জীবনের কোনো মূল্যই নেই। আমি চাই সেই রকম জীবন যেখানে মাতৃভূমির ও দেশবাসীর জন্য কিছু করা যায় | সূর্য : তুমি খাওয়া-দাওয়া, ঘুমোনো ছাড়া আর কি কি করতে চাও? আলো : হ্যাঁ, আমি দেশবাসীর জন্য কিছু করতে চাই, আর তুমি বোলো তো আমাদের জীবনের সংজ্ঞা কি হতে পারে? আলো : মুখটা একটু কাঁচুমাচু করে, "না, আমাকে বলো।" আলো সূর্যের দিকে তাকিয়ে, আলো: সকলকে ভালোবাসার জন্য বাঁচো এবং সকলকে বাঁচাবার জন্য মরো। সূর্য : অজশ্র ধন্যবাদ, তুমি আজ আমাকে খুব ভালো একটা ডেফিনেশন দিলে জীবনের; চলো আমরা আবার সেই পুরানো বাগানবাড়িটাতে যাই। একটা পুরানো বাড়ির পাশে বিরাট বাগান, একটা বড়ো অশত্থ গাছের নীচে বসে সূর্য তার গত দুই বছরের সৈনিকের জীবনের বর্ণনা দিতে থাকে; কিছুক্ষন পরে হঠাৎ আলো উঠে দাঁড়ায় এবং গাছের ছালের উপর পাথরের চিপ দিয়ে কিছু লিখতে চেষ্টা করে ; সূর্য দেখতে পায় ওর নামটা আলো লিখেছে অত্যন্ত্য মনোযোগ সহকারে ; তাড়াতাড়ি ওর হাত থেকে পাথরের চিপটা টেনে নিয়ে সূর্য নামের পাশে আলো লিখে পাথরের চিপটা ফেরত দেয়। বেশ কিছুক্ষণ চাকরির অসুবিধার বিষয়ে বোঝাবার চেষ্টা করে, কিন্তু সবই বৃথা, ওর দৃঢ়তার সামনে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা থাকে না। একজন সহধর্মিনী হয়ে সূর্যের জীবনের প্রতি পদক্ষেপে তাল মিলিয়ে চলতে ও প্রস্তুত। এক বৎসর ঘুরতে না ঘুরতে সূর্য এবং আলোর মধ্যে শুভ পরিণয় সুসম্পন্ন হয়, প্রথম অবস্থায় এরূপ দুর্গম অঞ্চলে গিয়ে বিপদ হতে পারে জেনেও স্বামীর পাশে থেকে সমস্ত দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেয় আলো পার্বত্য এলাকার রাস্তা দুর্গম হওয়ায় কোনভয় ছাড়া যাবার কোনো উপায় নেই, দীর্ঘ ১২ ঘন্টা পাহাড়ি সড়ক রাস্তার ওপর দিয়ে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও সূর্যের কাছে আগে শুনেছে। আজ ওর পাশে টাটা সুমোতে বসে সেই দুর্গম রাস্তায় যাত্রা করছে, আগে পিছনে চলেছে অনেক ট্রাক, বাস এবং বিভিন্ন ছোট-বড়ো গাড়ি সরু-সরু পাহাড়ি রাস্তা অতিক্রম করে। আস্তে আস্তে 4 হাজার ফুটের বেশি পাহাড়ের উপরে পৌঁছায় যেখানে যানবাহনের পাস্ দিয়ে এবং পাহাড়ের গা ঘেঁষে সাদা-সাদা তুলোর মতো মেঘগুলো ভেসে যাচ্ছে, বাহঃ কি সুন্দর দৃশ্য !... .. মেঘগুলি আমাদের কত কাছাকাছি; 'দাঁড়াও..দাঁড়াও..আমি একটু মেঘ ধরবো' এই বলে জানালার বাইরে ওর বাম হাতটা বের করে হাতের সরু-সরু আঙ্গুলগুলো জড়ো করে একবার মুঠো করে আবার একবার খোলে আর বলে, কই..এত শুধু জলের মতো ভেজা ; ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে সূর্য চিন্তা করছিলো সন্ধ্যার আগে পৌঁছে কি করে তাড়াতাড়ি ঘর-দোর জোগাড় করে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করবে আর পরের দিনের ডিউটিতে যোগ দেবে ! হঠাৎ আলোর ডান হাতের একটু খোঁচা খেয়ে ঘাড়টা 45 ডিগ্রী ঘুড়িয়ে উত্তর দেয়, "আমি আগে এগুলো দেখে নিয়েছি, এখন তুমি উপভোগ করো, আর যতটা ইচ্ছা মেঘ সংগ্রহ করে একটা বোতলের মধ্যে সংরক্ষণ করে রেখে দাও, যাতে সময়মতো তোমার মাথার ওপর আমি ঢেলে দিতে পারি ; কিছুদিন পরে তুমি বলবে আমাকে এই পাহাড় থেকে নিয়ে চলো এখানে আনন্দের কোনো উৎস নেই। আলো : ধ্যুত, তুমি একজন খরুশ ব্যাটাছেলে, এত সুন্দর প্রকৃতি, কত সুন্দর সাইট সিনারি, কোথা উপভোগ করবে, তা নয় শুধু গোলাগুলির চিন্তা। সূর্য : একটু হেসে, অরে না বাবা, এগুলো তো আমার রোজ রোজ দেখতে দেখতে চার্মটাই শেষ হয়ে গেছে, তুমি তো প্রথম দেখছো, তাই এত ভালো লাগছে। আলো : দ্যাখো, তোমার সৌন্দর্য জ্ঞান একটু কম কারণ সবসময় যুদ্ধ সম্পর্কে চিন্তা; আচ্ছা আমাকে একবার বলোতো তোমার কি যেন কম্পানি আছে, তার পাশে কি কোনো water-fall আছে ? চলবে.....!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...