বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাঁদর এলো কোথা থেকে – পূর্ব তিমোরের রূপকথার গল্প

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৪১৫ পয়েন্ট)



X আজকালের কথা নয়, সে অনেক দিন আগের কথা। তখন তিমোর-এ একটা খুব ছোট দ্বীপ ছিল। সেই দ্বীপের নাম রোচি। সেখানে বাস করত এক বুড়ি ও তার নাতনি। নাতনির নাম ছিল কপিলা। দিদা তাকে আদর করে কপি বলে ডাকত। বুড়ির অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। মাথা গোঁজার জনা ছোটো একটা চৌকোনা কুঁড়েঘর ছিল। আর ছিল একফালি জমি। সেখানে দিদা আর নাতনি শাকসবজির চাষ করত। তা দিয়ে তাদের দুবেলা ভাত জুটত না। বাধ্য হয়ে বুড়ি চলে যেত সমুদ্রে মাছ ধরতে। আর ঘরে তখন থাকত নাতনি। সে ঘরদোর ঝাড়পোছ করত, রান্নাবান্না করত। দুপুর নাগাদ মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরত দিদা। তারপর মাছ রান্না হত। তাই, খেয়ে কোনোরকমে দিন কাটত তাদের। সেদিন মাছ ধরতে যাবার আগে কপিলাকে ডেকে দিদা বলল, “আজ আর বেশি কিছু রাঁধতে হবে না। একটা দানা চাল রান্না করলেই চলবে।”বুড়ি দিদা চলে যাবার পর টনক নড়ল কপিলার। তাকে কী বলে গেল দিদিমা? সে-কথার কোনো মানে খুঁজে পেল না সে। ভেবে উঠতে পারল না, একটা দানা রান্না করার কথা কেন বলে গেল দিদিমা! একটা দানায় কি পেট ভরবে দু’জনের? অনেক ভাবনাচিন্তা করে অবশেষে দু’মুঠো চাল নিয়ে রাঁধতে বসল সে। গনগনে আগুনে টগবগ করে ফুটে উঠল জল, ফেঁপে ফুলে উঠল চাল। উতলে-ওঠা মাড় ঠেলে ফেলে দিল হাঁড়ির ঢাকনা। হাঁড়ির গা বেয়ে অঝোরে গড়িয়ে পড়তে থাকল মাড়ভাত। এমনভাবে মাড়ভাত পড়তে কখনো দেখেনি কপিলা, দেখে তার কান্না পেল! মনে মনে ভাবতে থাকল, কী করে সে এটা বন্ধ করবে। সেই মুহূর্তে কোনো উপায় খুঁজে পেল না সে। ভয়ে সে ঘরের মধ্যে ছোটাছুটি করতে থাকল।হাড়ি থেকে তখনও মাড়ভাত উথলে পড়ছিল। পড়তে পড়তে ভরে গেল সারাটা ঘর। একসময় ঘর ছাপিয়ে উঠোনে গিয়ে পড়ল, উঠোন থেকে রাস্তায় নদীর মতো বয়ে চলল সে-ধারা। উপায় না-দেখে কপিলা ছুট দিল সমুদ্রের দিকে। যেদিকে তার দিদিমা মাছ ধরতে গেছে। মাড়ের ধারাও পিছু নিল কপিলার। দিদিমা তখন মাছ ধরে বাড়ি ফিরছিল। পথে দেখা কপিলার সঙ্গে। কপিলা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল সব কথা। পিছনে যে ভাতের মাড় তাড়া করে আসছে তাও দেখাল সে।দিদিমার খুব রাগ হল। চিৎকার করে উঠল, “অবাধ্য মেয়ে কোথাকার। তোকে একটা দানা…” সাপের মতো ফুঁসতে থাকল দিদিমা। পথের মাঝে একটা কাঠের চেলা পড়েছিল। হাতে তুলে নিল সেটা।,কোনো কিছু না-ভেবেই কপিলার পিঠে বসিয়ে দিল সজোরে। মারের চোটে যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল কপিলা। তারপর ম্যাজিকের মতো অদৃশ্য হয়ে গেল কপিলা। দিদিমা দেখতে পেল সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা বাঁদর। বাঁদরটা হাততালি দিয়ে নাচতে থাকল। একসময় সে গাছের ডালে চড়ে বসল। তারপর মুখ ভেংচে বলল, “এখন থেকে তুমি একাই থাকো দিদিমা, আমি আর তোমার সঙ্গে যাব না। তোমার জন্য রান্নাবান্না করে দেব না। তুমি নিজের হাতে সব করবে। কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না।” কপিলার দিদা এখন আর নেই। কিন্তু রোচি দ্বীপের লোকজনেরা আজও মনে রেখেছে সে কাহিনী। ভুলেও তারা তাদের ছেলেপুলেদের মারধোর করে না কখনোও। কে জানে, মার খেয়ে তাদের ছেলেমেয়েরা যদি বাঁদর হয়ে যায়! সূত্র এই গল্পটার লেখক আমি না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...