বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জলহস্তি ও চালক খরগোশের চালাকির গল্প

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৪১৫ পয়েন্ট)



X জানো তো, খরগোশ খুব চালাক। যেমন ছটফটে তার পা, তেমনি চুলবুলে তার স্বভাব। একবার তার কী খেয়াল হল জলহস্তীর কাছে গিয়ে বলল, হু ইু তুই আর এমন কী । জানিস আমার গায়ে তোর চেয়ে ঢের বেশি জোর? শুনে তো জলহস্তী হাসবে কি কাঁদবে বুঝতে পারে না। বলে, কি! এতটুকুন জন্তু খরগোশ। তার কিনা এমন দেমাক, এমন বাড়াবাড়ি। সে উত্তর দিল, যা যা। মেলা বকিস না। আমি জলহস্তী মনে রাখিস। এই দেখ আমার কত বড়ো হা । এই এরপর থেকে জলহস্তী আর গণ্ডার দুজনেই খরগোশকে খুব মান্যিগন্যি করে চলে । এতটুকু প্রাণীর কাছে গোহারা হেরে তাদের ভারী লজ্জা । মুখ দেখানো দায়। দুজনেই আলাদা আলাদা জেতার কথা । সবাই তাহলে আমাকে ছ্যা ছ্যা করবে। খরগোশও দুজনকে আলাদা আলাদা করে বলে, না, না তাই কি আমি কখনো করি। হেরে গেলে কী হবে তুমি তো আমার দাদা। কিচ্ছু ভেবো না, কেউ জানবে না। খরগোশটা কিন্তু খুব দুষ্টু ছিল। কাজেই ঠিক গুজব ছড়িয়ে যায় সমস্ত পশুসমাজে যে ওইটুকুন পুঁচকি খরগোশ দুটো ডাঙর ডাঙর হোমরাচোমরা জন্তুকে নাকি শক্তি প্রতিযোগিতায় ঘায়েল করে দিয়েছে। জলহস্তী আর গণ্ডারের মাথা উঁচু করার জো নেই। এদিকে খরগোশের তো দেমাক খুব বেড়ে গেছে। অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। একদিন জলহস্তীকে ঠাট্টা করে বলে বসল, কি জলহস্তী-দাদা ভালো করে খাচ্ছদাচ্ছ তো? গায়ের জোরটোর একটু বাড়াও। নইলে চলবে কী করে? আমার সঙ্গে থাকতে তো হবে এ জঙ্গলে। শুনে তো জলহস্তী রেগে আগুন । বহুকষ্টে নিজেকে সামলে মিষ্টি করে উত্তর দেয়, বেশ তো, এক মাঘে তো’ আর শীত যায় না। একবার হেরেছি তো কী? আর এক বার হোক না, তোমার সেই প্রতিযোগিতা। মহানন্দে খরগোশ তো আবার একটা আরও মোটা আরও লম্বা দড়ি বানাল। এবারে এ দুটো বুদ্ধুকে আরও খাটাবে, একেবারে গলদঘর্ম করে ছাড়বে । গণ্ডারকে গিয়ে বলে, এই যে গণ্ডার-দাদা পেন্নাম হই। তা শরীর গতিক সব ভালো? আর একবার খেলবে নাকি দড়ি টানাটানি? দেখাই যাক না গায়ের জোর তোমার একটু বাড়ল না আরও কমল। আমাদের এই গণ্ডার বিখ্যাত ছিল তার জেদের জন্য। হেরে যাওয়ার দিন থেকে মনে মনে ঠিক করে রেখেছিল সুযোগ পেলেই শোধ তুলবে । খরগোশের কথা শেষ হতে না হতে সে খপ করে দড়িটা তুলে নিল। শুরু হল টানাটানি লড়াই। খরগোশ তো যথারীতি বনের ভেতর দড়িটার মাঝ বরাবর ঘাপটি মেরে বসে। তার মতলব হল জলহস্তী আর গণ্ডার অনেকক্ষণ ধরে টানাটানি করে যখন একেবারে খেপে উঠবে। তখন ঠিক সেবারের মতো ঘ্যাঁচ করে দড়িটা মাঝখান থেকে কেটে ফেলবে। কিন্তু খরগোশের এত বুদ্ধি থাকলে কী হবে, তোমাদের মতো ইতিহাস তো পড়েনি। জানে না একবার যা ঘটে পরের বার ঠিক তেমনটি কখনো হয় না। জলহস্তী-গণ্ডারের দড়ি টানাটানি চলছে অনেকক্ষণ। গায়ের জোরে দুজনেই সমান। কিন্তু এরমধ্যে আবার দড়ি টানাটানি করে গণ্ডারের খুব জলহস্তী পেয়ে গেল। সে তখন ভাবল দড়িটাকে হাতে কষে জড়িয়ে নিয়ে নদীতে গিয়ে একটু জল খেয়ে আসি। নদীর ধারে এসে দেখে কী কাণ্ড! কী কাণ্ড! দড়ির অপর দিকটা ধরে বসে আছে কিনা জলহস্তীভাই! খরগোশের চিহ্নমাত্র নেই। এদিকে জলহস্তীরও চক্ষু ছানাবড়া। আরে, দড়ির আর এক দিক ধরে আছে খরগোশ নয়, গন্ডারদাদা! এতক্ষণে দুজনেই বুঝতে পারল খরগোশের চালাকি। গণ্ডার তো চলল তার খাঁড়া উঁচিয়ে খরগোশের পেটটাকে এফোঁড় ওফোঁড় করবে। আর জলহস্তী বিশাল হা করে খুঁজে বেড়াল খরগোশকে, পেলেই কপ করে মুখে পুরবে। জলে ডাঙায় কোথাও খরগোশের তিষ্ঠোবার উপায় রইল না। একদিন সে বন থেকে একেবারে উধাও হয়ে গেল। আর ফিরল না।এক হা-তে তোর মতো এক ডজন খরগোশ কপ করে গিলে ফেলতে পারি। যা, পালা এখান থেকে। খরগোশ কিন্তু মোটেই ঘাবড়াবার পাত্র নয়। সে দিব্যি হাসি মুখে বলল; বারে, এর মধ্যে আবার খাওয়া-টাওয়ার কথা এল কোথেকে? আমি তো বলছি স্রেফ গায়ের জোরের কথা। বেশ তো, তোমার যদি অতই গুমোর, এসো না একটা শক্তি পরীক্ষা হোক। শুনে তো জলহস্তীর গোল গোল চোখ আরও গোল হয়ে গেল। শক্তি পরীক্ষা! সে আবার কী? খরগোশের তো খুব মজা। বলে, এই তো তোমাকে নিয়ে মুশকিল। যেমন বিরাট তোমার শরীর তেমনি নিরেট তোমার মাথা । শক্তি পরীক্ষা কাকে বলে বুঝতে পারছ না? তোমার আর আমার মধ্যে খবরের কাগজে যাকে প্রতিযোগিতা বলে তাই হবে। যে হারবে তাকে মেনে নিতে হবে যে তার গায়ের জোর অন্যের চেয়ে কম। জলহস্তী তো মনে মনে ভারী অপ্রস্তুত।কিন্তু মুখে ঝটপট সামলে নিয়ে বলে, হ্যাঁ হ্যাঁ পরীক্ষা-টরিক্ষার কথা আমি সব জানি। আমি কি খবরের কাগজ পড়ি না মনে কর? এখন ওই কী যেন বললে, প্রতিযোগিতা না ফতিযোগিতা, সেটা ঠিক কীভাবে হবে ঠিক করো তো বাপু। তারপর দেখি কার গায়ে কত জোর। খরগোশ তো নদীর তীর থেকে দৌড়ে জঙ্গলে গিয়ে হাজির। সেখানে বেছে বেছে খুব শুকনো শক্ত লতা জমা করল। তারপর সেগুলো দিয়ে বেশ মোটকা একটা দড়ি বানিয়ে ধীরেসুস্থে চলল বনের আর এক প্রান্তে। সেখানে থাকে এক গণ্ডার। খরগোশ তার কাছে গিয়ে সেলাম ঠুকে বলল, এই যে গণ্ডার দাদা, কী খবর? তোমার তো দাদা বিশাল শরীর। তার ওপর নাকের ডগায় ওই সাংঘাতিক খাড়ার মতো শিং। আচ্ছা, বলতো দেখি তোমার চেয়ে বেশি গায়ের জোর এ জঙ্গলে কার আছে? গণ্ডার তো সগর্বে তার খাড়া নাচিয়ে উত্তর দিল, হু ইু কী বললি? এই জঙ্গলে আমার চেয়ে বেশি জোর কার? তোর কি সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে? খরগোশ একটু হেসে বলল, শুধু সন্দেহ কেন, আমার বিশ্বাস তুমিই সবচেয়ে শক্তিশালী তোমার ওই ধারণাটা ভুল। এ জঙ্গলে আমার চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই। আমার সঙ্গে গায়ের জোরের পরীক্ষা করে দেখতে পার। তুই আমাকে হাসালি। নিজে তো একটা পুঁচকে জানোয়ার। এক থাবড়া দিল শেষ হয়ে যাবি। তোর সঙ্গে আবার গায়ের জোরের পরীক্ষা কী? যা যা আমার সময় নষ্ট করিস না। মেলা কাজ আছে আমার। ভাগ এখান থেকে। ভারী নিরীহ গোবেচারা মুখ করে খরগোশ আবার বলে, আমার কিন্তু মনে হয় গন্ডারদাদা, তোমার চেয়ে আমারই গায়ের জোর বেশি। শুনে তো গণ্ডার একেবারে অগ্নিশর্মা। খরগোশকে এই মারে তো সেই মারে। ঝটাপট দড়িখানা খরগোশ গণ্ডারের থাবার সামনে বাগিয়ে দিয়ে বলে, আচ্ছা, চটছ কেন? এসো না একটা কম্পিটিশন হয়ে যাক। গণ্ডার যদিও কম্পিটিশন কথাটার মানে বুঝতে পারল না। কিন্তু মুখে সেটা ভাঙল না। বরং গম্ভীরভাবে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ একটা কমপিটিশান হোক না। খরগোশ তো মহা-চতুর। গণ্ডার-দাদার বিদ্যাবুদ্ধির দৌড় তার জানা । মুচকি হেসে বলে, এই যে কী করতে হবে আমি ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছি। তুমি এই দড়িটার এই দিকটা ধরে টানও, আর আমি অন্য দিকটা ধরে টানি। আমি খুব জোরে টানব, তুমিও খুব জোরে। দুজনেই খু-ব জোরে । তারপর এই টানাটানিতে কী হবে বল তো? যার গায়ে জোর কম সে নির্ঘাত পড়ে যাবে। ব্যস, অমনি সে হেরে গেল। গণ্ডার তো তক্ষুনি খপ করে দড়িটার মাথা ধরে নিয়ে রেডি। ইয়া লম্বা দড়িটার অন্য মাথাটা নিয়ে খরগোশ বন পেরিয়ে সোজা জলহস্তীর কাছে হাজির। তাকে বলল, এই যে জলহস্তীদাদা, এইবার আমাদের প্রতিযোগিতা শুরু। দড়িটা ধরে টানো দেখিনি। আমি অন্য দিকটা ধরে টানছি। যত জোরে পার। প্রাণপণে । পড়ে গেলে কিন্তু হার, মনে থাকে যেন। বলেই হাওয়া। জলহস্তী তো দড়িটা তুলেই মারল এক প্রচণ্ড টান। শুরু হয়ে গেল গণ্ডার আর জলহস্তীর মধ্যে দড়িটানাটানি। ওদের মাঝখানে ঘন জঙ্জাল। জলহস্তী দেখতে পায় না গণ্ডারকে। গণ্ডার জানে না বনের ওধারে জলহস্তী। দুজনেই প্রাণপণে টানছে আর তাজ্জব হয়ে ভাবছে, আরে, ব্যাটা পুচকে খরগোশের গায়ে এত জোর! খরগোশ এদিকে চুপটি করে জঙ্গলের ভেতর দড়ির মাঝবরাবর লুকিয়ে বসে। তাকে কেউ দেখতে পাচ্ছে না। টানাটানি করতে করতে গণ্ডার আর জলহস্তী দুজনেই যখন একেবারে মরিয়া, তখন খরগোশ বাবাজি মাঝখান থেকে ঘ্যাঁচাত করে দিল দড়িটা কেটে। অমনি দড়াম করে চিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেল গণ্ডার। ঝপাস করে জলে ডুবে গেল জলহস্তী। এক দৌড়ে গণ্ডারের কাছে গিয়ে খরগোশ দেখে গণ্ডারদাদা আস্তে আস্তে গায়ের ধুলোটুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে। খরগোশ জিভটা তালুতে লাগিয়ে চুকচুক করে বলল, আহা ষাট ষাট। পড়ে গেলে গণ্ডারদাদা! খুব লাগল নাকি? যাহোক দেখলে তো কার গায়ে বেশি জোর। বলেই এক দৌড়ে চলে গেল জলের ধারে। তখন নাকে মুখে চোখে জল ঢুকে খাবি খেয়ে জলহস্তী কোনোরকমে জল থেকে মাথা তুলছে। কাঁদো কাঁদো মুখ করে খরগোশ তাকে বলল, আহা ভারী নাকানি-চোবানি খেলে গো। যাইহোক দেখলে তো কার গায়ে বেশি জোর! সূত্র এই গল্পটার লেখক আমি না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...