বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দীপু নাম্বার টু (২০)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X অন্তত দশ বারো ফুট নিচে নেমে ও পায়ের নিচে মাটি পেল। অন্ধকার চোখ সয়ে যেতেই ও অবাক হয়ে যায়। ছোট একটা ঘরের মতো জায়গা। একপাশে থাক থাক সিঁড়ি নেমে গেছে নিচে। দীপু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারিক বলল, দেখলি? হুঁ কী কান্ড! তুই নিজে খুঁজে বের করেছিস এটা? হ্যাঁ। এটা হচ্ছে একটা ঘর—ঐ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেলে আরেকটা ঘর। তবে ওটা মাটি দিয়ে বুজে আছে। চল যাই। আয়-সাবধানে আসিস। ওরা দেয়াল ধরে ধরে এগিয়ে যায়। বেশি দূর যেতে পারে না, ভাঙা দেয়াল গাছের শেকড় ও মাটিতে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। চারদিকে এরকম অনেক ঘর আছে, সব মাটিতে বুজে আছে। কীভাবে জানিস তুই? আমি উপরে দিয়ে ঘুরে ঘুরে একটা আন্দাজ করেছি। অনেক বড় দালান এটা। আমরা বোধ হয় তিনতলায় আছি। নিচে হয়তো আরও দুই তলা আছে। সত্যি? হুঁ। কোনো না কোনো ঘরে নিশ্চয়ই সোনা-রুপাভরা একটা বাক্স পেয়ে যাব। যদি পেয়ে যাই তা হলে তোর অর্ধেক আমার অর্ধেক! দীপু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। বোঝা যায় তারিক ঠিকই বলেছে, সত্যি এটা কোনো বড় দালানের একটা অংশ। পুরোটা ঘুরে বের করতে পারলে না জানি কত কী বের হয়ে আসবে। এই দেখ, তারিক ওকে টেনে একপাশে নিয়ে যায়, এগুলো পেয়েছি আমি এখানে। দীপু খুঁটে খুঁটে দেখে। নানারকম মূর্তি, ছোটবড় নানা আকারের সব কালো কুচকুচে পাথরের। আরও কী সব জিনিস, একটা পুঁতির মালা, মরচে ধরা লোহার টুকরো, মাটির বাসন, পোড়া কাঠ, কয়েক টুকরো হাড়, কে জানে হয়তো মানুষেরই, দীপুর একটু ভয় ভয় লাগে। তারিক বলল, একা একা এটা খুঁড়ে বের করা মুশকিল, তুই যদি থাকিস আমার সাথে খুব ভাল হবে। থাকবি? থাকব না মানে! কি দারুণ জিনিস এটা বুঝতে পারছিস না? কাল থেকেই শুরু করে দেব। তারিক চকচকে চোখে বলল, তোর কী মনে হয়, পাওয়া যাবে কোনো গুপ্তধন? কে জানে সেটা, এরকম একটা জায়গা, পাওয়া তো উচিত। আছেই এক আধটা, আমার কোনো সন্দেহ নেই। ওদের ফিরে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। দীপু তারিককে কথা দিল জান থাকতেও কাউকে কালাচিতার কথা বলবে না—আর একটা তাবিজ কেনার পর ওরা সময় করে করে কালাচিতা খুঁড়তে যাবে। তাবিজ ছাড়া যাওয়া ঠিক না। বাসায় ফিলে এসে দীপু দেখে, আব্বা খুব মনোযোগ দিয়ে ওর কালাচিতাটা দেখছেন। দীপুকে দেখে বললেন, দীপু এটা কোথায় পেয়েছিস? বলব না। বল না, দেখে মনে হচ্ছে ভাল জিনিস। ভাল মানে কী? দামি? দামি হতেও পারে, কিন্তু বানিয়েছে ভাল। কোথায় পেয়েছিস? আমার এক বন্ধু আমাকে দিয়েছে। সে কোথায় পেয়েছে? সেটা বলা যাবে না। টপ সিক্রেট। তুমি জিজ্ঞেস করো না। আব্বা হতাশ হয়ে হাত ওল্টালেন এবং বললেন, তোর আম্মার চিঠি এসেছে একটা। তোর টেবিলের ওপর আছে। সত্যি! কী লিখেছে? খুলিনি আমি, তোর চিঠি তুই খোল। দীপু চিঠিটা নিয়ে আব্বার কাছে আসে। জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা আব্বা, কেউ যদি পাগল হয়ে যায় তা হলে কি চিকিৎসা করে তাকে ভাল করা যায়? যায় নিশ্চয়ই। তবে কখনও কখনও আর ভাল হবার মতো অবস্থা থাকে না। কেন? না, সেটাও বলা যাবে না। এটাও টপ সিক্রেট। কয়টা টপ সিক্রেট তোর? অনেকগুলো। আচ্ছা আব্বা, পাগলদের চিকিৎসা কোথায় হয়? মেন্টাল হসপিটালে। পাবনাতে আছে। যাবি চিকিৎসা করাতে? যাও! আমি কি পাগল নাকি? না, তুই আধপাগল। চিকিৎসা করালে পুরো পাগল হবি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...