বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (২১)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X ঘণ্টাখানেকের মাঝেই জোছনারাতে সবাই কাজ শুরু করে দিলেন। কয়েকটা চার্জার লাইট জ্বালানো হয়েছে। এক পাশে একটা কেরোসিনের চুলায় বড় কেতলিতে পানি গরম হচ্ছে চা তৈরি করার জন্যে। কাছাকাছি কোথাও একটা ক্যাসেট-প্লেয়ারে ভাওয়াইয়া গান হচ্ছে, কাজ করার সময় এরকম গান চমৎকার শোনায়। হারুন ইঞ্জিনিয়ার বগলে কিছু কাগজ নিয়ে কাজকর্ম দেখছেন, অন্য সবাই কাজ করছে। প্রথমে ভেবেছিলেন পুরো স্কুলঘরটাই কাত করে নামিয়ে নেবেন, সাতপাঁচ ভেবে সেটা না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। একটা একটা করে ঘর খুলে নেয়া হচ্ছে, কপিকলে বেঁধে সাবধানে সেটা নামিয়ে নেয়া হচ্ছে, তারপরে ঠেলেঠুলে সেটাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে মাটিতে পাকাঁপাকিভাবে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। অসংখ্য বড় বড় স্কু, মস্ত বড় রেঞ্জ দিয়ে খুলে ফেলছে সবাই, আবার নতুন জায়গায় গিয়ে লাগিয়ে ফেলছে। সত্যিকারের কাজ খুব বেশি নয়, কিন্তু নানারকম খুঁটিনাটি ব্যাপার হয়েছে, এইসব খুঁটিনাটির ব্যাপারেই সময় বেশি চলে যাচ্ছে। হারুন ইঞ্জিনিয়ারের হিসেবে রাত একটার মাঝে কাজ শেষ হয়ে যাবার কথা ছিল, কিন্তু কাজ শেষ হতে হতে ভোররাত হয়ে গেল। সারারাত কাজ করে কারও গায়ে আর কোনো জোর অবশিষ্ট নেই। বাসায় ফিরে গিয়ে যে যেখানে জায়গা পেল শুয়ে টানা ঘুম। ফারুখ বখত কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েই উঠে পড়লেন, আজ তার স্কুল তদন্তের জন্যে লোক আসার কথা। সেই লোকজন আসার আগেই তিনি স্কুলে চলে যেতে চান। দাড়ি কামিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে এসে তিনি ফরাসত আলিকে ডেকে তুললেন। তারপর দুজন কিছু খেয়ে গরম দুই কাপ চা খেয়ে স্কুলে ছুটলেন। এতদিন স্কুলটা খাড়া উপরে উঠে গিয়েছিল, এখন সেটা নিচে নেমে এসেছে বলে দেখতে কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কিন্তু স্কুলঘরগুলি দেখাচ্ছে চমৎকার, দেখে কে বলবে এটা এক রাতের কাজ? ফরাসত আলি আর ফারুখ বখত অবাক হয়ে দেখলেন, এই সাতসকালেই সবাই এসে হাজির হয়েছে। মহসিন তার কম্পিউটারগুলি ঠিক করে সাজিয়ে রাখছে। চুনু মিয়া হাতে ন্যাকড়া নিয়ে ঘরের দরজা-জানালা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করছে। রুখসানা কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে দুটি গোলপোস্ট বসাচ্ছে, কিছুদিনের মাঝেই ফুটবলের সিজন শুরু হবার কথা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এল একটু পরেই, তাদের খাড়া স্কুল হঠাৎ চিত হয়ে শুয়ে আছে দেখে তারা এত অবাক হল বলার নয়। ছোট বাচ্চারা নতুন কিছু খুব পছন্দ করে তাই তাদের খুশি দেখে কে। নতুন ধরনের স্কুল সবাই ছোটাছুটি শুরু করে দিল। স্কুলকে ঠিক করে বসাতে দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হলেন মির্জা মাস্টার। মই বেয়ে বেয়ে ক্লাস ঘরে ওঠা এবং আড়াআড়ি দরজা দিয়ে খুব সাবধানে ক্লাস ঘরে ঢুকতে এবং বের হতে হতে তিনি ত্যক্তবিরক্ত হয়ে গেছেন। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকও খুব খুশি হলেন, খাড়া উপরে উঠে যাওয়ার স্কুলঘরটা সবসময়েই দুলতে থাকত, ব্যাপারটিতে অভ্যস্ত হওয়া খুব সহজ নয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...