বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (২০)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১০২৯ পয়েন্ট)



X তারা ঘর থেকে বের হবার আগেই কাস্টমসের অফিসার এমাজউদ্দিন বললেন, “যাবার আগে একটা কথা শুনে যান।” “কী?” “কালকে আপনাদের স্কুল তদন্ত করতে আসবে।” “কালকে?” “হ্যাঁ।” “তুমি কেমন করে জান?” “পুরো ব্যাপারটা আমরা দাঁড় করালাম আর আমি জানব না? হে হে হে। যা-ই হোক, হাতে নগদ ক্যাশ টাকা রেখো।” “নগদ ক্যাশ টাকা?” “হ্যাঁ।” “কেন?” “কেন সেটা এখনও জান না? তোমার নাক টিপলে মনে হয় এখনও দুধ বের হয়।” ফারুখ বখত ফরাসত আলির হাত ধরে টেনে বললেন, “আয় যাই এখান থেকে।” অ্যাডভোকেট আব্বুল করিম বললেন, “আমার কথাটা একটু ভেবে দেখলে পারতে হে. খরচ কম পড়ত।” ডাক্তার তালেব আলি বললেন, “একটা স্কুল উলটো করে দাঁড় করিয়ে রেখেছ, তদন্ত করতে এসে সেটা যখন দেখবে তোমাদের কোনো উপায় আছে বের হবার?” প্রফেসর রইসউদ্দিন হিহি করে হেসে বললেন, “স্কুলের মেঝে উঠে গেছে আকাশে, দরজাগুলি আড়াআড়ি, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল বের হয়ে এসেছে দেয়াল থেকে, ফাজলেমির তো একটা মাত্রা থাকা দরকার!” এমাজউদ্দিন নাক দিয়ে ফোৎ করে একটা শব্দ করে বললেন, “আর সেই স্কুলের ছাত্র কারা? এলাকার যত গুণ্ডাপাণ্ডা বখা ছেলেপিলে। রিকশাওয়ালার ছেলে! চোর-চামারের ছেলে। ছেঃ!” ফারুখ বখত ফরাসত আলির হাত ধরে টেনে বের করে নিয়ে এলেন। রাস্তায় নেমে ফরাসত আলি বললেন, “আসলে তুই ঠিকই বলেছিলি।” “কী?” “ঘুষি মেরে দাঁতগুলি ভেঙে দেয়া উচিত ছিল।” . সন্ধ্যেবেলা ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি খুব মন-খারাপ করে তাদের ঘরে বসেছিলেন। এখনও তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না যে কোনো মানুষ শুধুমাত্র হিংসা করে তাদের এত সুন্দর একটা স্কুলের পিছনে লাগতে পারে। তারা যখন বসে বসে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলছিলেন ঠিক তখন হারুন ইঞ্জিনিয়ার এসে হাজির হলেন, তাঁদের এভাবে বসে থাকতে দেখে বললেন, “কী হল, তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে ছেলে মরে গেছে?” ফরাসত আলি লম্বা একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “অবস্থা অনেকটা সেরকমই।” “কেন? কী হয়েছে?” ফরাসত আলি আর ফারুখ বখত তখন পুরো ব্যাপারটা খুলে বললেন। সব শুনে হারুন ইঞ্জিনিয়ার কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, “এটা নিয়ে এত চিন্তা করার কী আছে?” “চিন্তা করার কিছু নেই? কী বলছ? যদি স্কুল বন্ধ করে দেয়?” “স্কুল ঠিক করে ফেলো, তা হলে বন্ধ করবে না। উলটো স্কুল সোজা করে বসিয়ে ফেলো–আমি কতদিন থেকে বলছি!” “সময় কোথায়? কালকেই আসবে তদন্ত করতে।” “অনেক সময় আছে। এক রাতে পুরো স্কুল খুলে আমরা লাগিয়ে দেব। মনে নেই আগেরবার কীরকম একটা ঝড়ের রাতে পুরো স্কুল বসিয়ে দিয়েছিলাম? সেই তুলনায় আজকে কী চমকার রাত! পরিষ্কার জোছনা। দেখতে দেখতে কাজ শেষ হয়ে যাবে।” “সত্যি পারবে? সত্যি?” উত্তেজনায় ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি উঠে দাঁড়ালেন। “না পারার কি আছে! এখন তো কাজ আরও সহজ। ইচ্ছে করলে নিচের ক্রুগুলি খুলে পুরো স্কুলঘরটা নামিয়ে দেব। এক ঘণ্টায় কাজ শেষ।” “তাহলে আর সময় নষ্ট করে কাজ নেই, চলো কাজ শুরু করে দিই।” হারুন ইঞ্জিনিয়ার উঠে দাঁড়ালেন, “চলো। চুনু মিয়াকে ডেকে আনতে হবে, সাথে মহসিন আর রুখসানা। দুজনেই খুব কাজের মানুষ। তোমরা সবাইকে নিয়ে যাও। আমি কিছু যন্ত্রপাতি, চার্জার লাইট, কপিকল, নাইলনের দড়ি এইসব নিয়ে আসছি।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...