বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কুহক-৩

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saniat Ahmed (০ পয়েন্ট)



X #কুহক #তৃতীয়_পর্ব #সানিয়াত_আহমেদ_আবির আসল ঘটনা ঘটল কয়েকদিন পর। কলেজে পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুদিন জন্য ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরছিলাম, কিন্তু যাওয়ার পথে ট্রেনের কামরায় অপ্রত্যাশিত ভাবে দেখা হল আমার এক পুরোনো বন্ধু অয়নের সাথে। আমরা একসাথে স্কুলে পড়তাম , সেই সূত্রেই পরিচয়। কিন্তু কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কারণ ও ভর্তি হয় অন্য একটা কলেজে। এতদিন পর অয়নের সাথে দেখা হওয়াতে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। স্কুলে পড়ার সময় বেশ বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল অয়নের সাথে। অয়ন বলল, -“ তুই ও বাড়ি ফিরছিস, বেশ বেশ অনেকদিন পর আবার জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে।” আমি বললাম, -“ নিশ্চয় রে , কতদিন পরে দেখা হল বলতো, কেমন আছিস তুই ?” -“ ভালো আছি, আর তুই ? আর তোর পরীক্ষা কেমন গেলো ? ” -“বেশ ভালো, তোর ?" -“ভালোই হয়েছে। তবে এবার একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হয়েছে জানিস!” “ কি হয়েছে? -"উৎসুক কণ্ঠে প্রশ্ন করলাম আমি। কিন্তু অয়নের কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ট্রেনটা আমাদের গন্তব্যে এসে পৌছালো। তাই ঠিক করলাম সন্ধ্যায় পাড়ার মোড়ে দেখা করবো, তারপর আমরা নিজেদের বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। বাড়ি ফিরে দুপুরে খাওয়া শেষ করে, বিকেলে পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই বেরিয়ে পড়লাম ঘুরতে। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম পাড়ার একটা দোকানের অয়ন বেঞ্চিটায় বসে বসে চা পান করছে, আমিও তার সঙ্গে যোগদান করলাম । গরম চায়ে চুমুক দিয়ে অয়ন কে বললাম , -“এবার বল তো তখন কি বলছিলি, কি যেন ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ঘটেছে । " অয়ন বলতে শুরু করল, -“এবারের পরীক্ষায় আমি কিছু প্রশ্নের ব্যাপারে আগে থেকেই জানতে পারি আমার ক্লাশের এক ছোকরার কাছ থেকে”। -“তাই নাকি? কিভাবে?” -“ আমাদের কলেজে একটা খুব অদ্ভুত ছেলে আছে। ও অন্য কলেজ থেকে বদলি নিয়ে উঠে এসেছে আমাদের কলেজে। কেমন একটা হাবভাব ওর সবসময়। আমরা তো ওর পেছনে লেগে ওকে বিরক্ত করে তুলি। কিন্তু এবার এমন একটা ঘটনা হল যে ওকে আর হালকা ভাবে নেওয়া যাচ্ছে না”। -“তাই ! কি ঘটল?” -“পরীক্ষার দিন সাতেক আগে আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে এক স্যারের বাড়িতে পড়তে গেছিলাম, পড়া শেষ হয়ে গিয়েছিলো, তাই সবাই মিলে আলোচনা করছিলাম পরীক্ষায় কি আসতে পারে ,না পারে, সাথে ওই ছেলেটিও উপস্থিত। বেশ জোরের সাথে ও কয়েকটা প্রশ্নের উল্লেখ করল যেগুলো নাকি এবারের পরীক্ষায় আসবেই। আমরা ব্যাপারটা একেবারেই উড়িয়ে দিই ব্যাঙ্গের সাথে। কিন্তু ওকে জিজ্ঞাসা করলাম যে এমন তথ্য ও পেল কোত্থেকে। উত্তরে ও বলল যে ওর বহু পুরনো একজন শিক্ষক আছেন যিনি এগুলো বলেছেন ওকে। -“বলিস কি রে?"বিস্ময়ের সাথে বললাম আমি। -“হ্যাঁ। এবার শোন। ছেলেটা শহরের নয়। ওর বাড়ি মহিমতলার কোন এক অঞ্চলে। শহরে কোথাও একটা বাড়ি ভাড়া করে ও একা থাকে। কিন্তু ও বলে যে ওর মাস্টারমশায় নাকি অনেক দূর থেকে ওকে পড়াতে আসেন আর গোটা ব্যাপারটা নাকি রাত্তির বারোটার পর হয়.....অর্থাৎ মধ্যরাতে। যতসব পাগলের প্রলাপ বুঝলি ”। -“আমি থামিস না। বলে যা...তারপর কি হল বল? -“প্রথমটা আমরা একেবারেই গুরুত্ব দিলাম না। কিন্তু পরীক্ষার দিন দেখলাম ও যতটুকু বলেছে, সব অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যখন ক্যান্টিনে ওর সাথে দেখা হল, তখন আর বিদ্রুপ করতে পারলাম না। আমরা ওর ওপর ক্রমাগত চাপ দিতে লাগলাম...উদ্দেশ্য হল সেই স্যারের খোঁজ বের করা যিনি এরকম অব্যার্থ সাজেশন দেন। কিন্তু কি ধড়িবাজ ছেলে কি বলব তোকে...কিছুতেই সেই স্যারের নম্বর, ঠিকানা দিল না!... খালি বলে গেল, -“আমার স্যার তোদের কাউকে পড়াবেন না...তোরা মিথ্যে অনুরোধ করিস না” আসলে সব ভাউতা বুঝলি? ও চায়না যে আমরা ওনার কাছে পড়ি! প্রত্যেকবার পরীক্ষার আগে আমাদের ওর হাতে পায়ে ধরতে হবে প্রশ্নের জন্য ওর এটাতেই আনন্দ। সেদিন তো আমাদেরই এক বন্ধুর সাথে ওর প্রায় হাতাহাতি হওয়ার জোগাড়”। আমার কেমন যেন খটকা লাগলো পুরোটা শুনে। ভয়ার্ত কণ্ঠে অয়নকে জিজ্ঞাসা করলাম, -“ছেলেটার নামটা কি রে? -“কেন তুই চিনিস নাকি? তোর কি কোনও ব্যাপারে সন্দেহ হচ্ছে?” -“তুই আগে নামটা বল”। আমাকে চমকে দিয়ে অয়ন বলল, -“ছেলেটার নাম প্রমোদ সেন। চলবে…....?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...