বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজার এবং লাক্কাতুর চায়ের বাগান ভ্রমণ

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (৬৫ পয়েন্ট)



X রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এর বাড়ি থেকে আসার পথেই অষ্ট্রগ্রামের ইউএনও স্যারের সাথে দেখা।তিনি আমাদেরকে উনার বাংলো নিয়ে এসে সবাইকে খাওয়ালেন। খাবার পর আলোচনায় ইউএনও স্যার বললেন, “আমি অনলাইন ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত আছি। এখানকার শিক্ষকদের অনলাইনে ক্লাস করার ব্যাপারে আগ্রহী করার চেষ্টা করতেছি”। মানিক স্যার বললেন, “আমরা সবাই তিতাস অনলাইন স্কুলের এডমিন এবং শিক্ষক। আমরা সবাই নিয়মিত ক্লাস দেই এবং শিক্ষার্থীর খোঁজ-খবর নিচ্ছি। শুধু এই দুইদিনের জন্য আমরা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মৌন সম্মতি নিয়ে ভ্রমণের বের হচ্ছি। তবে আমাদের ক্লাস নিয়মিত তিতাস অনলাইন ক্লাসে আপলোড হচ্ছে। শুভ লাইভ ক্লাস বন্ধ”। অষ্ট্রগ্রামের ইউএনও স্যারকে শিক্ষক বান্ধব মনে হলো। তিনি শিক্ষা সংক্রান্ত তাঁর কার্যাবলী তুলে ধরেন। করোনাকালীন স্কুল বন্ধে উনি অনলাইন ক্লাসে চেষ্টা চালিয়েছেন। অষ্ট্রগ্রামের ইউএনও স্যার থেকে বিদায় নিয়ে আমরা আবার ট্রলার যোগে আমাদের নির্ধারিত গাড়ির নিকট আসলাম। গাড়ি কাছে আসতে আমাদের রাত হয়ে গেছে। এই রাতে হোন হোটেলে যাব তাই ভাবছি। সবাই একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজারের আশে-পাশে ভাল মানের হোটেল উঠব। রাতেই আমরা হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজারের পাশে একটি হোটেলে উঠলাম আর গাড়ির ড্রাইভার গাড়িতে থাকবেন। হযরত শাহজালালের মাজার সিলেটের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান, যা সিলেট সদরের অন্তর্গত। এটি সিলেট শহরের ঠিক মধ্যস্থলে এবং '০' পয়েন্টের ১ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটিকে দরগা এলাকা এবং প্রবেশপথটিকে দরগা গেইট বলা হয়। হয়রত শাহজালালের সমাধি সৌধ। হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হজরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পুণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন। আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল কথিত আছে, প্রাচ্য দেশে আসার পূর্বে শাহজালাল (র.)-এর মামা মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবীর (র.) তাকে একমুঠো মাটি দিয়ে বলেন, ‘স্বাদে বর্ণে গন্ধে এই মাটির মতো যেখানে পাবে সেখানে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে।’ হজরত শাহজালালের (র.) বিশিষ্ট শিষ্য শেখ আলীকে এই মাটির দায়িত্বে নিয়োগ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, যাত্রা পথে বিভিন্ন জনপদের মাটির সঙ্গে যেন এই জনপদের মাটির তুলনা করে তিনি দেখেন। পরে এই শিষ্যের উপাধি হয় চাষনী পীর। সিলেট শহরের গোয়াইপাড়ায় তার মাজার বিদ্যমান। সিলেটের মাটির সঙ্গে আরবের মাটির মিল পাওয়ায় হজরত শাহজালাল (র.) সিলেটে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। সিলেটে তেল ও গ্যাস পাওয়ায় আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল প্রমাণিত হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে আমরা সবাই হোটেলের বিল পরিশোধ করে বের হলাম। হোটেলের বিল পরিশোধ করা মানে রাতে কোন জায়গায় থাকি তা ঠিক নয়। সকালে আমরা সবাই হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজারের আশে পাশে ঘুরলাম। আমি কবুতরকে খানা কিনে খাওলাম। কবুতরকে হাতে ধরে আদর করলাম। হজরত শাহাজালাল (র.)-এর আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (র.) তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ তিনি তাকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালী কবুতর উপহার দেন। সিলেট ও এর আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দেখা যায় তা ওই কপোত যুগলের বংশধর এবং জালালী কবুতর নামে খ্যাত। সিলেটে জাতি-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে কেউই এ কবুতর বধ করে না এবং খায় না। বরং অধিবাসীরা এদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে থাকে। শাহজালালের মাজার এলাকায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর উড়তে দেখা যায়। মাজার কর্তৃপক্ষ এসব কবুতরের খাবার সরবরাহ করে থাকে। কবুতরের স্থানের পাশেই বড় এক ডেগ দেখতে পেলাম। মাজারের পূর্ব দিকে একতলা ঘরের ভেতরে বড় তিনটি ডেকচি রয়েছে। এগুলো ঢাকার মীর মুরাদ দান করেছেন। মীর মুরাদ ঢাকার হোসেনী দালান তৈরি করেন। যদিও ডেকচিগুলোতে রান্না বান্না হয় না, তবুও কথিত আছে প্রত্যেকটিতে সাতটি গরুর মাংস ও সাত মণ চাল এক সঙ্গে রান্না করা যায়। পুণ্যের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ডেকচিগুলোতে প্রচুর টাকা পয়সা দান করেন। পাশে গজার মাছের ছোট পুকুর আছে। হজরত শাহাজালাল (র.)-এর মাজার চত্বরের উত্তর দিকে একটি পুকুর রয়েছে। এ পুকুরে রয়েছে অসংখ্য গজার মাছ। এসব মাছকে পবিত্র জ্ঞান করে দর্শনার্থীরা ছোট ছোট মাছ খেতে দেয়। পুকুরের পশ্চিম কোণে ছোট মাছ বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। পুকুরে অজুর ব্যবস্থাও আছে। ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বিষ প্রয়োগে পুকুরের প্রায় ৭শ’রও বেশি গজার মাছ হত্যা করা হয়। ফলে পুকুরটি গজার মাছশূন্য হয়ে পড়ে। মরে যাওয়া মাছগুলোকে মসজিদের পশ্চিম দিকের গোরস্থানে পুঁতে মোস্তফা (র.)-এর মাজার থেকে ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি ২৪টি গজার মাছ এনে পুকুরে ছাড়া হয়। বর্তমানে পুকুরের গজার মাছের সংখ্যা কয়েকশতে দাঁড়িয়েছে। আমি ফেসবুকে লাইভে ধারাভাষ্য দিতে দিতে কবরস্থানের পাশে গেলাম। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এমএজি ওসমানী, সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য সিরাজুন্নেসা চৌধুরী, তার স্বামী আব্দুর রশীদ চৌধুরী, বিচারপতি আব্দুস সোবহান, হাফিজ মাওলানা আকবর আলী, এ্যাডভোকেট শহীদ আলী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জমসেদ বক্ত, আল ইসলাহর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মৌলভী নুরুল হক, সাবেক কূটনীতিক কায়সার রশীদ চৌধুরী এবং কবি আফজাল চৌধুরীসহ অসংখ্য গুণী-জ্ঞানী লোক দরগাহ কবরস্থানে শায়িত আছেন। দরগাহ গোরস্তানে কয়েক হাজার লোকের মাজার রয়েছে। কোন রেজিস্ট্রার মেনটেইন না হওয়ায় এ ব্যাপারে সঠিক কোন তথ্য জানা যায়নি। এরপর আমি কুপের নিকট গেলাম। কথিত আছে যে পুকুরের পানি ব্যবহার করেন তা হিন্দুরাও ব্যবহার করুক। এটা শাহজালাল পছন্দ করতেন না। তাই তিনি একটি কূপ খনন করার আদেশ দিলেন এবং প্রার্থনা করলেন আল্লাহ যেন এই কূপটিকে জমজমের কূপটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেন। এরপর তিনি লাঠি দিয়ে মাটির ওপর আঘাত করলেন আর সঙ্গে সঙ্গে এই কূপটির সঙ্গে জমজমের কূপের মিলন ঘটে গেল। আল্লাহর ক্ষমতার বদৌলতে এই কূপে সোনা ও রুপার রঙের মাছের জন্ম হলে যা আজও এই কূপের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। তারপর এর চারপাশ পাকা করে দেয়া হলো এবং উত্তর পার্শ্বে দুটি পাথর বসিয়ে দেয়া হলো, যা থেকে দিনরাত পানি প্রবাহিত হয়। রোগীরা এই পানি পান করে আরোগ্য লাভ করে। রোজাদারেরা এই পানি দ্বারা ইফতার করে। হযরত শাহাজালাল (র.) এর মাজারের পশ্চিম দিকে গেরে ঝরনাটি পাওয়া যায়। ঝরনার পানি বোতল ভর্তি করে বিক্রি করা হয়। চারপাশ ঘুরার পর আমরা মাজারে সূরা ফাতেহা এবং অন্যান্য দোয়া পড়ে মোনাজাত করলাম। মাজার জিয়ারতের পর আমরা আমাদের গাড়িতে উঠে লাক্কাতুর চায়ের বাগানে গেলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...