বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পিছে পিছে ঘুরে একটু ভালবাসার আশায়।
শুভ মিনু চাকমার চিঠির উত্তর দিতে দেরি করে না। ডাকে চিঠি পেতে ১০/১৫ দিন লাগে মাঝে মধ্যে একমাসও লাগে। মিনু চাকমার চিঠি আদান প্রদানের সাথে সাথে লিখা পড়াও ভালভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ যদি জানে যে প্রেম করেছে এবং এইচএসসি ফেইল করেছে তাহলে মান উজ্জত থাকবে না তাই শুভ মনোযোগ দিয়েই লেখা পড়া করছে। ইংরেজি ফেইল করবে না কিন্তু মার্ক ভাল উঠবে ইংরেজিও ভালভাবে পড়তে হবে। শুভর ইংরজি ও পদার্থ বিষয়ে একটু দুর্বল আছে তবে ফেইলের আশা করে না। কলেজের এবং নিজের মান –ইজ্জতের জন্য পরীক্ষায় শুধু পাশ নয় ভালভাবে পাশ করে স্ট্যান্ডের আশা করতে হবে। বোর্ডের সকল পরিক্ষার্থীদের মধ্যে সবার থেকে বেশি মার্ক পেয়ে পাশ করলে প্রথম বোর্ড স্টান্ড, তারপরের জন দ্বিতীয় , এইরূপ পর্যায়ক্রমে বিংশতম বোর্ড স্টান্ড ধরা হয়। আবার সকল বিষয়ে ৭৫% মার্ক নিয়ে পাশ করলে স্টার মার্ক বলা হয়। পাশের স্থান তিনটি প্রথম বিভাগ(সকল বিষয়ে গড় ৬০% মার্ক পেলে প্রথম বিভাগ) , দ্বিতীয় বিভাগ (সকল বিষয়ে ৪৫% মার্ক পেলে দ্বিতীয় বিভাগ) এবং তৃতীয় বিভাগ (সকল বিষয়ে গড় ৩৩% মার্ক পেলে তৃতীয় বিভাগ)। শুভ বোর্ড স্ট্যান্ড না পেলেও স্টার মার্ক নিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করার আত্ম-বিশ্বাস আছে। কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের স্যার শুভর এই আত্ম-বিশ্বাসকে কল্পনা প্রসু বলে মনে করেন। কিন্তু শুভর আত্ম-বিশ্বাসের কমতি নেই।
অনেক রাত জেগে শুভ লেখা পড়া করে যা এস এস সির সময় এত সময় লেখা পড়ায় ব্যয় করেনি। শুভ বিকেল বেলায় প্রায় সময় ঘন্টা খানের নদীর তীরে হাটে আর বাকী সময়টা পড়ার কাজেই ব্যয় করে। তবে মাঝে-মধ্যে বন্ধুদের আড্ডায় পড়লে পড়ার সময় একটু কমে যায়। লজিং ছেলে-মেয়েকে এক-দুই ঘন্টা পড়ালেই ছাত্র/ছাত্রী এবং লজিং বাড়ির মালিক খুশী। লজিং বাড়ির ছাত্র/ছাত্রী তেমন ভাল ছাত্র না। কোনমতে স্কুলে যায় এবং আসে। শুভ চেষ্টা করেও তাদেরকে ভাল ফলাফল করাতে পারেনি।
মিনু চাকমা পনেরদিন পর শুভর চিঠি পেলো। চিঠিতে যে সুন্দর প্রেমের কবিতাও পাঠিয়েছে তা দেখে হাসিও পায়। তবে মহাখুশী হয়েছে। মিনু চাকমা ভাবে একটি ছেলে তাহাকে না দেখে এতো আবেগের ভালবাসা জানায় কিন্তু বাস্তবে দেখে যদি মিনু চাকমাওকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে তো এইকুল ঐকুল দুকুলই হারাবে। এখানের তুম্ববাজ চাকমা কারবারিই খুব ভাল ছেলে। সারাক্ষন মিনু চাকমার পিছে পিছে ঘুরে একটু ভালবাসার আশায়। মিনু চাকমার বাবার ইচ্ছে মেয়ে পাহাড়েই বসবাস করবে এবং পাহাড়ি মেয়েদের কাজ করবে। মিনু চাকমা ভাবে প্রেম চালিয়ে যাই। বিয়ে হয়ে গেলে চিঠি দেয়া বন্ধ করে দেবে। চিঠি বন্ধ তো সব বন্ধ। এখানে এসেও আমাকে খুজে পাবে না, কারণ সন্তুষ দত্তকে ভালভাবে বুঝিইয়ে বলা হয়ে চিঠির ব্যাপারে। মিনু চাকমার কয়েকজন বান্ধবীও এই প্রেমের চিঠির কথা জানে। তারা মিনু চাকমাকে উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের কথা হচ্ছে প্রেম চালিয়ে যা। যা হবার তা নিয়ে ভাবিস না। দুদিন পরে মিনু চাকমা লিখতে বসলো।
প্রিয় সৈকত
তোমার চিঠি পেয়ে খুবই খুশী হলাম। আমাকে নিয়ে কেউ এইভাবে ভাবেনি। আমি কিন্তু বনলতা সেনের মত সুন্দর নই। আমি পাহাড়ি ফুল। তোমার ভাল নাও লাগতে পারে।
সৈকত আমি তোমাকে ভালবাসী। তোমাকে ভালবাসী এটা প্রতিদিনই বলতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু তোমাকে তো প্রতিদিন পাইনি। তুমি আমাকে কোনদিন দেখনি; আমিও দেখিনি। আমাদের দেখার সময় খুবই শীঘ্রই আশা করি। আমি পাখি হয়ে তোমার কাছে উড়ে যাতে মন চায়।
আমার মন মানে না; তোমাকে দেখতে চায় এই মন। তুমি কি আমাকে দেখা দিবে? তোমাকে চাই শয়নে-স্বপনে।
আমি তোমাকেই চাই।
এবার আমার ঠোখের আসল পরশ তোমাকে দিলাম।
ইতি
তোমারই
মিনু চাকমা।
মিনু চাকমা চিঠি লিখে বান্ধবী দিয়ে পোস্ট করে দিল। মিনু চাকমার বান্ধবী খুবই বিশ্বস্ত তাই তাকে দিয়ে পিয়নের কাজটি করাতে পারে। ইদানিং তুম্ববাজ চাকমা মিনু চাকমা বান্ধবীর পিছনেও ঘুরছে। তবে এই ঘুরাও মিনু চাকমার জন্যে। মিনু চাকমাদের সাথে শুধু চাকমাদের বসবাস নয়। আর অন্যান্য জাতের লোক আছে। এখানে এখন মিশ্রন জাতি সত্তা গড়ে উঠতেছে। জনবৈচিত্র্যর এক অনন্য মিলন ক্ষেত্র রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা । এখানে দশ ভাষাভাষি এগারটি জাতি সত্ত্বার বসবাস রয়েছে। এরা হচ্ছে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, চাক, খিয়াং, খুমী, পাংখোয়া, বোম ও লুসাই। ভাষাও সংস্কৃতির বিচারে এক জাতিসত্ত্বা অন্য জাতিসত্ত্বা থেকে স্বতন্ত্র।নৃতাত্ত্বিক বিচারে তাদের সকলেই মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠিভুক্ত। সংখ্যাগরিষ্ঠতারদিক থেকে ‘চাকমা’হচ্ছে প্রধান জাতিসত্ত্বা। তাদের পরেই মারমা, ত্রিপুরা ওতঞ্চঙ্গ্যাদের অবস্থান। অন্যান্য সাতটি জাতিসত্ত্বার সংখ্যা অতি নগন্য। মিনু চাকমা সাথে অন্যান্য আদিবাসীর সাথেও রয়েছে সখ্যতা।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জেলা রাঙামাটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মিয়ানমার-মিজোরাম বর্ডা আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসে এই এলাকার ভূমিকাও আছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো দলটির একটি কোম্পানি (১৫০-২০০ জন) খাগড়াছড়ি দখলের জন্য নদীপথে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ একাই পাকিস্তানীদের ২টি লঞ্চ ও ১টি স্পিডবোট ডুবিয়ে দেন। এতে এক প্লাটুন (৪০-৪৫ জন) শত্রু সৈন্য নিহত হয়। তাঁর এই বীরত্বের ফলে পাকিস্তানিরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধে তিনি একাই লড়ে তাঁর প্রায় দেড়শ সহযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত মুন্সি আব্দুর রউফ পাকিস্তানিদের একটি মর্টার শেলের আঘাতে শাহাদাৎবরণ করেন। সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে।
এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটেও উন্নত না। তবে পাহাড়ের চূড়া থেকে রাতের আকাশ । পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা সূর্যাস্ত কিংবা ভোরের সূর্যোদয়, রাতের নিস্তব্ধতা, রাতের আকাশে অগণিত নক্ষত্রের মিলনমেলা উপভোগ করার পাশাপাশি যে বিষয়টি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়, সেটি হলো দুপুরে দেখে আসা সবুজ পাহাড়গুলোর খুব সকালে শুভ্র মেঘের চাদরে ঢেকে যাওয়া। মাটিতে দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁতে পারার চেয়ে আনন্দের মত। সাদা মেঘের চাদরে ঢেকে থাকা দৃশ্যের দিকে চোখ বুলালে মনে হবে এ যেন অন্য এক পৃথিবী, যা শহরের যান্ত্রিক কোলাহল এবং দূষণ থেকে কয়েক শত গুণ মুক্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now