বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়ংকর পিশাচীনির কবলে জিজেসগণ।

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shariful Islam (০ পয়েন্ট)

X বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম loveআল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা সায়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিন আদাদা মাফি ঈলমিল্লাহ সলাতান্ দাঈমাতান বিদাওয়ামি মুলকিল্লাহlove হেল্লু কাছের মানুষজন ব্রেন্ড নিউ রোমাঞ্চকর পিশাচীনির গল্পে আপনাকে স্বাগতম।wow করোনাকালীন ছুটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রিয়াদা আন্টি ও মিশুপু তাদের গ্রামের বাড়িতে জিজেসদের কে দাওয়াত দেন। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ তাই বিজয়,তানিম,হৃদয়,রিদাপু,লিমা,বন্যা,মুস্তাফিজ,মেহেদী,তানভীর,সরুপা,লুমি ভাইয়া সহ সবাই মিশুপুর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম।পুরা রাস্তায় লিমা বমি করে ভরাইছে, সে নাকি বাসে উঠতেই পারে না।laugh আমাদের দেখে উনারা এতো খুশি হয়েছেন যে বলার মতো না।রিয়াদা আন্টি তো আমাকে দেখেই কিরে পুচকু বলে জড়িয়ে ধরে গালে আদর দিয়া দিলেন।আমরা উনাদের গ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর ১ টা বেজে গেছে।তারপর আমাদেরকে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়,মিশুপু আগে থেকেই জানতেন আমি অনেক ঝাল ভর্তা পছন্দ করি তাই মিশুপুর আম্মু ভর্তা করলেন ২ আইটেম একটা ঝাল কম সবার জন্য আরেকটা টকটকে লাল মরিচের ঝাল ভর্তা স্পেশালই আমার জন্য।রান্নাটা খুবই মজা হয়েছিল বিশেষ করে মুরগির গোশতটার স্বাদ এখনো জিভে লেগে থাকার মতো। দুপুরের খাবার দাবার শেষে সবাই রেস্ট নিতেছিলো।দুষ্টুর দলের কি আর রেস্ট আছে? ওরা অল্প একটু রেস্ট নিয়েই ফ্রি ফায়ার খেলা শুরু করে দিছে।বিকেলে মিশুপু,রিয়াদা আন্টি,আবির ভাইয়া আমাদের সবাইকে নিয়ে বের হলেন উনাদের গ্রাম ঘুরে দেখানোর জন্য।gj গ্রাম প্রকৃতিটির এক অপার সৌন্দর্যের নাম। মহান রাব্বে কারিম এর সৃষ্টি যে এত্ত সুন্দর তা গ্রাম না দেখলে আপনি বুঝবেন না!যে দিকে দুচোখ যায় খালি সবুজের সমারোহ। গ্রামের মেঠো পথে রাজহাঁসের ছুটে চলা।মেঠো পথ দিয়ে গেলে চোখ আটকে যাবে ঝাঁক ঝাঁক রাজহাঁস কিংবা পাতিহাঁসের দলে। গ্রামের বসতবাড়িতে অনেকেই মুরগির বাচ্চা পালন করছেন।মুরগির বাচ্চা পুরনো পদ্ধতিতে মুরগির বাচ্চা পালনে পরিবর্তন এনেছেন কেউ কেউ। কোথাও আবার কাঠের পোল ও খড়ের গম্বুজ। গাছে দোল খাচ্ছে জবাফুল,মেঠো পথের দু’ধারে থাকা গাছের গোলপাতার ফাঁকে ফাঁকে বাতাসের দোল খাচ্ছে জবাফুল। শিশুদের হাস্যোজ্জ্বল মুখগ্রামের শিশুরা দলগতভাবে খেলাধুলা করে।gj মিশুপু আমাদের দেখালেন উঁচু আম গাছের ডালে বিশাল এক মৌমাছীর মৌচাক।অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম সবাই।হঠাৎই দুষ্টুর দলের অন্যতম সদস্য তানিম একটা ঢিল ছুড়ে মারে মৌচাকে,ব্যাস পড়িমড়ি করে সবাই ছুটে পালালাম ওই স্থান থেকে।কিন্তু আল্লাহ বিচার কইরা দিছেন,সবাই সুস্থ থাকলেও বেচারা তানিমের গালে কামড় বসিয়ে দেয় মৌমছী।গাল আর নাক ফুলে যে চেহারা হইছে তা দেখে সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।laugh হঠাৎই খেয়াল করি সবাই থাকলেও মুস্তাফিজ নাই,বেটা আবার হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ওস্তাদ!সবাই মিলে খুজতে খুজতে দেখি খালের পানিতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রইছে। পানি থেকে উঠানোর পর দেখি তার হাতে কামড় দিছে একটা,ফুলে গেছে হাত,ইচ্ছামতো গালি দিতে লাগলো তানিমকে,তোর বিয়া হইবোনা,বিয়ার দিন তোর বউ ভাইগা যাইবো,তোর কোনদিন বাচ্চা হইব না, laugh বিকেলে ঘুরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় সবাই আবার বাড়ি ফিরে আসলাম।এসেই দেখি মিশুপুর আম্মু আমাদের সবার জন্য গামলা ভর্তি ঝালমুড়ি তৈরী করতেছেন।পরে বাড়ির উঠানে পাটি/চাটাই বিছিয়ে সবাই চাঁদের আলোতে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম আর মুড়ি খাইতেছিলাম।মিশুপু আর রিয়াদা আন্টি তাদের গ্রামে ঘটা ভৌতীক কাহিনী শুনাইতেছেন।সবাই ভয়ে আরো জড়সড়ো হয়ে বসে শুনতে থাকে।হঠাৎই ডাক পড়ে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য তখনই আসরের সমাপ্তি ঘটে। একজনের কাছ থেকে জানলাম রিয়াদা আন্টিদের পাশের গ্রামে যাত্রাপালার আয়োজন করেছে। শহুরে জীবনে এসব সংস্কৃতির সাথে পরিচিত না থাকায় খুব ইচ্ছে করছিল সরাসরি যাত্রা দেখার। কিন্তু কেন জানি মিশুপুর আম্মু আর রিয়াদা আন্টি আমাদের বাধা দিতে লাগলো।কিন্তু উনাদেরকে কোনরকমভাবে মেনেজ করে আমরা ৫ জন ( বিজয়, তানিম,মুস্তাফিজ, লুমি ভাইয়া,হৃদয়) রাতে ডিনার সেরে রাত ৯ টার দিকে রওয়ানা হলাম ওই স্থানে। আমরা তো চিনি না ঠিকমতো তাই রিয়াদা আন্টি আমাদের সাথে আবির ভাইয়া কে দিলেন। যাত্রা ১০টায় শুরু হয়ে একটানা রাত ১টা পর্যন্ত চলবে। তখন শীতকাল ছিল,কুয়াশা মাড়িয়ে মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, অবশেষে রাত সাড়ে দশটায় পৌছলাম। দেখলাম যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। পালার নাম রহিম রূপবান। টেলিভিশনে একবার যাত্রা দেখেছিলাম কিন্তু ওই যাত্রা আর এই যাত্রার মাঝে কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। যাত্রার প্রতিটি পর্বের বিরতিতে একটি করে নৃত্য প্রদর্শনী হচ্ছিল, ভালই লাগছিল যাত্রা! রাত পৌনে বারটার দিকে হঠাৎ করে এলাকার মুরুব্বিরা সদলবলে হাজির হয়ে অশ্লীলতার অভিযোগে যাত্রা পন্ড করে দিলেন এবং মাইকযোগে সবাইকে যার যার বাড়ি চলে যেতে অনুরোধ করেন। সবার সাথে সাথে আমরাও রওয়ানা হলাম বাড়ীর পথে । কিছুদুর যাওয়ার পর সবাই দাড়িয়ে গেল। সবাই ভাবছিল এতক্ষনে হয়তো আয়োজক কমিটি একটা রফাদফা করে ফেলেছেন! শেষে বিরক্ত হয়ে আবির ভাইয়া আমাদেরকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন এবং তাড়াতাড়ি পৌছানোর জন্য রাস্তার বদলে ফসলি জমির বিশাল মাঠের উপর দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।তখন সবার ফসল কাটার পর্ব শেষ তাই জমির আইলের পরিবর্তে জমির উপর দিয়েই হাটা শুরু করলাম। কিন্তু কিছুদুর যাওয়ার পর টের পেলাম আজ প্রচুর কুয়াশা জমেছে। যাত্রা পেন্ডেলের আলোর কারণে এতক্ষন সমস্যা না হলেও ঘন কুয়াশার কারণে দশ হাত দুরের জিনিস ও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। কুয়াশা যেন আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। ক্ষীন চাঁদের আলো থাকায় দেখে শুনে পা ফেলতে পারছি।আবির ভাইয়া বলতেছে, আমার এলাকার জমি, চোখ বেঁধে দিলেও পৌছাতে পারব এমন আত্মবিশ্বাস আছে আমার। তাই ভয়ের বদলে উপভোগই করছিলাম! কিছুদুর যাওয়ার পর দেখলাম একটি মেয়ে জমিতে পড়ে আছে! পড়নে তার যাত্রাবালাদের পোষাক। উপুড় হয়ে পড়ে আছে সে। হৃদয়(MH2) বলল, মনে হয় মুরুব্বীরা আক্রমন করেছিল তাই সে এদিক দিয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে ভয়ে বেহুশ হয়ে গেছে। তাকে সনাক্ত করার জন্য উল্টালাম। ততক্ষনে চক্ষু আমাদের কপালে! একি! ও গায়ে পোষাক নেই! সারা শরীরে অসংখ্য ক্ষত, গলায় ওড়ানা পেচানো; চোখ দুটো খোলা যেন বের হয়ে যাচ্ছে! উল্টানো শরীরে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল তাই প্রথম দেখায় বুঝতে পারি নি। ওকে উল্টানোর জন্য ওর হাত ধরার সময় কেমন যেন একটা অনুভুতি হল। সিন্টম দেখে লুমি ভাইয়া বলল, রেপড বিফোর মার্ডার! এক্ষুনি পালা! কেউ দেখে ফেললে আমাদের সন্দেহ করবে তাই সবাই একসাথে দিলাম দৌড়! অলিম্পিকে এ দৌড় দিলে সম্ভবত বিশ্বরেকর্ডটা ওসাইন বোল্টের হতনা! সে যাই হোক, দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় মনে খটকা লাগল। আমরা কি সঠিক পথে যাচ্ছি??? কিছুদুর যেতেই দেখলাম আমাদের যে পথে যাওয়ার কথা ছিল আমরা তার উল্টোদিকে আরেক ইউনিয়নের এক গ্রামে চলে এসেছি। আবির ভাইয়া বললেন, পথ হারানোর সম্ভাবনা নাই কারণ, একটা ছোট নালা সোজা আমাদের গ্রামে প্রবেশ করেছে তাই আমরা নালার পাশ দিয়ে হাটা দিলাম। আমরা যে নালার পাশ দিয়ে হাটছি ওই পথে মিশুপুদের গ্রাম আনুমানিক ৫কিঃমিঃ দুরে। আমরা ভুতে বিশ্বাসী ছিলাম না তাই নির্ভয়ে হাটা দিলাম। অর্ধেক পথ আসার পর আমরা যে স্থানে পৌছলাম তার থেকে নিকটতম বসতির দুরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার! প্রায় আয়তকার ফসলি জমির মাঠ। গুগল ম্যাপ থেকে দেখলে যেন ফুটবল মাঠ! ধান চাষের সময় এ মাঠের দৃশ্য যে কত মনমুগ্ধকর তা অকল্পনীয়! প্রায় ১০/১৫ কদম যাওয়ার পর দেখলাম আরেক যাত্রাবালা পড়ে আছে ঠিক আমাদের সামনে।আবির ভাইয়া বললো খাইছে, আমার তো মনে হয় সব যাত্রাবালারাই ধর্ষনের শিকার হয়েছে। কাল পুলিশ এসে আশেপাশের গ্রামগুলো তছনছ করে ফেলবে। মুস্তাফিজ আমাদের নিষেধ করল যেন কাউকে যেন হাত না লাগাই। সে যাই হোক আমরা মনে সাহস সঞ্চয় করে সামনের দিকে হাটা দিলাম। ১৫/২০ কদম যাওয়ার পর একটা গোঙ্গানির মত আওয়াজ পাওয়া গেল। সে বেঁচে আছে বলে পিছনে ফিরে তাকিয়েই চক্ষু চড়ক গাছ! খিলখিল করে হেসে উঠল সে। আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে সে। সেকি ভয়ঙ্কর চাহনি! কুয়াশার মাঝেও তাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সেই মেয়েটাকে যাকে মৃত পড়ে থাকতে দেখেছিলাম কিছুক্ষন আগে। আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে! নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছিল। আমাদের দিকে তাকিয়ে সে সূর করে গেয়ে উঠল একটু আগেই যাত্রাপালায় শোনা গানের লাইন যেওনা, যেওনা, রহিম গো...... সূরের মুর্ছনায় শরীর অবস হয়ে যাচ্ছিল আমাদের। এমতাবস্থায় লুমি ভাইয়া হ্যাচকা টানে আমাদের ঘুড়িয়ে বলল ভা---গো---! আবার দৌড়াতে শুরু করলাম; ঘন্টাখানেক আগের মত ধর্ষক হিসেবে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে না, ভূতের ভয়ে! সুরা, দুয়া, দুরুদ যা যা মনে ছিল চিৎকার করে বলতে লাগলাম সবাই । কিছুদুর যাওয়ার যা দেখি একি আমরা তো সেই স্থানে চলে এসেছি যেখানে প্রথমবার মেয়েটাকে পড়ে থাকতে দেখেছিলাম! দেখলাম মেয়েটা এখনো পড়ে আছে । ভাবলাম এটা সত্যিকারের মৃতদেহ আর নালার পাশেরটা ভূত। ভাবামাত্রই মেয়েটা উঠে দাড়ালো। আর আমাদের দিকে তেড়ে আসল আর খিলখিল করে হাসতে লাগল। আবার দিলাম দৌড়! আমরা সেই যাত্রা পেন্ডেলের দিকে দৌড়াতে লাগলাম। কিন্তু কিছুদুর যেতেই দেখি মেয়েটা সামনের দিক থেকে আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। আবার উল্টোদিকে দৌড় শুরু করার আগে বাঁচাও বলে চিৎকার করতে লাগলাম। ভাবলাম এখানে চিৎকার করলে লোকজন শুনতে পাবে কিন্তু একি?? গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছেনা! দৌড় শুরু করলাম। কিন্তু কোনদিকে? তার খবর নেই কারো! প্রায় মিনিট পনের দৌড়ানোর পর মনে হল আমাদের পিছনে কেউ নেই। তাই একটু রেস্ট নেয়ার জন্য থামলাম। আমাদের এত শক্তি নাই যে সারারাতই স্প্রিন্টারদের মত দৌড়াতে পারব। মিনিটখানেক সময় দাড়ানোর পর দেখি, তিনদিক থেকে তিনজন ছুটে আসছে! ওরা আমাদের থেকে অনেক দুরে ছিল তখনও। অবাক হলাম, কুয়াশার কারণে ১০-১৫ ফুট দুরের জিনিস দেখা যায়না কিন্তু শ-দেড়শ ফুট দুরের তিনজনকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে! এ কি করে সম্ভব? আমাদের শুধু একটা দিকই খোলা। এবার আমাদের মুখ খুলল। তানিম কাঁপতে কাঁপতে বলল এদিকে যাবনা। এটা সম্ভবত ওদেরই ফাঁদ! আমরা বুঝে উঠতে পারছিনা আমরা কি করব??? একদিকে মাথা কাজ করছেনা, তার উপর পায়ের ব্যাথা! ওরা আরও কাছাকাছি চলে আসছে। অবশেষে লুমি ভাইয়া ক্ষীন কন্ঠে বলল, শেষবারের মত কালেমা তৈয়বা পড়ে নে যাতে ঈমানের সাথে মরতে পারি। সবাই একসাথে কালেমা পড়ে যে দিকটা খোলা সে দিকেই দৌড় শুরু করলাম। থাক ফাঁদের ভয়! যার নাম নিয়ে দৌড় দিলাম সেই আল্লাহ্ ই শেষ ভরসা।gj আমাদের দৌড়াচ্ছি আর পিছনে তাকাচ্ছি। দেখলাম ওরা আমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়াতে পারছেনা। হঠাৎ আমাদের ডাকতে লাগল, দাঁড়া! দাঁড়া কইচি! নয়তো ভাল হবে না! অবাক হলাম। কারণ, যেদিকেই গেলাম সেদিকেই তাদের উপস্থিতি তবে কেন দাঁড়া বলে ডাকাডাকি??? ভাবলাম আমরা সঠিক পথেই এগুচ্ছি! নিরাপদ স্থানের দিকেই যাচ্ছি! আল্লাহকে ধন্যবাদ দিয়ে পেছনে তাকাতেই দেখি তিনটা বিশালাকৃতির চিতা বাঘে পরিণত হয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে এবং মাত্র ১০ সেকেন্ডেই দুরত্ব অর্ধেকে কমিয়ে ফেলেছে। হৃদকম্পন সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে! আর মাত্র ১০ সেকেন্ড বাকী! শেষবারের মত তাকাতেই দেখি ঘোড়া আকৃতির চিতাবাঘ, চোখ দিয়ে তার অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে!! সবাই সমানতালে দৌড়াচ্ছি। আর মনে মনে মৃত্যুর কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছি! পেছনের পায়ের আওয়াজ ক্ষীন থেকে জোড়ালো হচ্ছে! আমরা দৌড়াচ্ছি সমানতালে। ওদের নিঃশ্বাসের শব্দে অনুভুত হচ্ছে মাত্র ১০ ফিট দুরে ওরা! পিছনে তাকানোর সাহস পেলামনা। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড় দেয়ার চেষ্টা করছি এমনি লুমি ভাইয়ার চিৎকার লাফ দে, সামনে দেয়াল। ঠিক তখনি আমার ঘাড়ে গরম বাতাসের মত অনুভুত হল! আল্লাহু আকবার চিৎকার দিয়ে প্রায় তিনফিট উঁচু দেয়াল পার হলাম। ভুমি স্পর্শ করার সময় মনে হল একটা মাঁচার উপর পড়েছি! মড়মড় করে মাঁচা ভাংতেই জ্ঞান হারালাম! তারপর যখন নিজেকে আবিষ্কার করলাম, তখন ক্ষীণ দৃষ্টিতে দেখি আমার শরীরে একটা সাদা কাপড়। ভাবলাম, খোদা হয়তো আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তাই মৃত্যু যন্ত্রণা টের পাইনি। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি না। উপরের দিকে যাই দেখি সব সাদা! হাত দিয়ে নিজের শরীর স্পর্শ করে দেখতে লাগলাম পরকালে দেহ কি মানুষাকৃতির থাকে কি না। মুনকার নাকিরের (কবরের প্রশ্নকারী ফেরেশতা) জন্য অপেক্ষা করছি সেই সময় একটা চিৎকার শুনতে পেলাম। বিজয়ের জ্ঞান ফিরেছে। একি? এত দেখি মিশুপুর চিৎকার! আস্তে করে চোখ কঁচলে দেখলাম রিয়াদা আন্টি আমার মাথা কোলে তুলে নিতে ঝাপিয়ে পড়ছে । ঝাপিয়ে পড়ার মূহুর্তে দেখলাম একপাশে দেয়ালে লেখা – রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র ডাস্টবিনে ফেলুন। আদেশক্রমে –জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! মিশুপু আমাকে ধরে কাদঁছে আর বলছে সারারাত আমি না ঘুমিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, আল্লাহ এই পুচকু ভাইটাকে ফিরিয়ে দাও।weep মহান রাব্বুল আলামীনের কৃপায় এবং চিকিৎসকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আমি সুস্থ হয়ে উঠি। পরে জানতে পারি, মিশুপুদের গ্রামের এক মধ্যবয়সী লোক সেদিন ভোরে কবর জিয়ারত করার জন্য কবরস্থানে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান একটা কবর ভাঙ্গা, তার ভিতর একজন সহ আশেপাশে আরো ৫ জন মানুষ পড়ে আছে! ভয় পেয়ে গ্রামে গিয়ে ঘটনা জানায় সে। উৎসুক গ্রামবাসী এসে আমাদের সবাইকে অচেতন অবস্থায় থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সবার জ্ঞান ফিরলেও আমার,তানিম আর মুস্তাফিজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। রিয়াদা আন্টি পরে একজন বুজুর্গ আলেমকে প্রথমে কথাগুলো খুলে বলার পর তিনি বলেন, আমরা কবরস্থানে প্রবেশ করায় বেঁচে গেছি। সম্ভবত কিছু দুষ্ট জিনের খপ্পরে পড়েছিলাম আমরা। ওরা সাধারনত এভাবে কৌশলে দলবদ্ধ মানুষদের বিচ্ছিন্ন করে ভয় দেখিয়ে মজা পায়। এধরণের ঘটনা আরো নাকি ঘটেছে এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আমরা সবাই একসাথে ছিলাম এবং সবাই মিলে কবরস্থানে প্রবেশ করায় আমাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারেনি তারা। কারণ কবরস্থান পবিত্র যায়গা এবং তারা সেখানে কোন ক্ষতিসাধন করতে পারেনা। মিশুপু চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানলেন অতিমাত্রায় ভয়, ক্লান্ত শরীর থাকায় আমরা জ্ঞান হারিয়েছিলাম সেদিন। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এবং আমাদের উঠতি বয়সের কারণে হৃৎপিন্ড সবল ছিল বিধায় হার্টএটাক হয়নি!ডাক্তার আমাদেরকে ৩ দিন বিশ্রাম নিতে বলেন,আর প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র প্রেসক্রাইব করে দিলেন।gj ওইদিন সন্ধ্যায় আমাদেরকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়।মিশুপুদের বাসায় সবাই ওই রাত থেকে পরদিন ভোরে উনাদের থেকে বিদায় নিয়ে সবাই ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়ে দেয়,কিন্তু আমরা অসুস্থ থাকায় আমাকে,তানিম আর মুস্তাফিজকে যেতে দেননি মিশুপুর আম্মু। রিয়াদা আন্টি আর মিশুপু আমাদের সেবা করতে লাগলেন,আমরা লজ্জায় মারা যাচ্ছিলাম বলতেছিলাম,এতো সেবা শুশ্রূষা লাগবেনা আমরা ঠিক আছি ইনশাআল্লাহ।এটা শুনেই রিয়াদা আন্টি আমাদের দিলেন বকা,মানা করছিলাম যাইতে না, এখন যদি বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতো! মিশুপুর আম্মু আরও ৩ দিন নিজের কাছে রাখলেন,মায়ের মতোই আদর যত্ন করতে লাগলেন,।আমাদের সবার পছন্দের খাবার তৈরী করে খাওয়ালেন,মজার মজার পিঠা ও তৈরী করে খাওয়ালেন।gj আসার দিন বারবার করে বলে দিচ্ছেন যেনো আবার আসি উনাদের গ্রামে,আমরা ইনশাআল্লাহ আবার আসবো বলে আশ্বাস দেই।পরে মিশুপুর আম্মুকে সালাম দিয়ে,মিশুপু,রিয়াদা আন্টি আর আবির ভাইয়ার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাই।gj লেখকের কিছু কথাঃ আমার আরও একটা রাত কেটে গিয়ে ভোর হলো গল্প লিখতে গিয়ে।এই গল্পের কিছু কনটেন্ট ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে নেওয়া।তারিন আপু আর ইকবাল মাহমুদ ভাইয়ার দেওয়া সাজেশনে এই গল্পে ভ্রমনের সাথে ভৌতিক অভিজ্ঞতা লাগানোর চেষ্টা করেছি।সামনের গল্প গুলো কোন বিষয় নিয়ে লিখবো অবশ্যই জানাবেন।ইনশাআল্লাহ সবসময় চেষ্টা থাকে গল্পে কাল্পনিক থেকে বাস্তবিক রূপ দেওয়ার যাতে আমার প্রিয় পাঠকবৃন্দগণ গল্প গুলো খুব সহজেই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন।তোমাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্যই আমার মতো পুচকু,অধম,সাধারণ লেখককে আরও গল্প লিখার প্রেরণা জোগাবে ইনশাআল্লাহ।gj ভুল ত্রুটির কাফফারা স্বরুপঃ- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলাইক। আলহামদুলিল্লাহ love ভালোবাসা অবিরাম love


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now