বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বর্ষাকালে গ্রামের লোকজনের তেমন কাজ থাকে না। যারা দরিদ্র সীমার নিচে তাদের কাজের শেষ নেই। কেউ বরশী দিয়ে মাছ ধরে, কেউ জাল দিয়ে মাছ ধরে,কেউ কুটির শিল্পীর কাজ যেমন বাশ ও বেতের কাজ করে। কেউ বা কাথা সেলাই করে। তবে কুটিরশিল্প বা কর্মজীবীর জন্য তেমন কাজ নেই। ডুলা,আনতা, ছাই, হলার পাট,ছিক্কা ইত্যাদির দিন দিন আকাল পড়তেছে। বিকেল বেলায় জমে উঠে খেলার আমোজ। হাডুডু, লাঠিম ঘুড়ানো,ডাংগুটি ইত্যাদি খেলা। এছাড়া সাত চারা, তিনঘুটি, ষোল ঘুটি, বাঘ-বন্ধী ইত্যাদি খেলাও জমে ভাল। শুভ তিনঘুটি, ষোল ঘুটি, বাঘ-বন্ধী ভাল খেলে। অনেকেই শুভর সাথে তিনঘুটি, ষোল ঘুটি, বাঘ-বন্ধী পাল্লা দিয়ে হেরে যায়। সবাই বলে শুভর ব্রেইন ভাল। ভাল লিখা করতে পারবে।
শুভ ভাল লিখা পড়া করে। তবে শুভর পুরান বই কেনার টাকা নাই। নতুন ক্লাসে উঠলে পাঠ্যবই ও নৌটবই কিনতে হয়। তবে নতুন বই নয়। বাজারে পুরাতন বইও কিনতে পাওয়া যা কারণ শুভর পুরাতন বই কেনারও টাকা নেই। হালিম স্যার ১০টা মাসে প্রাইভেট পড়ায়। শুভ প্রাইভেটও পড়ে না কারণ তাদের কাছে প্রাইভেটের টাকা নেই। জীবন সংগ্রামের জন্য গৃহস্তের টুকটাক কাজ করতে হয় এবং গৃহস্ত নামমাত্র কিছু টাকা দেয় যা সংসারে কাজে লাগে। শুভর সহপাঠীরা শুভকে বিভিন্ন কাজে যেমন খাতা-কলম,বই প্রভৃতিতে সাহায্য করে।
জীবন সংগ্রামের সাথে তাল মিলাতে শুভ পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি। বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছে শুভ বন্ধু শামীম, হেলাল, ফরহাদ, কামাল প্রভৃতি। তারা শুভর সাথে পড়ায় পারে না। তারপরেও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তে পারবে না বলে মনে হল। কারণ নতুন ক্লাসে বেতন দিতে হবে। বইও নিজে কিনতে হয়। মোট কথা অনেক খরচ যা প্রাইমারিতে ছিলনা। শুভর ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তির টাকা মা অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করেছে। গ্রামের ধনাঢ্য মানিকের মা বলেছে, শুভর ষষ্ঠ শ্রেণির বই কিনে দিবে। কাজেই ষষ্ঠ শ্রেণির সাধ পুরণ হলো। সহপাঠীদের সাথে স্কুলে যায় শুভ। নতুন জায়গায়; নতুন স্কুল; নতুন বন্ধু, কাজেই একটা অচেনা উদ্ধিগ্ন কাজ করছে মনে। জানুয়ারি মাসে তেমন ক্লাস হয় না। দু’একটা ঘন্টা ক্লাস হবার পর খেলা-ধুলার ঘন্টা পড়ে। সবাই খেলা ধুলায় মশগুল হই। বর্ষা নিক্ষেপ, টেনিসবল নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ ইত্যাদি খেলা। শুভ বর্ষা নিক্ষেপ ভাল করত।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে শুভর ভর্তির রোল হলো ৪৬। তবে লিখা পড়ায় অগ্রগামী হলো শুভ,শামীম, উত্তম, রবি, আঞ্জু,আসমা, লাভলী প্রভৃতি। স্যারেরা শুভকে খুব পছন্দ করে। ক্লাসে সবচেয়ে বেশি পড়া পারে শুভ এবং শামীম। নতুন ক্লাশে শুভর নতুন নতুন বন্ধু পেল। শুভদের ক্লাসে সবচেয়ে বেশী সুন্দরী একজন বকুল। বড় ক্লাসের ছেলেরা বকুলের পিছে ঘুর ঘুর করে। শুভও কয়েকবার আড় চোখে দেখে নাই তা নয়। কেন জানি বকুলের দিকে তাকিয়ে ইচ্ছে করে তাঁর। বকুল লেখা পড়ায় তেমন ভাল নয়। তবুও বকুল স্কুলে না আসলে সবায় বকুলের খোঁজ-খবর নেয়। বকুল কেমন আছে? কি করে? কেন স্কুলে আসেনি ইত্যাদি। বকুল বাবা বড় গৃহস্ত তাই ধনীর দুলালী বলা যায়। নতুন ছয় মাস যেতে না যেতে বকুল স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। জুন-জুলাই মাসে স্কুলের সকল ঘন্টা পুরোপুরি হয়। স্কুলে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত স্কুলে পুরোপুরি সাত ঘন্টা মানে সাতটি বিষয়ের ক্লাস (সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা)। ক্লাসে বকুলকে সবায় মিস করে। কয়েকজন টিটকারী করে বকুলকে নিয়ে। জুলাই মাসের শেষের দিকে একদিন খবর আসল বকুলের এক আত্মীয়র সাথে বিয়ে হয়েছে। বকুলদের বাড়ির কয়েকজন শুভদের ক্লাসেই পড়ে কাজে প্রতিদিনের খবর পাওয়া যায়। বকুলের বিয়ে হবার পর বকুলকে নিয়ে আর তেমন কথা আলোচনা হয়নি।
ক্লাসের সব বন্ধুরা খুবই আন্তরিক। ছুটির দিনে বা ইদ/পূঁজাতে একে অপরকে দাওয়াত দেয়। শুভ সবার বাড়িতে যাওয়া আসা করেছে। শুভ অনেকের কাছে বই হাওলাত নিয়ে লেখা-পড়া করতো। স্কুলের বিরতির সময় আনিস, মোশারফ, কবির, উত্তম,রবি, ফরহাদ এবং শুভ মিলে মুড়ি আড্ডা করতো। আড্ডায় স্কুলের স্যারদের নেগেটিভ পজিটিভ আলোচনা করতো। কোন স্যার ভাল? কোন স্যার খারাপ? কোন স্যার বকুলের দিকে আড়-চোখে চাইত? কে দুষ্ট? ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা চলত। আলোচনার এক সময় খবর আসলো, বকুল আগুনে পুড়ে মারা গেছে। সবায় খবই মর্মাহত হল। সিদ্ধান্ত হলো স্যারের নিকট ছুটি নিয়ে বকুলদের বাড়ি যাবে।
আনিস, মোশারফ, কবির, উত্তম,রবি, ফরহাদসহ শুভর অন্যান্য বন্ধুরা মিলে বকুলদের বাড়িতে গেল। বকুলদের বাড়িতে কান্না আর আহাজাড়িতে বাড়ি যেন এক অদ্ভুত স্থিমিত স্থবির বিরাজমান। বাড়িতে গিয়ে জানা যায় বকুল স্বামীর সাথে ঝগড়া করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে নিজে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। বকুলের মৃত্যু যে কত ভয়ংকর হয়েছে তা ভাবতে গা শিউরে উঠে। মরার আগে বকুল খুব কান্না-কাটিও করেছিল। বকুলের বন্ধুরা সেইদিন চোখের জল ফেলেছে আর বোবা কান্না করেছে। এত সুন্দর পরীর মত একটি মেয়ে এত তাড়াতাড়ি দুনিয়া থেকে চলে যাবে তা ভাবতেও অভাক লাগে। শুভর প্রিয় বকুল ফুল ঝড়ে পড়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now