বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গ্রামে যে পাগলদের খোঁজ রাখে না।

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X স্কুল বন্ধ থাকলে আনন্দের সীমা থাকে না শুভর। শুভ চায় স্কুল বন্ধ থাকবে। সপ্তাহে মাত্র একদিন বন্ধ থাকে। শুক্রবারে স্কুল বন্ধ থাকে। স্কুল বন্ধ তো সীমাহীন আনন্দ। গ্রামের উত্তরে সুবিশাল জমিন। এক গ্রাম থেকে অন্যগ্রাম প্রায় দুইমাইল দূরে কাজেই অনুমান করা যায় সুবিশাল ফসলী জমি। দুগ্রামের মাঝে বয়ে গেছে কাঠালিয়া নদী। নদীর চিহ্ন পাওয়া যায় চৈত্র-বৈশাখ মাসে। চৈত্র-বৈশাখে খাল বিল শুকুয়ে গেলেও কাঠালিয়া নদীতে পানি থাকে। তবে বর্ষাকালে আষাঢ়,শ্রাবন ও ভাদ্র মাসে এই ফসলী জমিতে পানিতে ভরপূর থাকে, তখন নদী বুঝা যায় না। আজ স্কুল বন্ধ তাই সীমাহীন আনন্দ তাদের। শুভ, হালিম, আলম, কদমালী,এসডু ও বরকত মিলে ঠেলি জাল দিয়ে নদীতে মাছে ধরতে যায়। দলবেঁধে মাছ ধরা খুবই আনন্দের। মাছ পাই বা না পাই আনন্দ হয় সীমাহীন। মাছ ধরা শেষে কেউ যদি খুবই কম মাছ পায় তাহলে অন্য একজন কিছু মাছ তাকে দেয়। এটাই দলবেঁধে মাছ ধরার আনন্দ। কাঠালিয়া নদীতে কোমর সমান পানি। নদীর একপাশ থেকে দলবেঁধে ঠেলি জাল দিয়ে অপর পাশে গিয়ে জাল তোলা হয়। এতে বাইম, গুতুম, কটকটি, শিং,কই, পুটি মাছ পাওয়া যায়। অনেক সময় শুধু হাত দিয়েও মাছ ধরা হয়। মাছ ধরার সময় জ্ঞান থাকে না। থাকে কোন ক্ষুধা। এ যেন এক ধরণের নেশা। শুভর মাছ ধরার নেশা কম হলেও পাশের বাড়ির আলেক,ছেলু ও ছেলেমের মাছ ধরার নেশা আছে। তারা মাছও ধরতে পারে অনেক। শুভও কম নয়। কাঠালিয়ার নদীতে ডুব দিয়েও মাছ ধরতে পারে। পায়ের তলার শিং মাছও ধরতে পারে। শিং মাছ ধরা একটি কঠিন কাজ। শুভ কয়েকবার শিং মাছ ধরতে গিয়ে শিং মাছের কাটার আঘাত খেয়েছে। শিং মাছের কাটার আঘাতে খুব ব্যাথা লাগে। শিং মাছের মত আরেকটি মাছ মাগুর মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। বোয়াল মাছও কম। বাপ-চাচার কাছের মাছের গল্প শুনে মনে হয় দেশে মাছের আকাল পড়েছে। এখন তেমন মাছে নেই। কাঠালিয়া নদিতে মাছ ধরতে ধরতে সময়ের খেয়াল ছিল না তাই মাছ ধরে বিকেল বেলায় বাড়ি আসলে মা শাসনের সুরে ধমক দিয়ে খাবার খেতে দিল। পরের দিনও স্কুলে যেতে হবে না শুভর কারন মেঝ মামার হাইট্রা মরিচ খেতে বদলী নিয়েছে অনেক। শুভ বদলীদের (দিন মুজুর) সাথে থাকতে হবে এবং কাজ করতে হবে। যথারীতি পরের দিন সকালেই নিড়িকাঁছি নিয়ে গাঙ পাড়ের মরিচ ক্ষেতে হাজির। ক্ষেতে গিয়ে দেখে অন্যান্য বদলী কাজে আগেই যোগদান করেছে। ক্ষেতে অনেক ঘাস তাই অনেক লোকই কাজ করছে। নিড়িকাছি দিয়ে বসে বসে ঘাস তোলা প্রধান কাজ। একসাথে বেশি মরিচ থাকলে সুস্থ সবল মরিচ গাছ রেখে কাছাকাছি অন্য মরিচ গাছে তুলে ফেলতে হয়। একজন বয়স্ক লোক কিচ্ছা (গল্প বা কাহিনী) বলে আর অন্যরা শোনে এবং নিড়ি কাজ করে। কিচ্ছার ফাঁকে ফাঁকে গ্রামের লোকজনের কাহিনীও বলা হয়। কে ভাল? কে মন্ধ? কে দেশের ভাল করে? কে মানুষের ক্ষতি করে? কে চেয়ারম্যানের চামচামী করে ইত্যাদি। দুপুরের দিকে ভাত নিয়ে আসল জমিতে। ক্ষুধার সময় কাচা মরিচ দিয়ে ভাত খেতে খুবই সুস্বাদু মনে হয়। খাবারের পর একটু বিশ্রাম মানে হুক্কা খাওয়া চলে। একটা বেনিতে (ধানের খড়-কুটা দিয়ে পেচানো দড়ি মত) আগুন ধরানো থাকে। এই বেনির আগুন দিয়ে টিক্কায় আগুন লাগিয়ে মুরুব্বীগণ মাঝে মাঝে হুক্কা টানে। বিশ্রামের সময় হুক্কা টানা (খাওয়া) হয় বেশি। পানির পিপাসা পেলে কাঠালিয়া নদীর পানি খায় তারা। হুক্কা খাবার পর শুর হয় আবার নিড়ানী কাজ। গ্রামের অনেক ছোট ছেলে মেয়েই ক্ষেতে কাজ করে। এখানে শুভর বয়সের হালিম, রোস্তম, স্বপন আছে। গ্রামে শিক্ষার হার খুবই নগন্য। শুভ শুনেছে এই গ্রামে একজন মাস্টার ছিল যিনি ক্ষেত থেকে ছোট ছেলে মেয়েকে তুলে নিয়ে স্কুলে পাঠাতো। আর এই কারণে মাস্টারকে পাগল বলত। তাহার নাম বাদশা মাস্টার। বাদশা মাস্টারের ছেলে মেয়েরা কেউ গ্রামে থাকে না। লোক মুখে শোনা যায়া বাদশা মাস্টারের ছেলেরা ঢাকা থাকে এবং বড় লোক। গ্রামে তেমন আসে না। শুভ মাতবর চাচাকে লোকটিকে জিজ্ঞাসা করল, বাদশা মাস্টারকে পাগল বলতো কেন? মাতবর চাচা জানালেন, বাদশা মাস্টার আমাদের এলাকার খুবই ভাল ও শিক্ষিত লোক। তিনি গ্রামের ক্ষেতে কোন ছেলে দেখলে ; তাকে ক্ষেত কাজ করতে দিতো না, বলতো স্কুলে যা। ক্ষেত থেকে স্কুলে পাঠাতেন। যারা ছোট ছেলে মেয়ে দিয়ে কাজ করাতো তাদেরকে বকা ঝকা দিতো তাই বাদশা মাস্টারকে পাগল বলতো। ফসলী ক্ষেতে কাজ না করে স্কুলে যাওয়া পাগলের কাজ মনে করত। কত বছর আগে এই বাদশা পাগল মারা গেছে? জবাবে একজন মুরুবী বলল, হবে হয়তো ১৫/২০ বছর। গ্রামের অমূল্য সম্মদ মারা গেছে কেউ জানে কবে মারা গেছে। কেউ একে মনে রাখার কথাও চিন্তাও করে না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now