বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবন পুতুল খেলার গল্প

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X স্কুল ভাল লাগে না শুভর। সারাদিন ছাগল চড়াতে আর সবুজ মাঠে খেলতে ভাল লাগে। সহুপাঠী গেদি,জানু,আলম, শামীম,আক্কাস আবুল আর রোস্তম হলে খেলা জমে। খেলা হয় নদীর তীরে ছাগল ছাড়িয়ে ঘর বাড়ি বানানো। কখনো কখনো দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, চোরা গোল্লা, ডাংগুটি ইত্যাদি খেলা বিকেল বেলায় জমে ভাল। তবে সকালের দিকে ঘর-দুয়ার বানানো খেলা জমে। ঘর -দুয়ার বানানো খেলাটি বিকেল বেলায় তারা নিজেরাই ভেঙ্গে ফেলে অথবা এমনি¬¬¬ই রেখে দেয়। পরের দিন দেখা যায় কেউ না কেউ ভেঙ্গে ফেলেছে। এটাই একটা স্বাভাবিক খেলা হয়েছে। আবার নতুন করে কাদা মাটি নিয়ে খেলা শুরু করা। ছাগল চড়ানোর সময় ছাগল যদি লেজ নেড়ে আনন্দের সহিত ঘাস খায়,তখন শুভর আনন্দ লাগে। এই এক স্বর্গীয় আনন্দ। মাঝে মাঝে অন্য ছাগলকে ডুমেরে তাড়িয়ে দিলেও আনন্দ লাগে। নদীর তীরে, খালের পাড়ে এবং কান্দার ধারে ছাগল চড়াতে ভালই লাগে। জীবন চলে হেসে খেলে। লেখা পড়া বড় লোকের কাজ। ইহা গরীবের মানায় না। টাকা পয়সা লাগে। কোথায় পাবে টাকা পয়সা। শুভর সহপাঠীরা যখন স্কুলে যায় তখনও শুভর ভাল লাগে। শুভরও ইচ্ছে হয় স্কুলে যেতে। কারণ অনেক বন্ধু বান্ধব পাওয়া যায় স্কুলে। মাঝে মধ্যে স্কুলে যায় স্কুলে। ছাগলটি যখন তার মায়ের অধীনে রাখা যায় তখন স্কুলে যায়। স্কুল শুরুটা হয় অনিয়মিত। মাঝে মাঝে স্যারদের জিংলার বেতের মাইর খাওয়া হয়। তবে এই মাইর নিয়ে মাথা নেই কারণ মা বলেছেন, স্যার শরীলে যেই জায়গায় মারে সেই জায়গায় বেহেস্ত যায়। স্কুলে পড়ার চেয়ে স্কুলে যাওয়া আসায় খুব বেশি আনন্দ। কারণ দল বেঁধে স্কুলে যাবার সময় কারো গাছে মাটির চাকা দিয়ে ডিল মারা যায়। বরুই বা আমের মৌসুমে এই কাজটি ভাল জমে। দু একজন গাছের গোড়ায় যায় আর দু এক জন দূর থেকে ডিল মারা হয়। পরে আম বা বরুই ভাগ করে খাওয়া হয়। এই কাজে হোরার মায়ের গালাগাল খেতে হয়। তাতে কিছু আসে যায় যায় না। স্কুলে যাওয়া চেয়ে আসার আনন্দ বেশি। আসার সময় একজন আরেকজনের সাথে একটু আধটুকু কাইজ্জা হয়। তবে পরের দিন কাইজ্জা, রাগ, অভিমান মনে থাকে না। আবার একসাথে স্কুলে যায়। স্কুলে ছন্দ করে নামতা পড়া খুবই আনন্দের ছিল। একে চন্দ্র, দুইয়ে পক্ষ, তিনে নেত্র, চারে বেধ ইত্যাদি আবার একও কে এক, দুই একে দুই... , ছড়াও সুরে সুরে স্যার পড়াতেন। কমলাফুলি কমলাফুলি, সকালে উঠে আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি, আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই... ইত্যাদি ছড়া ও কবিতা মুখস্ত করতে হত। ভালই লাগে ছড়া আওরাতে। সবার সামনে যখন নেতা হয়ে ছড়া জোরে জোরে বলা হয় তখন নিজকে নেতা নেতা মনে হত। গেদির পুতুল বিয়ে তাই দাওয়াত দিয়েছে সবাইকে। আমাদের পক্ষের একদল মেয়ে পক্ষ আরেকপক্ষ ছেলের পক্ষ। নিজেদের মধ্যে ভাগ ভাগ করে দুটি পক্ষ করা হয়। বরযাত্রী আসবে। আবার কনের পক্ষের লোকজনও আসবে। বিরাট আয়োজন। খাওয়া দাওয়া সবই হবে যেমন মুড়ি, চিড়া, গুড় এবং দই । চিড়া, মুড়ি দইয়ের খানার পর হবে মাছ মাংসের খাবার। সব খাবারই নকল। আসলে এই খাবারগুলো সত্যিকারের বিয়েতে খাওয়ানো হয় তাই এখানে অভিনয় করে খাওয়ানোর ভাব ধরতে হয়। পুতুলের লাল শাড়ি, কপালের টিপ, পাউডার, আলতা ইত্যাদির সাজনী সবই ব্যবস্থা করা হয়। বর পুতুলের শেরওয়ানি, ঘড়ি, পাগড়ি, লুঙ্গি ইত্যাদি ব্যবস্থা আছে। বর ও কনের উভয়েরই সাজ-গোছ সুন্দর। কালাম, হালিম,কাদির, শুভ,জানু, ইকবাল প্রভৃতি বরযাত্রীর পক্ষের লোক। আলম,বাবুল, নুর আলাম,কুদ্দুস, আসলাম, হরতন প্রভৃতি কনে পক্ষের লোক। বর ও কনের উভয় পক্ষের লোক একই খেলা-ধুলার সাথী কিন্তু এই বিয়েতে দুটি পক্ষ। মেয়ের পক্ষের কাজ হচ্ছে ছেলের পক্ষের লোকদের ভালভাবে খাওয়া-দাওয়া করানো এবং ভাল ব্যবহার করা। মেয়ের পক্ষের একটু কটু আচরণে যাতে ছেলের পক্ষের কোন অমর্যাদা না হয়। কনে পক্ষের লোকজন এই বিয়ের আয়োজনের সেবায় মসগুল। বিয়ের গেইটের গেইট ভাড়ার ধর কষাকষি থেকে আদর আপ্পায়ন সবই করতে হয় সাবধানে। কোথাও যেন বরপক্ষের লোকজনের অসুবিধা না হয়। সরবত পান করানো, পিঁড়ি,মোড়া যেন ঠিকমত দেয়া হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়। হালিম সবার চেয়ে একটু বড় তাই সে মুরুব্বী স্টাইলে অন্যদের আদেশ নিষেদ করে। অন্যরা কেউ মানে আবার মানে না। তারপরেও হালিমের মাতাব্বুরী দমে না। এই আয়োজনে মেয়েদের তেমন সরাগম নাই; যদিও এই বরযাত্রার আগে মেয়েদেরই প্রাধান্য থাকে। মেয়েরা রান্না-বান্না থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবামুলক কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। এই বিয়েতে অতি বয়স্ক মুরুব্বী বা ছেলে মেয়ে থাকে না। সবার বয়স প্রায় একই। তবে এই পুতুল বিয়েতে বয়সের তারতম্যের ভাব ধরা হয়। পুতুল বিয়ের আয়োজনের কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে কথা কাটা কাটি হয়। মন্ধ বাক্য বলা হয়। অনেকটা অপরাধের সামিল। এখানে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাও চাওয়া হয়। আবার ভাল কাজের জন্য ধন্যবাদও দেয়া হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ “জীবন পুতুল খেলার গল্প” বইয়ের রিভিউ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now