বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির প্রতিশোধ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ísràt Jàhán(guest) (২২৯২ পয়েন্ট)



X ডা:তৃপ্তি চেম্বারে বসে রুগী দেখছে। একজন মহিলা তার সামনে বসে আছে।3 বছর থেকে একটা বাচ্চার জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু বাচ্চা হচ্ছেনা। ডক্টর তৃপ্তি এক সপ্তাহ আগেই দেশে ফিরেছেন। ডা:তৃপ্তি - আপনাদের রিপোর্ট তো একদম নরমাল।তাহলে বেবি কেনো হবেনা।আপনার হাজবেন্ডকে একটু ভিতরে আস্তে বলুন। মহিলাটি তার হাজবেন্ডকে ডেকে আনলো।তখন তৃপ্তি রিপোর্ট গুলো দেখছিল ওপর পাশ হয়ে।তারা ভিতরে ঢুকে বললেন ডক্টর আমাদের প্রবলেম কি? ভয়েসটা কেমন যেনো চেনা চেনা লাগল।পিছন ফিরে তার অনেক চেনা একটি মুখ দেখতে পেলো।দুইজনই আশ্চর্য। কেউ একে অপরকে দেখবে এইটা কল্পনাও করেনি।তৃপ্তির চোখে পানি কিন্তু কোথাও যেনো মনে একটা শান্তি লাগছে।ওপর পাশের মানুষকে বসতে বলল।তারপর বললো - বিয়ে কয় বছরের? - 5 বছর - আপনাদের তো কোনো শারীরিক প্রবলেম নেই মিস্টার হাসিব। - আপনি আমার হাসবেন্ডের নাম জানলেন কিভাবে ডক্টর? - আপনার হসাবেন্ডকেই জিজ্ঞাসা করেন। মহিলা মানে মিসেস হাসিব তার হাসবেন্ড এর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন। - ও আমার প্রথম প্রেমিকা প্রথম স্ত্রী।( মাথা নিচু করে) - ওহ।আমি চিনতে পারিনি আপু সরি - ইটস ওকে।কেমন চলছে দাম্পত্য জীবন? - আলহামদুলিল্লাহ ভালো। - মিস্টার হাসিব আপনি তো বেবি পছন্দ করেননা।একটা বেবি নাকি আপনার ক্যারিয়ার শেষ করবে।আপনার নাকি ইনকাম অত নাই। একটা বাচ্চাকে হত্যা করছেন ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই।আমাকে দিনের পর দিন কান্না করাইছেন। কি দোষ ছিল আমার আর আমার বেবির। একটা বেবি কতো খেত।তবুও আমার ফ্যামিলি ওর সব দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল।কিন্তু একটা বেবি চাওয়ার জন্য আমাদের ভালোবাসার সংসারটা ভেঙে দিলেন।আজ আপনি একজন সাকসেসফুল বিজনেসম্যান।আপনার টাকার অভাব নাই।আজ আপনি বেবির জন্য এত উতলা কেনো। যান টাকা উড়ান।বেবি দিয়ে কি হবে। হাসিব এর খুব কান্না  পাচ্ছিল কিন্তু ছেলেদের কাদতে নেই। সে মাথা নিচু করে ছিল।কথা গুলো বলে খুব শান্তি পেলো তৃপ্তি।খুব ছোট বয়সে বিয়ে হয় তার।ভালোবেসে বিয়ে করেছিল।কখনো নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবেনি। সংসার কে সব মানত কিন্তু..... ডিভোর্স এর পর তৃপ্তি বিদেশে তার মামার কাছে যায়।ওখানেই এমবিবিএস কমপ্লিট করে।আজ এত বছর পর সে তার বাচ্চার হত্যার বিচার পেয়েছে। সে তার অ্যাসিস্টেন্ট কে কল দিয়ে বললো মিস্টার হাসিবের ফি ফেরত দিতে । হাসিবরা বের হবে এই সময় একটা 3 বছরের মেয়ে দৌড়ে এসে তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরে বলল - কখন থেকে আমি আর বাবা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি মা।চলো একসাথে বাসায় যাবো।আজ তুমি তাড়াতাড়ি যাবে কথা দিয়েছিলে। - তৃপ্তি সরি আমাদের মেয়ে এত জেদ করছিল এজন্য তোমার পেসেন্ট দেখার সময় ঢুকতে হলো। - আরে সরি বলছো কেনো।আমাদের মেয়ের জন্য কোনো নিয়ম নেই। হঠাৎ তৃপ্তির হাসবেন্ড মানে ডক্টর আবিরের চোখ যায় হাসিব সাহেবের দিকে। - আরে হাসিব সাহেব।কেমন আছেন? কোনো প্রবলেম নাকি? এমন দেখাচ্ছে কেনো আপনাকে? - সরি ঠিক চিনলাম না। - আমি আপনাকে চিনি।তৃপ্তি বলেছে আপনার কথা আর আপনার ছবি ও দেখিয়েছে এজন্য চিনলাম। - ওহ।নাইস টু মিট ইউ - আসুন আজ একসাথে ডিনার করি।ভাবি ও আছে। - না আবির।ওনার ওয়াইফ এর শরীর ভালোনা। - কি হয়েছে।মেডিসিন দাও যাতে তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়। - ওনার স্বামীর পাপ এর শাস্তি পাচ্ছে উনি।আমার কিছু করার নেই ।আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বল।আল্লাহ সন্তান দানের মালিক। - একদম ঠিক কিন্তু ছি তৃপ্তি এভাবে বলতে নেই। ওনারা কষ্ট পাবেন। - সরি আবির। - আপনি অনেক ভালো মিস্টার আবির।আপনি অনেক লাকি যে তৃপ্তিকে পেয়েছেন। - একদম ঠিক বলেছেন। সি ইজ ভেরি লাকি তোর মে এন্ড মাই ফ্যামিলি। - বেশি হচ্ছে আবির। - একদম না কম ই বললাম।চিন্তা করবেন না আল্লাহ আপনাদের সন্তান দিবেন।এইটা আমাদের মেয়ে আয়রা। - খুব কিউট।দুইজনের মতোই হয়েছে। - হ্যাঁ। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া।ওকে ছাড়া আমরা অচল। - মামুনি এদিকে আসো - একদম না।আপনি ছোঁবেন না ওকে। - তৃপ্তি রিলাক্স।দাও আয়রাকে।প্লিজ।আমি আছি। - যাও মা। - ওকে বাবা - আসসালামুয়ালাইকুম আংকেল।কেমন আছেন? - আলহামদুলিল্লাহি মা।আল্লাহ তোমাকে অনেক ভালো রাখুন সুস্থ রাখুক।বলেই জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল।আর বলল আজ আমার মেয়েটা বেচেঁ থাকলে অনেক বড় হতো ... সবার চোখে পানি। আয়রা হাসিব সাহেবের চোখের পানি মুছে দিলেন।হাসিব সাহেব অনেকগুলো চুমু দিলেন আয়রাকে।তারপর তৃপ্তি আর আবির তাদের মেয়েকে নিয়ে চেম্বার থেকে বের হলেন।হাসিব সাহেব তখন বললেন মানুষ তার পাপের শাস্তি দুনিয়াতেই অর্ধেক পায়।আল্লাহ ছেড়ে দেন না কাওকে।ভালো থাক ওরা। সন্তান আল্লাহর দান।এইটা একটি অশেষ রহমত। হাসিবের মতো ভুল কেও করবেন না।প্রকৃতির প্রতিশোধ। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির প্রতিশোধ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...