বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদ্ভূত ভূত

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়ান খান(guest) (২২৯২ পয়েন্ট)



X প্রতিদিনের মতো আজকেও বাসায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে বসে ফেসবুক ব্রাউজিং করছিলাম। হঠাৎ মোবাইলের রিং বেঁজে উঠল। দেখলাম বন্ধু ইমরানের ফোন।কল রিসিভ করতেই সে বলল, কোথায় আছিস?এখটু বাজারে আয় তো তোকে নিয়ে রোয়াইলবাড়ী (আমাদের ইউনিয়ন ) যাবো। আমিও সাত-পাঁচ না ভেবে সাথে সাথে রেডি হয়ে রওনা দিলাম বাজারের উদ্দেশ্যে। আমাদের বাড়ী থেকে বাজার প্রায় ১৫ মিনিটের রাস্তা। যেতে হবে হেটে হেটে।আগে রাস্তাটা ছিলো গ্রামের ভিতর দিয়ে।কিন্তু এখন গ্রামের পাশের নদীর তীরে নতুন রাস্তা হয়েছে ।তাই আমি নতুন রাস্তাটাই বেঁচে নিলাম বাজারে যাওয়ার জন্য। রাত তখন প্রায় ৯.৩০। আমি একা একা-ই হাটছি বাজারের পথে।অজপাড়া গ্রাম বলে এই সময় গ্রামের অনেক পরিবার-ই ঘুমিয়ে গেছ। চারদিকের প্রকৃতিটা একবারে নীরব শুন-শান।কোথাও কোন মানুষের সাড়া শব্দ নেই। হালকা চাঁদের আলোছিলো কিন্তু সেটাও মেঘের আড়ালে ডাকা পরে গেছে।খুব শীতল বাতাস ছিলো তখন। গাছের পাতাগুলো ঝিড় ঝিড়ি করে নড়ছিলো। নদীর তীরে ঝিঁ-ঝিঁ পোকারা একটানা ডেকে যাচ্ছে। শুনতে নেহাত মন্দ না আবার খুব বেশি ভালও শুনা যাচ্ছে না!নদীর ওই পাড়টায় ছিলো ঘন জঙ্গল আর সেখানে ছিলো অনেকগুলো শ্বশান।মাঝে মধ্যে-ই সেখান থেকে শিয়ালের ডাকের শব্দ ভেসে আছিলো।তার সাথে তাল মিলিয়ে আবার কিছু ব্যাঙ সঙ্গ দিচ্ছিলো। সব মিলিয়ে কোন হরর সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মনে হচ্ছিল।যেহেতু একা একা যাচ্ছিলাম তাই কিছুটা ভয় ভয় লাগছিলো । আর লাগবেই বা না কেনো? এই নদীর পাড় নিয়ে গ্রামের বয়ষ্কদের কাছে শুনেছি অনেক ভৌতিক কাহিনী। তারা নাকি অনেকেই মধ্যরাতে নদীর পাড় দিয়ে ঘোড়া দৌড়ে যেতে দেখেছে। আবার এরকমটা নাকি তারা প্রায়-ই দেখে থাকে।আবার কিছু দিন আগেও আমাদের গ্রামের এক বড় ভাই রোজার মাসে মাছ ধরতে এসে নদীতে মরে পড়ে ছিলো। তাকে কে মেরেছে বা কী হয়েছিলো তার সেটা নিয়েও রয়েছে নানা রকমের গল্প গুজব। আমি তখন সেগুলোই ভাবছিলাম আর কিছুটা ভয় কিছুটা সাহস নিয়ে সামনের ধিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। আমার হাতে ছিলো একটা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট ।প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিট হাটার পর হঠাৎ কিছু একটা ঠক ঠক আওয়াজ শুনে থমকে দাড়ালাম।যেমন টা একটা কাঠের সঙ্গে আরেকটা কাঠ টুকা দিলে হয়। এমন সময় নদীতে কেই বা থাকতে পারে । হাতের লাইটা ওই দিকে ঘুরাতেই দেখলাম নদীতে গ্রামের এক লোক মাছ ধরবে বলে বাঁশের খুটি দিয়ে মাচা তৈরি করবে বলে কিছু বড় বড় বাঁশ পুতে রেছিলো আর সেগুলোই একটার সাথে আরেকটা ধাক্কা লেগে ঠক ঠক শব্দ হচ্ছে ।আশে পাশে কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছিলাম না ।তাহলে বাঁশ গুলো কী আপনা থেকেই নড়ছিলো ।আমি ভয়ে কিছুটা হকচকিয়ে গেলাম। কে ওখানে? বলে ডাক দিলাম ।কিন্তু কোন আওয়াজ আসলো না! ঠক ঠকানির শব্দটা আগের চেয়ে এখন আও বেড়ে গেলো।আমি কী করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। নদীর ওই পাড়ে বহুকাল আগের পুরাতন একটা শ্বশান।আমরা গ্রামের সাধারণ মানুষেরা সবাই জানি যে, শ্বশানে ভূত থাকে।তাহলে কী আওয়াজ টা ভূতেরাই করছে। এমন সময় অনূভব করলাম কে যেনো নদীর অন্য পাড় থেকে নদীর মাঝখানে ঢিল ছুড়ে মারছে। বিষয়টা আরও ভালো ভাবে লক্ষ্য করার জন্য যখন আমি মোবাইলের লাটই-টা ওই দিকে ধরলাম তখন যা দেখলাম আমি সেটা দেখান জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।আমি দেখলাম আমার দিকে এক ঝলক আলো ধেয়ে আসছে সাথে ইয়া বড় বড় দাত।ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। আমি চিৎকার করার আপ্রাণ চেষ্টা করে চিৎকার দিতে পারলাম না। তাইতো ভয়ের ছুটে দিলাম বাড়ীর দিকে দৌড়। দৌড়াতে দৌড়াতে বুঝতে পারলাম কেউ আমার পেছনে পেছনে দৌড়ে আসছে।আমি যতোই দ্রুত দৌড়াচ্ছি পেছেনের লোকটাও ততো দ্রুত দৌড়াচ্ছে। আমি যখন আমার বাড়ী থেকে অল্প এখটু দূরে পৌছে গেলাম তখন-ই বুঝতে পারলাম কেউ আমাকে পিছন থেকে আমার ঘাড়ে খুব সজোড়ে একটা থাপ্পর বসিয়েছে। তারপর আমার আর কিছু মনে নাই। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি আমি আমার বিছানাতে শুয়ে আছি। চোখ খুলেই দেখলাম ঘর ভর্তি মানুষ। কেউ আমাকে বাতাস করছে আবার কেউ হাতে পায়ে গরম তেল ডলে দিচ্ছে।অনেকেই বলাবলি করছে ছেলেটা খুব বাঁচা বেঁচে গেছে।এখটু হলেই ঘাড় মটকে দিতো।অনেকেই বলছে এখানে নাকি এর আগে অনেকেই ভয় পেয়েছে।এরি মধ্যে একজন দৌড়ে গেছে কবিরাজ আনতে। করিবাজ মশাই আমাদের গ্রামের লোক।নাম দুলাল করিবাজ। বিরাট কবিরাজ। এক ফুঁ তে নাকি অনেক বড় বড় ভূতকে নাজেহাল করে দিয়েছে।আমি শুধু শুয়ে শুয়ে এসব কথা শুনছিলাম। কিন্তু কোন উত্তর দিতে পারি নাই। কারণ ঘাড়ের পিছনটা খুব যন্ত্রণা করছিলো। শুধু নির্বাক দৃষ্টিতে ওদের দিকে চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম।কথা বলার সাহসটুকু পাচ্ছিলাম না! ভয়েরছুট তখন-ও মনের মধ্যে ।এক সময় ঘরের ভিড়ঠেলে কবিরাজ ডুকলেন তার সাথে আরও একজন ছিলেন তার নাম জানি না এমনকি চিনিও না।পরে জানতে পারলাম সাথের জন নাকি তোলারাশি ভাগ্যের লোক। কবিরাজ সম্পর্কে আমার দাদা লাগে। তিনি সাথে একটা বড় ব্যাগ নিয়ে আসলেন।ব্যাগ খোলে নানা রকমেন গাছের ডাল ,হাড্ডি ও নারা রকম উপকরণ বের করতে লাগলেন। বুঝতে পারলাম ভূত তাড়ানোর বড় রকমের পায়তারা চলছে।এক সময় আমাকে সামনে নিয়ে বসলো বড় রকমের যজ্ঞ।কবিরাজ ধ্যাঁনে বসলেন। আর তুলারাশি লোকাও তার সঙ্গ দিচ্ছে।একসময় দেখলাম তোলারাশি লোকটার ওপর ভূত ভড় করেছে।তিনি একমনে বলতে লাগলেন আমি নাকি তার খাওয়ার সময় ডিস্ট্রাব করেছি।তাই তিনি আমাকে দৌড়ানি দিয়েছেন। আরও কতো কী। তখন করিবাজ ভূতকে(মানে তোলারাশি লোকটাকে)প্রশ্ন করলেন যেেআমাকে ছেড়ে দিতে । তখন ভূত বললেন যে,তাকে নাকি রাত বারোটার সময় ওই শ্বশানঘাটে আস্ত একটা পাঠা দিতে হবে।আমাদের পরিবারের অবস্থাও খারাপ ছিলো না। তাই একবাক্যে বাবা বললেন সমস্যা নাই আমরা দিয়ে দিবো। সেদিনের মতো ঘটনা ওখানেই শেষ। পরদিন আমার ভূতের ঘটনা সারা গ্রামময় একটা আলোচনার ইস্যু তৈরি করেছিলো। ঘটনাটা একে অন্যের কাছে শুনতে শুনতে হয়তো অন্যগ্রমের পৌছে গেছিলো।আমি তখনও প্রায় অসুস্থ। ঘাড়ের ব্যাথাটা এখনও কমে নাই। মনে হয় খুব জোরে থাপ্পর দিয়েছে ভূতে।সকালে আমার অনেক বন্ধু-ই আমাকে দেখতে আসছিলো। সকাল দশটার দিকে নাস্তা করে আমি বিছানায় শুয়ে আছি।এমন সময় আমার ভূতের কাহিনী শুনে আমাকে দেখতে আসলেন আমার গ্রামের এক বড় ভাই। ভাইয়ের নাম তুহিন ভূঁইয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন এবং শুনলাম অবসরে তিনি নাকি প্যারা-নরমাল এক্টিভিটিস নিয়ে কাজ করেন।আমি ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আছি দেখেই তিনি আমার সামনে একটা অভয়ের মুচকি হাসি দিলেন। তারপর ধিরে সুস্থে জিজ্ঞেস করলেন কী হয়েছিলো রে রিয়ান?আমি তাকে একে একে সব খুলে বললাম।সবটা শুনার পর তিনি বললেন শুন রিয়ান ভূত বলতে আসলে কিছুই নেই। আমারা আসলে ভূত বলতে যা বুঝি তার সবটাই আমাদের মনের ভুল।তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলের তুই কী ওই বাঁশের খুটিটার গোড়ার দিকে লাইট ধরেছিলি? আমি বললাম না। তখন তিনি বললেন হয়তো ওই খুটিটার গোড়ার দিকে কোন শিয়াল তার গা ঘঁসতেছিলো।তাই খুটিটা নড়ছিলো আর দুটো খুটি একসাথে লেগে এমন ঠক ঠক আওয়াজ হচ্ছিল।তখন আমি ভাইকে বললাম তাহলে ভাই ওই আলো আর নদীতে ঢিলেোছোড়া কে করেছিলো। তখন তিনি বললো যে,শুন বর্ষার এই সময়টাতে ব্যাঙের প্রজনন মৌসুম তাই নদীথেকে অনেক ব্যাঙ একসাথে রাতে বেলায় নদীর পড়ে এসে বসেথাকে হয়তো অন্যপাড়ের দিকে কোন শিয়ালের আনাগোনার ফলে ব্যাঙগুলো ভয় পেয়ে একে একে লাফ দিয়ে নদীতে পড়তেছিলো !তাই তুই ভয় পেয়ে মনে করেছিলি যে, কেউ মনে হয় ঢিলছোড়ছিলো। প্রায় সব প্রাণীর চোখ রাতের হালকা আলোতে জ্বলজ্বল করে। জ্বলজ্বল করার কারণ হচ্ছে চোখের মধ্যে থাকা একটা প্রতিফলকের আস্তরন। এই আস্তরনের নাম টেপটাম লুসিডাম। এটি চোখের অপটিক নার্ভ ও রেটিনার মাঝখানে থাকে।তুই যখন দৌড়তেছিলি তখন তর নিজের পায়ের সৃষ্ট শব্দটাই বার বার প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করছিলো তাই তর মনে হচ্ছিলো তর পিছনে কেউ দৌড়াচ্ছে।তুই ভয়েরছুটে এতোতাই আতঙ্কিত ছিলি যে,তর সামনের রাস্তার উচুনিচু কিছুই তর চোখে পরে নাই ।যার কারণে উচু কিছুতে তর পা আটকে মাটিরে পরে গেছিস আর প্রচন্ড ঝাকুনিতে ঘাড়ের পিছনের দিকে ব্যাথা পেয়েছিস।ভাইয়ের মুখে কথাগুলো শুনে কিছুটা বিশ্বাস হচ্ছিল আর কিছুটা অবিশ্বাস্ব লাগছিলো।তখন ভাই আমাকে বললো চল গিয়ে দেখে আসি ওই জায়গাটা। তখন আমি বললাম না ভাই আমি আর কখনও ওই দিকে যেতে চাই না। ভাই বললো আরে বোকা দিনের বেলা ভূতেরা ঘুমায় ।আর তুই তো একা যাবি না আমিও যাবো তর সাথে । দুজনে একসাথে গেলে উল্টা ভূত আমাদের দেখে ভয় পাবে।আমি তখন কিছুটা কষ্টে বিছানা থেকে উঠে ভাইয়ের সাথে রওনা দিলাম। আমি যেখানে জ্ঞান হারিয়েপরে ছিলাম সেখানে গিয়ে দেখলাম যে, ওখানের জায়গাটা রাস্তার পাশের এখটা ক্ষেত।যা রাস্তা থেকে অনেকটা নিচু। তারপর আরেকটু সামনের ধিকে গিয়ে দেখতে পেলাম যে,বাঁশের মাচাটার নিচে কোন বন্যজন্তুর বিষ্টা পরে রয়েছে। বাস্তবিক অর্থে ভূত বলতে কিছুই নেই । আমরা আমাদের মনের ভয় থেকে কাল্পনিক ভূতকে একটা বাস্তবের রূপ দেই!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অদ্ভূত বাচ্চা
→ অদ্ভূত : এক রহস্যময় জীব (শেষ পর্ব)
→ অদ্ভূত : এক রহস্যময় জীব (পর্ব ২)
→ অদ্ভূত : এক রহস্যময় জীব
→ অদ্ভূত ভালবাসা
→ অদ্ভূত সেই রাত
→ অদ্ভূত ভূতের গল্প!
→ অদ্ভূতুড়ে
→ অদ্ভূত! ভালোবাসা
→ অদ্ভূত রহস্য
→ অদ্ভূত ভালোবাসার কাহিনী
→ অদ্ভূত
→ অদ্ভূত!!!
→ মানুষ বড়ই অদ্ভূত...!!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...