বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঈদুল ফিতরের একাল সেকাল

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★ রোদেলা রিদা ‎★ (১৬৩ পয়েন্ট)



X আবু সোলায়মান প্রতি বছর দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ১লা শাওয়াল ঈদুল ফিতর। এটা বিশ্ব মুসলমান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব। ছোট বেলা দেখেছি ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই সবার মনে আনন্দের সাড়াপড়ে যেত, ঈদ আসছে ঈদ। গাঁয়ে গাঁয়ে মেয়ে মহলে ঘরবাড়ী লোপা পোঁচার ধুম পড়ে যেত। চলতো ছাইয়ের ক্ষার সোডা দিয়ে বাড়ীর যাবতীয় সুতী বস্ত্র গরম পানিতে সিদ্ধ করে ধোয়ার আয়োজন। সেই সাথে গমের ময়দায় হাতে বোনা সেমাই আর খই মুড়কি করার হিড়িক। যাঁতায় মুগ-মশুরীর ডাইল আর ঢেঁকিতে ধান ভেনে অগ্রিম চাল মজুদের প্রতিযোগীতা। এতো গেল মেয়ে মহলের কথা। পুরুষেরা? পুরুষেরা ঈদের আগেই যেতহাট খোলায়া মাড়োয়াড়ীর দোকানে। তেল, সাবান, সুরমা, আতর, কিনতো সদাগরী দোকানে। কিনতো চটি খড়ম। ছোটদের জন্য আর বড়দের জন্য চটি বগলাওলা খড়ম। ছোট ছেলে সন্তানের জন্য রংগীন কাগজে তৈরি রং বেরংয়ের বাহারি টুপি কিনে নিতো গলির দোকান থেকে। স্থানীয় হাট খোলাতেই সেরে নিত ঈদের বাজার। সাধারণ পরিবারের জন্য একশত টাকা ঈদের খরচ ঢ়ের। পাঁচ শত টাকার তেজি বড় এঁড়ে কিংবা আশি টাকার বড় খাসি গ্রামে বাটী লাগালে কে খায় কত মাংস। আনাজতরকারী দুধ, কলাতো প্রায় বাড়ীতে আছেই। তা ছাড়া বিলে ঝিলে ছোট বড় মাছেরও অভাব নেই। সব মিলে ঈদের দিন না আসতেই সবার মনে লেগে যেত ঈদের আমেজ। ঈদের দিন কাক ডাকা ভোরে উঠেই প্রাতঃ কাজ সেরে নতুন সাবানে গাও মাথা ঘষে গোসল। তারপর নতুন জামা কাপড় পড়ে চটি খড়ম পাঁয়ে দিয়ে বেশ ফিটফাট। চোখে সুরমা, নাকে আতর আর মাথায় কাগজের রংগীন টুপি। শিশু কালের সেই মধুময় স্মৃতি আজো মনে জাগায় রংগীন স্বপ্ন। বড়রা লুঙ্গী-পাঞ্জাবী বা ঢোলা পাজামা, তিন পকেট ওয়ালা সার্ট পরতেন। পাঁয়ে দিতেন চটি বা বগলা ওয়ালা খড়ম। কারো কারো পাঁয়ে পাম সু। মোটরের টায়ারের স্যান্ডেল। আমাদের ঈদগাহ মাঠে যাবার প্রস্তুতির ফাঁকে মেয়েরা তেলে ভাজা পিঠা, খইয়ের দলা দলা মুড়কি আর হাতে বোনা সেমাই দুধ, গুড় আর কোরানো নারিকেল দিয়ে পাক করা শেষ। তার পর গোসল সেরে নতুন কাপড় পড়ে নাস্তা পরিবেশন। নয়া বৌ সেজে গুজে ময়-মুরব্বীদের পাঁয়ে কদম বুচিতে ব্যস্ত। নানী দাদী লাল মাটি দিয়ে মাথা ঘষে দো পাট্টা কাপড় পরে ফুর ফুরে মেজাজে তদারকী করছে সমস্ত পরিবেশ। ইতোমধ্যে নাস্তা ভোজ শেষ করে সবাই এক সাথে ঈদগাহ মাঠে যাবার পালা। সেও এক অপূর্ব দৃশ্য। সবার গায়ে রঙ বেরঙ এর সাজ। মাথায় হরেক রকম টুপি, পাঁয়ে চটি ও বগলাওয়ালা খড়ম। সবার মুখেচোখে আনন্দের ছাপ। হাস্য প্রশন্ন বদন। ধনী গরীব , আবাল বৃদ্ধের এক বৈচিত্র্যময় কাফেলা তকবীর দিতে দিতে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে হাজির। নামাজ শেষে অনুরুপ ভাবে তকবীর দিতে দিতে বাড়ী ফিরে খাওয়া, খাওয়া আর খাওয়া। ঈদের দিন কারো মনে দুঃখ দৈন্যের কোন বালাই নেই। ফতে বা ঈদের পরে কয়েক দিন পর্যন্ত চলতো আড্ডা। ঈদ আড্ডা। বাড়ীর আঙ্গিনা খুলি, বা খানকায় দোতরা, সারিন্দার গান বসতো। বসতো পুঁথির আসর তাসের আড্ডা। গুয়া, পান শাল বা টেন্ডু পাতার বিড়ি আর ভূড়ির আগুনে হুকা। সেসব আসর গুলজার করে রাখতো। এতো গেল সে কালের কথা। একালে? একালে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে মানুষের রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। সবার মনে আভিজাত্যের জৌলুশ। ঈদের দু’একদিন আগে মেয়ে মহলে ঘর লেপা পোঁচা, কাপড় চোপড় ধোয়া মোছা ঠিকই আছে। তবে ছাই ক্ষার, সোডার পরিবর্তে আজ ব্যবহার হচ্ছে সাবান, হুইল পাউডার। বাড়ীতে মুড়কি করা খইয়ের পরিবর্তে মুড়ি। হাতে বোনা গমের ময়দার সেমাই এর পরিবর্তে মেশিনে তৈরি ডালডা, ঘি, সয়াবিন তেলে ভাজা লাচ্ছা সেমাই। গাভীর দুধের আক্রা হেতু বিদেশী মেশিনে তৈরি গুড়া দুধ ইত্যাদি। যাঁতা নেই, তাই মেশিনে ভাঙা ডাইল। ইদানিং ঈদ মানে সাধারণ দরিদ্র পরিবারে আতংক। স্ত্রীর ঘ্যানরঘ্যানর। ছোট ছেলে মেয়েদের প্যান প্যানানী। কর্তা বেচারীর পোয়াবার। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ছায়া কিনিতো শাড়ী হয়না, শাড়ী কিনিতো বøাউজ নাই। ছেলে মেয়েদের নতুন জামার পরিবর্তে নিলামীশার্ট প্যান্ট কামিজ, পাজামা। কাগজের রংগীন টুপির রশিক নাই বলে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে বাজার থেকে। গৃহ কর্তা পুরাতন লুঙ্গী সার্টেই নমঃ। ঈদের আগের রাতটা টেনশনে ভুগে ভুগে বিনিদ্র অলস দেহটা কাক ডাকা ভোরে উঠতে চায় না। যাহোক তবুও সমাজ রক্ষা করে চলতে হবে। অলস দেহটা টেনে টুনে তুলে দেখি স্ত্রীর মুখ ঘুদুম পেচা। ছেলে মেয়েদের চোখে সুরমা দিচ্ছেতো আতরনেই। যাহোক আল্লাহ আল্লাহ করে, হালকা নাস্তা সেরে টেনশন মাথায় নিয়ে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখি নামাজ শুরু। তবে শহর জীবনের কথা আলাদা। শুধু শহরে কেন? শহরে জীবনের হাওয়া বর্তমানে গ্রামগঞ্জের কতিপয় স্বচ্ছল পরিবারেও প্রবাহিত হচ্ছে। ঈদের দু’চারদিন আগে থেকে শহরের বিপনী বিতান গুলোতে অভিজাত মহিলাদের পদচারনা ও কল-কাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে ঈদ মার্কেট। দামী শাড়ী, থ্রি-পিচ, দামী জুতো, বিদেশী প্রসাধনী সামগ্রী কেনার প্রতিযোগীতায় মেতে ওঠে তারা। ফ্রিজে তো দামী খাবার আছেই। তাছাড়াও ঈদ উপলক্ষ্যে বড় মাছ, গরু খাসির মাংস এর হরেক রকম রান্না। ঈদের দিনে তাদের বাস ভবনে কোর্মা, কালিয়া, রাবর্ড়ী, ক্ষীর এর সুগন্ধি আমেজ। তাদের পরিত্যাক্ত খাবার ঈদের দিনেও নর্দমাতে কুড়ে খায় কাক কুকুর ও টোকাই। তার পরেও দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি হেতু গ্রাম থেকে শুরু করে শহুরে জীবনটা বর্তমানে ঈদ বা কোন উৎসবের দিন গুলোতে কুল রাখি না শ্যাম রাখি অবস্থা। ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। তবে সুখের কথা এই যে, ঈদের দিন বা পরেও ধনী গরীব শহর পল্লীর প্রায় সবাই পরম তৃপ্তি লাভ করতে চায় আকাশসংস্কৃতিতে। রিমোট টিপলেই কত চ্যানেল। পপ্গান ব্যান্ড শো, নীল ছবি আরো কত কী? সবার চোখ টিভি পর্দার দিকে। ঘরে না থাকলে দুটাকা খরচ করলে বাইরে অভাব নেই এ সবের। দেশীয় সংস্কৃতির মাথায় লাখি মেরে বিদেশীসংস্কৃতির পাঁয়ে সালাম। বুকে চাপা দহন জ্বালা, মুখে বিরল হাসিতে জানাই সবারে ঈদ মোবারক-ঈদ মোবারক


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...