বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইশিতার মা রাবেয়া বেগম একজন ধার্মিক পরিবারের মেয়ে। মুলত ইশিতার বাবা বিয়েতে প্রথমত রাজি ছিলেন না। কারন ছেলে স্টুডেন্ট।চাকরি করবে কি!
পড়াশুনা শেষ করতে এখনও চারবছর লাগবে। কিন্তু রাবেয়া বেগমের কথা হলো, টাকা পয়সা, চাকরি বাকরি সুখ দিতে পারেনা যদি ছেলে দ্বীনদার না হয়। এমন বহু পরিবার তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন ছেলে বড় চাকরি করে, টাকা পয়সায় ঘাটতি নেই। কিন্তু ছেলের চরিত্রে সমস্যা।ফলে সংসারে অশান্তি।একসময় বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে যায়। আর এসবের পেছনে মূল কারন দ্বীনদারিত্ব না থাকা।
প্রয়োজনে জামাইর চাকরি হওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়ে তাদের কাছেই থাকবে।
এসব শুনে ইশিতার বাবা আর অমত করেননি।তাছাড়া তাদের আধুনিকা মেয়েকে এতোদিন পর্দার কথা, নামাজের কথা
বলে লাইনে আনতে পারেননি।হঠাৎ সেই হুজুর ছেলেটার সংস্পর্শে এসে সে এখন পর্দা করে। নিয়মিত নামাজ পড়ে। কুরআন পড়ার চেষ্টা করে।
আবদুল্লাহর বাবা মা হলরুমে বসে আছেন। ইতোমধ্যে চা নাস্তা পর্ব শেষ হয়েছে।ইশিতা এখন প্রায় সুস্থ।
ইশিতার মা আবদুল্লাহর মাকে লক্ষ্য করে বললেন,
-বেয়ান সাহেবা,বিয়ে যখন হয়ে গেছে তখন এতো আনুষ্ঠানিকতা কিসের?মেয়ে এখন আপনাদের। যখন ইচ্ছে নিবেন।
ইশিতার বাবাঃ তা ভালো দেখায়না ইশিতার মা।কাবিননামা এখনও রেজিস্ট্রি করা হয়নি।
আত্মীয় স্বজনদের একটু দাওয়াত করে না খাওয়ালে কেমন দেখায়?
ইশিতার মাঃ আপনি যেটা ভালো মনে করেন করুন। তবে লোক দেখানো কিছু করার দরকার নেই।
এ জাতীয় আলাপ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো, আগামী পরশু আনুষ্ঠানিকতা হবে মেয়ের বাপের বাড়ীতে।বর পক্ষের পঞ্চাশ জন আসবে।দুপুরে ভোজ শেষে কনে শশুরবাড়ি যাবে।
আবদুল্লাহ বাবা মা বাসায় ফেরার পর আবদুল্লাহ জিগ্যাসা করলো,
-কি সিদ্ধান্ত হলো মা?
আবদুল্লাহর মা সব জানালেন। আবদুল্লাহ যখন জানলো যে তার বাবা পঞ্চাশ জন লোক নিয়ে যাবেন তার শশুরবাড়ি! এটা শুনে আবদুল্লাহ আপত্তি জানালো।
আবদুল্লাহঃ বাবা! এটা তুমি কি করলে! এতোগুলো লোক যাবে বরযাত্রী হিসেবে!! এটা তো মেয়ের বাপের উপর জুলুম ছাড়া আর কিছু নয় বাবা। তাছাড়া এভাবে বরযাত্রী যাওয়ার কোন নিয়ম ইসলামে নেই।
বাবাঃ কিন্তু আত্মীয় স্বজনদের না নিয়ে গেলে তারা সমালোচনা করবে যে! বদনাম করে বেড়াবে।
আবদুল্লাহঃ বাবা! আমরা ইসলামী রীতিমতো সবকিছু করবো। এতে কে কি বললো তাতে কিছু যায় আসেনা।
বরং আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করে আমাদের বাসায় সুন্নতী ওলীমার আয়োজন করবো।
আবদুল্লাহর বাবাঃ ঠিক আছে যেটা ভাল হয় করো বাবা। আমার আপত্তি নেই।
শশুরের অনুমতিক্রমে আবদুল্লাহর সাথে তার বাবা, মামা,কাকা সহ পাঁচ ছয় জন লোক এসেছে মাত্র।
খাওয়া দাওয়ার পর আবদুল্লাহর শশুরপক্ষের কিছু আত্মীয় সহ আবদুল্লাহর সাথে আসা সবার সাথে হলরুমে বসে আলোচনা শুরু করলেন।
প্রথমে কাবিননামায় মহরানার বিষয়টা উপস্থাপন করা হল।
সরকারি কাজি সাহেব উপস্থিত হয়েছেন আগেই।
কাজি সাহেব উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন,
-জী, মহরানা কত ধরবেন আপনারা বলুন।
ইশিতার মামাঃ ইশিতা মামনি আমাদের একমাত্র ভাগনি, আমি পাঁচ লক্ষ টাকা মহরানা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।
আবদুল্লাহ এতোক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলো। সে দেখলো ইশিতার মামার কথায় শশুড়পক্ষের সবাই সায় দিচ্ছে। আর কাজি সাহেব বরপক্ষের কারও মতামত না নিয়ে তা কাবিননামায় লিখতে যাবেন, এমন সময় আবদুল্লাহ মোলায়েম কন্ঠে বলে উঠলো,
প্লিজ! দয়া করে মহরানা নির্ধারণের পূর্বে আমার কিছু কথা আছে।"
আবদুল্লাহর কথায় সবাই নড়েচড়ে বসলেন। সবার নজর এখন আবদুল্লাহর দিকে।
আবদুল্লাহ দাড়িয়ে বলতে শুরু করলোঃ
দেখুন, মহরানা হল স্ত্রীর হক। এটা আদায় করা প্রতিটি স্বামীর উপর ফরয।আর মহরানা নির্ধারণ করা উচিত স্বামীর সামর্থ্যের দিকে লক্ষ্য করে।দেখুন বর্তমানে স্বামীর সামর্থ্যানুসারে যেমন মহর নির্ধারণ করা হয়না, তেমনি অনেক স্বামীদের মহর পরিশোধ করারও নিয়ত থাকেনা অথচ এক হাদীসে আছে "যে স্বামীর মনে স্ত্রীর মোহর আদায়ের ইচ্ছাটুকুও নেই হাদীস শরীফে তাকে বলা হয়েছে ‘ব্যাভিচারী’।কেয়ামতের দিন এমন স্বামী ব্যাভিচারীদের কাতারে উঠবে।
আরো বলা হয়েছে" সে বিয়ে বরকতময়, যে বিয়েতে খরচ কম হয়।"(আল হাদীস)
এই পর্যন্ত বলে আবদুল্লাহ বসে পড়লো তার আসনে।
উপস্থিত সবাই আবদুল্লাহর ইসলামিক নলেজ দেখে অবাক যেমন হলো তেমনি খুশিও হলো।
ইশিতার বাবা বললেনঃ
-আমার জামাই বাবার সাথে আমি একমত, তা জামাই বাবাজী তুমিই বলো কত ধরলে তোমার জন্য সহজ হয়।
আবদুল্লাহ ধীরে সুস্থে বললোঃ
-জী পঞ্চাশ হাজার।বিশ হাজার নগদ দিয়ে দিচ্ছি।
ইশিতার মামাঃ
-আমরা জানি তুমি কোন চাকরি করোনা। বাবার খরচে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছো, তা এ টাকাটা কিভাবে জোগাড় করলেন?
আবদুল্লাহ একটু লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে বললোঃ আসলে আমি পড়াশোনার ফাঁকে কিছু টিউশনি করাই।মহরানা আদায়ের নিয়তে এ টাকাটা জমিয়েছি।
আবদুল্লাহর এ কথায় সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে ধন্যবাদ দিতে লাগলো আবদুল্লাহ ও তার বাবাকে।খুশিতে ইশিতার বাবা উঠে
আবদুল্লাহর বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,আপনার এমন সোনার টুকরা ছেলেকে জামাই হিসেবে
জামাই হিসেবে পেয়ে সতিই আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করছি।"
-"ইশিতা মামনিও আমাদের সবার মন জয় করেছে" বলে আবদুল্লাহর বাবা হাসতে লাগলেন।
সবাই যোগ দিলেন সেই হাসিতে।
এরপর আলোচনা উঠলো বিয়েতে মেয়ের সাথে কি দেয়া হবে না হবে এই বিষয়ে।এদিতে ভিতরে ভিতরে আবদুল্লাহ ছটফট করছে কখন ইশিতার সাথে দেখা করবে। ইশিতাও সেজে গুজে বসে আছে তার রুমে। দুটি হৃদয় অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে। কিন্তু এই লোকগুলো কেনো যে দেরী করতাছে!!
আবদুল্লাহর কাকা জনাব শফিক সাহেব ইশিতার বাবাকে লক্ষ্য করে বললেন,
দেখুন, আমরা যৌতুক দেয়া নেয়া পছন্দ করিনা। এটা ইসলামেও নাই। যৌতুক দেয়া নেয়া হারাম। তবে সামাজিকভাবে যেটা চলে সেটা দিতে নিশ্চয়ই অমত করবেন না!
ইশিতার বাবাঃ কি যে বলেন বেয়াই সাহেব! আমার একমাত্র মেয়ে! তাকে দেবোনা তো আর কাকে দেবো? বলুন কি চাই?মেয়ের সুখের জন্য আমি সব করতে পারি।
শফিক সাহেবঃ তেমন কিছুনা,ঘরের টুকটাক আসবাবপত্র, এই ধরুন, খাট, আলমিরা, ফ্রিজ,সোফাসেট আর জামাইয়ের আসা যাওয়ার সুবিধার জন্য একটা মোটরসাইকেল! এই আর কী?
আসবাবপত্রের ফিরিস্তি শুনে ইশিতার বাবা একটু মনক্ষূন্য হলেও মুখোভাবে তা প্রকাশ করলেন না। মুখে হাসিটেনে বললেনঃ আরে এতো সামান্য জিনিস! দিতে আমার আপত্তি নেই।পেয়ে যাবেন!
আবদুল্লাহ এতোক্ষণ চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলো।এবার সে দাড়িয়ে পড়লো।
সবাইকে লক্ষ্য করে বললো, যদি অনুমতি দেন তো অধম কিছু কথা বলতে চাই।
সবাই মাথা দুলিয়ে সায় দিয়ে নড়েচড়ে বসলেন।
এদিকে ইশিতা দেখলো,তার স্বামী এখনও আসছেনা কেনো! ধ্যাত!
কি এমন জরুরী আলাপ চলছে সবাই মিলে!! জানার জন্য ইশিতার দরজার পাশে এসে দাড়ালো। দরজায় দামী ভেলভেটের পর্দা ঝুলছে।তার ফাঁক দিয়ে ইশিতা দেখলো এক তেজোদীপ্ত যুবক দাড়িয়ে কি যেন বলছে, সবাই চুপচাপ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে তার কথা। যুবকটি আর কেহ নয়, তার প্রানাধিক স্বামী আবদুল্লাহ। ইশিতা কান পেতে শুনার চেষ্টা করলো,ইথারে ভেসে এলো আবদুল্লাহ কন্ঠ...
"দেখুন, ইসলামে যৌতুক নেয়া দেয়া দুটোকেই হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু এখন সমাজে সামাজিকতার দোহাই দিয়ে যা নেয়া হচ্ছে সেটা যৌতুকই।শুধু নাম চ্যান্জ। কোন পার্থক্য নেই।
বর্তমানে আমাদের সমাজে যৌতুক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিয়ের সময় ঘোষিত বা অঘোষিত শর্ত হিসেবে মেয়ে পক্ষের নিকট থেকে ছেলে পক্ষের যৌতুক আদায়ের এক নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা চলছে। ছেলেরা টাকার বিনিময়ে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে বিয়ের বাজারে কুরবানীর পশুর দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে জামাই রূপী লোভী নরপশুদের আবদার পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক বিবাহযোগ্য মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। অনেক দরিদ্র বাবা তাদের মেয়েদের সুখের আশায় ভিটে-মাটি বিক্রি করেও জামাইয়ের উদর পূর্তি করতে না পেরে আত্মহত্যা করছে। যৌতুকলোভী স্বামীর নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে কত নারীকে তার কোন ইয়ত্তা নেই। অনেককে বিসর্জন দিতে হচ্ছে প্রাণ।যৌতুকের সর্বনাশা ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাচ্ছে কতো সোনার সংসার।
প্রচলিত যৌতুক প্রথাকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। এক আলেমের কাছ থেকে শুনেছি
“বিয়ে ঠিক করার সময় পাত্রের পক্ষ হতে পাত্রী পক্ষের নিকট থেকে কোন জিনিসের দাবি করা এবং বিয়ের জন্য উক্ত দাবি পূরণকে শর্ত রাখা শরী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম ও অবৈধ। জিনিসপত্রের মাধ্যমে, নগদ টাকার মাধ্যমে কিংবা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মাধ্যমে হোক। এ ধরনের শর্ত আরোপকারী ব্যক্তি বা তার সহযোগীরা জঘন্যতম পাপী ও কবীরা গুনাহগার। পাত্রী পক্ষ থেকেও আগে বেড়ে পাত্র পক্ষকে কিছু দেওয়ার ওয়াদা করা বা প্রলোভন দেখানোও শরী‘আতের দৃষ্টিতে অন্যায়।’’ তিনি আরো বলেন, “বিয়েতে দেওয়া-নেওয়ার এই প্রথা যার নাম পণ, ডিমান্ড, প্রেজেন্টেশন, যৌতুক যাই-ই রাখা হৌক না কেন, ইসলামে তা হারাম ও অবৈধ। এ থেকে বেঁচে থাকা একান্তভাবে অপরিহার্য।’’
এই পর্যন্ত বলে আবদুল্লাহ একটু থামলো,সবাই মন্ত্রমুগ্ধের শুনে যাচ্ছে।
আবদুল্লাহর প্রতিটি কথা যেন তাদের ঘুমন্ত বিবেকের দরজায় কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।
স্বামীর এমন সাহসী তেজোদীপ্ত বক্তব্য শুনে আনন্দে দু চোখে পানি এসে গেলো ইশিতার। অন্তরে এক অনাবিল পুলক অনুভব করলো!
মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলো ,এমন পবিত্র ও নির্লোভ অন্তরের একটা মানুষকে আল্লাহ্ পাক তার ভাগ্যে রেখেছেন।
ইশিতার বাবা দাড়িয়ে গেলেন,এগিয়ে এসে আবদুল্লাহকে সস্নেহে জড়িয়ে ধরে আনন্দাশ্রু মিশ্রিত কন্ঠে বললেন,জামাই বাবাজী তুমি সমাজের সঠিক চিত্রটাই তুলে ধরেছো। আমাদের ভুল ধরিয়ে দিয়েছো। আমি স্বেচ্ছায়ই খুশি হয়ে আমার মেয়ে ও জামাইকে সব দেবো।
আবদুল্লাহ আবার বলতে শুরু করলোঃ শশুর আব্বু! দয়া করে বেয়াদবী নিবেন না। আমি মনে করি বর্তমানে কনে উঠিয়ে নেয়ার সময় শশুরপক্ষ স্বেচ্ছায় খুশি হয়ে এসব দিলেও তা হারাম না হলেও ঠিক নয়। কারন এর দ্বারা একটা প্রথা ও রসম চালুর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়।
ফলে অনেক গরীব মেয়ের বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় যে, অমুক মেয়ের বাপ স্বেচ্ছায় এই এই জিনিস দিয়েছে আপনাদেরও দিতে হবে।
এজন্য এখন নয়।আপনার একান্ত ইচ্ছে হলে পরবর্তীতে গোপনে, ডাকডোল না পিটিয়ে, মেয়েকে যা খুশি দিতে পারেন, ইসলাম সেটাকে নিষেধ করেনা। কিন্তু, মানুষে কী বলবে!! সমাজের কি বলবে! সমাজের মুখ রক্ষার্থে দিলে তা নাযায়েজ হবে।
এইপর্যন্ত বলে আবদুল্লাহ বসে পড়লো।সবাই খুশি হয়ে আবদুল্লাহর সাথে একমত পোষণ করলেন। প্রতিজ্ঞা করলেন, সমাজের সর্বনাশা যৌতুকের নামে যে কুপ্রথা চালু হয়েছে তা বন্ধ করতে হবে।
এরপর হলরুমে সবাই বিভিন্ন খোশগল্পে মেতে উঠলো।বাহিরে গেটেরবাহিরে গেটের কাছে একটা বড় মাইক্রোবাস সাজানো হচ্ছে ফুলে ফুলে।বুঝাই যাচ্ছে কনে বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে। এই সুযোগে আবদুল্লাহ ধীর পায়ে ইশিতার রুমের সামনে হাজির।
"আসসালামু আলাইকুম "
আমি কি ভিতরে আসতে পারি?
-ওয়ালাইকুমুস সালাম, জী আসুন!
স্ত্রীর রুমে আসতে স্বামীর অনুমতির প্রয়োজন হয়না "
বলে ইশিতা খাটে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে রইলো।
আবদুল্লাহ রুমে ঢুকে দেখলো
ইশিতা মুখে কৃত্রিম অভিমানের ভাব ফুটিয়ে বসে আছে।
মনে মনে একটু হাসলো সে।আসতে লেট হওয়ার কারনে মুখভার করে আছে তার আদরের বধু।
আবদুল্লাহ ভাবে,
এই অভিমান আছে বলেই নারী জাতি এতো সুন্দর।বিশেষকরে স্ত্রীর মন অনেক স্বামীই বুঝার চেষ্টা করেনা, ফলে স্ত্রী কোন কারনে অভিমান করলে তা না ভাঙিয়ে উল্টো আরো রাগ দেখিয়ে স্বামিত্ব ফলানোর চেষ্টা করে। ফলে শুরু হয় অশান্তি।মনোমালিন্য।এমনকি তা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়।
আবদুল্লাহ পকেট থেকে একটা গোলাপ ফুলের কলি বের করে। আসার সময় কিনেছিলো দোকান থেকে। অনেক্ষন পকেটে থাকায় একটু শুকিয়ে গেছে। যাক চলবে তবু।আবদুল্লাহ ইশিতার সামনে এসে তার ডানহাতটা টেনে নিলো কাছে।হাতের উল্টো পিঠে আস্তে একটা কিস দিয়ে ফুলটা বাড়িয়ে ধরলো ইশিতার চোখের সামনে!
মুখে বললোঃ I LOVE YOU
স্বামীর এই আচরণে অভিমান মুহুর্তেই হাওয়া হয়ে গেলো ইশিতার। ইশিতা চেয়ে দেখলো, তার স্বামী মুচকি হাসছে! অপূর্ব সুন্দর নূরানী সেই হাসি!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now