বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাহস থাকলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ১৩ বার বলুনতো এই কথা

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shadin jion (০ পয়েন্ট)

X পশ্চিমের টিন এজ মেয়েদের এক বহু পুরনো ফুর্তি ‘স্লাম্বার পার্টি’। বাবা-মা-র কাছ থেকে একরাতের ছুটি নিয়ে মেয়েরা সমবেত হয় কোনও এক বন্ধুর ফাঁকা বাড়িতে। আর সেখানেই তারা রাত কাটায় আড্ডা মেরে। নেহাতই নিরীহ এবং অমল ব্যাপার। বাবা-মা-ও মেয়েদের এই নিশিযাপনে উৎসাহ দেন। এই প্রথা দীর্ঘকাল ধরেই ইউরোপে চলে আসছে। তাঁদের কাছে ‘স্লাম্বার পার্টি’ মেয়ের বড় হয়ে ওঠার একটা ধাপ। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা যতটা নিরীহ বলে মনে হয়, সব স্লাম্বার পার্টি তেমনটা নয়। টিন এজ মেয়েরা বয়ঃসন্ধির কৌতূহলে এমন কিছু কাণ্ড ঘটায়, যা প্রবল বিপদ ডেকে আনে যে তখন তা থেকে মুক্তি পাওয়া দুরূহ হয়ে ওঠে। অনেক সময়েই মেয়েরা এই রাত- কাটানোর খেলায় না জেনেবুঝেই প্র্যাকটিস করতে শুরু করে কিছু নিষিদ্ধ খেলা, যার মধ্যে ‘সামনিং অফ ব্লাডি মেরি’ অন্যতম। ব্লাডি মেরি-র আহ্বান পশ্চিমের এক অতি পুরনো ব্ল্যাক ম্যাজিক গেম। এই গেম-এ অন্ধকার বাথরুমে এটা মোমবাতি জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ১৩ বার মন-প্রাণ দিয়ে উচ্চারণ করতে হয় ‘ব্লাডি মেরি-ব্লাডি মেরি-ব্লাডি মেরি’। উচ্চারণ করতে হয় ফিস ফিস করে। তার পরে নাকি আয়নায় ফুটে ওঠে এক বিকৃত নারী-অবয়ব। এই পর্যন্ত গল্প সকলেরই জানা। কিন্তু তার পরে কী হয়? প্যারানর্ম্যাল-বিদরা অনেকেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে ব্লাডি মেরি-র পজেশনের কথা লিখেছেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল তাঁর একটি গল্পে ব্লাডি মেরি পজেশনের এক ভয়াবহ বর্ণনা রেখেছেন। সেখানে আয়না-নগরীর বসিন্দা ব্লাডি মেরি তার আহ্বায়িকাকে গ্রাস করে এবং সেই বাড়িতে ঘটতে থাকে ভয়ঙ্কর সব ঘটনা। ব্লাডি মেরি পজেশন-কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় বেশ কিছু হলিউডি ছবি। ১৯৮৮- এর ‘বিটলজুস’, ২০০৬-এর ‘ব্লাডি মেরি’ তার মধ্যে অন্যতম। কিংবদন্তি অনুযায়ী, ব্লাডি মেরি আসলে নাকি ইংল্যান্ডের রাজকন্যা মেরি টিউডর, রাজা স্তম হেনরির কন্য। তিনি প্রথমে ছিলেন ফরাসি সম্রাট দ্বাদশ লুইয়ের পত্নী। পরে তিনি সাফোকের ডিউককে বিয়ে করেন। তাঁর এই দ্বিতীয় বিবাহ নিয়ে ইংল্যান্ডকে বিস্তর সমস্যা পোহাতে হয়। কিন্তু তিনি কেন ‘ব্লাডি মেরি’, সে বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্যারানর্মাল-ওয়ালাদের ঝুলিতে নেই। ব্লাডি মেরি যিনিই হন না কেন, তাঁর এই মিথের পিছনে কি কোনও সত্যতা রয়েছে? পশ্চিমের অনেক মহিলাই দাবি করেন, কম বয়সে তাঁরা ব্লাডিমেরি রিচুয়াল প্র্যাকটিস করেছেন। অনেকেই জানান, মোমের আলোয় বাথরুমের আয়নায় তাঁরা স্বচক্ষে দেখেছেন ফ্যাকাশে, বিকৃত নারী-অবয়ব ফুটে উঠতে। মনোবিদরা অবশ্য এর অন্য ব্যাখ্যা দেন। ইতালির মনোবিদ জিওভানি ক্যাপুতো এমন ৫০জন মেয়ের উপরে সমীক্ষা চালান, যারা ব্লাডি মেরিকে প্রত্যক্ষ করেছে বলে দাবি করে। তাদের তিনি আয়নার দিকে ১০ মিনিট একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে বলেন। তাদের বেশির ভাগই হয় নিজেদের মুখকে বিকৃত অবস্থায় দেখে, নয়তো কোনও অপরিচিত বিকৃত মুখচ্ছবি আয়নায় ফুটে উঠতে দেখে। কাপুতো জানান, চোখের নিউরন-ঘটিত সাময়িক সমস্যাই এই ‘বিকৃতি’-র জন্ম দেয়। তা ছাড়া, টিন এজ মেয়েদের কল্পনাপ্রবণতা তো রয়েছেই। কিন্তু প্যারানর্মালবাদীরা এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নন। তাঁরা আজও বলে য়ান এক অতৃপ্ত আত্মার কথা, আয়নার ভিতরে কোনও রহস্য নগরীর বাসিন্দা। যে বেরিয় আসতে চায় তার বন্দিত্ব থেকে। তাকে জাগাতে কেবল প্রয়োজন আবছায়া আলো, বাথরুমের ঝাপসা আয়না আর একাগ্র চিত্তে ১৩ বার ডাক— ‘ব্লাডি মেরি... ব্লাডি মেরি... ব্লাডি মেরি...’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now