বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৯]

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:হৃদয় পরের পর্বের পর থেকে,,, কেউ একজন চিৎকার করে বলল, "বাঁদুড় আলোতে কিছু দেখতে পায় না।দ্রুত আমাদের চারপাশ ঘিরে মশাল জ্বালাও,আর সবাইকে তার ভিতর থাকতে বল।" সবাই খুব দ্রুত একটা মশালের বৃত্ত বানালাম।আর তার ভিতর সবাই অবস্থান নিলাম।তবে মশাল জ্বালানোর আগেই বেশকিছু ভ্যাম্পায়ার বাঁদুড় ঢুকে গেছে মশালের ভিতর।এগুলো এখন কিছু না দেখতে পেয়ে এদিক ওদিক উড়াউড়ি করতে শুরু করল।বেশ কয়েকটা মশালোর আগুণে পুড়েও গেল।এদিকে বাহিরে আছে কুকুর।কুকুরগুলোর ঘেউঘেউ শব্দে চারিপাশ ভরে গেছে।একদিকে কুকুরের ঘেউঘেউ, আরেকদিকে আমাদের কোলাহল,আর মাথার উপরে আছে বাঁদুড়। সবকিছুর শব্দে কারও নির্দেশন বা কথা বোঝা যাচ্ছে না।এখন এলোমেলো গুলি চললে আমাদের গায়েও লাগতে পারে গুলি।তাই খুব দ্রুত একটা বৃত্ত বানিয়ে নিলাম ছেলেদের,একজনের পাশে আরেকজন।এরকম করে একটা মোটামোটি আকারের বৃত্ত হয়ে গেল।আর ভিতরে রয়ে গেল মেয়েরা।তারা অনেকেই ভয়ে চিৎকার করছে।এদিকে কুকুরগুলোও বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠল, তাই মি.A চিৎকার করে বলল,,, "সবাই গুলি শুরু কর"। আমরা কোনো দক্ষ সেনা না,আবার আমাদের আগের কখনও বন্দুক চালানোর অভিজ্ঞতাও নাই।অ্যামাজনে আসার আগে সব ছেলে মেয়েই মোটামোটি শুটিং প্র্যাকটিস করেছি।এখানে এসেই বেশ কয়েকবার গুলি করতে হয়েছে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে।এবার মি.A এর নির্দেশনায় শুরু হলো গুলি করা। কুকুরগুলোও গুলি খেয়ে হিংস্র হয়ে গেল বেশি পরিমাণে, ফলে গুলি শুরু করতে হলো।আমাদের সবার হাতেই হয় বন্দুক না হয় রাইফেল জাতীয় কিছু আগ্নেয়াস্ত্র। ফলে আমাদের গুলির পরিমাণের একটা লিমিট থাকে,তাই অযথা গুলি না করে লক্ষ্য ঠিক করে গুলি করছি,আর আশেপাশে অন্ধকার থাকায় কুকুরদের চোখগুলো জ্বলজ্বল করছিল যার জন্য কুকুরদের অবস্থান নিশ্চিত।আমরা গুলি করছি,কুকুরগুলো তখনও আমাদের চারপাশে দৌড়াচ্ছে,বিভিন্ন হিংস্র আওয়াজ করছে।আর যেসব কুকুরগুলোর শরীরে গুলি বিঁধেছ তারা করুণ কন্ঠে চিৎকার করে শুয়ে পড়ছে।এদিকে গুলি করতে করতে আমার বন্দুকের বুলেট শেষ হয়ে গেল,আর আমার পকেটেও কোনো বুলেট নাই।এই রকম ভয়াবহ মূহূর্তে বুলেট ছাড়া দাড়িয়ে থাকা যাবে না,তাই দ্রুত বুলেট আনতে ভিতরে অর্থাৎ মেয়েদের বৃত্তের ভিতর ঢুকব বলে ঠিক করলাম। আমার একপাশে মি.A আর আরেকপাশে ফারহান।আমি দুজনকেই বললাম,,, " আমার বুলেট শেষ হয়ে গেছে,ভিতরে গিয়ে নিয়ে আসতে যাচ্ছি,আপনারা এদিকটা সবটা সামাল দিন।" আমার কথার জবাবে ফারহান বলল,,, "আচ্ছা আপনি যান,,,আমরা এদিকটা দেখছি।" আর মি.A বলল,,, "তুমি যেহেতু ভিতরে যাচ্ছ তাহলে ভিতরে অস্ত্রগুলোর পাশে Mr. A নামে লেখা একটা ব্যাগ পাবে,সেটা নিয়ে এসো।" আমি মি.A কে কিছু বলতে যাব এসময় লক্ষ করলাম ফারহানের ঘাড়ে কালো তরল পদার্থ অনেকটা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে,আর একটা ছোট বাঁদুড় সেখানে বসে আছে।আমার আর বোঝতে বাকি রইল না অ্যামাজনের ভ্যাম্পায়ার ফারহানকে শিকার বানিয়েছে,মশালের হালকা আলোর জন্য লাল রক্তকে কালো মনে হচ্ছে।আমি ফারহানকে বললাম,,, "ফারহান তোমার বন্দুক নিচে নামাও,আর সোজা হয়ে দাড়াও।" ফারহান অবাক হয়ে বলল,,, " কিন্তু কেন???" আমি কোনো জবাব দিলাম না, জবাব না দিয়েই মশা মারার মতো করে দুহাত নিয়ে ফারহানের ঘাড়ে থাবা মারলাম, মশার মতো এটা মরে নি,তবে মাটিতে পরে গেল বাঁদুড়টা।আর সাথে সাথে মি.A এটাকে গুলি করলেন।মি.A এর এরকম চারদিকেই সতর্ক দৃস্টি দেখে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম।বললাম,,, "মি.A চারদিকে এরকম তীক্ষ্ণ নজর কী করে রাখেন???" মি.A স্মিত হেসে বললেন,,, "পরে একসময় না হয় বলব,,, এখন যাও ব্যাগটা আন,আর সাথে একটা ব্যান্ডেজও নিয়ে এসো,আপাতত ফারহানের রক্ত থামাতে কাজে লাগবে।" আমি আর দেরী করলাম না,দ্রুত ভিতরের দিকে হাটতে লাগলাম।আমার সামনের সবাই আমায় জায়গা করে দিল,আমি ব্যাগটা খুঁজতে লাগলাম আর রুবি আপুকে বললাম ফারহানের জন্য ব্যান্ডেজ আনতে। অস্ত্রের জায়গায় অনেক ব্যাগ থেকে খুঁজে পেয়ে গেলাম ব্যাগটা,একটা কালো রংয়ের মাঝারি আকারের ট্রলির মতো সাইজ।সেটায় কী আছে জানি না,তবে ব্যাগটা তোলার সময় মোটামোটি ভারীই লাগল আমার কাছে। এদিকে রুবি আপু ব্যান্ডেজ নিয়ে হাজির হয়ে গেছে,তবে হাতে দুটো ব্যান্ডেজ। আমি বললাম,,,"শুধু তো ফারাহানের জন্য একটা দরকার,দুটো কেন???" রুবি আপু বলল,,,"তোমার পিঠ দিয়ে যে রক্ত বের হচ্ছে তার কী কোনো খুঁজ আছে???" আমি আমার পিঠে হাত দিয়ে দেখলাম বেশ খানিকটা আঠালো রক্ত আছে পিঠে।রুবি আপু আমার পিঠে ব্যান্ডেজটা লাগিয়ে দিয়ে বলল,,, "এটাতে রক্ত বন্ধ করার ওষুধ লাগিয়ে রাখা আছে।আর ফারহানকেও দ্রুত লাগিয়ে দাও আরেকটা ব্যান্ডেজ।" আমি দ্রুত গিয়ে মি.A কে তার ব্যাগ দিয়ে ফারহানের ঘাড়ে ব্যান্ডেজটা লাগিয়ে দিলাম। মি.A আমাকে তার জায়গায় পজিশন নিতে বলে নিজে ভিতরে চলে গেলেন।সামনে এখনও বেশ কয়েকটা কুকুর আছে, আমরা সবাই যে মূহূর্তে আছি সেটা তো আর মানুষদের সাথে যুদ্ধের মতো না,কারণ মানুষের সাথে যুদ্ধ হলে কখন কোথা দিয়ে গুলি আসবে তা খেয়াল রাখতে হয়।কিন্তু আমাদের গুলাগুলি হচ্ছে শুধুমাত্র কুকুর আর বাঁদুড়ের সাথে,ফলে আমাদের তেমন রুদ্ধশ্বাস হয়ে একটানা গুলি করার মতো কোনো পরিস্থিতি হয় নি।আর একটা অবাক করার বিষয় হলো কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে যেন আমাদের আটকাতে চাচ্ছে,পাশাপাশি হয়তো ভয়ও দেখাতে চাইছে।দলের এক দুজন ছাড়া আমাদের আক্রমণও করছে না কেউ একজন এ মূহূর্তে।আসলে কুকুরগুলো চাইছেটা কী,সেটাই মাথায় আসছে না। কিন্তু মাত্র কয়েকমিনিটের মাঝেই পরিস্থিতি উল্টে গেল, কারণ হঠাৎ করেই বেশ কিছু কুকুর একসাথে সামনের দিকে দৌড়ে আসতে লাগল,আমরা বন্দুক দিয়েও তাদের সামাল দিতে পারছি না।তাই দ্রুত কয়েকটা শক্ত দেখে লাঠি নিয়েই অনেকে এগিয়ে গেল।আমরা কয়েকটা মার দিতেই কয়েকটা কুকুর লেজ গুটিয়ে পালাল।তবে সবগুলো পালায় নি,সব দলেরই কিছু গোঁয়ার সদস্য থাকে,এ দলেও তার ব্যাতিক্রম নাই।এগুলো আরও বেশি হিংস্র হয়ে গেল,এদের সামলানো অনেকটা কঠিন হয়ে গেছে,আমাদের গায়ে আঁচর কামড় দিচ্ছে।এমন সময় অনেকটা জোরে দ্রুত গুলি নিক্ষেপ হতে শুরু করল।মি.A বলল,,, "সবাই এদিকে চলে আস,আমি গুলি করছি তোমরা সেইফ জোনে চলে আস।" কিন্তু বললেই তো আর পিছানো যায় না,কুকুরগুলো আমাদের সাথে লেগেই আছে,অনেকের পরিস্থিতি এমন যে কুকুর তাদের চারিদিক দিয়ে ঘিরে আছে।এরকম পরিস্থিতিতে কী আর করার,মি.A ধীরেধীরে গুলি করতে লাগল নিশানা ঠিক করে।মি.A এর পাশাপাশি আরও কয়েকজন গুলি করতে শুরু করল। তবে এমন সময় একটা আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটল,কেউ খুব জোরে বাঁশি বাজাল,সেটা শুনে সবগুলো কুকুর চলে গেল।আমাদের থেকে কিছুটা দূরে পূর্বদিকের একটা ঝোপে এমন শব্দ হয়েছে বলে মনে হলো। আমরা সবাই দৌড়ে ঝোপের কাছে গেলাম,সেখানে কেউ নাই।চারিদিকে খুঁজার সময় একটা কাগজ পেল হৃদয়,সেটায় কিছু হিবিজিবি ছবির মতো আঁকিবুকি আঁকা।এটাকে ফালতু একটা কিছু ভেবে হৃদয় ফেলে দিতে যাবে এমন সময় আনিকা বলল,,, আনিকা: কী ফেলছ??? হৃদয়: একটা কাগজ,এতে হিজিবিজি কীসব আঁকা হয়েছে,এটার তো মনে হয় কোনো দরকারি কাজ নাই,তাই ফেলে দিচ্ছিলাম। আনিকা:কাগজটা কোনো অযথা কাগজ না,দেখ এটা কত বিশেষ রকম কাগজ, অনেক পুরো।আর একদম সমান নয় যেমনটা আমরা ব্যাবহার করি। হৃদয়:হুমম,হয়তো এটা হাতে বানানো কাগজ। পাশে আমি ছিলাম,হৃদয় আর আনিকার কথা শুনে বললাম,,, আমি:হৃদয় ভাইয়া,কাগজটা দাও তো।দেখি এটার গুরুত্বও থাকতে পারে। হৃদয়: নাও,আর চল মি.A কে জানাই। আমি কাগজটা নিলাম,দেখলাম হিজিবিজি আঁকিবুকিগুলোরও একটা প্যাটার্ন আছে,মানে উদ্দেশ্যহীন ভাবে আঁকা হয় নি।এটার কোনো গোপন মানেও হতে পারে।তাই আমি,হৃদয়, আনিকা কাগজটা নিয়ে মি.A এর কাছে গেলাম।মি.A দাড়িয়ে আছেন,হালকা হতাস ভাব তার মুখে,ঝোপে কাওকে পাওয়া যায় নি বলে চিন্তিত তিনি সেটা বোঝা যাচ্ছে। মি.A: জিজে'স,তোমরা কেউ কি কিছু পেয়েছ এখানে??? আনিকা: মি.A আমরা একটা কাগজ পেয়েছি,দেখুন তো এটার কোনো মানে হয় কিনা। মি.A এর হাতে কাগজটা দিলাম।তার মুখের হতাসভাবটা কেটে গেল,তবে এখনও কিছু ভাবছেন সেটার তার কপালের ভাজগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়। রনি ভাই: মি.A কী ভাবছেন??? মি.A: এটা কোনো হিজিবিজি লেখা নয়।এটার মানে আছে অবশ্যই।আরবের আরামাইক বর্ণমালাগুলো তো এক টানে লেখা হয়,এটাও এরকম একটানে কিছু লেখা তবে আরমাইকের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন। রুবি আপু: এটা এই অঞ্চলের আঞ্চলিক কোনো ভাষা নয়তো??? মানে তাদের বর্ণমালা হতে পারে। সারা: আকিতা আপু তো বলতে পারবে এটা কোনো লেখা কিনা।এই রনি ভাইয়া আকিতা আপু কোথায়??? রনি ভাই: ভিতরে সামিয়াদের সাথে আছে হয়তো।ওকে ডেকে আন। আমরা সবাই হালকা কৌতুহলী হয়ে আছি এই কাগজের মাঝে কী এমন আছে তা জানার জন্য। সারা আকিতা আপুকে ডেকে আনল,,, রনি ভাই: আকিতা দেখ তো এই কাগজের লেখার মানে বোঝ কিনা। আকিতা আপু ভাঙ্গা বাংলায় বলল,,, "দেখছি" আকিতা আপু কাগজটা হাতে নিয়ে দেখল।মনে মনে কিছু একটা পড়ল।তারপর বলল,,, "রনি এই কাগজের লেখাগুলোর মানে পেয়েছি আমি।" তানিম ভাই: আপু সবসময় রনি ভাইয়ার সাথে কথা বললেই চলবে নাকি???gjgjgj আমাদেরও বলুন কী পেয়েছেনgjgjgj আকিতা আপু হালকা লজ্জা পেয়ে হাসল।বলল,,, " কাগজে একজন লিখেছে,"তোমাদের মারতে চাই না। তোমরা আমাদের বিরক্ত করো না,নিজ বাড়িতে ফিরে যাও।আমরা তোমাদের শত্রু বানাতে চাই না।" মি.A: বোঝলাম,আর এটা যে পাঠিয়েছে তাদের কাছেই আমরা যেতে চাচ্ছিলাম। হয়তো ওই এলডোরাডোর মতো জায়গাটার অধিবাসী ওরা।আমাদের কার্যক্রমে বিরক্ত হচ্ছে। আমি: মি.A তবুও আমরা তো ওই জায়গাটা দেখার জন্যই এসেছি।আপনার কী ইচ্ছা??? আমরা কি ওখানে যাব না??? মি.A: যাব না বলছ কেন,অবশ্যই যাব।আর ওদের বোঝাতে হবে যে আমরা ইংরেজ জলদস্যুদের মতো কেউ না,আমরা বাঙ্গালি,আর্থিক আর পার্থীব দিকের চেয়েও বাঙ্গালিদের কাছে মানবিকতা সবচেয়ে উপরে। মেহেদী ভাই: আচ্ছা কাল সকালেই রওনা হয়ে যাব আমরা।এবার চল সবার ক্ষতস্থানে ঔষুধ লাগাই। কুকুরগুলো আর বাঁদুড়ের কামড়ের শিকার হয়েছি আমরা প্রায় সবাই। মেয়েরা ভিতরের দিকে থাকায় ওদের কিছু হয় নি,ওরা সবার ঔষুধ লাগানোর কাজটা করছে। ঔষুধ লাগানো শেষ।অনেকেই ইমুশনাল হয়ে আছে,আবার কেউ চিন্তিত।তানিম ভাই ভাবল পরিস্থিতিটাকে ঠিক করার দরকার,আসলে ভাইয়া যেমন নিজে সবসময় হাসিখুশি থাকে,তেমনি তার আশেপাশের মানুষদেরও সবসময় হাসিখুশি রাখতে চায়।কী দিয়ে সবার মন ভালো করা যায়,জোকস বলবে,নাকি অন্যকিছু করবে এটা ভাবতে লাগলেন তিনি।চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগল।হৃদয়ের হাতের ব্যান্ডেজ লাগিয়ে পাশে বসে আছে আনিকা,হৃদয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।পাশে রুবি আপুও বসে আছে,ও হৃদয়কে ইঞ্জেকশন দিচ্ছে ।হৃদয় আর আনিকাকে নিয়ে মজা করবে কিনা এরকম একটা ভাবনা আসল মাথায়,কিন্তু রুবি আপু থাকায় ওদের নিয়ে মজা করা চলবে না।পাশে আরেকদিকে তাকিয়ে একই দৃশ্য পেলেন ওনি,রনি ভাই আর আকিতা আপু বসে আছে,আকিতা আপু কীসব বলছে যেন রনি ভাইকে।তানিম ভাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উচ্চস্বরে বললেন,,, তানিম ভাই: রনি ভাই,আপনি তো কথা রাখলেন নাslyslysly রনি ভাই আর আকিতা আপু উঠে এসে আমাদের সবার সাথে বসল।রনি ভাই অবাক হয়ে বলল,,, "ভাই তোমায় কবে কী কথা দিয়েছিলাম যেটা রাখি নি,সেটা তো বল" তানিম ভাই: এতোদিন পর আবার না হয় ওই ডাকটা ডাকা শুরু করি,বায়রা,আপনি তো কাজটা ঠিক করলেন না।আপনার তো আমার শ্যালিকাকে বিয়ে করার কথা।কিন্তু আপনি ইভার হাতে দায়িত্ব দিলেন আমার জন্য মেয়ে খুঁজার,আর আমার জন্য মেয়ে এখনও অবধি পাওয়া গেল না।একজন মেয়ে হয়তো আমার পছন্দ হয়েছে কিন্তু তার বোন নাই,এমন ঘটনাও কতো ঘটল।শুধু আপনার কথা ভেবে আমি ওইরকম মেয়েদের বিয়ে করি নি।আর এখন আপনি আকিতা আপুকে পেয়ে গেলেন,আমি কাকে পাব,আর আপনি আমার বায়রা হবেন এই সম্পর্কটা কই গেল???gjgjgj সব জিজে'স চুপচাপ কথা শুনছে,সবার মনোযোগ এখন দুইজনের কথায়।এদিকে তানিম ভাইয়ের কথা শুনে আকিতা আপু লজ্জা পেয়ে আরেকদিকে ফিরল। রনি ভাই: আরে এটা কোনো সমস্যা হলো নাকি।সেই ২০২১ সালে কথা দিয়েছিলাম।আকিতারও তো বোন আছে,খুঁজে নাওgjgjgj তানিম ভাই: সত্যিইইইইইইইইইইইইwowwowwow রুবি আপু: তানিম তোর মুখটা বন্ধ কর,নাহলে অ্যামাজনের ইয়া বড় বড় মশামাছি তোর মুখকে তাদের বাসস্থান ভেবে ঢুকে বসে থাকবেrasrasras তানিম ভাই: এই আমি একটু খুশির সংবাদ শুনে মনটাকে মুখটাকে প্রসন্ন করে তোললাম,আর তুই এসে আমার কাজে বাধা দেওয়া শুরু করে দিলি। রুবি আপু: আমি আবার কী করলামhuhhuhhuh তানিম ভাই: তুই কী করেছিস নাকি করিস নি তার আগে একটা কথা বল।আমার সব কাজে মেয়েদের মতো এসে নাক গলাস কেন??? রুবি আপু: তো আমি কি ছেলে নাকি।তুই যে এক নাম্বারের হাদারাম বলদ তার প্রমাণ আর কত দিবিrasrasras সব জিজে'স হু হু হু হা হা হা করে হেসে দিলlaughlaughlaugh সবার মন ভালো হয়ে গেছে।জিজেতে যুগযুগ ধরে এমন কিছু মানুষ আছে যারা সবার মোড ভালো করে দিতে সবসময় অবদান রাখে।এদিকে রনি ভাইকে আবার ক্ষেপানো শুরু করল সবাই,,, মেহেদী ভাই: তানিম ভাই,কয়েকদিন পর তো বিয়ে করছেনই,তা দাওয়াত কতবার পাব??? রনি ভাই: কতবার মানে??? বিয়ের দাওয়াত কয়বার যেন হয়। আনিকা: দাদু তোমার বিয়ের দাওয়াত আমরা কমপক্ষে পাঁচবার করে খাব। রনি ভাই: পাঁচবার মানে???gjgjgj সাঈম ভাই চুপচাপ শুনছিল,তবে ভাইয়াও যে মজা করতে পারেন তার প্রথম উদাহরণ পেলাম এবার।ভাইয়া বলল,,, " এখানে অ্যামাজনে একবার,তারপর বাড়ি গিয়ে একবার,জিজে মাঠে একবার,আর দুবার এখনও চিন্তার তালিকায় আছে,হা হা হা"। এভাবে অনেক রাত পর্যন্ত আমাদের আড্ডা চলল।তারপর সবাই ঘুমাতে চলে গেল,কারণ পরের দিন আমাদের সবার জন্য রয়ে গেছে একটা কর্মমুখড় দিন। [কেমন লাগল??? গল্পটা সেই অনেকদিন আগে লিখে রেখেছিলাম।শেষ একটু অংশ লিখা বাকি ছিল।আলসেমির জন্য তা হয় নি।গল্পটায় কোনো ভুল নজর আসলে জানাবেন] বি.দ্র.: অনেকটা সময় নিয়ে আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,দয়া করে কপি করবেন না। চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now