বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

► --"ভয়ানক রাত"--অংশ-02

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shadin jion(guest) (০ পয়েন্ট)

X অপর পাশ থেকে কোন শব্দ নেই । শান্তু আবারও বলে – হ্যালো, কে বলছেন ? ওপর পাশে থেকে এবারও কেউ উত্তর দেয় না । এবার শান্তু বিরক্তি আর চেপে রাখতে পারে না – প্রায় চিৎকার করে বলে – আরে কথা বলছেন না কেন ? বেশ কিছুক্ষন চুপ করে কানে রিসিভার ধরে রাখার পর শান্তুর মনে হলো, অপর পাশে কেউ একজন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো । শান্তু আবারও বলে উঠে – হ্যালো ! হ্যালো ! আশ্চর্য কথা বলছেন না কেন ? কথা না বললে এতো রাতে ফোন করেছেন কেন ? যতোসব যন্ত্রনা । ওপর পাশে থেকে আবার ও দীর্ঘশ্বাস ফেরার শব্দ ভেসে এলো । শান্তু আবার বললো – হ্যালো ! হ্যালো ! হঠাৎই ডায়াল টোন ফিরে আসাতে শান্তু রিসিভারটা প্রায় আছড়ে রেখে বলে উঠলো – যতোসব নরকের কীট । শান্তুর চোখ থেকে ঘুম পুরোপুরি সড়ে গেছে । সোফা থেকে উঠে ওর রুমে যাবার জন্য যেই না মাঝখানে ডাইনিং রুমের দরজায় তাকিয়েছে, ওমনি কয়েক মুহুর্তের জন্য চমকে উঠলো শান্তু – ওর মনে হলো চট করে কে যেন সড়ে গেল । শান্তুর পুরো শরীর হঠাৎ কেঁপে উঠলো । সমস্ত শরীরে একটা শিরশির অনুভুতি ভয়ে গেল । শান্তুর মনে হলো,যে কেউ একজন দরজায় দাড়িয়ে ওকে দেখছিল । ও তাকাতেই যেন চোখের পলকে শূণ্যে একটা অবয়বটা মিলিয়ে গেল । শান্তুর পুরো শরীর ঝিম ঝিম করেছে । কেউ আছে কিনা, ভাল করে দেখার জন্য শান্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইনিং রুমের বাতিটা জ্বেলে দিল । মুর্হুতে পুরো ড্রাইনিং রুমটা আলোকিত হয়ে গেল । ড্রাইনিং টেবিল, চেয়ার, ফ্রিজ, ফ্রিজের উপড় রাখা বিভিন্ন বোতলগুলো যেন ওর দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গাত্নক হাঁসি হাসতে লাগলো । এছাড়া আর কোথাও কেউ নেই । নির্ঘাত চোখের ভুল বলে , মন থেকে শান্তু ব্যাপারটা সড়িয়ে দিতে চেষ্টা করলো । কিন্তু ও’র অবচের্তন মন ব্যাপারটা ভুলতে পারলো না । শান্তু ড্রাইনিং টেবিলের নীচটায় একবার তাকিয়ে দেখলো, কেউ লুকিয়ে আছে কিনা , তারপর যেই বাতি নেভাবার জন্য সুইচে হাত দিয়েছে, ঠিক তখনই ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা আবারো বেজে উঠলো । হঠাৎ শব্দে শান্তু প্রায় চমকে উঠলো । বুকটা ধকধক করছে । রাতের বেলায় সব শব্দ বুঝি একটু জোড়ে শোনা যায় । শান্তু নিজেকে শান্ত রেখে থু থু করে বুকে দু’বার থুতু দিল ।তারপর ফোনের রিসিভারটা তুলে বললো – হ্যালো ! কে ? এবার অপর পাশে থেকে শো শো শব্দ শোনা গেল । ঝড় হলে দরজা জানালা বন্ধ থাকা ঘরের ভেতর থেকে যে রকম শব্দ শোনা যায়,অনেকটা সে রকম । এ ছাড়া অপর পাশে অন্য কোন শব্দ নেই । শান্তু তবুও বেশ বিরক্তি নিয়ে বললো -এতো রাতে ফোন করে বিরক্ত করার মানে কি ? কথা বলছেন না কেন ? হ্যালো! হ্যালো! । হঠাৎ ফোনের শো শো শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল । এবং আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দ শোনা গেল । আরে ব্যাটা ছাগলের মতো খালি খালি দীর্ঘশ্বাস ছাড়রস কেন ? বাপের ব্যাটা হলে কথা বল । অন্যদিক দিয়ে দম বেড় করে দিমু । যতোসব ইডিয়টের দল । খুঁট করে ফোন রেখে দেবার শব্দ হলো । শান্তু রাগে গজগজ করতে করতে কলার লিষ্টটা দেখলো ০০ দিয়ে একটা অপরিচিত নাম্বার উঠে আছে । হঠাৎ শান্তুর মনে হলো কোন ওভারসিস কল নাতো ? ওভারসিস কল হলে, নরওয়ে থেকে একমাত্র বড়মামা ফোন করতে পারে । কিন্তু মামা তো জানে মা -বাবা, টুম্পা সবাই সিলেট গেছে । তাহলে ! কে ফোন করলো ? এভাবে গালি দেওয়া কি ঠিক হলো ? কথাটা চিন্তা করতে করতে বার্থরুম হয়ে, শান্তু ওর ঘরে চলে এলো । কম্বল টেনে শুতে শুতে শান্তু ঘড়ি দেখলো , পৌনে দুটো বাজে । মনে মনে দোয়া পড়ে শান্তু ডানপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো । দুই শান্তু কতোক্ষন ঘুমিয়েছে ঠিক বলতে পারবে না । ঘুম ভাঙ্গল কোন কিছুর খুঁটুর মুঁটুর শব্দে । শান্তু মাথা তুলে শুনতে চেষ্টা করলো শব্দটা কোথা থেকে আসছে । শান্তু ওর ঘরের বাতি জ্বেলেই শুয়েছে । দরজা খোলা থাকায় ড্রাইনিং রুমের ফ্রিজ দুটো স্পস্ট দেখা যাচ্ছে । নরমাল ফ্লিজটার গা ঘেষেই রান্না ঘর – শান্তুর হঠাৎ মনে হলো-রান্না ঘরে কেউ একজন কিছু একটা করছে । খুঁটুর খুঁটুর শব্দটা রান্না ঘরে থেকেই আসছে । এতো রাতে কে হতে পারে ? যেহেতু পুরো বাসায় শান্তু একা । তাহলে রান্না ঘরে কে ? শান্তু বেশ ঘাবড়ে গেল । কে আসবে এতো রাতে রান্না ঘরে ? ভূতটুত না তো ? ড্রইং রুমের দরজায় দেখা অবয়বটার কথা মনে পরে গেল শান্তুর । কেমন একটা ভয়ে পেটটা মোচড় দিয়ে উঠলো । শান্তু কম্বলটা গাঁ থেকে সড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো । ভয়টা যাচ্ছে না । শান্তু গলা খাকারি দিয়ে বললো -কে ? কে ওখানে ? প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খুঁট খুঁট শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল । শান্তু ওর ঘর থেকে পুরোপুরি না বেড় হয়ে রান্না ঘরের দিকে উকি দিল । ঠিক তখনি ওর মনে হলো, রান্না ঘরের দরজা থেকে কেউ একজন হুট করে সড়ে গেল । শান্তু চমকে উঠে বেশ ঘনঘন বলে উঠলো- কে ? কে ?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now