বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মামুন বাড়ি থেকে মোড়ের দোকানের দিকে টং যাচ্ছিল।
রেবেকা এসে বলল
-কোথায় যাচ্ছিস রে?
-মোড়ের উপরে টং দোকানে।
-সিগারেট খেতে নাকি চা খেতে?
-তোকে বলতে হবে কেন?
-আমাকে বলবি না?
-আর তুই আমাকে তুই তোকারি করছিস কেন?
-বন্ধুকে তুই তোকারি করবো না তো কি আপনি বলবো?
-কে বন্ধু!! আমি তোর চার বছরের বড়। আমি তোর বন্ধু
হই কিভাবে?
-শোন ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি। খেলেছি,
ঘুরেছি আর এখন তোকে তুই করে বলতে হবে!!
-আমি এখন বড় হয়ে যাই নি?
-খুব বড় হয়েছিস। তাহলে তো বিয়ের বয়সও হয়ে গেছে।
-হয়েছেই তো।
-তাহলে তোকে বিয়ে দিতে বলতে হবে। মেয়ে কি ঠিক
করাই আছে?
-তোকে বলবো কেন?
-তোর সব খবর আমি জানি। আর এই খবর ঠিক জেনে
যাব।
-জানতে থাক।আমি গেলাম।
.
আজ মামুনের বন্ধুর ছোটবোনের জন্মদিন। মামুন কি
দেবে বুঝতে পারছে না। আর এইসব পছন্দ করতে হলে
কোন মেয়েকে সাথে নিয়ে উপহার কিনতে হবে। তাই
রেবেকার কাছেই যাওয়ার চিন্তা করলো।
.
রেবেকার কাছে গিয়ে বলল
-আমার সাথে শপিং এ যাবি?
-কিরে!! তুই আমাকে শপিং এ ডাকছিস!! কাহিনি কি?
-কাহিনি না জেনে যদি যেতে চাস তাহলে বল।
-চল যাবো।
.
উপহার বাছাই করার পর রেবেকা বলল
-আমি তোর সাথে আসলাম। আমাকে কিছু কিনে দিবি
না?
-তোর পাওনা আছে উপহার। তোর জন্মদিনে দিতে পারি
নি।
-কি দিবি বল?
-তোর পছন্দমত বল। কিন্তু বেশি দাম জিনিস নিবি না।
-টাকা আমি দেব। তুই শুধু পছন্দ করবি।
-তাহলে ওই বড় ঘড়ির সাথে নকশা করা ওইটা নে।
-আচ্ছা।
.
রেবেকা মামুনের বাড়িতে আসতেই মামুনের মা রেবেকাকে
মিষ্টি দিয়ে বলল
-নে মিষ্টি খা।
-আন্টি মিষ্টি কিসের জন্য?
-মামুনের বিদেশে যাওয়ার সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। আর
যাচ্ছে স্কলারশিপ পেয়ে।
-ওহ।
-তুই খুশি হস নাই?
-হয়েছি তো। মামুন কোথায়?
-ওর ঘরে।
-আচ্ছা আমি যাচ্ছি।
.
মামুনের ঘরে গিয়ে বলল
-কিরে তুই নাকি বিদেশে চলে যাচ্ছিস।
-হ্যা।
-ভাল থাকবি ওখানে?
-আরেহ ঠাকবোই তো কত সুন্দর ফর্সা ফর্সা মেয়ে
আছে এখানে।
-যা তাহলে। ফ্লাইট কবে?
-আর মাত্র পচিশ দিন পরে।
-তাহলে তো বেশি দেরি নাই রে।
-হ্যা।
-ও আচ্ছা।
.
মামুনের বিদেশে যেতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি এখন
মামুন খুব ব্যাস্তের মধ্যেই দিন পার করছে। রেবেকা
মামুনের কাছে এসে বলল
-আমার সাথে ঘুরতে যাবি?
-না। দেখছিস না ব্যাস্ত আছি আমি।
-আমি ব্যাস্ত থাকলেও কিন্তু তোর সাথে যেতাম।
-আচ্ছা চল।
.
মামুন বসে আছে আর পাশে রেবেকা। রেবেকা বলল
-বিদেশে গিয়ে তুই এইসব মিস করবি না?
-হ্যা। করবোই তো।
-আর কিছু মিস করবি না?
-আর কি মিস করবো?
-এদেশের মানুষগুলোকে। আমাকে।
-জানি না।
.
মামুন এর আর কিছুক্ষণ পরে ফ্লাইট। অনেকেই তাকে
বিদায় জানাতে এসেছে। কিন্তু রেবেকা আসে নি। এই
পাঁচ দিন মামুন খুব ব্যাস্ত থাকায় রেবেকার সাথে
যোগাযোগ করতে পারে নি। কিন্তু আজকে তো রেবেকা
আসতে পারতো। তবুও এল না!!
.
মামুনের মনে হচ্ছে রেবেকার সাথে দেখা না হলে তার
মনে কিছু একটা জমা হয়ে থাকবে। যেটা আজকে মামুন
বুঝতে পারছে। মামুন ভাবতে ভাবতে চেকিং পয়েন্টের
দিকে যাচ্ছিল। পিছন থেকে কেউ একজন ডাক দিয়ে
বলল
-কিরে চলে যাচ্ছিস?
-রেবেকা। তুই!! এই পাঁচ দিন আমার সাথে যোগাযোগ
করিস নি কেন? আর বিদায় জানাতে আমাকে আসিস নি
কেন?
-আমি না আসলে কি হবে?
-কি হবে মানে!! তুই না আসলে আমার মনের মধ্যে
একটা কথা জমা হয়ে থাকতো। যেটা পরে হয়তো বলার
সুযোগ পেতাম না। আর পেলেও এই আবেগটাকে খুঁজে
পেতাম না।
-কি কথা বল?
-দেখ। ছোট বেলা থেকে তোর সাথে খেলতে খেলতে বড়
হয়েছি। আর বড় হয়েও তোর সাথে মিশেছি। আর এই
পাঁচ দিন তোকে পাশে না পেয়ে তোর গুরুত্ব আরো
ভালভাবে বুঝতে পেরেছি। যেটা হয়তো বা আগেও বুঝেও
বুঝি নি।
-তাতে কি?
-তোকে আমার সারাজিবনের জন্য পাশে চাই। আর সেটা
বন্ধু হিসেবে না জিবনসঙ্গিনি হিসেবে।
-বন্ধুই তো সঙ্গি।
-এইরকম সঙ্গি না। আমি তোকে বিয়ে করে সঙ্গি
করতে চাই। বিয়ে করবি আমায়?
-আমি ছোটথেকেই তোকে নিয়ে ঘর বাধার সপ্ন দেখতাম।
বড় হয়ে সেই ইচ্ছা আরো জেকে বসে আমার মনে। তাই
বার বার তুই উপেক্ষা করলেও আমি তোর পাশে থাকতে
চেয়েছি। আর এই পাঁচ দিন তোর থেকে দুরে থেকে তোর
জিবনে আমার গুরুত্ব কতটুকু সেটা বোঝানোর চেষ্টা
করেছি।
-তাহলে তো সব ঠিকই আছে।
-কিসের ঠিক আছে? তুই তো বিদেশে চলে যাচ্ছিস।
-আমার ফ্লাইট আজ না সামনের মাসে। এর মধ্যে
তোকে বিয়ে করতে পারবো। আর ভাবছি টিকিট বাতিল
করে দেব।
-কেন?
-তোকে ছেড়ে যাবো কিভাবে?
-এই দেখ।
-এটা কি?
-আমার টিকিট। আমার স্কলারশিপ হয়েছে। আমারও
সামনের মাসে ফ্লাইট। দুইজন একইসাথেই যেতে
পারবো।
-কিন্তু বিবাহিত হলে তো অন্য মেয়েরা পাত্তা দেবে।
-অন্য মেয়ের পাত্তা না পেলে কি হবে?
-কিছু না চল।
.
বিকেলবেলা মামুন আর রেবেকা বসে আছে পাশাপাশি।
তবে এখন বসার ধরন আলাদা।কারন এখন তারা শুধু
বন্ধু না। তারা এখন প্রেমিক প্রেমিকা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now