বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘ঘুমাবার
যে জায়গা পাওয়া গেছে এই-ই
ঢের।’
ওরা দু’জন দুই বিছানায়
শুয়ে পড়ল। ফুঁ
দিয়ে নেভালো মোমবাতি।
আলো নিভে যাওয়ার
সঙ্গে সঙ্গে ছাদ
থেকে ভেসে এলো খলখল হাসির
শব্দ।
‘তুই হাসছিস নাকি, টম?’ জিজ্ঞেস
করলো ডেভ,
উঠে বসেছে বিছানায়।
‘না,’ অস্বস্তি নিয়ে জবাব
দিলো টম। ‘ছাদ
থেকে শব্দটা এসেছে মনে হলো।’
‘এখানে থাকা বোধহয় ঠিক
হবে না, কী বলিস?’
জানতে চাইলো ডেভ।
পাশ ফিরে শুলো টম। ‘কিন্তু
এতো রাতে কই যাবি?’
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকলো দু’বন্ধু।
‘আমার
কেনো জানি মনে হচ্ছে বাড়িটা
ভুতুড়ে,’
অন্ধকারে ভেসে এলো ডেভের
কণ্ঠ।
‘চুপ করে ঘুমা তো।’
চুপ হয়ে গেলো ডেভ। হঠাৎ
আরেকটা শব্দ ভেঙে দিলো রাতের
নিস্তব্ধতা। সিঁড়িতে পায়ের
আওয়াজ। দ্রুত
ওপরে উঠে আসছে কেউ।
তবে হেঁটে নয়,
গড়িয়ে গড়িয়ে যেনো কেউ সিঁড়ির
ধাপ বাইছে।
‘এখানে আমি আর থাকবো না,’
ডেভের কণ্ঠে আতঙ্ক।
‘তা হলে চল, বেরিয়ে পড়ি।’
বিছানা থেকে লাফিয়ে নামলো
টম। মোম জ্বাললো।
ঠিক তখন, নিচতলার দরজায় কেউ
ধাক্কাতে শুরু করলো। ওই
দরজা বন্ধ দেখে এসেছে ওরা।
একই সঙ্গে খলখলে ভৌতিক
হাসিটা ভেসে এলো আবার।
এবারে হলওয়ে থেকে।
‘বাইরে যেতে ভয় লাগছে,’
বললো ডেভ। মুখ শুকিয়ে আমসি।
‘বাইরে না যাওয়াই ভালো,’ সায়
দিল টম। দরজার
সামনে হেঁটে গেল ও। লোহার
ছিটকিনি টেনে দিলো।
‘বাইরে যে-ই থাকুক আর
ঢুকতে পারবে না এ ঘরে।’
নিজের বিছানায় ফিরে এলো টম।
ডেভের চোখের
দিকে তাকাতে সাহস পাচ্ছে না।
ডেভ খুব ভয় পেয়েছে। ওরও বুক
ধড়ফড় করছে অমঙ্গলের আশঙ্কায়।
তবু ডেভকে সাহস দিতে বললো,
‘শোন, আমাদের কোনও
ক্ষতি হবে না।’
দরজায় কেউ নখ
দিয়ে আঁচড়াতে শুরু করেছে। ঝট
করে সেদিকে চোখ চলে গেলো দুই
বন্ধুর। মোচড় খাচ্ছে দরজার নব।
কেউ খোলার চেষ্টা করছে।
‘না, না, না...’ বিছানায়
বসে কাঁপতে লাগলো ডেভ। মুখ
থেকে রক্ত
সরে গিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে
চেহারা।
‘ছিটকিনি বন্ধ।
খুলতে পারবে না।’
নিজেকে যেনো ভরসা যোগাতেই
আপন মনে কথাটা বললো টম।
তখন, যেনো নিজে নিজেই দরজার
ফ্রেম
থেকে খুলে গেলো ছিটকিনি। দুই
তরুণ ভয়ে বিস্ফারিত
চোখে দেখলো খুব
ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে কবাট।
কয়েক ইঞ্চি ফাঁক হওয়ার পরে আর
খুললো না। মৃত্যুর নৈঃশব্দ
নেমে এলো ঘরে।
তারপর সেই রক্ত হিম করা বিকট,
ভৌতিক খলখলে গলার
হাসি ছড়িয়ে পড়লো ঘরে। দরজার
ফাঁক
দিয়ে ঢুকতে লাগলো আকৃতিহীন
সবুজ, তুলতুলে একটা বস্তু।
গলে গলে পড়ছে ঘরে।
ডেভ তার খাটের শেষ মাথায়,
দেয়ালে গিয়ে সেঁধিয়েছে। টম
লাফ
মেরে নেমে পড়লো বিছানা থেকে,
ঘরের এক
কিনারে দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগলো
ঠকঠক করে।
দরজার ফাঁক
দিয়ে গলে পড়া জিনিসটা সবুজ
জেলির মতো। বিকট গন্ধ তাতে।
ওদের দম প্রায় বন্ধ করে দিলো।
তারপর হঠাৎ করেই সবুজ জেলির
মাঝ দিয়ে বেরিয়ে এল ভয়ঙ্কর
একটা মুখ। মুখটার
চারপাশে ছুরির অসংখ্য
ক্ষতচিহ্ন। মুখটা খলখলে গলায়
হেসে উঠলো। তারপর
যেভাবে উদয় হয়েছিলো,
তেমনি আকস্মিকভাবে ঘন সবুজ
জেলির মধ্যে অদৃশ্য
হয়ে গেলো ওটা।
খাটে বসা ডেভের
গলা দিয়ে ঘরঘর শব্দ বেরুচ্ছে।
চিৎকার করার চেষ্টা করছে,
পারছে না। সবুজ
জেলি বাতাসে ভাসতে ভাসতে
এগিয়ে গেলো ওর দিকে।
যেনো ভয়ার্ত ডেভকে তার পছন্দ
হয়েছে।
দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো টম
বুঝতে পারলো পালাবার এটাই
সুযোগ। সে দেয়াল
ঘষটে ঘষটে ধীরগতিতে এগোলো
দরজার দিকে। তারপর দিলো ছুট।
সবুজ জেলির পাশ কাটানোর সময়
ঠান্ডা, পিচ্ছিল
কী যেনো লেগে গেলো ওর হাতে।
ঘুরে তাকালো টম। ডেভ ওর
দিকে বিস্ফারিত
দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
চাহনিতে মৃত্যুভয়।
আরও জোরে ছুটলো টম। ঝড়ের
বেগে নেমে এলো নিচতলায়।
যে জানালা দিয়ে এ
বাড়িতে ঢুকেছে ওটা এখনও
খোলা। লাফ
মেরে জানালা দিয়ে নেমে পড়লো
টম। হাঁচড়ে পাঁচড়ে ছুটলো লোহার
শিক বসানো গেটের দিকে।
পাগলের মতো গেট
বাইলো যেনো ভূতে তাড়া করেছে।
রাস্তায় এসে তাকালো বাড়ির
চিলেকোঠার ঘরে। কিছুই
দেখতে পেলো না। হঠাৎ সেই
ভয়ঙ্কর হাসি ওর
আত্মা কাঁপিয়ে দিলো।
পড়িমরি করে ছুটলো টম।
কুয়াশাঘেরা রাস্তায়
জানবাজি রেখে দৌড়াচ্ছে।
কী করবে বুঝতে পারছে না। এক
মুহূর্তের জন্য থামলো।
শুনতে পেলো ডেভের মরণ
আর্তনাদ।
আবার ছুটতে শুরু করলো টম।
দৌড়াতে দৌড়াতে চলে এলো সেন্ট
জেমস পার্কে। কিন্তু
থামলো না ও। ছুটতেই লাগলো।
লন্ডন, ২১ জুন।
আজ সকালে পুলিশ ১৮ বছরের ডেভ
মূরের লাশ ৫০,
বার্কলি স্কোয়ারের বাড়ির
গেটে শিকবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার
করেছে। চারতলা বাড়িটির
জানালা খোলা ছিলো। হোমিসাইড
ডিটেকটিভদের ধারণা, তরুণ
আমেরিকানকে চিলেকোঠার ঘর
থেকে ঠেলে ফেলে দেয়া হয়েছে।
তার সঙ্গী ১৮ বছরের টম
ডডকে জেরা করার জন্য
খুঁজছে পুলিশ। এটা আত্মহত্যার
কেস নয় বলে গোয়েন্দাদের
ধারণা। কারণ ডেভের
শরীরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন
পাওয়া গেছে। ৫০
বার্কলি স্কোয়ারের
বাড়িটি যদিও ‘ভুতের বাড়ি’
হিসেবে জানে স্থানীয়রা,
তবে হোমিসাইড স্কোয়াড
সাংবাদিকদের বলেছে,
‘স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ভুতে বিশ্বাস
করে না।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now