বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত দুটো। লন্ডন। টম এবং ডেভ
রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ভবঘুরের
মতো। বেশ
কয়েকটা হোটেলে ওঠার
চেষ্টা করেছিলো।
মেলেনি জায়গা। শহরের সরু
রাস্তায় ওদের পায়ের
প্রতিধ্বনি ছাড়া এ মুহূর্তে কোনও
শব্দ নেই।
‘কী কুয়াশারে বাবা!’ বিড়বিড়
করে অসন্তোষ প্রকাশ করল ডেভ।
‘এজন্যই এ
শহরটাকে দু’চক্ষে দেখতে ইচ্ছে
করে না। যখন তখন কুয়াশা পড়ে।’
গত এক ঘণ্টায় কুয়াশা আরও ঘন
হয়েছে। গাঢ় চাদর ভেদ
করে হোটেলের নিয়ন সাইনও
প্রায় পড়া যাচ্ছে না। রাস্তায়
ট্রাফিক বাতিও গ্রাস
করেছে প্রবল কুয়াশা। কিছুই
চেনা যায় না।
‘শুয়ে পড়ার কোনও জায়গা আমার
চাই-ই,’ গুঙিয়ে উঠল টম। ‘শরীর
আর চলে না।’
কিন্তু ঘুমাবার মতো কোনও
জায়গা চোখে পড়ছে না।
ওরা পিকাডিলি সার্কাস
থেকে হেঁটে গ্রীন পার্কে এলো।
তারপর উত্তরে অক্সফোর্ড
স্ট্রীটে পা বাড়ালো।
একটা গলিতে ঢুকে পড়লো দু’বন্ধু।
এ গলির দু’পাশে বড় বড় চারতলা,
জরাজীর্ণ কয়েকটি ভবন। হঠাৎ
সাইন বোর্ডটি চোখে পড়লো।
একটি ভবনের সামনের লোহার
কালো গেটে ঝুলছে সাইনবোর্ড-
‘বিক্রি হবে।’
‘দেখে মনে হচ্ছে এ বাড়িতে কেউ
থাকে না,’ মন্তব্য করলো টম।
‘একটা কাজ করি, চলো। আজ
রাতটা এ বাড়িতেই
কাটিয়ে দিই।’
‘ঘুমাবার মতো জায়গা পেলেই
হলো,’ বললো ডেভ।
লোহার গেটের মাথায় উঁচু উঁচু
লম্বা, ধারাল শিক। দুই বন্ধু
সাবধানে উঠে পড়লো গেটে,
লোহার
ক্রসবারে পা রেখে সতর্কতার
সঙ্গে ডিঙালো শিক।
গেট পার
হয়ে পা টিপে টিপে ভবনটির
দিকে এগোলো ওরা।
একটা জানালায় আলো জ্বলছে।
ভেতরে কেউ নেই।
‘যা ভেবেছি,’ ফিসফিস করলো টম।
‘খালি।’
‘হুঁ,’ বললো ডেভ। ‘কিন্তু
ভেতরে ঢুকবো কী করে?’
পকেট হাতড়ে সুইস আর্মি নাইফ
বের করলো টম। ছুরির
ডগা জানালার পেতলের
লকে ঢুকিয়ে মোচড় দিলো। তারপর
ধাক্কা দিতেই
খুলে গেলো জানালা। ডেভের
দিকে ফিরে সন্তুষ্টির
হাসি উপহার দিলো টম। দুই তরুণ
জানালা টপকে ঢুকে পড়লো ভেতরে।
‘এখানে ঘুমানো যাবে না,’
চারপাশে চোখ বুলালো ডেভ।
‘ঘরভর্তি পেরেক আর
হাবিজাবি যন্ত্রপাতি। এতোকিছু
পরিষ্কার করতে পারবো না।’
‘ঠিক আছে। অন্য ঘরগুলোয়
উঁকি দেয়া যাক।’ পরামর্শ
দিলো টম।
পুরনো বাড়িটির
হলওয়েতে ঢুকলো ওরা।
নড়বড়ে সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়।
টম সিঁড়ি বাইতে লাগলো, পেছন
পেছন ডেভ। দোতলায়
চলে এলো দু’জনে। কিন্তু এদিকের
সবগুলো ঘরে তালা। তিনতলায়
উঠে এলো ওরা। একই অবস্থা।
একটিও ঘর খোলা নেই।
প্রতিটি দরজা তালাবদ্ধ।
‘আরেকটা তালা বাকি আছে মনে
হচ্ছে,’ সিঁড়ির
দিকে তাকিয়ে বললো টম।
‘চলো তো দেখি।’
বাড়ির সর্বশেষ সিঁড়ির ধাপ
বাইল ওরা। ডেভের পা আর
চলছে না। ঘুম
এবং ক্লান্তিতে ভেঙে আসছে
শরীর।
টপ ল্যান্ডিং-এ একটি মাত্র
দরজা। চারপাশে ঢালু
হয়ে আছে ছাদ। ডোর নবে মোচড়
দিলো টম।
ওকে স্বস্তি দিয়ে খুলে গেলো
কবাট।
ছোট ঘরটিতে ঢুকে পড়লো দুই বন্ধু।
এক জোড়া খাট
এবং একটি ড্রেসার
দেখতে পেলো। ঘরে একটি মাত্র
জানালা, রাস্তার দিকে।
‘মন্দ নয়,’ মন্তব্য করলো টম।
ঘরের এক
কোণে একটি স্ট্যান্ডে মোমবাতিও
আছে। ওটা জ্বালালো টম। ডেভ
পুরনো খাটে ধপাশ
করে শুয়ে পড়লো।
এমন সময় ওদের নিচে,
সিঁড়িতে দুড়ুম করে একটা শব্দ
হলো।
লাফিয়ে উঠল ডেভ। ‘কীসের
শব্দ?’
পা টিপে টিপে হলওয়েতে চলে
এলো টম। দাঁড়িয়ে থাকলো এক
মুহূর্ত। তারপর ফিরলো ঘরে।
‘আমরা যে জানালা দিয়ে এ
বিল্ডিং-এ ঢুকেছি, সম্ভবত
ওটা বাতাসের চাপে বন্ধ
হয়ে গেছে।’
‘তা হতে পারে,’ সায় দিলো ডেভ।
খাটের
কিনারে পা ঝুলিয়ে বসলো।
‘তবে জায়গাটা আমার
ভালো লাগছে না। কেমন
গা ছমছমে।’
‘আরে রাখ,’ দাবড়ে উঠলো টম।!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now