বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেই ভয়ঙ্কর রাত(last part)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★mAhIrA★ (০ পয়েন্ট)

X তখন এ বাড়ির মালিক ছিল সাহেব থাপা | একদিন গভীর রাতে সাহেব ঘুমোচ্ছিল, হঠাৎই ওর দরজায় জোরে জোরে ঘা পড়তে থাকে | একটা যুবক, বেশ সুন্দরপানা একটা মেয়েকে নিয়ে‌ সাহেবের কাছে আশ্রয় চায় | সাহেবের কাছে মেয়েটিকে ওর স্ত্রী বলে পরিচয় দেয় | বাইরে তীব্র বৃষ্টি, ওই ঠান্ডায় ভিজে চুপচুপে দুটি কমবয়সী ছেলেমেয়েকে দেখে সাহেব আর আপত্তি করতে পারে নি | ওরা দু-তিনদিন সাহেবের ওখানেই থাকে | ভাড়া গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় | শনিবার সকালে ছেলেটা সাহেব থাপাকে জানায় রবিবার ওরা এখান থেকে চলে যাবে | শনিবার রাতেই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ দূর্ঘটনা | সাহেব উপরে ঘুমোচ্ছিল হঠাৎই এক মেয়েলি কণ্ঠের তীব্র আর্তনাদে সাহেবের ঘুম ভেঙে যায় | নীচে নেমে সাহেব দেখে মেয়েটা মেঝেতে পড়ে আছে, রক্তে চারপাশ ভেসে যাচ্ছে ! সদর দরজা হাট করে খোলা ছেলেটা কোত্থাও নেই | ছেলেটাকে খুঁজতে যাবে বলে সাহেব বেরোতে যাবে কিন্তু একটা দৃশ্য দেখে ও স্তম্ভিত হয়ে দরজার সামনেই পড়ে যায় | পুলিশি জেরায় সাহেব বলেছিল, ওর চোখের সামনে নাকি ছেলেটা দৌড়ে গিয়ে খাদে ঝাঁপ দেয়, প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলা ছেলেটা ওই বিপজ্জনক খাদের ধার দিয়ে হাঁটত | পুলিশ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট থেকে জানতে পারে মেয়েটা পাঁচমাসের প্রেগন্যান্ট ছিল | স্থানীয় পুলিশ ওদের পরিচয় জানার জন্য বিস্তর খানা তল্লাশি চালায় | পুলিশ বারবার সাহেবকে জেরা করতে থাকে | ওদের লাগেজ থেকে কোনো আইডেন্টিফিকেশন কার্ড পাওয়া যায় নি | পুলিশ কাগজে ওদের ছবি দিয়ে সনাক্তকরণের শেষ চেষ্টা করছিল | কিন্তু কেউ দেহ সনাক্ত করতে আসে নি | বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে বডি দুটো চালান হয়ে যায় | শান্ত পাহাড়ি এলাকায় এই ঘটনা বেশ কয়েকটা দিন একটা তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে | ধীরে ধীরে উত্তেজনা থিতিয়ে যায় | ওরা যে কোথা থেকে এসেছিল তা জানা যায় নি | গল্প শেষ করে একটু থামল হোম স্টের মালকিন রোজি | বলল, বাবুজি আপনি এবার রেস্ট নিন | আমি ভাবছি আজই এখান থেকে কলকাতা পালাব কিনা ! চোখের সামনে যা ঘটল তার তো কোনো বুদ্ধিগ্রাহ্য ব্যাখা নেই ! রোজি আমাকে অভয় দিয়ে বলল, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না, আজ রাতে আমি এখানেই থাকব | আপনার কোন ভয় নেই | পাহাড় ঘিরে সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই আমার কেমন যেন ভয় ভয় করতে লাগল | আমার এখান থেকে পালাতে ইচ্ছে করছে | পালিয়েই যাই, নইলে বোধহয় মরে যাব ..... তারপর ভাবলাম তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়ি, একঘুমে রাত কাবার করে দেবো | হঠাৎ হোম স্টের সমস্ত আলো নিভে গেল, আবার লোডশেডিং | আমি জেনারেটরের সুইচ অন করতে যাচ্ছিলাম রোজি এসে জানাল, জেনারেটর কাজ করছে না | ডাইনিং টেবিলে একটা মোম জ্বলছে, খেতে বসেছি, প্লেটে সুস্বাদু চিকেন মোমো, চিকেন পকোড়া আর থুপকা, সব রোজি বানিয়েছে | উল্টোদিকের চেয়ারে বসা রোজির মুখ ওড়নায় ঢাকা, | আলো আঁধারিতে কেমন ভুতুড়ে পরিবেশ, নিস্তব্ধতা ভেঙে রোজি বলে উঠল, আসল গল্পটা পুলিশ না জানলেও আমি জানি ! কি করে ? এবার আমার অবাক হবার পালা ! আরে আমি তো ওখানেই ছিলাম ! ওখানে ছিলে মানে ? মানে কিছু না বাবুজি ! আপনি বরং গল্পটা শুনুন ! ছেলেটা ছিল শতদ্রু, আর স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া মেয়েটা ছিল শতদ্রুর প্রাইভেট সেক্রেটারি, সরিতা | একসঙ্গে কাজ করতে করতে ওদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, দুবাড়ির মধ্যে বিয়ের ডেট নিয়ে কথাবার্তাও চলছিল | কোন এক অসতর্ক মুহূর্তে শারীরিক সম্পর্কের ফলে সরিতা প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ে | শতদ্রু ওকে অ্যাবরেশন করতে বলে, সরিতা কিছুতেই রাজি হয় না | ওদের মধ্যে টানাপোড়েন চলতে থাকে, শতদ্রু শেষপর্যন্ত বাচ্চাটাকে মেনে নিতে রাজি হয়ে যায় | সরিতার পেটের ভিতর বাচ্চার কেমন অবস্থায় রয়েছে সেটা জানার জন্য ডাক্তার ওকে বেশ কিছু টেস্ট করতে বলে | টেস্টের রিপোর্ট এলে জানা যায়, ওর শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রুণটি পূর্ণাঙ্গ নয়, অপুষ্ট বাচ্চাটিকে জন্ম না দেওয়াই ভালো বলে ডাক্তার মতপ্রকাশ করেন | শতদ্রু এবার দৃঢ়ভাবে সরিতাকে জানায় সারা জীবনের জন্য একটা অপুষ্ট বাচ্চার ভারবহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় | এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল অ্যাবরেশন | সরিতা কিছুতেই বাচ্চাটাকে নষ্ট করতে রাজি হচ্ছিল না, এদিকে শতদ্রু সমস্যার দ্রুত সমাধান চাইছিল | পারিবারিক অশান্তির হাত এড়াতে ওরা সিকিম চলে আসে | সেদিন রাতে অনাগত সন্তানকে নিয়ে ওদের দুজনের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া হয় | কি করবে বুঝতে পারছিল না শতদ্রু ! একদিকে ও নিজের ভালোবাসার মেয়েটিকে হারাতে চাইছিল না, অন্যদিকে সারাজীবনের জন্য ওই অপুষ্ট সন্তানের দায়িত্ব নিতে ওর মন সায় দিচ্ছিল না | কিন্তু সরিতা যেন ঠিকই করে নিয়েছিল ও কিছুতেই অ্যাবরেশন করাবে না, ওর সন্তানকে ও পৃথিবীর আলো দেখাবেই | শতদ্রুকে ডাক্তার জানিয়েছিল অ্যাবরেশন করাতে বেশি দেরি হলে সরিতার প্রাণ সংশয় হতে পারে | সেদিন প্রচন্ড ঝগড়ার পর ভীষণ রেগে গিয়ে শতদ্রু ডাইনিং টেবিলে রাখা কিচেন নাইফটা তুলে সোজা সরিতার পেটের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয় | রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ তীব্র মেয়েলি আর্তনাদে কেঁপে ওঠে পাহাড়ের পথ.....সে আর্ত চিৎকার সহ্য করতে পারে নি শতদ্রু | দরজা খুলে এক দৌড়ে সামনের ভয়ঙ্কর খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে .... গল্প শুনতে শুনতে আমার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছিল | ভয়ে ভয়ে রোজিকে জিজ্ঞেস করলাম, পুলিশ যা জানতে পারে নি সেটা তুমি কি করে জানলে ? নিজের অজান্তেই আমার চোখটা চলে গেল ডাইনিংয়ের একপাশে রাখা সোফার দিকে, মোমবাতির মৃদু আলোয় দেখলাম সোফার উপর রোজি বসে রয়েছে | ওর চোখদুটো কেমন বিভৎসভাবে বেরিয়ে এসেছে, যেন কিছু দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছে | কে তুমি ? আমার নিজের কন্ঠস্বর যেন নিজের কাছেই কেমন অচেনা ঠেকল | মেয়েটা আলতো করে মুখের ওড়না সরিয়ে বলল, দেখো তো চিনতে পারো কিনা ? তুমি সরিতা ! তুমি, তুমি তো কবেই মরে গেছ ! এ আমি কি বলছি ? সরিতা কে ? এই নামটা আমি কি করে জানলাম ?.... তুমিও তো মরেই গেছিলে আবার জন্মালে কেন শতদ্রু ? বাধ্য হয়েই তো তোমাকে এখানে ডেকে আনতে হল ! অনেকদিন হলো, আর যে তোমায় ছাড়া থাকতে পারছি না ! সরিতার গলায় তীব্র হাহাকার ! না না ! এ হয় না সরিতা ! জীবিতের সঙ্গে মৃতের মিল হতে পারে না ! প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও ! আমায় ছেড়ে দাও সরিতা ! আমি আর্তনাদ করে উঠলাম | তা আর হয় না শতদ্রু | আমি তোমাকে ছাড়া যে থাকতে পারছি না ...... এসো কাছে এসো ! আমি দেখলাম সরিতার কঙ্কাল আমার দিকে দুহাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে |আমি এক ঝটকায় চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম | সদর দরজা খোলা, সরিতার কাছ থেকে আমায় পালাতেই হবে ! সরিতার কঙ্কাল দুহাত বাড়িয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে..... আমি আর ভয় করি না, ওর আত্মা এই ঘরের বাইরে বেরোতে পারবে না ! ওই তো সামনেই খাদ, খাদ আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে ! ওই খাদ বড় সুন্দর, বড় বিপদজনক ! ওর সৌন্দর্যে বিলীন হতে ও আমায় ডাকছে....এ ডাক এড়ানোর সাধ্য কি ! ধীরে ধীরে মোহাবিষ্টের মতো এগিয়ে গেলাম খাদের দিকে ..... তারপর ...... ( সমাপ্ত )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now