বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পেত্নির সাথে সেই রাত

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বকুল রায় (০ পয়েন্ট)



X আমি রোজ জঙ্গলে যাই। সবার সাথে কথা বলি। সবাই আমাকে কতো ভালোবাসে। আমি ওদের সাথে থাকতে ভালোবাসি। ওদের সাথে আমি একাত্ম হয়ে গেছি। এভাবেই আমার দিন কাটছে। সেদিন তাদের সাথে থাকতে থাকতে রাত হয়ে এলো। আমি বাড়ি ফিরে আসতে থাকি। হঠাৎ কানে কার যেনো কান্নার আওয়াজ এলো। একটা মেয়ের কান্নার আওয়াজ। খুবই মায়াবী কন্ঠ। তার কান্না শুনে মনে হলো তার হৃদয়ে অনেক দুঃখ জমা হয়ে আছে। আমার মনে হলো রাতে আবার এখানে কোনো মেয়ে আসবে কোথা থেকে। সে কি কোনো বিপদে পরেছে নাকি। তাই আমি সেই শব্দের দিকে এগোতে লাগলাম। যেতে যেতে বটগাছের নিচে দাড়ালাম। কে যে কাঁদছে আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, কে কাঁদছো? সামনে এসো। কান্না থেকে গেলো। থমথমে নীরবতা বিরাজ করতে লাগলো। শুধু ঝিঁঝি পোকার ঝিঁ ঝিঁ আওয়াজ কানে আসছে। এরকম কাটলো কিছুক্ষণ। আমি আবার চিৎকার দিলাম, কে কাঁদছো সামনে এসো। তোমার কোনো সাহায্য দরকার হলে আমাকে বলো। তখন উত্তর এলো, পারবে আমায় সাহায্য করতে? -- আমি আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করবো। -- তবে শোনো। -- কিন্তু তুমি আগে আমার সামনে এসো। -- তুমি আমাকে দেখতে চাও? -- হ্যাঁ। বটগাছের নিচে চলে আসো। -- ভয় পাবে না তো আবার আমাকে দেখে? -- না পাবো না। তুমি আসো। আবার নীরবতা। এবার আর ঝিঁঝি পোকার ডাকও শোনা যাচ্ছে না। আমি ভাবলাম হয় তো সে সামনে আসছে। অনেকক্ষণ কেটে গেলো। আমি আবার বললাম, কোথায় গেলে। আমার কাছে এসো। সে উত্তর দিলো, তোমার চোখ দুটি বন্ধ করো। আমি না বলা পর্যন্ত চোখ খুলবে না। আমি চোখ বন্ধ করে থাকলাম। একটু পর সে বললো, এবার চোখ খোলো। আমি চোখ খুললাম। আর আমার সামনে একটি মেয়েকে দেখতে পেলাম। অসম্ভব সুন্দরী। চোখদুটো টানা টানা, ভীষণ মায়াবী। চাঁদনীর মতো মুখমন্ডল। চুলগুলো কোকরানো,বাধা নেই। লম্বা চুল তার পিঠে এসে পরেছে। তাকে আমি অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। একজোড়া মায়াবী চোখ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি তো বলেছিলে যে আমি তোমাকে দেখলে ভয় পাবো। তো কই আমি তো পাচ্ছি না। সে একটু এগিয়ে এলো,বললো, তুমি একটু এখানে আরাম করে বসো। আমি তোমাকে বলছি। আমি বটের একটা শেকড়ে বসে পরলাম। বললাম, তুমিও বসো। সে হাসলো। বললো, আমার বসা না বসা কিছুই যায় আসে না। -- একথা কেন বলছো? তুমি কি বসতে পারো না? -- পারি। কিন্তু আমার বসে থাকতে যেমন আরাম, তেমন দাড়িয়ে থেকেও একই আরাম। আচ্ছা তুমি যখন বলছ তখন বসি। এই বলে সে এসে একটা গাছের শেকড়ে বসে পরলো। তখন একটা দমকা হাওয়া এসে ওর চুল এলোমেলো করে দিলো। তারপর আমার দিকে তাকালো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি দেখে ও একটা মুচকি হাসলো। কিছু বললো না। আমি বললাম, তুমি রাতে এখানে কি করছো? -- রাতে কি বলছো! আমি সবসময় এখানে থাকি। -- আমার সাথে মজা করছো। -- মজা নয় সত্যি। -- কে তুমি? -- আমি ! বললে বিশ্বাস করবে না। -- কি যে বলো। তখন তো বললে আমি নাকি তোমাকে দেখে ভয় পাবো। পাইনি তো! সে আমার কথা না শুনে অন্যমনা হয়ে বললো, আমি পেত্নি। --কিহ্! এসব কি বলছো!! -- হুমম। বিশ্বাস হচ্ছে না তো। -- হুমমম। হচ্ছে। আর আমি তো ব্রহ্মদৈত্য। এটা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে? -- তুমি মজা ভাবছো? এই বলে সে উঠে দাড়ায়। আমাকেও দাড়াতে বলে। আমিও উঠে দাড়ালাম। সে আমার দিকে এগিয়ে আসলো। বললো, আমাকে ছুঁয়ে দাও, তাহলে সব বুঝতে পারবে। এই বলে সে তার ডান হাতটা আমার দিকে এগিয়ে দিলো। আমি বিস্মিত চোখে ওর দিকে তাকালাম। আর আমিও হাত বাড়িয়ে ওর হাতটা ধরার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ধরতে পারলাম না। অথচ ওর হাত ঠিক জায়গাতেই আছে। আমি আমার হাত নামিয়ে নিলাম। এবার বললো, তুমি ভয় পাওনি তাই না? এবার দেখো। আমি দেখলাম যে তার শরীরটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। সেখানে আরেকটা শরীর তৈরি হলো। একটা ভয়ঙ্কর পেত্নির শরীর। লম্বা চুল দিয়ে পুরো শরীরটা ঢাকা। সে তার হাত দিয়ে চুল সরিয়ে দিলো। তার কোনো চোখ নেই। চোখের ভ্রু নেই। চোখের জায়গায় দুটি কালো বৃত্ত। তার নাক ঠোঁট নেই। শুধু ঠোঁটের জায়গায় দুসারি ঝকঝকে দাঁত। তার কানদুটো কুলোর মতো চ্যাপ্টা আর বড়। আর তার শরীরটা একটা সাদা শাড়ি দিয়ে প্যাঁচানো। সে হঠাৎ দূর থেকে আমার খুব কাছে চলে এলো। একদম আমার চোখের উপর ওর চোখ। আমি ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলাম। সে বললো, এবার আমাকে ভয় লাগছে তো? এবার আর আগের মতো মায়াবী কন্ঠে নয়। ভয়ঙ্কর এক কন্ঠ ! তার কথা আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে ইকোর মতো বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো। তার শরীরের চাইতে কন্ঠটা অনেক ভয়ংকর। আমি বললাম, প্লিজ, তুমি এই কন্ঠে কথা বলো না। কন্ঠ পাল্টাও। এটা শুনে সে তার শরীরকে আবার আগের মতো করলো। তার সুন্দর শরীরটা দেখেও ভয় হতে লাগলো। কারণ, আমার সামনে সুন্দরী কেউ নয়। সে একটা পেত্নি। দুজনে অন্ধকারে নীরবে চুপচাপ বসে থাকলাম। সে নীরবতা ভেঙে প্রশ্ন করলো, এখনো ভয় পাচ্ছো? আমি মাথা নাড়িয়ে সায় দিলাম। সে বলে, আমাকে ভয় করো না। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। তুমি কি আমার বন্ধু হবে? বন্ধুত্ব! তাও আবার পেত্নির সাথে! হতেই পারে না। কিন্তু যদি না করে দেই তাহলে যদি আমার ক্ষতি করে। তাই হ্যাঁ বললাম। সে বলে, ভয়ে হ্যাঁ বলছো না তো? দেখো, তোমার যদি ইচ্ছে না থাকে তো না বলতে পারো। আমি কথা ঘুরিয়ে বললাম, আমি তো বলেছিলাম তোমাকে সাহায্য করবো। এখন তো দেখি তোমাকে কোনো সাহায্য করতে হবে না। -- একথা বলছো কেন? -- তুমি তো যা ইচ্ছা তা একাই করতে পারো। -- কিন্তু বন্ধু! তাকে কোথায় পাবো? -- তুমি কি বলতে চাও যে আমি যদি তোমার বন্ধু হই হলে তোমাকে সাহায্য করা হবে? -- হুমমম। কারণ একা একা এখানে থাকতে বোর হচ্ছিলাম। তাই কেঁদে সময় কাটাচ্ছিলাম। ওর কথা শুনে আমি জোরে হাসতে শুরু করলাম। বললাম, বোরিং এর জন্য কেঁদে ফেলছো! সে একটু রাগি লুকে আমার দিকে তাকালো। বললো, প্রেতদের মতো হেঁসো না। -- কিহ্! আমি প্রেতদের মতো হাসি!! আমি তো প্রেত না, আমি হলাম ওঝা। আমার কথা শুনে ও শক খেলো। বিস্মিত চোখে জিজ্ঞেস করলো, তু তুমি ওঝা??!! -- হুমমম। মন্ত্র পরে তোমাকে বশ করবো নাকি? -- এই না না। তুমি এমনটা করো না। আমার বয়ফ্রেন্ড তোমাকে মেরে ফেলবে! -- আরিব্বাস! তোমারও বয়ফ্রেন্ড আছে! --হুমম। আমার কিছু হলে সে তোমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। -- হ্যাঁ হ্যাঁ মেরে ফেললেই ভালো ! জীবনে কোনো মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারলাম না। একটা পেত্নি পেলাম। তো তারও বয়ফ্রেন্ড আছে!!! -- এসব কি পাগলের মতো প্রলাপ বকছো। মদ খেয়ে এসেছো নাকি? বলো তো তুমি কে? ওঝা নাকি? -- আরেহ্, আমি বাস্তবে না। অনলাইনে ওঝা ছিলাম। -- এটা আবার কি রকম? -- হয়েছে সেটা আর তোমাকে শুনতে হবে না। ওহ্, তোমার তো নামটাই জানা হলো না! -- আমার নাম! আসলে আমার নামের ঠিক নাই। -- কেন? নামে আবার কি সমস্যা? -- আমার একেক জায়গায় একেক নাম। -- যেমন? --ব্লাকবুকে অ্যাঞ্জেল কেবি, সিড়িয়া কিউটি, পিনেতে ট্যালমা টিসু, আমি ওর নাম শুনে আমার হাসি পেলো। হাসতে হাসতে বললাম, তুমি তাহলে পেত্নি থেকে অ্যাঞ্জেল! টানিয়া ছিঁড়িয়া আর টিস্যু পেপার!!! তখন ও রাগে গজগজানি শুরু করলো। আর পেত্নির রূপ ধরে বললো, দিবো নাকি তোমার ঘাড় মটকে? -- আরে রাগ করলে নাকি! ঠিক আছে বাবা স্যরি। -- হুমম। এবার ক্ষমা করলাম। -- তো বললে না তো তোমার আসল নাম কি? -- আগে তোমার নাম বলো। -- আমার নাম হলো বকুল রায়। এবার তোমার নাম বলো। -- আমি বলবো না। -- মেয়েদের এই সমস্যা। -- হ্যালো, আমি মেয়ে নই। পেত্নি আমি, বুঝলে। --হুমমম। তারপর সব চুপ। এক নীরবতা। আমি যেন কি একটা অনুভব করছি। নিজেকে যেনো কেমন লাগছিলো। মাঝে মাঝে হাওয়া এসে ওর চুলে লাগছিলো। চুলগুলো উড়ছিলো। ওর মুখটি দেখে মনেই হচ্ছিলো না যে আমার সামনে এটা একটা পেত্নি। ওর প্রতি এক অজানা টান মনে হচ্ছে।এই নীরবতা ভালো লাগছে না। -- বকুল, -- কি? -- কই কি। -- ডাকলে কেন? -- এমনি। -- পেত্নি, -- বলো, -- কি বলবো? -- জানি না। -- কেন? -- আমার একটা পেত্নি দরকার। প্রেম করার জন্য। -- আমি কোথা থেকে পেত্নি দিবো? নেই কেউ। -- তুমি তো আছো। -- আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। -- ধুরর, আমার সাথে মজা করছো। আবার কিছুক্ষণ চুপ। বললো, ওসব চিন্তা ছাড়ো। -- আমিও মজা করছিলাম। বন্ধু হয়ে থাকবে? -- হুমমম। এখানে রোজ আসবে তো? -- আমি রোজ বিকেলে এখানে আসি। -- আমি তো দিনে আসতে পারি না। যদি তুমি সন্ধ্যায় থাকো তাহলে আমাকে পাবে। দেখো ভোরের আলো ফুটছে। একটু পর ঊষাকাল উপস্থিত হবে। তখন আমি যেতে পারবো না। এখন আমাকে যেতে হবে। -- ওকে, বিদায়। (সমাপ্ত=অসমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪২১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...