বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(????The secret devil????)
লেখক - Mehedi Hasan Rakib
"- কি রে' আর কতোক্ষণ ? সে কখন থেকে সবাই তোর অপেক্ষায় বসে আছি । তুই কি আদো "আসবি নাকী আজকেও আমাদের কারও যাওয়া হবে না ?
- এই তো আম্মু এসে গেছি । আর কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসছি ।give "me just "5" minutes।
- সেটা তো প্রায় ২ ঘন্টা ধরে বলে আসছিস । আর কতো অপেক্ষা করাবি বলতো ? সে কখন বাইরে বের হয়ে গেছিস গ্রামের বাড়ি যেতে হবে সেটা কি ভুলে গেছিস ?
- আমি কিচ্ছুই ভুলি নি । তোমরা সবাই রেডী হয়ে বাইরে চলে আসো । আমি জাস্ট পৌঁচ্ছোলাম বলে ।
- সেটা নাহয় বুঝলাম কিন্তু এতোক্ষণ বাইরে কি করছিস সেটা কি জানতে পারি মহা রানী ?
- নানুর বাসায় ঘুরতে যাচ্ছি তাই ফ্রেন্ডসদের সাথে দেখা করতে এসেছি ।
- তাই !! তা সে ফ্রেন্ডসটা ছেলে না মেয়ে শুনি ?
- আম্মু তুমিও না !! কি যে বলো । আমি এখন সোমার সাথে আছি । বিশ্বাস না হলে সোমার সাথে কথা বলে দেখতে পারো । অযথা আমায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ো না ।
- থাক আর বলতে হবে না । আপনি কেমন তা "আমার খুব ভালো করে জানা আছে । এখন জলদী বাসায় চলে আয় । তোর আব্বু কিন্তু বার 'বার তোর কথা জিজ্ঞাসা করছে । আমি এটা সেটা বলে বুঝিয়ে রেখেছি । তিনি যদি জানতে পারে তার আদরের মেয়ে এখনও বাসায় বাইরে তাহলে কিন্তু তোর কপালে খারাবি আছে ।
- এ ভুল "ভুলেও করো না । আব্বু জানতে পারলে আমার খবর করে ছেড়ে দেবে । তুমি একটু আব্বুকে বুঝিয়ে রাখো আমি এখুনি আসছি ।
- হুম..জলদী আয় ।
আর কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দিলো ।
- আন্টি ফোন করে ছিলো...? ( রাকিব )
- হ্যাঁ । এখুনি বাসায় ফিরতে হবে । আব্বু নাকী আমায় খুঁজছে । ( ইতি )
- এই মাত্র তো এলে !! এখুনি চলে যাবে ?
- সে কখন বাসা থেকে মিথ্যা বলে তোমার কাছে এসেছি ! আর তুমি কি না বলছো এইমাত্র এলাম ? অনেক হয়েছে আর নাহ্ । এবার আমায় বাসায় ফিরতে হবে । সবাই আমার অপেক্ষায় বসে আছে ।
- আরেকটু থাকো না প্লিজ । পুরো একমাস তোমায় দেখতে পাবো না । এখন তো একটু শান্তি মতো তোমায় দেখতে দেও ।
- অনেক দেখা হয়েছে আর নাহ্ । এবার আমায় যেতে হবে । আর এমনভাবে বলছো যেনো আমি চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি !! সামান্য ঘুরতেই তো যাচ্ছি নাকী ? কিছুদিন পর তো চলেই আসবো ।এবার আমি আসি ।
- এই দাড়াও না প্লিজ !!
- আবার কি হলো ?
- বলছি চলেই তো যাচ্ছো এতো সময় যখন তোমায় দেখতে পাবো না তার জন্য কি কিছু একটা দিয়ে যাবে না ?
- কি !! কি নেওয়ার কথা বলছো তুমি ?
- তেমন কিছু না শুধু সামান্য একটু মিষ্টি ছোয়া চাই। দেও না প্লিজ ।
- মানে কি !! একদম উল্টো পাল্টা কিছু মাথায় আনবে না । আমি তো বলেই দিয়েছি যা কিছু পাওয়ার আছে সব আমাদের বিয়ের পর পাবে । তার আগে এগুলো একদম ঠিক না । আমি এসব পছন্দ করি না ।
- তোমার বয়'ফ্রেন্ড' আমি। আমার কি সামান্য তমো রাইটো 'নেই তোমাকে ছোয়ার ? প্লিজ একটু আদর করে দেও না ?
- বললাম তো বিয়ের আগে এসব কিছুই হবে না । সময় হোক অপেক্ষা করো সব পাবে । এখন আমি আসি ।
- হুম....। ( মন খারাপ করে )
- বাবু রাগ করো না প্লিজ । আমি নানু বাসায় যাচ্ছি তো কি হয়েছে ফোন তো আছেই তাই না !! সারাক্ষন তোমার সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখবো ।
- হুম...।
এতি আরও কিছুক্ষণ রাকিবকে এটা সেটা বুঝিয়ে সেখান থেকে সোজা বাসায় চলে আসলো ।
- কি ব্যাপার আম্মু তোমরা এখনও এভাবে বসে আছো কেনো ! নানু বাসায় যাবে না ?
- কেনো বসে আছি সেটা কি মহা রানী আপনি জানেন না ?
এখন ফেরার সময় হলো আপনার? ফ্লাইটের আর মাত্র ১ ঘন্টা সময় আছে ।
- চিন্তা কেনো করছো । আমি এসে গেছি তো নাকী ? চলো এবার রওয়া দেয়া যাক ।
- হুম চলেন....। ( এতির মা )
ইতি বাসায় ফিরলে সবাই একসাথে দিনাজপুরে নানুর বাসার উদ্দেশ্য বের হয় । প্লেনের টিকিট আগে থেকে কাটা ছিলো বলে বেশি সময় লাগে নি । তার পরেও সৈয়দপুর পুর থেকে বাকী রাস্তা গাড়ি করে ফিরতে হয় । ইতিরা আসবে বলে ইতির নানু আগে থেকে এয়ারপোর্টে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ।
- যাক অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছোতে পারলাম । কিন্তু আম্মু বুড়ো কি আমায় চিনতে পারবে ?
- না পারার কি আছে !! তোর ছবি তো আগে থেকেই দেখেছে ॥
- সেটা অবশ্য ঠিক ।
রাতে বাসায় পৌঁছালে সবাই ইতিদের অনেক আদর আপ্পায়ন করে । ইতিকে দেখে নানুর বাসার সবাই অনেক খুশি । সবাই নানান কথা বলে তাদের বিশ্রাম নিতে পাঠালো ।
এদিকে ইতিও ভিষণ ক্লান্ত জার্নি করে তাই আর বেশি কিছু না বলে রুমে চলে গেল আরাম করার জন্য ।
- কি গো" বৌ "আর কতো ঘুমোবি শুনি ? আমার বাসায় কি ঘুমোনোর জন্য এসেছিস নাকী ? (নানু )
- আহ" বুড়ো এখন যাও তো । আমি ঘুমোবো ।
- শালি বেলা সকাল ১০ বাজে । এখনও পরে "পরে ঘুমোবি ?
- বলো কি !!এতো জলদী সকাল হয়ে গেলো ?
- হুম...।এখন ওঠ । নিচে সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে ।
- বুড়ো তুমি যাও আমি এখুনি আসছি ।
- জলদী আয় ।
আর শুয়ে থাকা হলো না । বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে সবার সাথে নাস্তা করে নিলো ইতি ।
-আম্মু আমি একটু বাইরে বের হচ্ছি । কিছুক্ষণ পর ফিরবো । (ইতি )
- একা একা যাসনা সঙ্গে কাউকে নিয়ে বের হস । তুই একা গ্রামে ঘুরতে পারবি না । ( মা )
- কি যে বলো না !! আমি কি এখনও ছোট্ট বাচ্চা নাকী ? নিজের খেয়াল আমি খুব ভালো করে রাখতে পারি ।
- হুম বুঝেছি । আচ্ছা দেখে শুনে বের হোস ।
- হুম...।
কাল থেকে রাকিবকে ফোন দেয়া যায়নি "ব্যাচারা মনে হয় সেই রাগ করে আছে। ফোনটা বের করে আগে রাকিবকে ফোন দিলো কিন্তু নাহ্ ফোন ব্যাস্ত দেখাচ্ছে । ব্যাস"কয়েকবার ট্রাই করার পরেও যখন ফোন রিসিভ হচ্ছে না তখন রাগে এথী আর কোনো ফোন দিলো না ।
মেয়েটার মাথা অনেক গরম হয়ে যাচ্ছে । ইতির মাথায় রাগটা একটু বেশিই ।রাগে গজ "গজ করতে করতে হঠাৎ একটা বড় পুকুরের কাছে চলে এল ।
পুরো পুকুরটাই সুন্দর করে সিমেন্ট দিয়ে চার পাশ বাধাই করা ।
ইতির হঠাৎ চোখ গেলো পুকুর পারে থাকা পেয়ারার গাছটার দিকে । অনেকগুলো মিষ্টি "মিষ্টি পেয়ারায় ভরে আছে ।
ইতির আর তর "সইলো না । ফোনটা মুখে নিয়ে আস্তে আস্তে গাছটায় চড়ে পড়লো ।যদিও বা ইতি কোনোদিন গাছে উঠে নি । কিন্তু আজকে গাছে উঠতে খুব ইচ্ছে জাগলো ওর । সব কিছু ঠিকই অাছে । পেয়ারার গাছটা বেশি বড় না বলে অপ্লতেই উঠে গেল।
"গাছে উঠে যখন পেয়েরা গুলো হাতে পেলো তখন ইতির খুশি দেখে কে !! পেয়রা হাতে পাওয়ার খুশিতে ইতি " এটা ভুলে গেছে যে ব্যাচারী গাছে বসে আছে ।
হাত ছেড়ে লাফাচ্ছিলো । ব্যাস"তাতে যা হওয়ার তাই হলো । গাছটা ছিলো একদম পুকুরটার দিকে হেলানো । তাল "সামলাতে না পেরে ইতি' গিয়ে সোজা পুকুরের মাঝে পড়লো ।
ইতি"কে এভাবে পুকুরে পড়ে যেতে দেখে কেঊ একজন দুর থেকে সেই হাসি হাসছে । এদিকে ইতি"আবার সাতার জানে না । পুকুরের পানি গভীর থাকার ফলে ইতি" পানিতে ডুবে যাচ্ছিলো । যে ছেলেটা এতোক্ষণ ধরে হাসছিলো ইতিকে এভাবে ডুবতে দেখে সেও সোজা পানিতে নেমে গেল । ইতি ডুবে যাওয়ার আগ মুহুর্তে ছেলেটা গিয়ে ওকে তুলে নিলো ।
ব্যাচারী ইতি " মরতে মরতে বেচে গেল । পুকুরের মিষ্টি পানি ভালো ভাবে পান করেছে । পানিতে পরে যাওয়ার কারণে ভয়ে সেন্সলেস "হয়ে গেছে ।
এদিকে ছেলেটা এখন কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না । শেষে কোনো উপায় না পেয়ে ইতিকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে পেটে চাপ দিতে থাকে । এভাবে কিছুক্ষণ চাপ দেয়ার ফলে বেশ কিছু পানি ইতির মুখ থেকে বের হয়ে আসে । এক সময় হঠাৎ ইতি কাশতে 'শুরু করে ।
- আপনি 'ঠিক আছেন তো ?
- হুম...। থ্যাংক্স " । তুমি না থাকলে আজকে আমি শেষ হয়ে যেতাম ।
- হুম.....।
- আমি ইতি । তুমি...? ওহ্ স্যরি "তুমি করে বলে ফেললাম..!
- আমি সাকিল । আপনি কি এখানে নতুন এসেছেন ?
- হুম..নানুর বাসায় ঘুরতে এসেছি । সামনেই নানুর বাসা ।
-ওহ্ তা আপনার নানুর নাম কি ?
- শফিক "আহম্মেদ । আমি তার একমাত্র নাতনি ।
- আপনি শফিক দাদুর বাসায় এসেছেন ?
- হুম...তুমি চেনো নাকী ? (অবাক হয়ে )
- না চেনার কি আছে !! আমি তো প্রায় প্রতিদিন শফিক দাদুর বাসায় যাই । তা আপনি এদিকে কই যান ?
- আমাকে আপনি করে কেনো বলছো !! তুমি করে বলবে আমি তোমার বয়সে ছোট হবো ।
-হুম..।
- বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগছিলো না ! তাই একটু এলাকাটা ঘুরে দেখতে বের হয়েছিলাম । সব কিছু ঠিকি ছিলো মাঝখানে গাছে উঠতে গিয়ে এতো কান্ড হয়ে গেল । (ঘাড়ে হাত দিয়ে )
- ব্যাপার কি ! বার বার ঘাড়ে হাত দিচ্ছো কেনো ?
- নাহ্ কেনো জানি ঘাড়টা খুব চুলকোচ্ছে । মনে হচ্ছে ঘাড়ে কিছু একটা আছে । এই তো পেয়েছি ।
- কই দেখি ?
-এই যে... আঊ..কি..কি..কি এ ..এটা ? (ভয়ে ভয়ে )
- আরে এটা তো একথা জোগ । বলতে তো ভুলেই গেছিলাম এ পুকুরে এমন হাজার জোগ আছে । ভালো করে খুজে দেখো শরীরে আরও পাবে ।
- মা..মা..আনে....!! কি...কি..কি বলছো এগুলো ? ( কাপাঁ কাপাঁ গলায় )
হাত থেকে জোগটা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ভয়ে নিজের দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে দেখতে লাগলো । এপাশ ওপাশ ভালো করে খুঁজে দেকলো কিন্তু কথাও কিছু নেই । তবে হঠাৎ হাতের দিকে তাকিয়ে দেখতেই ভয়ে চিৎকার করে লাফানো শুরু করলো ।ভয়ে এমন করে ছুটো ছুটি শুরু করে দিয়েছে যেনো কোনো বড় ভুত দেখে ফেলেছে ।
জোগটা অনেকবার হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করার পরেও যখন ছুটোতে পারছিলো না তখন ভয়ে দৌড়ে গিয়ে সাকিলকে জড়িয়ে ধরলো । ভয়ে এমন শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে যেনো পুরো সাকিলের মাঝে লুকিয়ে যাবে ।
এদিকে সাকিল কি করবে কিছু ভেবে পাচ্ছে না । অনেক কষ্টে নিজেকে ইতির থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তারপর ওর হাত থেকে জোগটা সরিয়ে দিলো ।
ইতির যেনো তারপরেও ভয় কাটছে না । ভয়ে বাচ্চা মেয়েদের মতো কেদেঁ ফেলেছে । ইতিকে এভাবে কাদঁতে দেখে সাকিল আর নিজের হাসি ধরে রাখতে পারলো না । শব্দ করে হাসতে শুরু করলো । সাকিলকে এভাবে হাসতে দেখে ইতির কান্নার গতি' যেনো আরও বেড়ে গেল ।
অবস্থা বেগতির দেখে সাকিল হাসা বন্ধ করে 'ইতিকে বেশ কিছুক্ষণ বুঝিয়ে কান্না থামালো ।
- হইসে তো একটা মেয়ে হয়ে এভাবে কাদাঁর কি আছে । এবার তো চুপ যাও ।
- ওটা কি ভাবে আমার হাতে চেপে ধরে ছিলো তুমি দেখেছিলে !! আর একটু হলে তো আমি মরেই যেতাম । (কাদঁতে কাদঁতে )
- ধুর সামান্য এটুকুতে কেউ মরে নাকী ? তুমি অযথাই ভয় পাচ্ছিলে । আমাদের এখানে ছোট্ট বাচ্চারাও তো এদের ভয় পায় না । আর তুমি কি না সামান্য .....হি..হি...
- একদম হাসবে না । ঘুসি মেরে নাক ফাটিয়ে ফেলবো । আমি কাদঁছি আর এদিকে আপনি হাসছেন ? খবরদার হাসবে না । (রাগি গলায় )
- আচ্ছা ভুল হয়ে গেছে আর হাসবো না ।
- হুম....।
- এখন তাহলে বাসায় যাও গিয়ে এই ভেজা কাপড় গুলো বদল করে ফেলো । তা না" হলে পরে ঠান্ডা লেগে যাবে ।
- হুম ঠিকি বলেছো। আচ্ছা তোমার বাসা কথায় ?
- এই তো সামনেই । কেনো ?
- আচ্ছা আমরা কি ফ্রেন্ডস 'হতে পারি ?
- আমার সাথে বন্ধত্ব্য 'করবে ...?
- কেনো বন্ধু বানানো যাবে না আমায় ?
- সেটা বলিনি ।কিন্তু ........?
- কোনো কিন্তু নয় । আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ডস ওকে "।
- হুম...।
- আমি এখন বাসায় গেলাম পরে কথা হবে । বাই " ..।
- হুম...ঠিক আছে......।
ইতি" আর ভেজা কাপড়ে দাড়িয়ে না থেকে সাকিলের ওখান থেকে সোজা নানু বাসায় চলে এল ।
বাসায় গিয়ে চেন্জ "করে ফেলে আগে অন্য আরেকটা ফোন দিয়ে রাকিবকে ফোন করলো । ইতির ফোনটা তো পানিতে পরে পুরো শেষ হয়ে গেছে ।
সেদিনের মতোদিনটা এমন ভাবেই কেটে গেল । পরের দিন আবারও সকাল বেলা বাসা থেকে বের হয়ে এল ।
-কি হলো কথা গুলো "clear "শোনা যাচ্ছে না কেনো ? (রাকিব )
- কি যে বলো না তুমি !! কই আমি তো সব "clear"শুনতে পাচ্ছি । ( ইতি" )
- হুম..। আচ্ছা এখন কই আছো তুমি ?
- এইমাত্র তোমার সাথে ফোনে কথা বলবো বলে বাসা থেকে বাইরে বের হয়ে এলাম ।
- আর কতোদিন থাকবে ওখানে ? ঢাকায় চলে আসো না plz...।
- পাগল হয়ে গেলে !! কতোদিন পর নানুর বাসায় আসলাম । তাছাড়া এখানে আসার কেবলমাত্র একদিন হলো তাতেই বলছো ফেরত আসতে ? আব্বু শুনলে কেমন পিটুনি দেবে জানো ? ( ইতি )
- অমি এতো কিছু জানি না । তোমায় ছাড়া একা একা কিছুই ভালো লাগছে না । বার বার" শুধু তোমার cute" 'sweet "মুখ দেখার ইচ্ছে করছে । চলে আসো না please "
- এমন কেনো করছো বাবু !! মাত্র তো কয়েকটা দিন । একটু কষ্টে করে সামলে নেও ।
-হুম...।
- এখন তাহলে রাখি কেমন ?
- ok" bye..love u......।
- love u..too....।
রাকিবের সাথে কথা বলতে বলতে ইতি বেশ খানিকটা দুরে চলে আসে । আশে পাশে তাকিয়ে দেখে বেশ কিছু ছেলে মিলে মাঠে " cricket "খেলছে । ইতি কিছুক্ষণ তাদের খেলা দেখে আবারও সামনে হাটা শুরু করলো ।
- আরে আপনি এদিকে ? ( সাকিল )
- এইতো । তুমি এদিকে কি করছো !! আর আমায় আবারও আপনি করে বলছো ? বলেছিলাম না তুমি করে বলতে । ( হালকা রাগি স্বরে )
- দুঃখিত " আসলে মনে ছিলো না ।তা কি করছো এদিকে ?
- আজকেও কালকের মতো ঘুরতে বের হয়েছি ।
- একা "একা কথায় ঘুরবে ? সঙ্গে কাঊকে নিয়ে আসো নি !
- আমি কি ছোট্ট বাচ্চা নাকী !! নিজের খেয়াল খুব ভালো করে রাখতে পারি । তাছাড়া আমি বাসা থেকে বের হয়ে তোমাকেই খুঁজছোলাম ।
- আমায় খুঁজছিলে মানে !! আমায় দিয়ে কি কাজ ?
- সঙ্গে ঘুরবো বলে । এখন বলো এতো সকাল সকাল সাইকেল নিয়ে কই যাও ?
- এই তো একটু সামনের মোড়ে কাজে যাচ্ছি। চলে আসবো কিছুক্ষণ পর ।
- এই আমিও যাবো তোমার সাথে । আমাকেও সাথে নিয়ে যাও না please "।( খুশি হয়ে )
-যেতে চাইছো আসো । কিন্তু সাইকেলে বসবে কথায় ? বসার মতো তো কোনো জায়গা নেই ।
- কে বলেছে নেই !! সামনে বসবো । আমাকেও তোমার সাথে নিয়ে চলো না please "।
- আচ্ছা আসো ।
- হুম...।
- কি হলো দাড়িয়ে রইলে কেনো !! আসো সাইকেলে বসবে না ?
- আসলে বসবো কিভাবে সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না । আমি না এর আগে কোনোদিন সাইকেলে বসিনি । একটু 'help' করো না please ।
- বুঝেছি । আচ্ছা দাড়াও ।
- হুম....।
এরপর ইতিকে ভালোকরে সাইকের সামনে বসিয়ে নিলো সাকিল । সাইকেলে বসতে পেরে ইতির খুশি দেখে কে ! এর আগে কোনোদিন কারো সাইকেলে চেপে কথাও যায় নি তাই ফুর ফুরে মন নিয়ে চারদিক ঘুরে দেখতে লাগলো ।
সাকিল যে কাজে মোড়ে গেছিলো সেটা শেষ হলে ইতিকে নিয়ে সোজা নদীর পাড়ে চলে আসে ।
- বাহ্ জায়গাটা তো অনেক সুন্দর । নদীটাও অনেক বড় ।
- আমারও এ জায়গাটা অনেক ভালো লাগে । প্রায় এখানে বেড়াতে আসি ।
- চলো না একটু সামনে গিয়ে বসি ।
- হুম ..চলো......।
ইতি" 'সাকিল দুজনি একটা ভালো জায়গা দেখে বসে পড়লো ।
- আচ্ছা তোমার পুরো নাম কি...!! কালকে তো ভালো করে পরিচিত হওয়া গেলো না ।
- আমি সাফিন । সাফিন আহম্মেদ সাকিল ।
- তোমার পরিবারে কে "কে আছে ? আর পড়াশোনা কতোটুকু করছো ?
- পরিবার বলতে মা -বাবা আর আমি । পড়াশোনা আর করি না ।
- কিসে "পর্যন্ত পড়েছো তুমি ?
- একটা গ্রামের ছেলে আর কতোটুকু পড়তে পারে । সবি তো জানো ।
- sorry " । তা কি " job" করছো এখন ?
- এখন কিছু করছি না । বাবা এখানকারি একটা সরকারি কলেজের শিক্ষক । কাজ এখনো কিছু করছি না তবে খুজছি ।
- কি ধরণের কাজ করতে চাও তুমি ?
- যেটা আমার সাদ্ধের মাঝে করা সম্ভব ।
- হুম...। আচ্ছা তোমার সমন্ধে সব তো জিজ্ঞাসা করলাম আমায় কিছু জিজ্ঞাসা করবে না ?
- হুম...। তুমি বললে শুনবো ।
- আমি ইতি চৌধুরী । আব্বু - আম্মুর একমাত্র আদরের মেয়ে ।পড়াশোনা প্রায় শেষ । ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি । আর কিছুদিন study complete "হয়ে যাবে ।
- এরপর কি করবে ?
- ভাবছি study 'ক্ষতম 'হলে আব্বুর অফিসে join"করবো ।
- হুম...। ভালো ।
- এবার আমরা কই যাবো ?
- এখান থেকে সোজা বাসায় ফিরবো । দুপুর তো হয়ে গেল । খিদেও লেগে গেছে ॥ বাসায় গিয়ে আগে পেটপুরে খাবো ।
- কথাটা মন্দ বলো নি । খিদে আমারও অনেক লেগেছে । চলো তোমার বাসায় যাবো ।
- আমাদের বাসায় যাবে...?
- হুম ...কেনো নিয়ে যাওয়া যাবে না !নাকী নিয়ে যেতে চাইছো না ? না নিয়ে যেতে চাইলে বলো আমি বাসায় চলে যাবো ।
- আরে ধুর আমি কি সেসব কোনো কথা বলেছি নাকী !! উল্টো তোমায় দেখলে আম্মু sorry "মা অনেক খুশি হবে ।
- আচ্ছা একটা সত্য কথা বলো তো তুমি কিসে পর্যন্ত পড়েছো ?
- সেটা জেনে আর কি হবে ! তার চেয়ে বরণ এখন বাসায় যাওয়া যাক ।
- হুম...। ( কিছু একটা ভেবে )
ইতিকে নিয়ে সাকিল সোজা নিজেদের বাসায় চলে এলো । সাকিলদের বাসায় এসে ইতি কিছুটা অবাক হয়ে যায় । অবাক হওয়ারি কথা ! সাকিলের কথা বার্তা "চাল চলোন 'কোনো কিছুর সাথে বাসাটার মিল যাচ্ছে না ।
- কি হলো এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো ? ভেতরে চলো ।
-এ বাড়িটা কি তোমার ?
- হুম কেনো ? কোনো সমস্যা ?
- নাহ কিছু না । চলো ।
বাসার ভেতরে গিয়ে ইতি সাকিলের মাকে দেখে আরও বেশি করে অবাক হয়ে যায় । এ যে আর কেঊ না ঐথীর আম্মুর ছোট্ট বেলার বান্ধবী তানিয়া আন্টি । ইতি সাকিলের মাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে আগে সালাম করলো ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now