বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইসলাম সব সময় সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। মুসলমানদের পারস্পরিক সংহতিকে পবিত্র কোরআনে ‘সিসা ঢালা প্রাচীরতুল্য’ বলা হয়েছে। সৃষ্টিগত কারণে পৃথিবীর সব প্রান্তের সবাই এক বা অভিন্ন উৎসজাত মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একজন পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার জুটি সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের উভয়ের থেকে অসংখ্য নর-নারীর বিস্তার ঘটিয়েছেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)
আরো স্পষ্ট ভাষায় মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১০)
প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি মুমিনগণকে পারস্পরিক করুণা প্রদর্শন, পারস্পরিক সহানুভূতি প্রদর্শনের দিক থেকে একই দেহের মতো দেখতে পাবে। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ কষ্ট অনুভব করে, তখন গোটা দেহটই জ্বর-নিদ্রাহীনতা দ্বারা এর প্রতি সাড়া দিয়ে থাকে।’ (বুখারি)
তিনি আরো বলেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার প্রতি অত্যাচারও করে না, তাকে শত্রুর কাছে সমর্পণও করে না।’
এ জন্যই ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষে মানুষে সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত :
বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধ-অবৈধতা।
=উত্তরাধিকারের বিধান।
=পর্দার বিধানগত বাধ্যবাধকতা।
=আত্মীয়-স্বজনের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা।
=পাড়া-পড়শির অবস্থানগত প্রীতিময়তা ইত্যাদি।
অথচ আমাদের মনগড়া সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তথাকথিত সম্বোধন-সম্ভাষণের সঙ্গে ধর্মীয় বিধি-বিধানের ন্যূনতম অনুমোদন নেই।
কারণ ইসলামে আত্মীয়তা তৈরি হয় :
ক) রক্তের সম্পর্কে।
খ) বৈবাহিক সম্পর্কে।
গ) মাতৃদুগ্ধ পানজনিত সম্পর্কের মাধ্যমে (দুধভাই, দুধমা ইত্যাদি)।
আত্মীয়তার সম্পর্কের সঙ্গে জন্মগত ও বিধানগত পথ ধরে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ধারণা তৈরি হয়। যেমন—‘যাদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ ও সাক্ষাৎ অনুমোদিত।’ নারী-পুরুষের বিপরীতে এমন মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় ‘মাহরাম’। ‘যাদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ, তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ’ অর্থাৎ হারাম। এমন মানুষকে বলা হয় ‘গাইরে মাহরাম’।
‘গাইরে মাহরাম’দের একত্রে ভ্রমণ, অহেতুক গল্পগুজব, আড্ডায় যেন জঘন্য পাপাচারের পথ খুলে না যায়, সে জন্যই ইসলামের কঠোর অবস্থান।
চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বোনকে বিয়ে করা অনুমোদিত। তালতো ভাই-বোন বা বিয়াই-বিয়াইনসহ এই চার প্রকার বোনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, সামনাসামনি কথা বলাও হারাম। আর ‘দুলাভাই ভাই’য়ের মতো ও ‘শ্যালিকা বোনে’র মতো বললেও এ সম্পর্কগুলো দ্বারা দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধার গুরুত্ব তৈরি হলেও এ সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে পর্দার বিধান শিথিল নয়। আর দেবর হলো হাদিসের ভাষায় ‘সাক্ষাৎ যম’।
‘দেখা যায়, সামাজিক কাজকর্মে আমরা কিছু মানুষকে আপন ভাবতে শিখি এবং তাদের সঙ্গে বন্ধনে জড়িয়ে যাই।’
অথচ ওই সম্পর্কগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে আদৌ আত্মীয়তার সম্পর্ক নয়। এমনই অনেক সামাজিক সম্পর্ককে আমরা আত্মীয়তার মতোই নিবিড়তায় আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরি। কিন্তু এমন সম্পর্কগুলোর পথ ধরেই পাপ, পরকীয়া, পর্দার লঙ্ঘন ইত্যাদি কবিরা গুনাহের পথ খুলে যায়। যেমন—
ক) ধর্মের ভাই, ধর্মের মা, ধর্মের বোন।
এগুলো নিছক কথার কথা। ইসলামে এমন সম্পর্কের অনুমোদিত ভিত্তি নেই। যদিও মূলগত কারণে সব মানুষ ও সব মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই।
খ) উকিল বাপ।
পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের বন্ধন তৈরির জন্য যেমন সাক্ষী লাগে, তেমনি থাকেন মধ্যস্থতাকারী বা উকিল। এমন উকিল হওয়ার অর্থ বাপ-মেয়ের সম্পর্ক নয়। বরং এমন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পর্দা রক্ষা করা জরুরি।
গ) পালিত সন্তান।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে পালিত সন্তান ‘প্রকৃত সন্তান’ নয় এবং সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হয় না।
ঘ) পীর ভাই, নেসবতি ভাই, তাবলিগি ভাই—
এ ধরনের সম্পর্ক নিতান্তই আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। কিন্তু এমন সম্পর্কের কারণে প্রকৃত আত্মীয়তা তৈরি হয় না।
ঙ) শিক্ষক-ছাত্রী (পিতা-কন্যাতুল্য), পাড়া-পড়শি ভাই, স্কুল-কলেজের বড় ভাই।
ইসলামের দৃষ্টিতে অনুমোদিত সম্পর্ক নয়। বরং স্নেহ-ভালোবাসা ও ভক্তি-শ্রদ্ধার সম্পর্ক হলেও এগুলো নিছক প্রীতিময় আবেগের বন্ধন মাত্র। এসব ক্ষেত্রেও শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য।
কিন্তু ,এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা শোনা যায়,-তারা শুধু আপন ই নয়, আপনের চেয়েও বেশি কিছু! খুবই হাস্যকর পাগলামী ধরনের কথা বার্তা।
‘পর্দা’ একটি ‘সার্বক্ষণিক ফরজ’। বিশেষত, বাকারা, নিসা, আহজাব ইত্যাদি সুরার নির্দেশনাসহ সুরা নূরের ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত পর্দার বিধান মেনে চলা তথাকথিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু প্রযোজ্যই নয়, বরং জরুরি। আফসোস! আধুনিকতা, যুক্তির চাতুর্যে ইদানীং অনেকেই মহান আল্লাহর বিধানের বিষয়ে উদাসীন। অন্যদিকে নারী-পুরুষের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি এবং আল্লাহর বিধান পালনে সামান্যতম শৈথিল্য জঘন্যতম মহাপাপ।
আমাদের সমাজে এটা এতোটাই প্রভাবিত যা কল্পনাও করা যায় না। আপনি ভাবছেন এটা যারা জানে না তারা মানে! একদম ভুল। এই ধরনের সম্পর্ক যারা তৈরি করে তারা আল্লাহর হুকুম জানে। জেনেও অমান্য করে চলে। কারণ,তারা উদাসীন। মৃত্যুর আগে তাদের হুশ হবে কি না আল্লাহ জানেন!
Collected
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now