বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনিশ্চয়তায় ঘেরা অমাবস্যার গভির কালো অন্ধকারে থাকা এইচ.এস.সি পরিক্ষা ২০২০

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X শিরোনামটা অনেক বড় হয়ে গেলো তাই না।তো শিরোনামটা বড় না করে উপায় বা কি।এইচ.এস.সি ২০২০ এর পরিক্ষার্থীরা আমরা যা সব অভিজ্ঞতা আর মানসিক চাপ এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তাই আমাদের নিয়ে কিছু বলতে গেলে শিরোনামটাও যেন ছোট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না চায় সে আরো বড় ভাবে নিজেকে মেলে ধরতে।তো উপরেই বলে দিয়েছি আবারো বলছি আমিও একজন সম্মানিত সদস্য এইচ.এস.সি পরিক্ষা ২০২০ এর।সম্মানিত আসলেই কি সম্মানিত বলা যায়?নাহ এখন এই পরিস্থিতে সম্মানিত না বলে বরং একটা ভূলে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকা একটা খারাপ পরিস্থিতির স্বীকার হওয়া একটা ব্যাচের সদস্য বলা যায়।করোনা ভাইরাসের জন্য আমাদের এইচ.এস.সি পরিক্ষা পাঁচ মাস ধরে বন্ধ আছে এখন ষষ্ট মাস চলছে।আমরা এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরা কেউ ভাবতে পারি নি যে এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া পরিক্ষাটা এভাবে এক অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে যাবে।প্রস্তুতি তো ভালোই নিয়েছিলাম পরিক্ষার সম্ভবত সাতদিন বাকি ছিলো সেই সময় করোনার আক্রমণ বাংলাদেশে প্রথম শুরু হয় আর সেই জন্য আমাদের এইচ.এস.সি পরিক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়।করোনার কাছে আমরা অসহায় এভাবে এসে সারাবিশ্বে আক্রমণ করবে এতে আমাদের কিছু করার ছিল না তখন।তাই আমার সেই সময় সরকারের সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি বলবো না কিন্তু আমার কাছে গ্রহণযোগ্যই মনে হয়েছে।তারপর তো আস্তে আস্তে সব লকডাউন হতে লাগলো মানুষ বেশিরভাগ গৃহবন্দি হয়ে গেল।করোনার ভয়াবহ থাবা তখন পুরোদমে চলছিল তার মধ্যেই কেটে গেল দুই তিন মাস।তারপর ইউটিউবে বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল থেকে আমি দেখলাম এই জুন এ পরিক্ষা হতে পারে আবার জুলাইয়ে পরিক্ষা হতে পারে কিন্তু টিভিতে দেখলে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বললেন এইচ.এস.সি পরিক্ষার নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো আসে নি।দুই জায়গার দুই রকম নিউজ দেখে আসলে একটা বিভ্রান্ত্রর মধ্যেই পরে যাচ্ছিলাম।আবার ফেসবুকে বন্ধু বান্ধবীরাও জিজ্ঞেশ করে পরিক্ষার বিষয়ে কিছু জানি কি না তখন আমার উত্তর টা হয় জানি না।আসলে এইচ.এস.সি পরিক্ষার ভবিষ্যৎ কি সেটা আমার কি কোনো পরিক্ষার্থী এখন কিভাবে বলবে এসব ব্যাপার তো শিক্ষা মন্ত্রলায়ই দেখবে আর আমাদের দেখতে হবে খালি ভুয়া নিউজ।তেমনি গত আগষ্ট মাসের মাসের শুরতে বলা হলো যে আগষ্টের ২৫ তারিখে এইচ.এস.সি পরিক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।পরিক্ষার পনেরো দিন আগে পরিক্ষার নতুন রুটিন দিয়ে দেওয়া হবে তাই আমি তো ভাবলাম পরিক্ষা মনে হয় এবার হয়েই যাবে।আমার বাসা থেকেও সবাই বলেই ফেললো যে দেখিস সেপ্টেম্বর এর ১৫ তারিখ থেকেই তোদের এইচ.এস.সি পরিক্ষা শুরু হয়ে যাবে।আসলে নিউজটা প্রত্যেকটা চ্যানেল ব্রেকিং নিউজ হিসেবে দেখানো হচ্ছিলো।এদিকে এই নিউজ দেখে আমাদের অনেক এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়লো তারা প্রতিবাদের মাধ্যেম হিসেবে বেছে নিলো ফেসবুক।তাদের দাবি করোনার মধ্যে এইচ.এস.সি নয়।আমরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত পরিক্ষা নিলে আমরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবো না বা পাশও নাও করতে পারি।এই দাবিটা আসলেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়।যেই পরিক্ষার জন্য আমরা এত প্রস্তুতি নিলাম সেই পরিক্ষা করোনা ভাইরাসের জন্য এপ্রিল মাসে হলো না আর পাঁচ ছয়মাস পর এখন পরিক্ষা নিলে সেই মার্চ মাসের মতো পরিক্ষার প্রতি উদ্যম আগ্রহ এবং প্রস্তুতি বেশিরভাগ পরিক্ষার্থীরই থাকবে না।যেমন লোহা অনেকদিন রেখে দেওয়া হলে বা ব্যাবহার না করলে লোহায় যেমন মরিচা ধরে ঠিক তেমনি এই পাঁচ ছয়মাসে আমরা এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরা কয়জন আছি যে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিছি বেশিরভাগই আছি পড়াশোনা তেমন করি নি তাই বলা যায় লোহার মতো আমাদের ও ব্রেনে মরিচা ধরেছে।এখন অনেকে বলতে পারে এত সময় পেলি তাইলে তো আরো বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার ছিল কিন্তু চারিদিকে এত মানুষের করোনার আক্রান্তের খবর অনেক মানুষের মৃত্যুর খবর আবার অনেক এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরা নিজেরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে বা তাদের কোনো আত্মীয় আক্রান্ত হয়েছে আবার অনেকের হয়তো করোনার কারণে বাবা মারা গেছে বা মা মারা গেছে যাই হোক পরিবারের কেউ মারা গেছে তাইলে এই শোক নিয়ে কোন পরিক্ষার্থী তার পরিক্ষার প্রস্তুতি নিবে।এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরা আমরা প্রায় সবাই এখন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত তাই এখন পরিক্ষার ভুয়া বা আধা সত্য বা আসলে কোনো খবর পেলেই আমরা আতকে উঠি।বেশিরভাগ পরিক্ষার্থী এখন অটোপাস চায় আসলে পরিক্ষা দেওয়ার মতো মন মানসিকতা এখন প্রায় কারোরই নাই।তো আবার ফিরে আসি আগষ্টের ২৫ তারিখে এইচ.এস.সি পরিক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্তর বিষয়ে।আসলে কি বলবো ওই তারিখ এসেও তো কোনো সিদ্ধান্ত আসে নি।আমদের সব এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীদের চোঁখ ছিল আগষ্টের ২৫ তারিখের দিকে কিন্তু নাহ আরো একবার মাননীয় শিক্ষামন্ত্রি দিপু মনি বললেন করনো পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত এইচ.এস.সি পরিক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় এবং মার্চ মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ছুটি অক্টোবরের তিন তারিখ পর্যন্ত বারানো হলো।এই পাঁচ ছয়মাসে এভাবেই অনেকবার স্কুল কলেজ এর ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।এর মধ্যে পি.এস.সি এবং জে.এস.সি পরিক্ষা বাতিল করা হয়েছে।তাই এই বছর আর এই দুই পরিক্ষা হবে না।পিএস.সি পরিক্ষা ও জেএস.এস.সি পরিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে কিন্তু আমাদের এইচ.এস.সি পরিক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসবে।করোনার পরিস্থিতির ও তো কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।তাছাড়া আমার মতে ২০২১ সালের জুন জুলাইয়ের আগে তো কার্যকারি কোনো ভ্যাকসিন ও তো দেশে আসবে না।তাইলে কি এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই পরিক্ষা নিয়ে নিবে এই বছরে।অনেকের থেকে তো শুনলাম নভেম্বরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিক্ষা হবে যদিও শোনা কথা তাও যদি পরিক্ষা এই বছরেই হয় তাইলে আমাদের এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুকি কিন্তু থেকেই যাবে।করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার হলে এক বেঞ্চে একজন করে বসিয়ে পরিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিক্ষা নেওয়া যেতে পারে কিন্তু পরিক্ষার্থীরা যে বাসে করে,অটো করে বা যেই মাধ্যমেই হোক পরিক্ষাকেন্দ্রে তো আসবে তাইলে সেই সব জায়গায় স্বাস্থ্যঝুকি কে নিশ্চিত করবে?অনেক পরিক্ষার্থীদের সাথে তো তাদের বাড়ির লোকজন ও আসবে তাইলে ঝুকিতো সবারই থেকে যাচ্ছে।আবার ধরলাম স্বাস্থ্যবিধী মেনে এইচ.এস.সি পরিক্ষা শুরু হয়ে গেলো কিন্তু পরিক্ষার মধ্যে যদি কোনো পরিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয় তাইলে তার কি হবে? সে তার বাকি পরিক্ষা কিভাবে দেবে?সে কি পরিক্ষা না দিয়ে সাতদিন বা চৌদ্দ দিনের কোয়ারেন্টিন এ থাকবে?আবার সেই পরিক্ষার্থী যদি তার করোনা আক্রান্তের নমুনাগুলো বুঝার পর কাউকে না বলে পরিক্ষা দিয়ে যায় বা এমন হলো যে তার করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ প্রকাশই পেলো না তাইলে রাস্তাপথে বা পরিক্ষার কেন্দ্রে সে কতজনকে যে আক্রন্ত করবে সেটা সেই শিক্ষার্থী নিজে কি আমরা কেউই বুঝতে পারবো না।তাই এই পরিস্থিতিতে এইচ.এস.সি পরিক্ষা নিলে আমাদের এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীদের কাছে থাকা এসব প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?আর তাই এই সব ঝুকি আর সবার মনে এগুলো প্রশ্ন উদয় হওয়ার কারণে বেশিরভাগ পরিক্ষার্থীরা এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পরিক্ষা দিতে চাচ্ছে না।তাই পরিশেষে আমি বলছি এইচ.এস.সি পরিক্ষা একটা ছাত্র ছাত্রীদের জন্য অবশ্যই গূরুত্বপূর্ণ।এইচ.এস.সি পরিক্ষার পর সবাই উচ্চশিক্ষার যুদ্ধে নেমে পড়ে তাই এইচ.এস.সি পরিক্ষার একটা আলাদা গূরুত্ব আছে সবার কাছেই।সবারই ইচ্ছা থাকে এইচ.এস.সি পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার কিন্তু এই বছরটা অনেক আলাদা।প্রথিবী তার আগের রূপে নেই অদৃশ্য এক শত্রু পৃথিবীতে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ জানে না কোথায় শেষ এই করোনার ভাইরাসের ঠিক তেমনি আমরা এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীরাও জানি না কবে আমাদের পরিক্ষা হবে বা আদো হবে কি না।তাছাড়া একটা পরিক্ষার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের জীবনকে ঝুকির মধ্যে ফেলা উচিত না।জীবনটাই যদি না থাকে তাইলে কিসের পরিক্ষা।তাই শিক্ষামন্ত্রালয়ের কাছে আমার অনুরোধ অটোপাস বা পরিক্ষা নেওয়া যাই করেন করোনা পরিস্থিতি সহ আনুষাঙ্গিক সব বিষয় বিবেচনা করে নিবেন যাতে আমাদের এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীদের মনে নিজের প্রাণ নিয়ে ভয়,ভীতি,সংশয় না বরং আমাদের সবার সুস্থ দেহে সুস্থ মনে থাকে যেন ভয়হীন আশংকাহীন মুখে এক চিলতে হাসি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...