বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ত্রিং ত্রিং ত্রিং ☎
সাফাঃ হ্যালো, এত সকাল সকাল ফোন করলি যে??
ইশাঃ তোর সাথে কথা নেই পঁচী। তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল আর তুই আমাকে কিছুই বললি না!!!
সাফাঃ সকাল সকাল কি আবোল তাবোল বকছিস। মনে হয় আজ তোকে খেতে দেয়নি।
ইশাঃ আমি কোনো আবোল তাবোল বকছি না। যা শুনেছি তাই বলছি। আম্মুর সাথে মামির কথা হয়েছে এই ব্যাপারে। আম্মুর থেকেই জানতে পারলাম।
সাফাঃ আচ্ছা!!! তুই ফোনটা রাখ। আমি দেখছি মা এবার কি খিচুড়ি রান্না করছে।
মা,, মা..............
সাফাঃ তুমি এসব কি শুরু করছ বলতো??
মাঃ আমি আবার কোথায় কি করলাম!!!
সাফাঃ তুমি আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছ। এইকথা কতটুকু সত্য।
মাঃ ও তুই জেনেগেছিস। আমি বলতেই চাচ্ছিলাম।
সাফাঃ মানে টা কি? আমাকে কিছু না জানিয়ে তুমি আমার বিয়ে ঠিক করে আসছ। বাবা কখনো এরকম করতে পারে না। তারমানে তুমি বাবাকেও জানাওনি।
মাঃ জানালে বুঝি তুই বিয়ে টা ঠিক করতে দিতি। তোর বাবা তো সারাবিশ্ব ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছে কিন্তু তার নিজের বাড়ি ভ্রমণ করার সময় নেই। সেজন্য আমি নিজেই সব ঠিক করে আসছি।
সাফাঃ তুমি দিতে থাক আমার বিয়ে। আমি।বিয়ে করব না।
মাঃঃ এত রেগে যাচ্ছিস কেন? আমি তো আর পাগল না যে যার তার সাথে তোর বিয়ে ঠিক করব। ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চেনাজানার মধ্যে এরকম ভালো ছেলে খুজে পাওয়া মুশকিল। ওইযে আমার বান্ধবী রুবিনা ওর ছেলে জারিফ। তুই তো চিনিসই।
সাফাঃ কি!! ওই ক্যাবলাকান্তের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছ। যে সারাদিন ম্যা ম্যা করে।
মাঃ ক্যাবলাকান্ত হতে যাবে কেন। খুব ভালো ছেলে সহজ সরল তোদের দুজন খুব ভালো মানাবে।
সাফাঃ তোমার পাগলামি বন্ধ করো। বিয়ে তো আমি করবই না। আর ওই ক্যাবলাকান্তকে তো আরো না।।
মাঃ কি আমি পাগলামি করছি..........
সাফা নিজের ঘরে চলে গেল
সাফাঃ মা তো আমার কোনো কথাই শুনবে না। আমাকেই কিছু একটা করতে হবে।
জারিফের ফোন বেজে উঠল ত্রিং ত্রিং ত্রিং
জারিফঃ হ্যালো, সাফা
সাফাঃ এই যে শুনুন, আমার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা নেই। মা তো আমার কথা কিছুই শুনছে না। আপনি এখনি গিয়ে আপনার মাকে বলবেন যে আপনি এ বিয়েতে রাজি নন।
জারিফঃ আমি কিভাবে বলব! মায়ের সব কথা মানে চলি। আর মায়ের ইচ্ছেই বিয়েতে রাজি হই। এখন কিভাবে এসব কথা৷ বলব?
সাফাঃ আজব মানুষ তো আপনি! যেভাবে বলার সেভাবে বলবেন। এ বিয়ে কিছুতেই হবে না। শুনতে পাচ্ছেন, মায়ের যেমন সব কথা শুনেন সেরকম আমার শুধু একটা কথা শুনুন। আন্টিকে এখনি গিয়ে বলুন যে আপনি এ বিয়েতে রাজি না।
কিছুক্ষণ পর সাফা জারিফকে আবার ফোন করল.....
সাফাঃ বলেছেন?
জারিফঃ কি বলব?
সাফাঃ মানে টা কি? আপনাকে যা বলতে বলেছিলাম সেই কথাটা।
জারিফঃ হুম, বলেছিলাম কিন্তু মা কোনো কথাই কানে নিল না। বোধহয় দুই মায়ের ইচ্ছে আমাদের বিয়ে টা হোক।
সাফাঃ সেজন্য তো বিয়েটা ঠিক করেছে। তবুও আপনি কিছুতেই রাজি হবেন না। আমিও হবো না। দেখব বিয়ে তা কিভাবে দেয়।
বলে ফোন কেটে দিল।
মাঃ কি রে সব প্ল্যান ভেস্তে গেল তো।
সাফাঃ তোমারা দুইজন একদলে বুঝতে পারছি। যাই বলো আমি বিয়ে করব না। বাবাকে ফোন দিয়েছিলাম এবার যা করার বাবাই করবে।
মাঃ হুম, সবকিছু তো বাবাই করবে। আর আমি কি করি। তোর জন্য কি করি নাই আমি। সেই ছোটবেলাকে তো সবকিছুতেই তোর সাথে ছিলাম আমি। তুই যা চেয়েছিস সব কিছু এককথায় মেনে নিয়েছি। আর এখন তুই আমার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করতে পারবি না?
সাফাঃ বাব্বাহ তুমি তো দেখছি ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছ। এই শোন এসব বললে সাফা গলবে না।
মাঃ তুই তো শুধু নিজের টাই ভেবে যাচ্ছিস। আমার কথার তো কোনো দামিই নেই তোর কাছে। আমার খুশির কথা তুই ভাবিসই না। একটা কথা তাও তুই শুনতে রাজি না।
[ কেঁদে কেঁদে বলল ]
আর যা হওয়ার তাই হলো, মায়ের ইমোশনাল কথা শুনে সাফা গলে গেল আর বিয়েতে রাজি হয়ে গেল। আর এখন সবাই জারিফদের বাড়িতে বিয়ের ডেট ঠিক করছে। তারপর আর কি জারিফ আর সাফার বিয়ে হয়ে গেল।
হি হি হি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now