বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৫]

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হৃদয় [MH2] হঠাৎ করে সেই "ধপাস" শব্দটা শুরু হয়ে গেল।আমার অনুমান অনুযায়ী শব্দটা জঙ্গলের ভিতর থেকে হচ্ছে।কারণ এতোদিন ভাবতাম শব্দটা কুয়ার ভিতর হতে আসছে,আর এখন আমরা নিজেরাই কুয়ার ভিতরে আছি,আর আমাদের সামনে জঙ্গল,তাই অনুমাণ ভুল না হলে শব্দটা জঙ্গলের ভিতর হতেই আসছে।আজ শব্দটা বেশ কিছুক্ষণ হলো,এক পর্যায়ে দেখতে পারলাম গাছপালার উপর দিয়ে অনেক পাখি উড়ে আসছে।হয়তো এমন কিছু একটা জঙ্গলে আছে যার ভয়ে সব পাখি উড়ে আসছে।যথারীতী শব্দটা থেমে গেল কয়েক মিনিট পর।আমাদের মাঝে এই বিষয়টা নিয়ে সবাই কথা বলা শুরু করে দিল। আমার পাশে দাড়িয়ে রনি ভাই বলল,,, রনি ভাই : শব্দটা জঙ্গলের ভিতর হতে আসছে।আমার মনে হয়। সবাই ওনার কথা সমর্থণ করল, কারণ এখানে এটা একটা প্রত্যক্ষ সত্য।এর বিকল্প ধারণা আপাতত আমরা কেউ করতে পারি না।মি.A ও বললেন,,, মি.A : হুমম রনি তুমি ঠিক বলেছ, শব্দটা জঙ্গলের ভিতর হতেই আসছে। শব্দটা এক জায়গায় স্থির নয় এটা বুঝেছি,হয়তো আমাদের থেকে দূরে চলে গেছে বলে এখন শব্দটা শুনতে পারছি না। আমিও বুঝলাম শব্দের দিক নিয়ে যে অনুমান করেছিলাম তা একদম ঠিক। আর মি.A এর কথাটাও ঠিক।কারণ শব্দটা চলমান এটা বোঝা যায়,কারণ শব্দটা হয়তো আমাদের সামনে কোনো দূরের জায়গা দিয়ে হেটে চলে গেছে,তার জন্য এখন আমরা শব্দটা শুনতে পারছি না। কিন্তু শব্দটার উৎস কী??? কে এরকম শব্দ করছে??? এই প্রশ্নগুলো মাথায় আসল।এটা নিয়ে আলোচনার জন্য মি.A কে বললাম,,, আমি : মি.A কিন্তু শব্দটা কে করছে কিছু বলতে পারবেন??? মি.A : শব্দটা কে বা কী করছে তা না দেখে বলা মুশকিল। আমাদের আশেপাশে থাকা জিজে'সরা এবার এক এক করে কথা বলা শুরু করল,,, রুবি আপু: এটা নিশ্চয়ই ভারী কিছুর জন্যই হচ্ছে।ভারী কোনো প্রাণীর চলাচল হলে বা ভারী কোনো বস্তু ফেললেও এরকম শব্দ হতে পারে। ফারহান : আপু ঠিক বলেছ।এটা কোনো ভারী প্রাণী হবে।হয়তো প্রাণীটার চলাচলের ফলে এরকম শব্দ হচ্ছে। শিখা : কিন্তু এটা কোন প্রাণী হতে পারে??? হাতির দল??? সাঈম ভাই : হাতির দল কিনা জানি না। তবে এই অঞ্চলটা অ্যামাজনের রহস্যময় এলাকা,এখানকার কিছু আগে কখনও আবিষ্কার করা হয় নি।তাই এখানে অনাবিষ্কৃত বা বিলুপ্ত কোনো প্রাণী থাকতে পারে। সারা : তবে প্রাণীটা যাই হোক না কেন অনেক বড় হবে।আর স্তন্যপায়ী প্রাণীই হবে। তানিম ভাই: স্তন্যপায়ী প্রাণী যে হবে এটা তো বলাই যায়।কারণ একমাত্র স্তন্যপায়ীরাই তো বড় বড় হয়। মেহেদী ভাই অন্যদিন চঞ্চল হলেও আজ কোনো কারণে একটু চুপচাপ ছিলেন,এতক্ষণ আমাদের এইদিকে এবং অন্যদিকে সবার বলা কথাগুলো শুনছিলেন।এবার তিনিও বললেন,,, মেহেদী ভাই : তানিম একসময় কিন্তু সরীসৃপরাও রাজত্য করেছে।ওদের মাঝেও বড় প্রাণী আছে।আদিকালের ডাইনোসর, বর্তমানের কুমিড়,অ্যানাকোন্ডা ইত্যাদি প্রানী। মেহেদী ভাইয়ের কথা শুনে মনে পড়ল সরীসৃপদের কথা।এর আগে স্তন্যপায়ী প্রানী হওয়ার গৌরবে ওইসব প্রাণীদের কথা মাথায় আসে নি। তানিম ভাইয়া বললেন,,, তানিম ভাই : হুমম ওইসব প্রাণীদের কথা ভুলে গিয়েছিলাম।একটু আগেই তো বিশাল একটা কুমিড় মারলাম।এতো দ্রুত সব ভুলে যাচ্ছি,আমার এখন কী হবে!!! লাকি আপু : তানিম এভাবে যদি ভুলতেই থাক তাহলে জিজে'সরা তোমাকে তানিম মাম্মাহ না বলে তো বলবে বুড়ো তানিম। লাকি আপুর কথায় আমরা সবাই হেসে দিলাম।তানিম ভাই বললেন,,, তানিম ভাই : এতো দ্রুত বুড়ো আমি হবো না।হি হি হি" সুস্মিতা : বেশি হাসলে কিন্তু এখন থেকেই বুড়ে তানিম মাম্মাহ বলব। প্রসঙ্গ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে দেখে মি.A আবার সকলকে প্রসঙ্গে টেনে আনার জন্য বললেন,,, মি.A : আফ্রিকার উপজাতিরা ঢোল বাজানোর মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে।তাদের শত্রু যেন না পালাতে পারে তার জন্যও তারা ঢোলের ব্যাবহার করে।এখানে প্রতিরক্ষার জন্য ঢোলের ব্যাবহারও করা হতে পারে।হয়তো লোক বসতি আছে ভিতরে। নায়রা : হুমম,আমিও এরকম কথা পড়েছিলাম।এরকম শব্দ করে ওইসব উপজাতিরা তাদের শত্রুদের আটকে নেয়,দরকার পড়লে চারপাশ থেকে ঘেড়াও করে শত্রুকে ধরে ফেলে ওরা। শিখা : তারপর ভয়ানক শাস্তি দিয়ে মেরে ফেলে।আমিও পড়েছি। তুবা : এখানে এই জঙ্গলের ভিতর ওইসব উপজাতিরা কি মানুষখেকো হবে??? মফিজুল : আপাতত ত না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।মানুষখেকো হলে আমাদের অস্ত্র নিয়ে আত্মরক্ষা করতে হবে। মি.A সামনের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে বললেন,,, মি.A :পিঁপড়াগুলো আর মনে হয় আমাদের সমস্যার কারণ হবে না। তাই এবার আমাদের চলা শুরু করা উচিৎ। আমরা যে বাঁশগুলো এই পাড়ে নিয়ে এসেছিলাম সেই বাঁশগুলো এবারে এ পাঁড় থেকে ওইপাড়ে যোগ করা হলো,দড়ি দিয়ে ভালো করে বাঁশগুলো বাঁধা হলো।তারপর আবার দড়ি ছোঁড়বার বন্দুক দিয়ে অপর পাড়ে একটা গাছের সাথে দড়ি যোগ করা হলো।আমরা সবাই দড়ি ধরে খুব সহজেই পাড় হয়ে আসতে লাগলাম।তবে মাঝেমাঝে কয়েকবার পা সড়ে গিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।কয়েকজন তো পড়েও গেল।তবে সবাই সুস্থ ভাবে অপর পাড়ে পৌছে গেলাম। অপর পাড়ে পৌছে গিয়ে আমরা পিঁপড়াগুলোকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করলাম।ওই পিঁপড়াগুলো ততক্ষণে কুমিড়টাকে অনেকটা খেয়ে ফেলেছে,রক্ত ছড়িয়ে আর গোশত বেড়িয়ে একদম বিভৎস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।ওইদিকে তাকনো যাচ্ছে না,তাকালেই গা গুলিয়ে বমি আসতে চায়।আমরা আমাদের দিক স্থির করতে পারলাম না। কারণ এখানে চলার কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আর নেই।দুটো সম্ভাব্য দিক হলো হয় নদীর পাড় ধরে হাটতে পারি আমরা নয়তো জঙ্গলের মাঝে যেতে পারি।নদীর পাড়ে বহুরকমের ভয়ানক প্রানী থাকে,অ্যানাকোন্ডাও বেশি থাকে এরকম জায়গায়। আর জঙ্গলের মাঝেও ভয়ানক প্রানী থাকতে পারে, তবে সব দিক বিবেচনা করলে জঙ্গলের ভিতর যাওয়াটাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হলো আমাদের কাছে। তাই আমরা সবাই জঙ্গলের ভিতরের দিকে যাওয়া শুরু করলাম, মাঝেমাঝে ঝোপঝাড় কাটতেও হচ্ছে।এতোকাল একটা প্রাণীর সাথে মাঝেমাঝে দূর থেকে দেখা হয়েছে,তবে এবার একদম কাছ থেকে আমাদের সাথে তার দেখা হলো।কথা বলছি বানর সম্পর্কে।অ্যামাজনের গাছেগাছে আগেও বেশ কয়েকবার বানর দেখেছি।তবে আজকে আমাদের পথের পাশে বানর লাফাচ্ছে।একদল হলুদ রংয়ের বানরের দেখা পেলাম, এই বানরগুলো লেজ দিয়ে গাছে ঝোলে আছে,একবার এই গাছে আসছে তো একটু পরেই আরেক গাছে চলে যাচ্ছে। বানরগুলো দেখছিলাম আমরা সবাই। এ জায়গার বানরগুলো আমাদের গ্রাহ্যই করল না,তারা তাদের নিজের মতো করে লাফালাফি করছে,আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখছে।তাহিরা আপু সারাকে বলল,,, তাহিরা আপু : ওইদেখ সারা, গাছে কত বানর ঝোলছে।হলুদ রংয়ের বানর আগে দেখি নি,আর কেমন করে ঝোলে আছে,আমার তো হাসি পাচ্ছে। সারা : দেখেছি আপু, ওদের কথা আর বলো না।বানরের সাথে আমার শত্রুতা আছে। আনিকা :বানরের সাথে সারার শত্রুতা gjgjgjসারা শত্রুতা কীসের জন্য??? সারা : আরে আমাদের দিকে বানরের উৎপাত বেশি।ওদের জ্বালায় ছাদে উঠতে পারি না।আরও কত সমস্যা করে ওরা,,, আমাদের সাথে থাকা ফারহান তার সঙ্গে ক্যামেরা নিয়ে এসেছিল।ফারহান তার ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে বেশ কিছু ছবি তোলল বানরের।ফারহানকে দেখে শিখা বলল,,, শিখা : ফারহান বানরের ছবি দেখতে তোলতে হলে সারাদের বাসায় যাস।ওখানে অনেক বানর পাবি। ফারহান : সারাদের বাসায় গিয়ে না হয় পরে ছবি তোলব,এখন এখান থেকে ছবি তোলে নিই। সিয়াম : আমরা কতটা পথ চলে আসলাম।আমাদের লক্ষ্য যে আর কতদূর। মাহমুদ : আমাদের লক্ষ্য কোনটা সেটাই তো এখনও জানি না। ফাহাদ : চিন্তা করো না।লক্ষ্য একটা না একটা পাবই। আমরা চলতে চলতে সামনে অনেকটা চলে এসেছি। এতক্ষণ ঝোপঝাড় এতো ঘন ছিল যে ঝোপঝাড় না কেটে সামনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না,কিন্তু এখন ধীরে ধীরে জঙ্গল পাতলা হয়ে আসছে। গাছপালাও কমে আসছে। ফলে দ্রুত সামনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।গাছের বানরগুলো আমাদের দেখছে,আর কিছু পোকা জঙ্গলে শব্দ করছে। এক জোড়া রঙ্গিণ পাখি সামনে দেখলাম, অনেক সুন্দর পাখিগুলো, তবে ওদের নাম জানি না।আমি সব দেখছিলাম আর সামনে অগ্রসর হচ্ছিলাম।রেহনুমা আপুর কথায় মাটির দিকে তাকালাম,কারণ রেহনুমা আপু বলল,,, রেহনুমা আপু : সবাই মাটির দিকে তাকিয়ে দেখ,মাটি কেমন সোনালী হয়ে গেছে। আমি মাটির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সত্যিই মাটি কেমন যেন হালকা সোনালী রংয়ের হয়ে গেছে।সবাই বিস্ময়ে অনেক কথা বলছে। লাকি আপু : ওয়াও,কী সুন্দর মাটি।একদম সোনালী রংয়ের মাটি। আমি : হুমম আপু।খোদার কতো বিস্ময় দেখব,এখানে মাটির রংও সোনালী। সবাই বিস্ময় নিয়ে দেখতে লাগলাম মাটির রং একদম সোনালী।মি.A কিছুটা মাটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন,,, এরপর কী হলো জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করুন। [কেমন লাগল??? কোনো ভুল নজরে আসলে বলবেন।আলসেমীর জন্য ১০ দিন পর গল্পটা লিখলাম।কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই লেখার সাথে।এখন গল্পটা প্রায় শেষের পথে।] বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না। চলবে,,, আল বিদা,,, *** আলহামদুলিল্লাহ একটানা তিনবার টপ জিজে হয়েছি।জিজে'সদের ধন্যবাদ।আপনাদের উৎসাহে গল্প লিখি,আপনাদের সহায়তায় টপ জিজে হলাম।নিন, আইস্ক্রিম খান icecream^9999999 অথবা চা নিন,☕^9999999


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now