বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়ের খুশি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান LUCKY (০ পয়েন্ট)

X আয়মানঃ মা মা......... তুমি এখানে কখন থেকে ডাকছি সাড়া দিচ্ছনা যা!!! [ মা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আয়মান কাথে হাত দিতেই শিউরে উঠল ] মাঃ তুই আসছিস। কেমন কাটল আজকের দিন? আয়মানঃ ভালোই ছিল। মাঃ তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে আয়। আয়মানঃ হুম, আসছি। [ মনে মনে ] আজ প্রায় দুই বছর হয়ে গেল বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। মা বাবার মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। নিজে থেকে কোনো কথা বলে না,, ঠিকমত খেতে চায় না, সব কাজেই তার অনীহা। মায়ের শরীর দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন মা বিষন্নতায় থাকবে। সব দোষ আমারই। আমি তো নিজেকে কাজে ব্যস্ত করে নিয়েছি। পরীক্ষার সময় আমার থেকে মা বেশি টেনশন করে, অসুস্থ হলে মায়ের চোখে ঘুম নেই সারারাত আমার পাশে বসে থাকত, আমি খুশি হলে মা আমার থেকে বেশি খুশি হয়। আরও কতকিছুই না করেছে, করছে, করবে, সেসব কথা বলে শেষ করা যাবে না। আর সবজায়গায় মায়ের পাশে থাকত বাবা। আজ তাকে হারিয়ে মা ভেঙে পড়েছে। যে মা আমার জন্য এতকিছু করেছে আজ তার মুখে হাসি ফুটাতে পারছি না। এভাবে বসে থাকলে চলবে না। মাকে আর বিষন্নতায় দিন কাটাতে দিব না। মাকে ব্যস্ত করে তুলতে হবে। মা কেক বানাতে ভীষণ পছন্দ করে। আমি যদি বায়না করি মা কেক বানাও। মা কিছুতেই মানা করবে না।। আয়মানঃ মা এখন তোমার শরীর কেমন আছে? মাঃ ভালো। আয়মানঃ তাহলে চলো দুইজন মিলে একটা কেক বানাই। মাঃ তুই রান্নাঘরে তাও আবার কেক বানাতে!!! আয়মানঃ আমি তো কিছু পারি না। তুমি যা বলবে তাই করব। এবার চলো। মাঃ ঠিক আছে চল। দুইজন মিলে একটা কেক বানালাম। আর পারফেক্ট তো হবেই যেহেতু মা বানিয়েছে ৯০% আর আমি ১০%। আজ তো এসব হলো।। এরপর কি করব। একটা কমন প্ল্যান তো আছেই তো মাকে নিয়ে ঘুরতে যাব। আরেকটা কথা মাথায় ঘুরছে সেটা হলো মাকে একটা সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয়? সারপ্রাইজটা হলো আলবিনা আন্টি। মায়ের একদম ছোটবেলা থেকে বেস্টফ্রেন্ড। মায়ের কাছে যে তার কত কথা শুনেছি। মায়ের সাথে মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হয়। কিন্তু দেখা করতে পারে না। দুইজনই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। মা আলবিনা আন্টিকে দেখলে নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে। মাঃ এসব কি করছিস? আমার জামা কাপড় ব্যাগে ভরছিস কেন? আয়মানঃ আগামীকাল আমরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবো। মাঃ আচ্ছা!!! কিন্তু আমি যাব না। আমি গিয়ে কি করব? আয়মানঃ আমি তোমার কোনো কথা শুনব না।যেতে তোমাকে হবেই। যাই হোক মাকে কোনোভাবে রাজি করিয়ে সকাল সকাল রওনা হলাম। এদিকে আলবিনা আন্টির সাথে সব কথা শেষ। সে গতকালই তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার পৌছে গেছে। দুপুরের মধ্যে আমরা আমাদের গন্তব্য স্থানে পৌছে গেলাম। আয়মানঃ মা এবার তুমি একটু রেস্ট নাও। বিকালে ঘুরতে বের হবো। আমি আলবিনা আন্টির সাথে দেখা করতে তাদের রুমে গেলাম। এবং বলে রাখলাম যে বিকালে এই স্থানে তারা দাঁড়িয়ে থাকবে ওইখানে মাকে নিয়ে আসব। আন্টি তো বলল আমি এখনি দেখা করব। না না আন্টি এখনই না আর মাত্র কিছুক্ষণ পর না হলে সারপ্রাইজটা নষ্ট হয়ে যাবে যা। এবার বিকেলে মাকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত দেখতে বের হলাম। দূর থেকে আলবিনা আন্টিকে দেখতে পেলাম। এবার মাকে বললাম, মা তোমার চোখ বন্ধ করো। মাঃ চোখ বন্ধ করতে যাব কেন?? আয়মানঃ তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। মাঃ এখানে আবার কি সারপ্রাইজ? আয়মানঃ এত প্রশ্ন কর কেন বলতো। কি সারপ্রাইজ দেখতে পাবে। এবার চোখ বন্ধ করো তো। মাঃ ঠিক আছে। মায়ের হাতটা ধরে আস্তে আস্তে আলবিনা আন্টির কাছে যাচ্ছি। মা চোখ খোলার আগেই।আমাদের দেখেই আন্টি ছুটে এসে মাকে জড়িয়ে ধরলো। মা চোখ খুলে তার বন্ধুকে দেখে কেঁদেয় ফেলল। আয়মানঃ এবার তোমরা দুইজন গল্প করো। আমরা তিনজন একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালাম। [ আমি আর আন্টির দুই ছেলে মেয়ে ] মা আলবিনা আন্টি দুইজনই অনেক আনন্দিত। দূর থেকে মায়ের হাসি মুখ দেখতে খুব ভালো লাগছে। মায়ের মুখে একটু হাসি তো ফুটাতে পেরেছি। এভাবেই প্রতিদিন মাকে খুশি রাখার চেষ্টা করব। আমার খুশিতে যেমন তুমি খুশি হও, তোমার খুশিতেও তেমন আমি খুশি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now