বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ট্রেনের কামড়ায় অচেনা সেই লোক

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X পড়ন্ত বিকেলে রাজশাহী রেল স্টেশনে বসে আছি।শ্রাবণ মাস সারাদিনই বৃষ্টি হচ্ছে।এখন অবশ্য গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু কখন যে ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি পড়ে বলা যায় না।তো আমি হচ্ছি রিফাত।ঢাকায় যাবো অফিসের এক কাজে।অফিস থেকে আমার বস ট্রেনের টিকিট এবং ঢাকায় একটা হোটেল রুম বুক করে দিছে।আর আমার ট্রেন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কিন্তু ট্রেন এখনো আসে নি।এই জন্য আমার বিরক্ত লাগছে।এমনিতে তো রাত হবে যেতে আর এখন আবার ট্রেনের আসতে দেরি।একটা অবশ্য ভরসা যে আমার কাজটা আগামীকাল বিকালে।এবার টিকিট কাউন্টারের লোকজনের কাছে গিয়ে শুনলাম ট্রেন আসতে সময় লাগবে একটু।তাই কি আর করার স্টেশনে বসে আছি।এর মধ্যে জোড়ে বৃষ্টি এসে গেছে।গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এখন ঝুমঝুমিয়ে নামছে।আমিও বসে বসে বৃষ্টি দেখছি।তারপর এক ঘন্টা দেরি করে সাড়ে ছয়টায় আমার ট্রেন আসলো।এখন বৃষ্টি ও কমে গেছে।বস আমার জন্য ফাস্ট ক্লাস এর টিকিট কেটে দিছে তাই আমি আমার ফাস্ট ক্লাসের সিটে গিয়ে বসে পড়লাম।এর মধ্যে মাগরীবের আজান ও দিয়ে দিছে।তো ট্রেনে আমার কামড়ায় এসে একটা লোককে দেখতে পেলাম।লোকটির গায়ে কালো চাদড় জরানো।লোকটি ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।এর মধ্যে আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।আর লোকটি আমি আসার পর একবার আমার দিকে ঘুরে তাকালো পরে আবার বাইরে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকায় মনোযোগ দিল।এদিকে বৃষ্টির জন্য যেন চারিদিকে অন্ধকার আজ বেশি গাঢ় হয়ে গেছে।তাইলে লোকটি বাইরে যে কি দেখে কে জানে।আবার এই গরমের মধ্যে লোকটি গায়ে চাদর জরিয়ে আছে কেন আমি তা বুঝলাম না হয়তো বৃষ্টি হওয়ার জন্য লোকটার ঠান্ডা লাগছে।যাই হোক আমিও আর এসব নিয়ে ভাবলাম না।মোবাইলে বের করে ফেসবুকিং করতে লাগলাম।অনেক রাত এ গিয়ে ঢাকায় পৌছাবো ট্রেন ও এক ঘন্টা দেরিতে আসলো।এসব ভাবনাও মনে রয়েছে।তো কিছুক্ষণ ফেসবুকিং করে আর ভাল লাগছে না তাই মোবাইল বন্ধ রাখলাম।আর আমিও একটু চুপচাপ বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।তারপর বাইরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর মোবাইলে সময় দেখলাম প্রায় আটটা বেজে গেছে।আর আমার পাশে বসে থাকা লোকটি এখনো বাইরে তাকিয়ে আছে।আমার এবার অনেক কৌতুহল জাগলো।তাই কৌতুহল আর দমিয়ে না রেখে বলেই ফেললাম........... *এই যে ভাই আপনি বাইরে তাকিয়ে এত কি দেখছেন।দেখার থেকে মনে হচ্ছে ভাবনায় ডুবে আছেন।যেহুতু আমাদের সিট একজায়াগায় পড়ছে তাইলে আমায় আপনার চিন্তার কথা বলতে পারেন।গল্প করতে দুজন যাই সময়টাও কেটে যাবে। লোকটি আমার দিকে ঘুরে তাকালো।একটা বড় করে যেন নিঃশ্বাস নিল। অতীতে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে এখানে।এই ট্রেনেই আর এই কামড়াতেই।সেই ঘটনার কথা ভাবছিলাম আরকি। *ওহ আচ্ছা তাই নাকি।তাহ আপনি কোথায় যাবেন? আমার যাওয়ার নির্দিষ্ট গন্তব্য নাই।যতদূর এই ট্রেন যাবে আমিও ততদূর যাবো। *বুঝলাম না আপনার কথা। আপনার বোঝা লাগবে না।যা বুঝে লাভ নেই সেটা না বুঝাই ভালো।আর আমি তো আপনার পরিচিত নই তাই অপরিচিত মানুষের কথা বোঝার চেষ্টা না করাই ভালো। *আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু আপনি বললেন অতীত এর একটা ঘটনা নিয়ে ভাবছিলেন সেই ঘটনাটা বলেন শুনি। লোকটি এবার চাদরটা আরো ভালোভাবে নিজের গায়ে জড়িয়ে নিয়ে ভালো করে বসলো যেন একটা বড় ঘটনা বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ থেকে ২বছর আগের কথা।বেশি পুরাতন ঘটনা নয়।যাই হোক এই ট্রেনেই এই কামড়াতে চাপাইনবাবাগঞ্জ থেকে ঢাকায় ঢাকায় যাচ্ছিলো দুই বন্ধু।তাদের দুজনের মধ্যে একজনের নাম জামাল আর আরেকজনের নাম মিঠন।জামাল অনেক ধনী পরিবারের ছিল আর মিঠন একটু গরীব ছিল।তো জামাল ঢাকায় তার এক মামাতো ভাইয়ের বিয়েতে যাচ্ছিলো যেহুতু মিঠন তার ভালো বন্ধু তাই মিঠন কেও নিয়ে যাচ্ছিলো।মিঠন আবার মনে মনে জামাল কে হিংসা করতো কারণ জামালের অনেক টাকা কিন্তু তার কাছে টাকা নেই।আর তারা ট্রেনে করে যখন ঢাকায় যাচ্ছিলো তখন ও জামালের কাছে অনেক টাকা ছিল।তখন মিঠন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল যে তার প্রিয় বন্ধু জামালকে খুন করে তার টাকা পয়সা সব নিয়ে পালিয়ে যাবে।তারপর তাদের ট্রেন রাজশাহী পাড় করে কিছুদূর চলে আসার পর মিঠন তার ব্যাগ থেকে একটা শক্ত দড়ি বের করে।তখন গভির রাত ছিল।ফাস্ট ক্লাসে যাত্রি তেমন ছিল না তাদের আশে পাশে সব কামড়া ফাকা ছিল।সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার ঘুমন্ত বন্ধু জামাল এর গলায় দড়ি দিয়ে পেচিয়ে ধরে শক্ত করে।জামালের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে থাকে।সে ভাবতেও পারে নি তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু তার সাথে এমন করবে। জামাল দড়ি ধরে নিজেকে বাচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে কিন্তু সে মিঠন এর শক্তির কাছে পেরে উঠে না।মিঠনের তখন খুনের নেশা আর অর্থের লোভ প্রচুর জেগে উঠেছে।তাই সে তার প্রাণপ্রিয় বন্ধুকে এমন ভাবে খুন করতেও তার হাত কাপছে না।তারপর জামাল মারা যায়।মিঠন তখন জামালের সকল টাকা পয়সা নিয়ে পরের স্টেশনে যখন ট্রেন থামে মিঠন তখন সেই স্টেশনে নেমে পালিয়ে যায়। *আপনার কাছ থেকে ঘটনাটা শোনার পর অনেক খারাপ লাগলো।সত্যি বন্ধু হয়ে আরেক বন্ধুকে টাকার জন্য এমন নিকৃষ্টভাবে খুন করা ছিহ এসব ভাবাই যায় না।তো যাই হোক তারপর মিঠনের কি হয়েছিল সে কি শাস্তি পেয়েছিল খুনের অভিযোগে। মিঠন তার শাস্তি ঠিক পেয়েছিল।নিজেই নিজেকে শাস্তি দিয়েছিল।সে জামাল কে খুন করার পর ভালো ছিল না।প্রচণ্ড মানষিক কষ্ট আর নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছিলো ফলে মিঠন ফ্যানের সাথে দড়ি লাগিয়ে নিজ গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করে। *নিজের পাপের শাস্তি মিঠন দুনিয়াতে নিজের দ্বারাই পেয়ে গেলো।এমনকি যেভাবে বন্ধু জামালকে খুন করেছে সেই দড়িতেই ফাস লাগিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করলো।সত্যি ঘটনাটা জেনে মনে একটা দাগ কেটে গেলো আমার।আর আমি যেই কামড়ায় বসে আছি এই কামড়াতেই ঘটনাটা ঘটেছে যাহ আমার কাছে অনেক অদ্ভুদ লাগছে।এই ঘটনা সারাজীবন আমার মনে থাকবে।কিন্তু একটা কথা আপনি এত কিভাবে জানলেন এই ঘটনা সম্পর্কে।আপনার কি কোনো সম্পর্ক ছিল ওদের সাথে। লোকটি আবার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।একটু করুণ ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বললো......... ট্রেনের এই কামড়ায় যেই জামালকে দড়ি দিয়ে গলা পেচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল সেই জামাল আমি নিজেই,আমাকেই হত্যা করা হয়েছে দুই বছর আগে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...