বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:রোমান্টিক হৃদয় [MH2] রাতে বসে বসে অফিসের কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ কম্প্লিট করছি,আমার স্টাডি রুমে বসেই কাজ করছি।বাইরে আকাশ কালো হয়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।মাথার উপর পাকা করা ছাদ বলে টিনের চালের মতো তেমন শব্দ হয় না। কাজ করার ফাকে ফাকে বাইরে বৃষ্টি দেখছি। এমন সময় কারও একজনের হাত আমার গলায় হালকা চাপ দিল। আমি ভয় পেলাম না।কেন জানেন??? কারণ এই হাতটা আমার চিরচেনা একজনের।চিরচেনা বলছি কারণ তার স্থান আমার হৃদয়ে, আমার মনের ভিতরে, হুমম, সে হলো আমার বউ অনামিকা। অনামিকা দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে,বিশেষ করে ভয় দেখানো আর চমকে দেওয়ার দুষ্টুমিগুলো করতে ও বেশি পছন্দ করে। আমার কাছেও ওর দুষ্টুমিগুলো খুব পছন্দ,আর অভ্যস্তও হয়ে গেছি আমি এগুলোতে।অনামিকা যখন দুষ্টুমি করে তখন ওকে একটা কিউট বাচ্চার মতো লাগে,তখন ওর কিউট কিউট গাল দুটো টেনে দিতে আমার বড্ড ভালো লাগে।আজও আমার গলায় হালকা চাপ দেওয়া হাত দুটো চিনতে ভুল করলাম না,বুঝলাম হাত দুটো অনামিকার।আমি জানি কে আমার গলায় হাত রেখেছে,তবে আজ একটু অবাক হলাম,কারণ অনামিকাকে কিছুক্ষণ আগেও ঘুমিয়ে থাকতে দেখে এসেছি। সে সাত মাসের গর্ভবতী, রেস্ট এর প্রয়োজন বলে ওকে আগে ঘুমিয়ে যেতে বলে রেখেছি। তবুও ও এখানে কী করছে???এসব ভাবনা বাদ দিয়ে ভয় পাওয়ার অভিনয় করলাম,যদিও ভিতরে ভিতরে ভয় পাই নি। অনামিকা যখন আমায় ভয় দেখায় আর আমি ভয় পাই না তখন ও মন খারাপ করে,আর আমিও চাই না আমার প্রিয় মানুষটার মন খারাপ হোক,তাই আজও আমি ভয় পাওয়ার অভিনয় করে গলায় যথেস্ট ভয় পাওয়ার মতো শব্দ করে বললাম, আমি : কেএএএ, আআআমার গলায় হাত রেখেছ কে তুমি??? অনামিকা : হা হা হা,আমি তোমার ভূতনি,এখনই তোমার ঘাড় মটকে দিব। আমি : ওহ,অনামিকা,ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে। অনামিকা : দেখলে আমি কীরকম ভয় পাইয়ে দিতে পারি।আমি ভয় পাওয়ানোর উস্তাদ। আমি : হুমম,জানিই তো।আচ্ছা আমার ঘাড় যদি মটকে দাও কোনোদিন,তাহলে তো আমি মরে যাব,আমায় ছেড়ে থাকতে,,, এতটুকু বলার আগেই ও আমার মুখ ধরে ফেলল, অনামিকা : আমি কখনও তোমায় ছাড়া বাঁচতে পারব না, আমি কখনও তোমার ঘাড় মটকাবো না,আমি মজা করে বলেছি, আর তুমি সিরিয়াসলি নিলে,আসলে আমার এরকম বলা উচিৎ হয় নি,আমি তোমায় অনেক অনেক ভালোবাসি। বলে আমায় জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।আমিও ওকে আলতু করে জড়িয়ে ধরলাম।আর বললাম,,, আমি : আমিও তোমায় প্রচন্ড ভালোবাসি।আর আমার সাথে দুস্টুমি করবে না তো কার সাথে করবে??? তোমায় বাচ্চামি আর দুষ্টুমিগুলো আমার খুব পছন্দ। অনামিকা : আচ্ছা তাহলে আমিও দুষ্টুমি করব,যেহেতু তুমি পারমিশন দিয়ে দিয়েছ হি হি হি। এখন অনামিকার হাসি খুশি চেহারা দেখে কে বলবে একটু আগেও আমাকে হারানোর ভয়ে এই মেয়েটা কাঁদছিল,আসলে অনামিকা এরকমি,আমিও জানি মেয়েটা আমায় প্রচন্ড ভালোবাসে।এবার এত রাতে জেগে উঠার কারণ জানতে চাইলাম ওর কাছে,,, আমি : অনামিকা,তুমি তো ঘুমিয়েছিলে।তাহলে এখন এখানে,,,মানে তোমার তো ঘুমানোর কথা।আর ডাক্তার তোমায় রেস্ট নিতে বলেছে। অনামিকা : সবসময় কী শুধু ঘুমিয়েই থাকব??? আমার স্বামী এখানে কাজ করছে, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, রোমান্টিক একটা মূহূর্ত মিস করব নাকি??? আমি : হুমম তাও ঠিক। আমারও কাজ প্রায় শেষ।একসাথেই না হয় ঘুমাতে যাব। আমার কাজ পাঁচ মিনিটের মাঝেই শেষ হয়ে গেল। আমি : অনামিকা আমার কাজ শেষ হয়েছে, চলো এখন ঘুমাতে যাই। অনামিকা : তুমি দিনেদিনে আনরোমান্টিক হয়ে যাচ্ছ। আমি : কেন??? অনামিকা : কেন মানে??? বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।একটা কবিতা শুনাও, আমি কবিতা শুনতে চাই তোমার কাছ থেকে। আমি : আচ্ছা শুরু করছি। আকাশ কালো করে, সর্বদিকে আধার নেমে, বজ্রপাতে সাড়া দিয়ে, দক্ষিণে হালকা বাতাসের টানে, মহীটাকে ঠান্ডা করে, অঝোর ধারায় আজি নামিল বরষা, বিদ্যুতের চমকে চারিদিক হচ্ছে ফর্সা, আমি আর আমার বউ বেলকনিতে এসে, প্রকৃতির এ রূপ দেখছি বসে বসে।। অনামিকা প্রশংসা সূচক হাত তালি দিল।অনামিকা আমার হাতের লেখা কবিতা শুনতে ভালোবাসে,আমিও তার অনুরোধ রাখি সবসময়।তাই আমিও কবিতা শুনাই যখন ও শুনতে চায়। স্কুল কলেজ লাইফে নিজের হাতে প্রচুর কবিতা লিখতাম, সেই প্রতিভা এখনও আমার মাঝে রয়ে গেছে, তাই বলা মাত্রই কবিতা শুনাতে পারি। অনামিকাও কবিতা শুনতে ভালোবাসে, যার জন্য আবারও নিজের মাঝে কবিত্ব জেগে উঠল। অনামিকা : তুমি এতো ভালো করে আর জলদি করে কবিতা শুনাও কী করে??? আমি : আমার মন খারাপ থাকলে তুমি যেমন করে মূহূর্তের মাঝে আমার মন ভালো করে দাও তেমন করে। অনামিকা : হুমম, তোমার প্রতিভা এটা। আই লাভ ইউর কবিতা। আমি : আই লাভ ইউর দুষ্টুমি। অনামিকা : আচ্ছা বাচ্চা প্রসবের সময় তো অনেক মা ই মারা যায়, আমিও যদি মারা যাই। তাহলে তুমি একদম মন খারাপ করবে না, আর আমি ছাড়া কোনো মেয়ে যেন তোমার জীবনে না আসে বলে দিলাম, যদি আরেকটা বিয়ে করো তাহলে কিন্তু মরে ভূত হয়ে তোমার ঘাড় মটকে দিব। আমি : প্লিজ,এমন বলো না।তোমার কিচ্ছু হবে না।আর আমায় ছেড়ে কখনও যাওয়ার কথা বলো না তুমি। আমার খুব কষ্ট হয়।আর ডাক্তার বলেছেন তোমার ডেলিভারি নরমাল হবে,তাই সমস্যা নাই কোনো। অনামিকা : জানি তুমি আমায় ভালোবাস,আর তাই এইসব শুনতে চাও না,আমিও আর বলব না।আচ্ছা একটা কথা রাখবে??? আমি : কী কথা??? অনামিকা : চল, একসাথে আজকের রাতটা জেগে থাকি। আমি : কিন্তু তুমি প্র্যাগনেন্ট, তোমার পক্ষে রাত জাগা ঠিক হবে না। অনামিকা : আমি সারাদিন ঘুমিয়েছি। আর ঘুম আসছে না, আর দেখ বৃষ্টিও কমে গেছে, আর মেঘ সড়ে যাচ্ছে আর মেঘের আড়াল থেকে পূর্ণিমার চাঁদটা হালকা করে উঁকি দিচ্ছে।প্লিজ রাত জাগ। আমি : কাল তো ছুটির দিন, শুক্রবার।আচ্ছা রাত জাগব। তুমি বস আমি কফি বানিয়ে আনছি। অনামিকা : ইউ আর সো সুইট। আমি কিচেনে গিয়ে কফি বানালাম। কফি বানিয়ে নিয়ে আসলাম বেলকনিতে। বেলকনিতে বসার জন্য একটা বড় টোলের মতো চেয়ার আছে, সেখানে অনামিকা বসে আছে, আমিও তারপাশে বসলাম। অনামিকা : কফি বানিয়ে এনেছ, কিন্তু একি!!! এক কাপ কফি কেন??? আমি তাহলে খাব কী করে??? আমি : কেন??? দুইজন এক কাপে খাব, এতে সম্পর্কও ভালো হবে আমাদের। অনামিকা : ভালো প্ল্যান। আমরা দুজন এক কাপে কফি খেলাম।একবার আমি চুমুক দিই,তারপর ও চুমুক দেয়। এভাবে কফি খাওয়া শেষ হলো। অনামিকা : দেখ আকাশের মেঘ সড়ে গিয়েছে,এখন একদম পূর্ণ পূ্র্ণিমার চাঁদ দেখতে পাচ্ছি। আমি অনামিকার দিকে তাকিয়ে আছি দেখে ও জিজ্ঞেস করল,,, অনামিকা : আমি তোমাকে চাঁদ দেখার জন্য আকাশের দিকে তাকাতে বললাম,তুমি আমার দিকে তাকিয়ে আছ কেন??? আমি : আমার পাশেই যখন একটা পূর্ণিমার চাঁদ বসে আছে তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখার কী দরকার। অনামিকা আমার কথায় একটু লজ্জা পেল, তবে ভালোবাসার চিহ্ন স্বরূপ আমার গালে একটা পাপ্পি দিল। অনামিকা : আজ সারারাত তোমার কাধে মাথা রেখে আমি বসে থাকব, রাতের প্রকৃতি দেখব। আমি : হুমম, আমার কাঁধে মাথা রাখ। অনামিকা আমার কাঁধে মাথা রেখে চাঁদ দেখতে দেখতে বলল,,, অনামিকা : আরেকটা কবিতা বল, আমি শুনব,,, আমি : এইমাত্র একটা তো বললাম। অনামিকা : দেখ কিপ্টামি করো না, আরেকটা কবিতা শুনাও আমি : আচ্ছা শুরু করছি,,, রাতের আঁধারে, আধো আলো আধো অন্ধকারে, স্বামী স্ত্রী বসে আছে একে অন্যের হাত ধরে, অপেক্ষা করছে কখন মেঘ ঠেলে চাঁদের আঁলো ফুটবে, তেমনি তাদের সংসার আলো করে কবে সেই নতুন অতিথি আসবে, আর মাত্র তিন মাস পর, একটা বাবুকে কোলে নিবে জড়িয়ে কাপড়, বাবুটি কখনও হাসবে, তো কখনও কাঁদবে, তা দেখে হাসি খুশি বাবা মা হাসবে, আজ অপেক্ষা মেঘের আড়ালে লুকানো চাঁদের আঁলোর, কাটছে না অপেক্ষার প্রহর।। [ কেমন লাগল??? প্রথমে এটাকে একটা ভৌতিক গল্প লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরে এটা রোমান্টিক গল্পে রূপ নিল। ভুল ত্রুটি নজরে এলে বলবেন] বি.দ্র.: প্রচুর সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না।আর এই গল্প এবং কবিতাগুলো সবকিছু আমার নিজের লেখা। আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুষ্টু মিষ্টি অভিমানে ঘেরা ভালোবাসা
→ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা
→ দুষ্টু ছেলের মিষ্টি ভালোবাসা
→ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা
→ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা
→ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now