বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হৃদয় [MH2]
গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার পর আমরা সবাই আবার শরীরে বল ফিরে পেলাম। আবার চলতে শুরু করার আগে নিজেদের মাঝে একটু আলোচনা করে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলাম সবাই।যেমন, এই আক্রমণকারী উপজাতি, তার পর আমাদের সেই রহস্য কূপ কোথায়??? আর কতদূর আছে??? এরকম আলোচনা করতে করতে অগ্রসর হচ্ছি সবাই।
মি. A : এই উপজাতিগুলোকে হারানোতে ভালোই হলো। আর এখানে একটা সূত্রও পেলাম।
রনি ভাই: কী সূত্র???
মি.A: রনি, ওই বইয়ে মানুষখেকোদের কথাও বলা হয়েছে, এবং সে জায়গার একটু পরেই যে রহস্য কূপ সেটাও বলা আছে।
মেহেদী ভাই:ওয়াও,তার মানে আমরা আমাদের লক্ষ্যের একেবারে কাছে চলে এসেছি।
শিখা: কাছে তো চলে আসলাম ভালো কথা। কিন্তু উপাজাতিগুলোর ভয়াবহতা দেখে তো আমিও অবাক।
রুবি আপু: হুমম,অবাক হওয়ার মতোই।আমাদের নজর একদিকে দিয়ে তারা অন্যদিক দিয়ে আক্রমণ করতে আসল।আবার একদল বাদরের মতোই ঝুলেঝুলে আসল।
তানিম ভাই: ঝুলে ঝুলে আসা ব্যাটাগুলো সত্যিই বাদর।অনেক প্রশিক্ষণ শেষে মনে হয় এমন হয়েছে। ইশ,আমারও এমন ট্রেইনিং নেওয়ার দরকার ছিল।
সারা: কেন তানিম মাম্মাহ??? আপনার কী বাদর হওয়ার শখ হলো নাকি??? ওয়াও,আপনাকে গাছের ডালে ঝুলেঝুলে আসতে দেখতে কত্তো মজা হবে ভেবে তো আমার প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে। হি হি হি
রুবি আপু:তানিম্মার তো বাঁদরের মতো লাফানোর শখ,তাই এইসব হতে চায়।হি হি হি
মেহেদী ভাই: হু হা হা হা, ইহা জিজে'সদের জন্য হাইস্যকর, একেবারে হাইস্যকর।
আনিকা: ওসব মজা করা বাদ দাও তো সবাই। অ্যানাকোন্ডা সাপ ছেড়ে গেল।কতো ভয়ঙ্কর।নিজেদের সাথে এমন মরণদূত রাখতেও ভয় পায় না।
সাঈম ভাই:মরণের কারণ আমাদের জন্য।তবে ওদের জন্য নয়।কারণ ওরা সাপটাকে ছোট থেকে পোষ মানিয়েছে।
ফারহান:ফেলুদা, সাপ তো পোষ মানে না।আর মানালেও তো যেকোনোদিন গাদ্দারি করতে পারে।
রনি ভাই:হ্যা,সেরকম গাদ্দারি তো করতেই পারে।
তৌমি:সেরকম গাদ্দারি করার মানে তো আস্ত গিলে খাওয়া।হি হি হি
সুস্মিতা:আচ্ছা ওই মানুষখেকোগুলো যদি আমাদের ধরতে পারত তো কী করত???
মফিজুল:আমাদের ধরে, মেরে, কেটে, আগুণে ঝলসে কাবাব বানিয়ে খেতে নিত। তোকে মনে হয় প্রথম ধরতো।
সুস্মিতা: তুই এটা বলতে পারলি??? যা, আর কথাই বলব না।
মফিজুল: আরে মজা করলাম।
সুস্মিতা:তবুও কথা বলা বলব না।
মফিজুল গেল সুস্মিতার রাগ ভাঙ্গাতে। দুজন ভালো বন্ধু, তাই রাগ ভাঙ্গাতেও অসুবিধা হলো না।
সুরভি:মি.A আমরা তো যাচ্ছি,তো যাচ্ছিই।আর কতদূর যাব???
মি.A: আর মনে হয় দূর নয়।
তুবা: ইতিমধ্যে আমরা আধ কি.মি পথ এসেছি। আরও মনে হয় আধ কি.মি. যেতে হবে।
সুরভি:অনেক হাটাহাটি হয়ে গেল আমাদের।
শুভ ভাই: হ্যা,হাটাহাটি তো হয়েছেই। আমাদের সকলের চর্রি কমছে। অবশ্য যারা আগে থেকেই ফিট ছিল তাদের কথা আলাদা।
হৃদয়:শুভ ভাই, যাদের চর্বি ছিল না শরীরে এরা এখন আরও বেশি শক্ত হয়েছে।
এরমাঝে সামনে একটা বড় ঝোপ পড়ল, ঝোপটা না কেটে সামনে যাওয়া সম্ভব নয়।তাই সবাই ঝোপ কটতে লাগলাম।ঝোপ কাটার পর একটু ফাঁকা জায়গা, তারপর আবার বন।
ফাহাদ: একি রে বাবা।এখানে তো একটা বনের পর আরেকটা বন আসছে।আমাদের রহস্য কূপ কোথায়???
সিয়াম: আরে ভাই,মনে হয় এই বনেই আছে সেই কূপ।
তাহিরা আপু:কিন্তু তার আগে তো বুঝতে হবে, আমরা সঠিক দিক দিয়ে এসেছি কিনা???
মি. A: তাহিরা,আমাদের ঠিক দক্ষিণ পূর্ব দিক দিয়ে আসতে বলা হয়েছে। আমরা ঠিক ওইদিক দিয়েই এসেছি।
রেহনুমা আপু: হ্যা,কম্পাসেও তা ই দেখাচ্ছে।
জাহিদুল: তাহলে আমরা সঠিক লক্ষ্যেই আছি।
ঝুমুর আপু: হ্যা,ঠিক পথেই আছি।তারমানে আমরা আর দূরে নই।
ফারহান: এতোদিনে রহস্য কূপটার কাছে যাব।অনেক ভালো লাগছে।
মি.A বাইনোকুলার দিয়ে দেখছিলেন। কী যেন একটা দেখতে পেয়ে খুব খুশি হয়ে গেলেন।
মি.A : আর অপেক্ষা করতে হবে না। ওই কূপের আগের নিশানা পেয়েছি। চলো,,,
আমরাও কথা বলতে বলতে এগুতে লাগলাম।আসলে জিজে'সদের সাথে কথা বলতে থাকলে মনে হয় সারাজীবণ কথা বলা যাবে।সবাই হাসি মজা মিশিয়ে দারুণ পরিবেশ বানিয়ে নেয়।তার জন্য প্রচুর ক্লান্তিও তেমন ক্লান্তি মনে হয় না। আমাদের কথা কখনও ফুরানোর মতো নয়।
মাত্র ১০ মিনিট হাটার পরই আমরা একটা হালকা গাছ পালায় ঢাকা জায়গায় প্রবেশ করেছি।অপরূপ সুন্দর জায়গা এটা।বলা চলে এটা জঙ্গলের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। একদম শুকনো ভূমি, কিছুটা জায়গা পর পর গাছ আছে।আর আছে রং বেরং এর পাখি।পাখির কোলাহলে মনে হচ্ছে আমরা পাখির আস্তানায় এসেছি।আমাদের দেখে পাখিগুলো পালাতে চাচ্ছে না।এটার মানে হলো এরা জন্মের পর থেকে মানুষ দেখে নি,তাই ভয় পাচ্ছে না। আমাদেরকে দাড় করিয়ে মি.A বললেন,
মি.A: T.R. smith এর ওই অধ্যায়টা আমি বারবার পড়েছি।একটা জায়গায় এতোদিন মিল আনতে পারি নি।আজ বাইনোকুলার দিয়ে দেখার ফলে সেটা নজরে আসল।T.R. smith যে ভুলটা করেছিলেন, তার জন্য তাকে বারবার ঘুড়তে হয়েছে মরিচিকার পিছনে ঘুরেছে। আমি বাইনোকুলার দিয়ে সোজা কূপটার দিকে দেখতে চেয়েছি। আমি যে পরিকল্পনা মাফিক এসেছি সেটার কারণ হয়তো একবার ভুল হতে পারে, কিন্তু আমরা ঠিকই পৌছুব।
তারপর তিনি আমাদের ওই পথটার দিকে দেখালেন।সকলে তালি দিলাম।অবন্তি জানতে চাইল,,,
অবন্তি: মি.A আপনি কী করে বুঝলেন এটা??? শিখাবেন???
মি.A: আমার অভিজ্ঞতা থেকে এটা পারি।তোমরাও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে অবশ্যই এটা পারবে।
নায়রা:হুমম,অভিজ্ঞতা থাকলে নিজের মতো করে সব বোঝা যায়।
শুভ ভাই:আচ্ছা আমরা এবার না হয় চলতে থাকি।
তারপর আমরা মি.A এর বলা দিকে চলতে লাগলাম। তবে প্রথমবার একটা ভুল হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে আমাদের আবার ওই একই জায়গায় চলে এসেছিলাম। সেটা হলো যাওয়ার পথে প্রায় সব কিছুই এক রকম মনে হচ্ছিল। আমাদের ভুলটা হলো আমরা কোনো চিহ্ন দিই নি।তাই এমন হলো।
পরেরবার,আমরা আবার প্রতিটা গাছে দাগ দিয়ে দিয়ে চলতে লাগলাম।এই জায়গায় আসার পর আশ্চর্যরকমের একটা ঘটনা ঘটল।তা হলো আমাদের কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্টাপাল্টাভাবে দিক দেখাচ্চে। যার জন্য এটার উপর ভরসা করা গেল না।অবশেষে সামনে কুয়াটা পেলাম।
কুয়াটাকে দূর থেকে দেখে বা বাইরে থেকে সাধারণ একটা বাধানো কুয়া মনে হবে।কিন্তু এটার ভিতর তাকালে বোঝা যাবে যে এটা একটা সুরঙ্গ।যখন এ এলাকায় বর্ষা নামে তখন সম্ভবত এটার ভিতর হালকা পানি থাকলে থাকতেও পারে।কিন্তু এখন ভিতরটা একদম শুকনো।প্রায় পঞ্চাশ ফুট পর্যন্ত নিচে নামার পর কূপটা বাক নিয়েছে,অন্তত লাইটের আলোয় এটাই মনে হলো আমাদের। আর মনে হয় ওই বাকের কোথাও ওই ফিয়া সাপটা আছে। ফিয়া সাপ আমার মনে হয় কোনো বিলুপ্ত সাপ হতে পারে,বা অ্যনাকোন্ডার কোনো প্রজাতি।আসলে ওইটা কী??? সেটা আমরা জানি না।
কূপের চারিদিকে সবটা স্বাভাবিক এলাকা,অন্তত অ্যামাজনের নিরিখে এটা সবটাই স্বাভাবিক অঞ্চল।তবে রাতের বেলা সাপ, বিষাক্ত পোকা মাকড় এবং পিপড়া হতে সাবধানে থাকতে হবে।আবার এখানকার ব্যাঙ গুলোও বিষাক্ত।ওদের থেকেও দূরে থাকতে হবে।আসলে অ্যামাজনে সব কিছু যেমন সুন্দর, তেমনি ভয়ঙ্করও। শুক্র গ্রহকে দেখতে যেমন অপরূপ লাগে,আবার ভিতরে গেলে সব জাহান্নাম মনে হয়।ঠিক তেমনি ভয়াবহ সুন্দর হলো এই অ্যামাজন বন। তবে যতোই ভয়ানক হোক না কেন, আমাদের অ্যামাজন ভ্রমণ ভালোই হচ্ছে।
এদিকে বিকাল হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ পরেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে।জঙ্গল আর পাহাড়ে এরকমই হয়।দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।তাই রাতের বেলা কূপে নামার বিপদ নিতে চাই না।যদিও কূপের ভিতর দিন না রাত তা বোঝা যাবে না। তবুও এখানে থাকব। আজ আর ভাজা গোশত খেতে ভালো লাগছে না।তাই ঠিক হলো আজ রান্না করেই খাওয়া হবে।রান্নার জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে গেলাম সবাই।তবে সাবধানেই গিয়েছি। সামনে একটু দূরে কিছু একটা হালকা নড়াচড়া করল। কিন্তু সেটাকে ঘাটাতে গেলাম না।কারণ কী আছে সেটা না জেনে কিছু করা ঠিক হবে না। তাই কিছু করলাম না। লাকড়ি নিয়ে সবাই ফিরে আসলাম। ততক্ষণে তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু, ঝুমুর আপু, তুবা,ইভা, সারা, পুষ্পিতা যারা রান্না করতে পারে তারা রান্নার ব্যাবস্থা করে নিল। আমরা যাওয়ার পর আমাদেরও কাজ করতে হলো। এটা ওটা নিয়ে ওদের দেওয়া,এসব কাজ করলাম আমরা।রান্নার কাজ চলল অনেকটা সময়।রান্না শেষ হতে হতে রাত হয়ে গেল। রাতে সবাই একসাথে বসে কথা বলতে লাগলাম। চাঁদের আলোয় গল্প করতে লাগলাম। হঠাৎ,,,
তারপর কী হলো??? জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করুন।
[কেমন লাগল??? সরি,এই পর্ব দিতে দেরী হয়ে গেল।এই গল্পে কোনো ভুল নজরে আসলে বলবেন]
বি.দ্র.: যথেস্ট সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি।আর আমার প্রোফাইলের সব গল্পই আমার।তাই কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now