বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কারা দায়ী?
লেখাঃ মাহ্দী।
মাহিরের আজ খুব আনন্দ। কারণ কিছুদিনের মধ্যে তার ছোটচাচার বিয়ে। একারণে তাদের বাসায় অনেক মেহমান। এই কিছুক্ষণ আগে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু তার ছোট ফুপুর ছেলে সাদমান এসে পৌঁছুল।তার ছোট ফুপুরা আর বড় ফুপুরা আজকে পৌঁছুলেন। মেজো ফুপুরা কাল আসবেন।সারা বাসায় খুব আনন্দ।
সাদমানরা আসার পরই অবশ্য একটা বড় কান্ড ঘটে গেছে। মাহিরের বড় চাচা আব্বাস সাহেব স্পষ্ট বলে দিয়েছেন বাচ্চারা ছাদে যেতে পারবে না।মাহির আর সাদমান দুইজনই আব্বাস সাহেবকে ভয় পায়। ছাদে না যেতে পারার দু:খ ছাড়া এই মুহূর্তে মাহির আর কোনো দু:খ অনুভব করছে না।
সাদমানের নানী অর্থাৎ মাহিরের দাদী এখন খুব ব্যস্ত। আর কয়েকদিন পরে তার ছোট ছেলের বিয়ে। এ নিয়ে উনার ব্যস্ততার শেষ নেই। আর সবগুলো কাজের মেয়ে একেকটা বদ। একটাও ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। সব উনাকেই দেখিয়ে দিতে হয়। এই বুড়ো বয়সে এত কাজ করছেন। এই নিয়ে উনার ছেলেদের কোন মাথা ব্যথা নেই। তারা দিব্যি আরামে ঘুমিয়ে আছে। কিছুক্ষণ আগে তার বড় ছেলে আব্বাস ঘুম থেকে উঠলো। দুপুর ১ টা বাজে অথচ তার মেজো ছেলের এখনো ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়নি। সব কাজ তাকে করতে হচ্ছে। বারবার তিনি কাজের ছেলেটাকে নিয়ে এইটা সেটা আনাছেন । কিছুক্ষণ আগে তার ছোট মেয়ে সালমা এসেছে। মেয়ে আসার পরে অবশ্য তিনি মনে অনেক জোর পাচ্ছেন। মনোয়ারা বেগমের তিন মেয়ে তিন ছেলে। সবাই বর্তমানে ভালো অবস্থানে আছে। মনোয়ারা বেগম বর্তমানে যে রুমে বসে আছেন সেটা দেখতে অনেকটা পুরনো জমিদার বাড়ির মত। এই রুমে বসে তিনি তার ছোট ছেলের বিয়ের তদারকি করছেন। মনোয়ারা বেগম ডাক দিলেন, এই জামানের মা এই দিকে আসো। ডাকার সাথেসাথেই জামানের মা এসে হাজির।
মনোয়ারা বেগম বললেন জামানের মা বাসায় এতো চিল্লাচিল্লি হচ্ছে কেন? কি হয়েছে?
জামালের মাকে কেউ কোন প্রশ্ন করলে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে জবাব দেয় সে ।
জামানের মা তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে বলল ওমা আফনি শুনছুইন না।কিতা কইন?হজ্ঞলে তো জানে।
এত কথা না বলে মূল কথাটা বলতো যে জামানের মা।
কি হইছে তাইলে শুনুইন।মাহির ভাই সাদমান ভাইরে লইয়া ছাদে গেছিন। আর এই লিগা বড় ভাইজান হেরা দুইজনের শাস্তির ব্যবস্থা করছে।
কি শাস্তি?
১০০ বার কানে ধরে উঠবস।
এই নিয়ে পুরো বাসায় চিল্লাচিল্লি কেন?
মাহির ভাই অনেক কানতাছে আর বড় ভাইজান হেরে বক্তা আছে এই চিল্লাচিল্লি আর কি?
ও যা তুই।
জামানের মা রুম থেকে বের হয়ে গেল। আরো অনেককেই তার এই খবরটা দিতে হবে। অনেক মানে দুজন আরকি।মাহিরের ছোট চাচা জালাল। আর মাহিরের বাবা সোহেল।
জালালের রুম এখন বন্ধ। সোহেলের রুম খোলা। জামান এর মা সোহেলের রুমে যাচ্ছে। খালি হাতে যাওয়া যায় না। তাই এক কাপ চা রান্নাঘর থেকে নিয়ে নিল।
মেজ ভাইজান আইতাম?
এস এস জামান এর মা।চা এনেছো তো?
হ, ভাইজান চা আনছি। কি কইতাম ভাইজান মাহির ভাইজান জেমনে কানতাছেদেখলে বুকটা ফাইটা যায়।
কেন কি হয়েছে মাহিরের সে কাঁদছে কেন?
বড় ভাইজান শাস্তি দিছে।
ও ।ভাইজান শাস্তি দিলে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে তুমি এখন যাও আর খবরের কাগজ টা দিয়ে যেও।
জামান এর মা আশাহত হল। মনে মনে বলল কেমন বাপ? পোলাডারে শাস্তি দিছে কিছু কইও না। আশাহত হয়েও সে আশা ছাড়লো না ।
সোহেলকে খবরের কাগজ দিয়ে রওনা হল জালালের রুমের দিকে হাতে এক কাপ চা।
জালাল এর রুম ভেতর থেকে বন্ধ জামান এর মা দরজায় ধাক্কা দিল দরজা কেউ খুললো না। জামানের মা ধৈর্য অনেক বেশি সে ধাক্কা দিয়ে যেতে লাগলো ।কিছুক্ষণ ধাক্কা দেওয়ার পর জামানের মা ভয় পেয়ে গেল। এতক্ষণ পরেও দরজা খুলছে না কেন ?অজ্ঞান হয়ে আছে নাকি?জামানের মা চিৎকার দিল ওগো কে কোন হানে আসুইন ছোট ভাইজান দরজা খুলতেছে না সবাই আইন। সবাই আইন।
আব্বাস সাহেব সহ সবাই দৌড়ে আসলো।
আব্বাস সাহেব বললেন কি হয়েছে জামান-এর মা?
জামালের মা বলল দেখুন না ছোড ভাইজান দরজা খুলতেছে না।
আব্বাস সাহেব দরজায় ধাক্কা দিল ছোটন এই ছোটন দরজা খোল।
কোন ফলাফল নেই ।
সোহেল বলল ,ভাইজান দরজা ভেংগে ফেলি চলেন।
আব্বাস সাহেব আর সোহেল দরজায় ধাক্কা দিল। প্রথমটায় কিছু হল না ।দ্বিতীয়টা ও না ।তৃতীয় ও টায়
দরজা ভেঙে গেল।
দরজা ভাঙার পর যে দৃশ্য সবাই দেখলো তা ছিল তাদের কাছে অকল্পনীয়। সিলিং ফ্যানের সাথে জালাল ঝুলছে মৃত অবস্থায়। বিছানার উপরে একটা কাগজ। আব্বাস সাহেব কাগজটা হাতে তুলে নিল। জালালের হাতের লেখা। গোটা গোটা সুন্দর করে লেখা।
জালাল লিখেছে-
হে পৃথিবীবাসী,আমি আমার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে কোন একজনকে দায়ী করবো না। আমার এই কারন টা আপনারা একটু শুনুন। সবাই দয়া করে আমার এই কথাটা শুনুন। ফারহানা আমায় বলে দিয়েছে আমার সাথে সে বিয়ে করবে না। আজ সকাল ১০ টায় সে ফোন করে আমায় এ কথা বলে। ফারহানা কে আমি ভালোবাসি।আমি ঠিক ১১ টা ৩১ মিনিটে এই চিঠি লিখতে বসেছি। চিঠি লেখার পর আমি আত্মহত্যা করব ।এখন বলি ফারহানা কেন আমায় বিয়ে করবে না। তার কারণ সে জানতে পেরেছি আমি পতিতাদের কাছে যাই ।
কথা ঠিক। হ্যাঁ, আমি পতিতাদের কাছে যাই। নিয়মিত ভাবেই যাই ।কিন্তু এই জন্য কি শুধু আমিই দায়ী?সত্যিই কি শুধু আমি দায়ী? পতিতারা কি দায়ী না? তারা কি দায়ী না যারা বেপর্দা থাকে? যারা আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়।তুমি কি তাই না ফারহানা? সেইসব পুরুষরা কি দায়ী না যারা তাদের উপর যাদের পর্দা করার কথা বলা দায়িত্ব ছিল তারা সেসব নারীদের পর্দা করার কথা বলে না?অবশ্যই তারা সবাই দায়ী। তারা দায়ী আমার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার জন্য। তারা দায়ী আমার মত কোটি কোটি পুরুষদের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য। আমার মত কোটি কোটি পুরুষদের চরিত্র নষ্ট করার জন্য। আমাদের দেশের আইন কি দায়ী না? হ্যাঁ, অবশ্যই তারা আমার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার জন্য আমার মত কোটি কোটি পুরুষদের চরিত্র ধ্বংসের জন্য দায়ী। হে পৃথিবীবাসী তোমার এই ভাইয়ের চিঠিটা একবার হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়ো।
তোমারি ভাই
জালাল
আব্বাস সাহেবের হাত থেকে চিঠি টা পড়ে গেল। সবাই জালাল কে ঘিরে কাঁদছে। মনোয়ারা বেগম জালাল এর পাশে বসে কাঁদছে। আব্বাসের মনে শুধু বারবার একটা কথা আসতে লাগল কারা দায়ী? কারা দায়ী ?কারা দায়ী?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now