গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
নোটিসঃ কর্টেসি ছাড়া গল্প পাবলিশ করা হবেনা । আপনারা গল্পের ঝুড়ির নিয়ম পড়ে নেন ।

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

ক্রুসেড সিরিজ (৫) ষষ্ঠ অংশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mofizul Hossain (৩৯৮ পয়েন্ট)



ভয়াল রজনী দু ঘণ্টা পর ডিউটি পরিবর্তন হলো। পাহারারত কমাণ্ডোরা বন্ধুদের ডেকে দিয়ে ঢুকে পড়ল তাবুর ভেতর। কমাণ্ডার আজীম সংগী দুজনকে তাবুর পাশে রেখে নিজেয চলে গেলেন বালিয়াড়ির আড়ালে। কোন রকম বিপদের সম্ভাবনার কথা তার মনেও এলো না। কিন্তু কমাণ্ডোর স্বভাবসুলভ সতর্কতা অটুট রেখে পাহারায় লেগে রইলো সবাই। তাবুর পাশের সেন্ট্রি দুজন পায়চারী থামিয়ে প্রায় আধঘণ্টা যাবত বসে বসে পাহারা দিচ্ছে। বালির ঢিবির আড়াল থেকে তীর ধনুক প্রস্তুত রেখে পলকহীন ভাবে তাবুর দিতে তাকিয়ে আছে কমাণ্ডার আজীম। হঠাৎ সচকিত হয়ে উঠল তার ইন্দ্রিয়। মনে হলো আশপাশে কোথাও একাধিক মানুষ খুব সন্তর্পনে হেটে বেড়চ্ছে। সে বিন্দুমাত্র মাথা না নাড়িয়ে যতদূর সম্ভব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতে চেষ্টা করল, কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। সে পিছনটায় একবার দৃষ্টি বুলানোর জন্য মাথাটা যেই ঘুরাবে ভাবল, অমনি তার চোখ আটকে গেল খেজুর বাগানের মধ্যে। সে স্পষ্ট দেখতে পেল তাবুর দুদিক থেকে দুজন করে বেদুঈন শিকারী নেকড়ের মত পায়ে পায়ে তাবুর দিকে এগিয়ে আসছে। সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের কথা চিন্তা করছিল কমাণ্ডার। তীর মেরে বড়জোর একজনকে কাবু করা সম্ভব। সাথে সাথে অন্য তিন জস সতর্ক হয়ে যাবে। বাগানের অন্ধকার ও গাছের আড়াল তাদের নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে। কিন্তু ও সামান্য নড়াচড়া করলেই চাঁদের ফকফকা আলোয় পরিস্কার ওদের চোখে পড়ে যাবে। শত্রুরা তাবুর ত্রিশ গড়ের মধ্যে চলে এসেছে। দ্রুত চিন্তা চলছে কমাণ্ডারের মাথায়। সেন্ট্রি দুজন এখনো উঠে দাড়াচ্ছে না কেন? ওরা কি কিছুই টের পায়নি এখনো? না কি ঘুমিয়ে পড়েছে ওরা? বেদুঈনরা আরো এগিয়ে এসেছে। ক্রমে তাবু ও ওদের মাঝের ব্যবধান ঘুচে যাচ্ছে। এখন বড়জোর আর বিশ গজ, না আরো কমে আসছে ব্যবধান। দশ গজ দূরে এসে খানিক থমকে দাঁড়াল ডাকাতরা। বোধ হয় সেন্ট্রিরা সজাগ না ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে চেষ্টা করল। তারপর খাপ থেকে সাবধানে তরবারী বের করে সেন্ট্রি দুজনের দিকে বা বাড়াল। ওদের চলাফেরা এতটাই নিঃশব্দ ছিল যে তখনো পর্যন্ত সেন্ট্রিরা কোন কিছু টের পায়নি। আততায়ীরা সেন্ট্রিদের দু’গজের মধ্যে এসে যখন তরবারী উপরে তোলা শুরু করল তখন কমাণ্ডারের প্রথম তীরটি একজন বেদুঈনের বক্ষ ভেদ করল এবং বলতে গেলে প্রায় একই সময়েঢ অন্য পাশের আরেক জনকেও ধরাশায়ী করল তার তীর। চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে উঠে দাঁড়াল সেন্ট্রি দু জন এবং পাঁই করে ঘুরে তরবারীর প্রথম আঘাত ঢেকাল নিজের তলোয়ার দিয়ে। দু জোড়া তলোয়ারের ঠোকাঠুকির আওয়াজ শেষ রাতের মরুভূমির নিস্তব্ধতা বিনষ্ট করে দিল। সতর্ক ও দুঃসাহসী বেদুঈনরা তীব্র আঘাত হানলো কমাণ্ডোদের ওপর। হতচকিত কমাণ্ডোরা কোন রকমে সে আঘাত ঢেকিয়ে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করল। যখন ওরা বুঝল শত্রু মাত্র দুজন তখন পাল্টা আঘাত হানলো কমাণ্ডোরা। ততোক্ষণে কমাণ্ডার অন্যদের ডাকতে ডাকতে সেখানে এসে পৌঁছল। কমাণ্ডারের ডাক চিৎকারে তাবুর ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো অন্যান্য কমাণ্ডোরাও। আহতদের মধ্য থেকে একজন বেদুঈন উঠে দাঁড়িয়েছিল। সে তার তরবারী দিয়ে লড়াইরত কমাণ্ডো সৈন্যটিকে আঘাত করতে উদ্যত হতেই কমাণ্ডারের তলোয়ারের আঘাতে দেহ থেকৈ তার মাথাটা বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিটকে পড়ল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিসমাপ্তি ঘটলো এ লড়াইয়ের। সৈন্যদের ডাক চিৎকারে আশফাক এবং যুবতী দু জনেরও ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। তাবুর বাইরে এসে তারা দেখতে পেলো চারজন বেদুঈনের লাশ। কমাণ্ডার ওদের শান্তনা দিয়ে বলল, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এরা সাধারণ ডাকাত মাত্র’। সকাল হয়ে এসেছিল। কমাণ্ডার সবাইকে সফরের জন্য প্রস্তুত হয়ে নিতে বলল। হাত মুখ ধুয়ে সফরের পোশাক পরে তাবু থেকে বেরিয়ে এলো আমিনা ও সামিনা। কমাণ্ডার বলল, ‘নামাজ সেরে নিন’। ওরা নামাজ সেরে নিতে নিতে সৈন্যরা তাবু গুটিয়ে নিল। সবাই চড়ে বসল যার যার ঘোড়ায়। সূর্য উঠার আগেই বেশ কিছুটা পথ এগিয়ে গেল তারা। মরুভূমিতে কোমল আলো ছড়িয়ে সূর্য উঁকি দিল আবার। যেন মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠেছে ঘনিষ্ট আপন জন। যাত্রীরা ঘোড়ার পিঠে বসেই মিঠে রোদের আলতো পরশ অনুভব করল সর্ব অঙ্গে। বাকী পথটুকু নিরাপদেই কাটলো তাদের। পরদিন সন্ধ্যার একটু আগেই ওদের চোখে পড়ল কায়রো শহর। কয়েকদিন থেকেই ব্যাপকভাবে মুসলমানদের ধরপাকড় চলছে ক্রাকে। স্রেফ সন্দেহের বশে অনেককে বেগার ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হল। ক্রাকে শুরু হয়ে গেল মুসলিম নির্যাতনের নতুন অধ্যায়। ওসমানের দু’জন বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শত নির্যাতনের পরও ওরা মুখ খোলেনি। ওদের কাছ থেকে কথা আদায় করার জন্য একদিন স্বয়ং হরমুন জেলে এলেন। একজন একজন করে সব বন্দীদের দিকে তাকালেন তিনি। তার চোখ এসে আটকে রইল দুই যুবকের ওপর। চরম নির্যাতন করেও ওদের মুখ থেকে কোন কথা বের করা যায়নি। হরমুন ওদেরকে নিজের দপ্তরে নিয়ে গেলেন। ভাল ব্যবহার করলেন ওদের সাথে। ওদেরকে উন্নতমানের খাবার দেয়া হলো। ডাক্তার ডেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। তারপর তাদের শোবার জন্য দেয়া হল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বিছানা। ধীরে ধীরে ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল ওরা। ঘুমন্ত দুই যুবকের মাঝখানে বসে রইরেন হরমুন। কিছুক্ষণ পর বিড়বিড় করে উঠলো একজন। ‘আমার দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলো, আমি কিছুই জানি না। জানলেও আমি তোমাদেরকে কিছুই বলবো না। তোমরা গলায় ক্রুশ ঝুঁলিয়ে রাখো আর আমি বাঁধি পবিত্র কোরআনের আয়াত’। ‘তুমি সেনা ছাউনিতে আগুন লাগিয়েছিলে?’ হরমুন প্রশ্ন করলেন। যুবক কোন জবাব দিলেন না। হরমুন আবার বললেন, ‘তোমরা খ্রীষ্টানদের কোমর ভেংগে দিয়েছ। আমি স্বীকার করছি, তুমি অবশ্যই সাহসী। কিন্তু সাহস থাকলেই মরতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। এই বয়সেই মরে গিয়ে কি লাভ হবে তোমার?’ ‘মরে গেলে’ বিড়বিড় করল যুবক, ‘যদি মরে যাই, এ দেহে যতক্ষণ প্রাণ আছে ঈমানও আছে। দেহ থেকে প্রাণ বেরিয়ে গেলেও ঈমান যাবে না’। ‘তাহলে তুমি কি চাও যে, দেহ থেকে তোমার প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যাক? এই তোমার শেষ ইচ্ছা?’ ‘না, আমি আরো হাজার বছর বেঁচে থাকতে চাই। আর যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন জেতাদ করতে চাই। কিন্তু কারো দয়ার ওপর বেঁচে থাকার ইচ্ছে নেই আমার। মরণকে ভয় পাই না আমি’। ‘কিন্তু এভাবে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়ার মাঝে কোন স্বার্থকতা নেই যুবক। আমরা যা জানতে চাই বলো, কথা দিচ্ছি, তোমাকে আমরা মুক্তি দিয়ে দেবো’। ‘আমাদের জীবনে ব্যর্থতা বলে কিছু নেই হরমুন। জীবনেও লাভ, মরণেও লাভ। বাঁচলে বাঁচবো আল্লাহর দ্বীনের জন্য, মরবোও দ্বীনের পথে থেকে। ব্যর্থ তো তার জীবন, যে ভয়ে, লোভে বা মোহে পড়ে আপোষের পথ ধরে। নীতির সাথে আপোষ করে, সত্যের সাথে আপোষ করে, বিবেকের সাথে আপোষ করে। যত চেষ্টাই করো আমার কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারবে না তুমি’। অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন হরমুন। তার মনের কথা যুবকের মুখ দিয়ে কিছুতেই বের করাতে পারলেন না। এবার তিনি ফিরলেন দ্বিতীয় যুবকের দিকে। চেষ্টা করলেন কথা বের করার। কিন্তু দ্বিতীয় যুবকের মুখ থেকেও কোন কথাই বের করতে পারলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত হরমুন সংগী গোয়েন্দাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘অনর্থক চেষ্টা। ওদের মুখ থেকে কিছুই বের হবে না’। ‘মনে হচ্ছে এরা ঘটনার সাথে জড়িত নয়। থাকলে কোন না কোন সূত্র পাওয়া যেতোই। তবে নিজের বিশ্বাসের ওপর এরা বড় বেশী দৃঢ়’। ‘ওদের যে পরিমাণ হাশিস খাইয়েছি একটা ঘোড়াকে খাওয়ালে ঘোড়াও কথা বলত’। ‘এদের ভেতর জাতীয় চেতনাবোধ অত্যন্ত প্রবল। সে চেতনাকে ওরা বলে ঈমান। এ যুবকদের মধ্যে ঈমানী দৃঢ়তা বেশী এ কথা ঠিক, কিন্তু আমার মনে হয় এর নির্দোষ’। বলল আরেক অফিসার। এই দুই যুবক ছিল ওসমানের দুই সংগী। এরা মূলতঃ নির্দোষ ছিল না। প্রাসাদ আক্রমণে ওরাও ওসমানের সাথে ছিল। কিন্তু এদের ঈমান ছিল এত দৃঢ় যে, সেখানে হাশিসও কোন কাজ করেনি। অজ্ঞান অবস্থায়ই ওদের দু’জনকে অনেক দূরে নিয়ে মরুভূমির মধ্যে ফেলে আসা হলো। ওদের জ্ঞান ফিরল পরদিন সকালে। জ্ঞান ফিরলে পরস্পরের দিকে চাইল ওরা। দেখল, বেগার ক্যাম্প নয়, ওরা দুজনই পড়ে আছে খোলা আকাশের নীচে। ওরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরল। এরপর উঠে বাড়ীর দিকে হাঁটা দিল দু’জনেই। ওসমানের ত:ৎপরতা আরও বেড়ে গেছে। পেছনে ছায়ার মত রেগে আছে রিনি। একদিন পথে ওসমানের সাথে দেখা হলো রিনির। দাঁড়িয়ে পড়ল দু’জনই। রিনি জিজ্ঞেস করল, ‘ওসমান, আল নূর কোথায়?’ ‘তোমাদের জাতির কোন পাপীর কাছে। তার ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসুক’। ‘গজব নয় ওসমান, বল রহমত। আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মারাগেলে তাকে তোমরা শহীদ বলো। আমি জানি, আল নূর শহীদ হয়ে গেছে’। ওসমান নির্বাক হয়ে গেল। রিনিই আবার মুখ খুলল, ‘সেই দুই যুবতীকে প্রাসাদ থেকে যারা বের করে এনেছে তার মধ্যে তুমিও একজন। গ্রেফতার হচ্ছো না কেন জানো? তোমার গ্রেফতারের পথে আমি বাধা হয়ে আছি। বলো, আর কত ত্যাগ চাও ওসমান, আর কত পরীক্ষা নিতে চাও আমার প্রেমের?’ ‘আমার কাছে কি চাও তুমি?’ ‘প্রথমে তোমার ভালবাসা চাই। এরপর চাই তুমি এই বিপজ্জনক তৎপরতা থেকে সরে দাঁড়াও’। ‘তুমি তোমার জাতিকে ভালবাস। আমাকে ভালবাসলে আমার জাতিকে কেন ভালবাসো না?’ ‘তোমার বা আমার কারো জাতির সাথেই আমার ভালবাসা নেই। বিপজ্জনক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছি, কারণ, নইলে তুমি মারা যাবে। আমি কেবল তোমাকেই ভালবাসি ওসমান! তুমি মারা গেলে আমিও বেঁচে থাকবো না। আমি তোমায় জীবিত এবং হাসিখুশী দেখতে চাই’। মাথা নিচু করে নিল ওসমান। এ কথার কোন জবাব ছিল না তার কাছে। কয়েক মিনিট সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। এরপর কোনকিছু না বলেই হাঁটা দিল ওসমান। রিনি গভীল প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়েছিল ওসমানের দিকে। ও যখন হাঁটা ধরল রিনি পেছন থেকে বলে উঠল, ‘ওসমান। অন্য জাতির এক নারীর কথা মনে করে আমার প্রস্তাব উড়িয়ে দিও না তুমি। আমার শৈশব ও কৈশোরের স্বপ্নকে তুমি ভেংগে দিও না’। ‘আমি আবারও বলছি ক্রাক সুবাক নয়’। কমাণ্ডারদের সামনে শেষবারের মত যুদ্ধনীতি ও রণকৌশল ব্যাখ্যা করছিলেন সুলতান আয়ুবী। ‘খ্রীষ্টানরা আগের চাইতে অনেক বেশী সতর্ক। গোয়েন্দারা আমাকে যা বলেছে তাতে আমি নিশ্চিত, ক্রাকের যুদ্ধ হবে দুর্গের বাইরে। ভেতরে মুসলমানদের তৎপরতা আপনাদের কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। ওরা বেশী নড়াচড়া করলে অহেতুক মারা পড়বে। আমি ওদেরকে এত বড় পরীক্ষায় ফেল তে চাই না। ওদের রক্ষা করার একটাই মাত্র পথ, আমাদেরকে প্রচণ্ড আক্রমণ করতে হবে’। এ ভাবে আরও কিছুক্ষণ কথা বলে সুলতান সূর্যাস্তের পর ক্রাকগামী সৈন্যদেরকে মার্চ করার নির্দেশ দিলেন। পরদিন ভোরে সৈন্যবাহিনী ক্রাকের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছল। এখান থেকেই দূর্গ অবরোধের প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে। পথে খ্রীষ্টান সৈন্যদের কোন টহল বাহিনী বা সশস্ত্র প্লাটুন চোখে পড়েনি ওদের। গোয়েন্দারা জানিয়েছে, খ্রীষ্টান বাহিনী দূর্গের বাইরে তাবু গেড়ে প্রস্তুত হয়ে আছে। কোথায় তারা তাবু গেড়েছে জেনে নিয়ে মুসলিম বাহিনী অন্য পথে অগ্রসর হলো। ফলে বিনা বাধায়ই এরা দূর্গ অবরোধ করতে সক্ষম হলো। দূর্গ অবরোধ করার সাথে সাথে পাঁচিল থেকে শুরু হল তীব্র তীর বৃষ্টি। মুসলিম বাহিনী জওয়াবী হামলায় কঠোর আক্রমণ করল না, বরং হালকা চালে যুদ্ধ চালিয়ে ফাঁকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল ভেতের ঢুকার কোন সম্ভাবনা আছে কি না। সাথের গোয়েন্দারা কমাণ্ডারকে ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের বর্ণণা দিচ্ছিল। মুসলিমদ বাহিনীর অবরোধের খবর দূর্গের অভ্যন্তরে এখনও প্রচার হয়নি। অবরোধকারীদের পেছনটাও এখনো অরক্ষিত। হঠাৎ অভ্যন্তরে সামরিক এলাকায় অগ্নিগোলা নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। পাঁচিলে উঠে এল খ্রীষ্টান সৈন্যরা। শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ল। ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে ভেতরে বসে রইল। মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের জন্য মুসলমানগণ দোয়া করতে লাগল। ওসমান ও তার সংগীরা দুর্গের মেইন ফটক খুলে দেয়ার বা পাচিল ভেংগে ফেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল। শহরের বিপুল সংখ্যক মুসলিম যুবক যুবতী কিভাবে আয়ুবীর সহযোগিতায় আসতে পারে সে জন্য স্বতঃস্ফুর্তভাবে আলাপ আলোচনায় মেতে উঠল। মুসলমানদের মহল্লাগুলোতে লোকজন জোট বেঁধে জটলা করতে থাকলো। কাঠের তৈরী মজবুত ফটক লোহার পাতে মোড়া, বাইরে থেকে নিক্ষিপ্ত অগ্নি গোলায় আগুন লাগল না। পাঁচিলের ওপর থেকে ফটক লোহার পাতে মোড়া, বাইরে থেকে নিক্ষিপ্ত গোলায় আগুন লাগল না। পাঁচিলের ওপর থেকে ছোড়া তরে কামানধারীদের কয়েকজন শহীদ হয়ে গেলেন। কামানগুলো পেছনে সরিয়ে নেয়া হল। শেষ পর্যন্ত সৈন্যদেরকে পাঁচিলের ওপর তীর নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়া হল। খ্রীস্টান সৈন্যরা উপরে থাকায় মুসলমানদের বেশী ক্ষতি হচ্ছিল। দেয়ার ভাংগার যন্ত্র নিয়ে আটজনের একটা দল প্রাচীরের দিকে এগিয়ে গেল। পাঁচিলের তীর বৃষ্টি তাদের শহীদ করে দিল। রাতের প্রথম প্রহর। ক্লান্ত হয়ে বাড়ী ফিরেছেন রিনির আব্বা। এসেই শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার ডিউটিতে যেতে হবে। তিনি খবর পেয়েছেন শহরের মুসলমান অধিবাসীরা ভয়ংকর কোন ষড়যন্ত্র করছে। ওদের চলাফেরা এবং হাবভাব মোটেই সুবিধের নয়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখন থেকে ওদের প্রতিটি বাড়ীতেই নজর রাখতে হবে। সেভাবেই তিনি চারদিকে গোয়েন্দা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি শুয়ে পড়ার খানিক বাদে দরজার নক করল কেউ। এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল রিনি। বাইরে একজন মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে। চেনে তাকে রিনি। খ্রীস্টানরা তাকে ভীষণ পছন্দ করে। দরজা খুলতেই লোকটি বলল, ‘আপনার আব্বা কোথায়? তাকে ডাকুন। গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আছে, এখুনি আপনার আব্বাকে তা জানানো দরকার’। ‘আব্বা তো এইমাত্র শুয়েছেন। রাতেই নাকি আবার বেরোবেন। তাকে তো এখন ডাকা যাবে না’। ‘আমার কথা বুঝতে চেষ্টা করুন। খুবই জরুরী সংবাদ, এখুনি তাকে বলা দরকার’। ‘আমাকে বলো, আব্বা উঠলেই তাকে আমি তা পৌঁছে দেবো’। ‘আজ রাতে কিছু মুসলিম যুবক ও যুবতী পাঁচিল ভেংগে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে’। ‘তুমি কি করে জানলে এ কথা?’ রিনির প্রশ্নে জবাবে লোকটি বললো, ‘আমি ওদের বন্ধু সেজে সব জেনে এসেছি। রাস্তার মোড়ে যে গরীব মুচিকে দেখতে পান সে আসলে মুচি নয়, সে আয়ুবীর একজন গোয়েন্দা। ওরই পরামর্শে যুবকরা এ পরিকল্পনা নিয়েছে’। ‘পাঁচিলের কোন দিকে আঘাত হানতে পারে সে ব্যাপারে বলেছে কিছু?’ ‘আস্তাবলের পেছনে উত্তর দিকের ময়লা ফেলার পাশের দেয়াল স্যাতস্যাতে হয়ে আছে। ওখানে যে বড় গাছটা আছে সেখানে বেশ অন্ধকারও থাকে রাতে। ওখান দিয়েই ওরা প্রথমে চেষ্টা করবে বলেছে’। ‘তুমি এসব মুসলিম যুবকদের নাম জানো? কারা কারা আছে এ দলে না জানলে ওদের গ্রেফতার করবে কিভাবে?’ ‘আমি সব জেনে এসেছি’। লোকটি অভিযানকারীদের নাম বলর রিনির কাছে। বলল, ‘ওসমান এদের দলনেতা’। ওসমানের নাম শোনা মাত্র রিনির ভেতরটা কেঁপে উঠল। কিন্তু মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘সালেমের ছেলে ওসমান তো‍! ঠিক আছে, আমি বলবো আব্বাকে’। ‘কিন্তু ওনি যদি আরো কিছু জানতে চান? আমি কি একটু পর আবার এসে ঘুরে যাবো?’ ‘ঠিক আছে এসো’। লোকটি বলল, ‘তারচে বরং আমি একটু বসি, যাতে উনি উঠলেই দেখা করতে পারি’। ‘আব্বা তো মাত্র শুয়েছেন, কতক্ষণ বসে থাকবে তুমি? তারচে বরং ঘুরেই আসো’। কিন্তু লোকটা যেতে চাইছে না। পুরস্কার পাবার এই সুযোগ সে কিছুতেই হারাতে রাজি নয়। সে দরজার সামে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। রিনি দেখলো এ তো মহা বিপদ। কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বললো, ‘এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বললে আব্বার ঘুম ভেংগে যেতে পারে। চলো বাইরে থেকে হেঁটে আসি’। এত বড় অফিসারের সুন্দরী মেয়ের সাথে একটু সময় কাটানোর লোভ সংবরণ করতে পারল না লোকটা। রিনি দরজা টেনে বাইরে বেরিয়ে আসতেই পোষা কুকুরের মত সে রিনির সাথে সাথে চলল। হাঁটতে হাঁটতে একটা কুপের কাছে চলে এল ওরা। কুপটি গভীর করে খোঁড়া হয়েছিল। থামল রিনি। উঁকি দিয়ে বলল কুয়োর ভেতর। মুসলমানদের গোপন তৎপরতার সংবাদ বলে যাচ্ছিল লোকটি। সেও গলা বাড়িয়ে চাইল কুয়োর ভেতর। রিনি দেহের সমগ্র শক্তি দিয়ে তাকে ধাক্কা দিল। সোজা কুয়োয় গিয়ে পড়ল তার দেহ। তার কলজে ফাটা চিৎকার ‘ধড়াম’ শব্দের সাথে শেষ হয়ে গেল। রিনি ভীষণ খুশী। ওসমানের মৃত্যুর সংবাদ ও কুপের গহীনে ডুবিয়ে দিতে পেরেছে। এক ছুটে ওসমানের বাড়ীতে গিয়ে পৌঁছল রিনি। তার মায়ের সাথে আল নূরের প্রসংগে কিছুক্ষণ আলাপ করল। ওসমানের কথা জিজ্ঞেস করলে তার মা বললেন, ‘সেই যে সন্ধ্যায় বেরিয়েছে এখনও ফেরেনি’। হয়ত অভিযানে চলে গেছে, ভাবল রিনি। বেরিয়ে এল ওসমানের বাড়ী থেকে। তার আশংকা হলো অন্য কোন ‘সোর্স’ সেনাবাহিনীকে সংবাদটি দিয়ে থাকতে পারে। যেখানে দেয়াল ভাংগা হবে রিনি সেদিকে ছুটল। ওসমানকে সে বাঁধা দেবে। বলবে, তোমাদের আজকের অভিযানের কথা সবাই জেনে গেছে। রিনি পাঁচিলের কাছে গিয়ে দেখল কেউ নেই। ও এদিক ওদিক চাইতে লাগল। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ তাকে জাপটে ধরে অন্ধকারে নিয়ে গেল। লোকটি ক্রাকের একজন সেনা সদস্য। ও পিতার পরিচয় দিয়ে নিজের নাম বললো। রিনিকে ওখান থেকে চলে যেতে বললো সৈন্যরা। কিন্তু ও যাবে না। ও বুঝতে পারছে ওসমানদের ধরার জন্যই সৈন্যরা এখানে এসে লুকিয়ে আছে। রিনি সৈন্যদেরকে এখান থেকে যেতেও বলতে পারছে না। থাকতেও দিতে পারছে না। ওরা থাকলে ওসমানকে বাঁচানো কষ্ট হবে। কিন্তু ওযে যে কোন মূল্যে ওসমানকে বাঁচাতে চায়। একজন সৈন্য বললো, ‘খবর মিথ্যে নয়। ওই যে ওরা আসছে’। চমকে উঠল রিনি। চিৎকার দিয়ে বললো, ‘ওসমান ফিরে যাও’। কমাণ্ডার ওর মুখ পেচে ধরে বললো, ‘মেয়েটা মনে হয় ওদের গুপ্তচর। ওকে বন্দী করো’। কিন্তু সে সুযোগ আর পাওয়া গেল না। ওসমানরা এসে পড়েছে। ওরা লড়াই করার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। পেছনে খ্রীষ্টান সৈন্য, সামনে ওসমানদের গ্রুপ। ওদের হাতে বর্শা, খঞ্জর এবং দেয়াল খোদাই করার যন্ত্রপাতি। ওসমানের এ অভিযানে যুবকরা ছাড়াও দলে ছিল এগার জন যুবতী। কমাণ্ডোর মধ্য থেকে একজন চিৎকার দিয়ে বললো, ‘মুজাহিদ, পালিয়ো না। প্রতিটি মেয়েকে রক্ষা করার জন্য একজন করে থাকো, বাকীরা লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পড়ো’। দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হল। খ্রীষ্টানরা ছিল সংখ্যায় অধিক। কমাণ্ডো সদস্যরা একজন একজন করে শহীদ হতে লাগল। যুদ্ধের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ ধ্বনিত হচ্ছিল রিনির কণ্ঠ, ‘ওসমান পালিয়ে যাও। পালিয়ে যাও ওসমান’। খুব বেশী সময় লাগলন না। অল্পক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি খ্রীষ্টানদের আয়ত্বে চলে এলো। খ্রীষ্টান কমাণ্ডার বললো, ‘মেয়েদের মেরো না, ওদের জীবিত গ্রেফতার করো’। লড়ে যাচ্ছে ওসমান। একজন খ্রীস্টান সৈনিক তরবারী নিয়ে এগিয়ে গেল তার দিকে। ওসমানের হাতে খঞ্জর। আচম্বিত সৈন্যটার পিঠে খঞ্জর আমূল বিদ্ধ হল। মৃত সৈনিকের তরবারী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল রিনি। ওসমানের সাহায্যে এগিয়ে গেল দ্রুত। কিন্তু কয়েকজন সৈনিক দ্রুত ছুটে এসে ঘিরে ফেলল তাদের। রিনি তরবারীটি এগিয়ে ধরল ওসমানের দিকে। তরবারী হাতে পেয়েই ওসমান প্রবল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়ল ওদের ওপর। চোখের পলকে দুজন সৈন্য লুটিয়ে পড়ল মৃত্যুর কোলে। রিনিও তার হাতের খঞ্জর ফেলে দিয়ে একটি তলোয়ার তুলে নিল। আক্রমণকারীরা মুহুর্তে সরে গেল নিরাপদ দূরত্বে। এখানে ওখানে লড়ে যাচ্ছিল মুজাহিদরা। খ্রীষ্টান কমাণ্ডার পেছনে সরে পড়া মেয়েদের ধরার জন্য একটা গুপকে পাঠিয়ে দিল। ওরা এগিয়ে গেল মেয়েদের দিকে। দুজন মেয়ে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ময়লার স্তূপের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল। সেখান থেকে ওরা দেয়াল ঘেষে অন্ধকারে লুকিয়ে এক পা এক পা করে এগুলো খ্রীষ্টান কমাণ্ডার যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেদিকে। কমাণ্ডার পাঁচিল থেকে হাত পাঁচেক দূরে একটা পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধের অবস্তা পর্যবেক্ষণ করছিল। মেয়ে দুজন সন্তর্পনে এসে কমাণ্ডারের ঠিক পেছনে পৌঁছে গেল। অল্পক্ষণের মধ্যেই নয়জন যুবতী ও এগারজন যুবকের দলটির ওপর আঘাত হানল খ্রীষ্টানরা। প্রথকে এগিলে গেল এগারজন যুবক। লড়াই করতে করতে ওরা সবাই শহীদ হয়ে গেল। এবার এগিয়ে এল মেয়েরা। ধরা না দিয়ে তারাও ঝাপিয়ে পড়ল খ্রীষ্টানদের ওপর। দেখতে দেখতে ওদের সাতজন শহীদ হয়ে গেল। ওসমান ও রিনি তখনো লড়ে যাচ্ছে একদল খ্রীষ্টানের সাথে। হঠাৎ একজন সৈনিকের তরবারীর আঘাত ঠেকাল সে নিজের তরবারী দিয়ে। এ সময় পাশ থেকে তাকে আঘাত করল আরেকজন। রিনির হাত থেকে তরবারী ছুটে গেল। চিৎকার দিয়ে আহত রিনি এক দিকে কাত হয়ে পড়ে গেল। রিনির হাত থেকে তরবারী ছুটে গেল। চিৎকার দিয়ে আহত রিনি এক দিকে কাত হয়ে পড়ে গেল। রিনির চিৎকার শুনে ওসমান সামান্য সময়ের জন্য ঘাড় ফিরিয়ে ছিল সেদিকে। একটা তরবারী ওসমানের বুক এফোড় ওফোড় করে দিল। শহীদ হয়ে গেল ওসমান। খ্রীষ্টান কমাণ্ডার তাকিয়েছিল ওসমানের পড়ন্ত দেহের দিকে। ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবতী দুজন বিদ্যুৎ বেগে এসে ঝাপিয়ে পড়ল তার ওপর। এক সাথে তার পিঠে আমূল বসিয়ে দিল দুটো খঞ্জর। কমাণ্ডার কোনো রকম বাঁধা দেয়ার সুযোগই পেল না। তার আগেই দেহ থেকে প্রাণ বায়ু উড়ে গেল তার। সব শেষ। বেঁচে এছে দু’জন আহত যুবতী। খ্রীষ্টান সৈন্যরা তাদের ঘেরাও করে ফেলল। একজন বলল, ‘অস্ত্র ফেলে দাও। যুদ্ধ শেষ। তোমাদের সবাই মারা পড়েছে। বাঁচতে চাইলে আত্মসমর্পন করো’। যুবতী সৈনিকদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমরা অনেক আগেই আত্মসমর্পণ করেছি, তবে তোমাদের কাছে নয়, আল্লাহর কাছে। তোমরা সরে দাঁড়াও। আমাদের চলে যেতে দাও’। কমাণ্ডার সংগীদের বলল, ‘খবরদার, ওদের কেউ হত্যা করো না। ওদের নিরস্ত্র করে বন্দী করো। আমাদের জানতে হবে ওদের সাথে আর কারা কারা আছে’। সৈন্যরা তাদের ঘেরাও সংকুচিত করে আনল। যুবতী দু’জন একজন তাকাল অন্যজনের দিকে। এরপর দু’জনই পলকে হাতের খঞ্জর নিজের বুকে বসিয়ে দিল। সৈন্যরা যখন তাদের ধরল, দেখা গেল দুজনই মারা গেছে। আহত রিনিকে গ্রেফতার করল সৈন্যরা। তাকে নিয়ে আসা হল সেনা হেডকোয়ার্টারে। তার ক্ষতে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে দেয়া শেষ হলে একজন সেনা অফিসার এসে কামরায় ঢুকল। ‘তুমি পাঁচিলের পাশে কি করছিলে? ওখানে গিয়েছিলে কেন?’ রিতি তার এ প্রশ্নের কোন জবাব দিল না। অফিসার আবার তাকে একই প্রশ্ন করলে তার জবাবে ও আবোল তাবোল বকতে লাগল। ডাক্তার এগিয়ে এলেন অফিসারের কাছে। বললেন, ‘মেয়েটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ওকে কোন প্রশ্ন করে লাভ হবে না’। দূর্গের দেয়াল ভাংগার আশা শেষ হয়ে গেছে। শহীদ হয়ে গেছে অভ্যন্তরের মুসলিম কমাণ্ডো মুজাহিদরা। কিন্তু সুলতান দূর্গ পদানত করার সংকল্পে অটল। বললেন, ‘আমরা আমাদের সর্বস্ব বাজী রেখেছি। কয়েকজন আত্মত্যাগী ভাইকে আমরা হারিয়েছি ঠিক, কিন্তু নিজেরা তো এখনো নিঃশেষ হইনি। ত্যাগের পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে বিজয় আমাদের হবেই। কারণ বিজয়ের মালিক আল্লাহ, আর আল্লাহ মোটেও দুর্বল নন। আমাদের ঈমানই আমাদের বিজয়ের গ্যারান্টি। কেবল তো অবরোধের দ্বিতীয় দিন গেল, আগামী কালও সূর্য উঠবে, এবং তারপর দিন, তারপর দিনও । বিজয়ের আগ পর্যন্ত আমার আমাদের ধৈর্য ও ত্যাগের পরীক্ষা দিয়েই যেতে থাকবো। প্রাসাদের ভেতর যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন খ্রীষ্টান সম্রাটগন। একজন বললেন, ‘মানুষ যত হুশিয়ারই হোক একবার না একবার ভুল সে করেই। এবার যে ভুল আয়ুবী করেছে তার মাশুল তাকে দিতে হবেই’। ‘কি ভুল করেছে সে?’ প্রশ্ন করলেন অপর এক সম্রাট। ‘অতীতের প্রতিটি লড়াইয়ে আয়ুবী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমরা ঠিকমত প্রস্তুত হওয়ার আগেই বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে সে। কিন্তু এবার তাকে আমারা বাগে পেয়েছি। এবার তাকে মুখোমুখি লড়তেই হবে’। অন্য এক সম্রাট বললেন, ‘আরে শুধু কি তাই? এবার আমরা যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি সেটা বলবেন না?’ তিনি সুবিধাজনক অবস্থার বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, ‘আমাদের যে ফৌজ বাইরে আছে তাদেরকে আমরা দুভাবে ভাগ করে নেবো। এক ভাগ থাকবে আয়ুবীর ফৌজের চোখের সামনে, আরেক ভাগকে সরিয়ে নেবো দূরে। এরপর আয়ুবী যখনি দূর্গে হামলা করবে তখন পাঁচিলের ওপর থেকে তার মোকাবেলা করবে আমাদের ভেতরের ফৌজ। আয়ুবীর চোখের সামনে বাইরে আমাদের যে ফৌজ আছে ওরা তখন পাশ থেকে আঘাত হানবে আয়ুবীর বাহিনীর ওপর। ফলে সে সেদিকেও মনযোগ দিতে বাধ্য হবে। অন্যান্য বারের মত বেপরোয়াভাবে একদিকে আর ছুটে যেতে পারবে না। এরপর আমরা চলবো। সেই চাল, যা সে এতদিন আমাদের ওপর চেলেছে। আয়ুবী ভাবতেও পারবে না আমাদের আরেকটা বাহিনী তাদের ঠিক পেছনে ওঁৎ পেতে আছে। দু পক্ষের সাথে লড়াই করে তারা যখন ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে পড়বে তখন অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসবে আমাদের মূল বাহিনী। তারা অতর্কিত পেছন থেকে ঝাপিয়ে পড়বে আয়ুবীর সেই ক্লান্ত শ্রান্ত বাহিনীর ওপর। সে হামলার মোকাবেলা করার সাধ্য আয়ুবীর কিছুতেই হবে না’। ফ্রান্সের সম্রাট বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। জীবনে এমন সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। সত্যি, এবার ওকে বাগে পাওয়া গেছে’। জামানীর সম্রাট বললেন, ‘ঠিক, বার বার ঘুঘু এসে খেয়ে যেতে দেবো নাকো আর ধান’। এরপর সেনাপতিদের নিয়ে বসলেন সম্রাটগণ। তাদেরকে বললেন এব পরিকল্পনার কথা। সেনাপতিরা একমত হলেন সম্রাটদের এ প্রস্তাবের সাথে। সম্রাটদের সামনে তারা সম্মিলিতভাবে প্রতিজ্ঞা করল, ‘কিছুতেই আমরা এ দূর্গ সালাহউদ্দীন আয়ুবীর হাতে তুলে দেবো না। পবিত্র যিশুর কসম, এ দেহে প্রাণ থাকতে আয়ুবীর সাধ আর পূরণ হতে দেবো না আমরা’। একদিকে আয়ুবীর সংকল্প আর অন্য দিকে খ্রীষ্টানদে প্রতিজ্ঞা। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা কইতে রাজি নয়। কেউ পিছু হটতেও রাজি নয়। এক নাজুক ও জটিল সময় উভয়ের সামনে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ও সংঘাতপূর্ণ হতে পারে এ ধারণাও নে কারো। সবাই অপেক্ষা করতে থাকল, দেখা যাক আগামী কাল কি ঘটে? #চলবে#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) ষষ্ঠ অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) পঞ্চম অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) চতুর্থ অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) তৃতীয় অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) ফেরাউনের গুপ্তধন (দ্বিতীয় অংশ)
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) ফেরাউনের গুপ্তধন
→ ক্রুসেড সিরিজ (৭) ষষ্ঠ অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৭) পঞ্চম অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৭) চতুর্থ অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৭) তৃতীয় অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...