বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটু সকাল সকাল আজ রাতুলের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।ঘুম থেকে জাগা পেয়ে রাতুল দেখে বাইরে চারিদিকে অবিরাম ধারায় বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে।শ্রাবণ মাস এখন তো বৃষ্টি হবেই।কিন্তু রাতুলের একটু মন খারাপ হয়ে গেল কারণ এই বৃষ্টিতে সারাদিন বাড়িতে থাকতে হবে।স্কুলেও যেতে পারবে না।বলে রাখি রাতুল এবার নবম শ্রেণীতে উঠেছে।সে খুব মেধাবী ছাত্র এবং সে প্রতিদিন স্কুলে যায়।তাই স্কুল যাওয়া কামাই হবে ভেবে এখনই রাতুলের মনে যেন কালো আধার জমে গেলো।সে মনে মনে পার্থনা করছে যেন বৃষ্টি থেমে যায় যাতে সে স্কুলে যেতে পারে।তো রাতুল এবার তার বিছানায় শুয়ে একটু জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখতে লাগলো।চারিদিক বৃষ্টির পানিতে ভিজে আছে যেন বৃষ্টি প্রক্রিতির সকল ময়লা ধুয়ে দিয়ে একেবারে পরিষ্কার করে দিচ্ছে প্রকৃতিকে।বৃষ্টির যেন থামার নাম নেই।বৃষ্টি তার গতি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।আর সেই বৃষ্টির পাণে রাতুলের দুই চোঁখ একনাগাড়ে তাকিয়ে আছে।এভাবে কিছুক্ষণ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থেকে রাতুল তার দৃষ্টি বৃষ্টির দিক থেকে সড়িয়ে নিলো।রাতুল বিছানা গুছিয়ে নিলো।তারপর মুখ ধুয়ে সকালের নাস্তা করতে গেল।নাস্তা করার সময় রাতুলের আম্মু রাতুল কে বলে দিল আজ আর স্কুলে যেতে না বাসাতেই থাকতে।রাতুল ও তার মায়ের কথা মেনে নিলো কারণ বৃষ্টি ও থামার নাম নিচ্ছে না বরং বৃষ্টি আরো জোড়ে পড়া শুরু করেছে।একেই বলে বর্ষাকালের বৃষ্টি।কখনো আস্তে কখনো জোড়ে এভাবে বিরামহীন ভাবে বৃষ্টি পড়েই যাবে।যাইহোক তারপর রাতুল সকালের নাস্তা করে আবার তার ঘরে আসলো।ঘরে আসার পর রাতুল আবার জানালার কাছে গিয়ে বাইরে বৃষ্টির দিকে একটু অভিমানের চোঁখে তাকালো।আজ বাইরে যেতে পারছে না, স্কুলে যাওয়া হলো না, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া হবে না এই জন্য তার মনের মাঝে কালো আধার জমেছে সেই কালো আধার অভিমানের বৃষ্টি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে।আর সেই অভিমানের বৃষ্টি গিয়ে বাইরের বৃষ্টির দিকে পড়ছে।কিন্তু এই অভিমান কি বৃষ্টি দেখবে সে তো নিজের আপন গতিতে এগিয়ে যাবে।এদিকে একটুপর রাতুলের মনের ভিতরে জমা হওয়া কালো মেঘ সড়ে যেতে লাগলো একটা চিন্তায়।তা হলো রাতুলের ঘরের পিছনে কিছু খোকশা গাছ আছে।আর একটা খোকশা গাছে টুনটুনি পাখি বাসা বানিয়েছে।দুইটি ছোট বাচ্চা আছে বাসায়।রাতুল সবসময় জানালা দিয়ে বাসাটা লক্ষ করে।আবার নিজে বাসার কাছে গিয়ে দেখে বাসার মধ্যে বাচ্চাগুলো ঠিক আছে কি না।আবার খেয়াল করে পাড়ার দুষ্টু ছেলেরা আবার বাসাটা ভেঙ্গে দেয় কি না।কিন্তু আজ যা বৃষ্টি হচ্ছে এতে রাতুলের চিন্তা হচ্ছে এটা ভেবে যে টুনটুনির বাসার আবার না কোনো ক্ষতি হয়ে যায়।রাতুল আরো ভাবছে যে আজ মনে হয় টুনটুনি পাখিটা বাচ্চাদের সাথে বাসাতেই আছে।বৃষ্টির জন্য মনে হয় আজ টুনটুনি পাখিটাও আমার মতো ঘরের মধ্যে বন্দি।বৃষ্টিটা থামুক তারপর না হয় একবার গিয়ে দেখে আসবো বাসাটা।তারপর এসব ভাবতে ভাবতে আর বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রাতুল এবার তার ঘড়ির দিকে তাকালো।তাকিয়ে দেখে সাড়ে দশটা বাজে।এই সময় রাতুলের প্রিয় কার্টুন গোপালভাড় হয়।কিন্তু স্কুলে যাওয়ার জন্য তার দেখা হয় না গোপালভাড়।আজ যেহুতু বৃষ্টির জন্য স্কুলে যেতে পারে নি তাই আজ রাতুল পুরো গোপালভাড় দেখবে বলে ঠিক করলো।তারপর রাতুল টিভির রুমে গিয়ে টিভিতে গোপালভাড় দিল।তারপর.............
গোপালভাড় দেখতে দেখতে দুপুর একটা বেজে গেল।রাতুলের আম্মু রাতুলকে ডেকে বাড়ির উঠানে বৃষ্টিতে গোসল করে নিতে বললো।রাতুলও রাজি বৃষ্টিতে গোসল করতে কারণ সে বৃষ্টিতে গোসল করতে পছন্দ করে।এবার রাতুল টিভি বন্ধ করে বৃষ্টিতে গোসল করতে গেল।দুপুরে যেন বৃষ্টি আরো জোড়ে পড়ছে।রাতুল উঠানের মাঝে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে এবং তার দৃষ্টিটা আছে আকাশের দিকে।মনে তার একটা প্রশ্ন যে আকাশ থেকে কেন এতো পানি পড়ছে?আকাশ আজ কেনো এত কান্না করছে?
আর সেটাই দেখার ও অনুধাবন করার জন্য রাতুল চোঁখ খুলে আকাশের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলো কিন্তু বৃষ্টির গতি অনেক হওয়ার জন্য সে চোঁখ খুলে রাখতে পারছে না।রাতুল চোঁখ বন্ধ করেই আকাশের দিকে চেয়ে থাকলো যেন মনের চোঁখ দিয়ে আকাশকে দেখছে।এভাবে আকাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর রাতুল তার চোঁখটা আকাশের দিক থেকে সড়িয়ে নিয়ে সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে চলে আসলো।তারপর জামাকাপড় পড়ে দুপুরের খাবার খেয়ে তার ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো।বৃষ্টি তখনও পড়ে যাচ্ছে কিন্তু এখন গতিটা একটু কম।রাতুলের বিরক্ত লাগছে কারণ আজ কি এভাবে সারাদিনই বৃষ্টি হবে।বৃষ্টি যে কখন থামবে রাতুলের মনে শুধু এই ভাবনা কাজ করছে।যাইহোক এবার রাতুল ঘুমানোর চেষ্টা করলো এবং কিছুক্ষণ চুপ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকার পর রাতুল ঘুমিয়ে গেল।তারপর.........
পড়ন্ত বিকেলে রাতুলের ঘুম ভাঙ্গলো।ঘুম ভাঙ্গার পর রাতুল জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে বৃষ্টি হচ্ছে।টুপটুপ করে বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে।থামার যেন নামই নাই।বাইরে আজ কেউ নাই সব ফাকা।সবাই যেন আজ যার যার নিজ ঘরে বন্দি।আজ তাইলে মাঠে খেলাও হবে না রাতুলের।প্রতিদিন বিকেলে রাতুল ও তার বন্ধুরা মাঠে খেলাধুলা করে।কিন্তু আজ কেউ তো বের হবে না বাসা থেকে এসব ভেবে রাতুলের মনটা খারাপ হয়ে গেল।এখন কিভাবে বিকালটা কাটাবে রাতুল ভাবতে লাগলো।কোনো গল্পের বই পড়বে কি?কিন্তু বই পড়তে এখন রাতুলের ইচ্ছা করছে না।তাই রাতুল হাত মুখ ধুয়ে টিভির রুমের গিয়ে আবার টিভি চালালো।কিছুক্ষণ টিভি দেখার পর এবার আর টিভি দেখার প্রতিও আগ্রহ পাচ্ছে না রাতুল।রাতুলকে কে যেন বাইরে অবিরাম ধারায় বয়ে চলা বৃষ্টিটা ডাকছে।এবার টিভি বন্ধ করে রাতুল তার ঘরের জানালার কাছে গিয়ে বাইরে তাকালো।বাইরে চারিদিকে তখন আধার ঘনিয়ে আসছে।অন্ধকার ছেয়ে ফেলছে চারিদিকে।রাতুল তার ঘড়িতে দেখলো সন্ধ্যা হতে এখনো কিছুটা সময় আছে কিন্তু আজ যেন সন্ধ্যা অনেক আগেই হয়ে আসছে।আর রাতুলও প্রকৃতিতে আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হওয়ার দৃশ্য দেখতে লাগলো।এভাবে নিরিবিলি একা একা প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার সময় বা ইচ্ছা কোনোটাই আসে না রাতুল এর।কিন্তু আজ বর্ষাকালের বৃষ্টিটা যেন প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিছে রাতুল কে।এ জন্য রাতুল মনে মনে খুশি হলো।একটু আগে সে বৃষ্টির জন্য বিরক্ত হচ্ছিলো আর এখন সে মনে মনে বৃষ্টিকে ধন্যবাদ দিচ্ছে।তো এভাবে আরো কিছুক্ষণ বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রাতুলের কানে দূর থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসতে লাগলো।তারপর রাতুল জানালা থেকে সড়ে এসে হাত মুখ দিয়ে তার পড়ার টেবিল এ গিয়ে পড়তে বসলো।এর মধ্যে আবার রাতুলের আম্মু এসে রাতুলকে চাঁ বিস্কুট দিয়ে গেল।চা বিস্কুট খাওয়ার পর রাতুল আবার তার পড়াশোনায় মনোযোগ দিল।বৃষ্টিটাও এর মধ্যে বাড়তে থাকলো।আর রাতুলের ও যেন আজ পড়ায় কোনো মন বসছে না।মনটা তার পড়ে আছে বাইরে হয়ে চলা বৃষ্টির দিকে।বইয়ের এই পাতা উল্টায় ওই পাতা উল্টায় কিন্তু রাতুলের পড়ায় কোনো মন বসে না।তাই রাতুল বই বন্ধ করে আবার জানালার কাছে গিয়ে বাইরের দিকে তাকালো।চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।বৃষ্টির জন্য আজ যেন চারিদিকে দ্রুত ঘন কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।টুনটুনি পাখিটার বাসাও দেখা যাচ্ছে না অন্ধকারের জন্য।হয়তো আজ টুনটুনি পাখিটা ও তার বাচ্চাগুলো দ্রুতই ঘুমিয়ে গেছে।এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ বৃষ্টির একটা ঝাপটা আমার ঘরের জানালা ভেদ করে আমার গায়ে এসে পড়লো।আমার সারা শরীর কাপুনি দিয়ে উঠলো।বৃষ্টি যেন আমায় তার পাশে পেয়ে তার পড়শের ছোয়া আমার গায়ে দিয়ে আমায় যেন স্বাগত জানালো।সত্যি এই অনুভূতি যেন বর্ণণাহীন।আবার এই বৃষ্টি মধ্যে বাইরে ঝিঝি পোকার ডাক যেন আলাদা একটা মাত্র যোগ করেছে।তারপর.............
এই বৃষ্টিময় পরিবেশে কতক্ষণ যে রাতুল বৃষ্টি পড়ার দিকে তাকিয়ে ছিল সে তা জানে না হঠাৎ রাতুলের আম্মুর ডাকে তার বাইরে বৃষ্টি দেখায় ছেদ পড়লো।তার আম্মু তাকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাক দিল।তো রাতুল এবার নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত নয়টা বাজে।মানে সন্ধ্যা থেকে এতক্ষণ সে বাইরে তাকিয়ে ছিলো সে টের পায় নি।সত্যি বৃষ্টি যেন আজ তার সবকিছু ভূলিয়ে দিচ্ছে।রাতুল যেন আজ বৃষ্টিকে পুরোপুরি তার মনে ধারণ করে বৃষ্টির মতো অবিরাম ছুটে চলছে।সেই ছুটে চলা বাহিরে নয় সেই ছুটে চলা মনের ভিতরে।আর আজ সেই ছুটন্ত মন তাকে প্রকৃতি দেখায় এতটাই উদ্ভুদ্ধ করেছে যে যার ফলে অনেকটা সময় চলে গেলেও সেই সময়টা তার কাছে কম মনে হয়েছে বা সময়ের সাথে সে আজ নিজেকে খাপখাওয়াতে পারে নি।যাই হোক রাতুল এবার রাতের খাবার খেতে চলে গেল।রাতে সবাই একসাথে খাবার খেয়ে রাতুল তার ঘরে চলে আসলো।ঘরে এসে রাতুল ঘড়িতে দেখে দশটা বাজে।এমনিতে রাতুল পড়াশোনা করে একটু রাত করে ঘুমায়।কিন্তু আজ পড়াশোনার প্রতি মন নেই রাতুলের।মন পড়ে আছে শুধু বাইরের অবিরাম ধারায় বয়ে চলা বৃষ্টির দিকে।রাতুল তার ঘরের জানালা লাগিয়ে দিলো কারণ বৃষ্টির জন্য অনেক ঠান্ডা লাগছে তার।তারপর ঘরের আলো নিভিয়ে কাথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো।
ঘর অন্ধকার বাইরে বৃষ্টির গতি আরো বেড়ে গেছে।চারিদিকে নিঃস্তব্ধ নিরবতা।বৃষ্টি আজ সবাইকে ঘরে তুলে রেখেছে।আজ যেন জলদি সবাই ঘুমিয়ে গেছে।বৃষ্টির কারণে প্রকৃতিও যেন আজ নিঃশ্চুপ হয়ে আছে এবং প্রকৃতি যেন আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে।এদিকে রাতুলও চুপচাপ শুয়ে থেকে বৃষ্টি পড়ার শব্দ শুনছে।এরপর বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে একসময় রাতুল ও গভির ঘুমে তলিয়ে গেলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now