বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি নিম গাছের প্রতি ভালোবাসা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X পড়ন্ত বিকেলে রোজকার মতো আজও বসে আছি নিম গাছের নিচে।যদিও সবার সামনে আসতে পারি নি আসতে হয়েছে লুকিয়ে।বাড়ির পিছনে চারিদিক জংগলে নোংরা হয়ে আছে তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে নিম গাছটা।আর আমি হচ্ছি সেফালি।একটি বাড়িতে বিয়ে হয়ে আসছি এক বছর হলো।এখনও আমার কোনো বাচ্চা হয় নি।এই এক বছরে আমার সখ্যতা গড়ে উঠেছে বাড়ির পিছনের নিম গাছটির সাথে।আসলে সখ্যতা গড়ে উঠার একটা বড় কারণ হলো নিম গাছটির মাঝে আমি যেন আমাকে খুজে পাই।কারণ আমি আমার শশুর বাড়িতে অক্লান্ত পরিশ্রম করি।কিন্তু আমার শশুর বাড়ির কেউ আমায় তেমন ভালোবাসে না।আমার থেকে তাদের সকল কাজ করিয়ে নিবে কিন্তু আমি কেমন আছি সেটা কেউ বোঝার চেষ্টা করে না।এমনকি আমার স্বামিও আমার খেয়াল রাখে না।যখন রান্না শেষে সবাইকে খাবার দেই সবাই যে যার মতো খেয়ে যায় তারপর আমি খাই কিন্তু আমি কি খেলাম সেটা কেউ দেখে না।ঠিক তেমনি নিম গাছটাও বাড়ির পিছনে জংগলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে।কেউ জংগল পরিষ্কার করে না তাও তার মধ্যে থেকেই নিম গাছটি বেড়ে উঠেছে এবং সে আমাদের উপকার করে যাচ্ছে।নিম গাছের পাতা,বাকল,নিম ফল,শিকড় সব কিছুর রয়েছে ঐষধি গূণ।পেটের কৃমি দূর করতে,দাতের রোগ,পোকার কামড়ে ব্যাথা দূরতে,চর্মরোগ দূর করা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে নিম গাছ আমাদের উপকার করে।কিন্তু আমরা নিমগাছের যত্ন করি না তাতে কি সে তার উপকার করা কিন্তু ভূলে যায় না।ঠিক তেমনি আমার শশুর বাড়ির লোকজন আমার খেয়াল না রাখলেও আমি সবার সেবা করি আর এতেই আমি খুশি।তাও বাইরে সবার সামনে হাসিখুশি থাকলেও ভিতরে মনে মনে যে একটা কষ্ট আছে সেটা আমি নিম গাছের কাছে গিয়ে বলি।কারণ আমার শশুর বাড়িতে নিম গাছটাই আমার একমাত্র বন্ধু।আমার স্বামির থেকে শুনেছি আমার বিয়ে হয়ে শশুর বাড়িতে আসার ও কয়েক বছর আগে থেকে নিম গাছটি এখানে আছে।যাইহোক নিম গাছটির নিচে বসে আমরা একে অপরের কষ্টগুলো ভাগ করে নি।নিম গাছটি তার পাতা আমার গায়ে ফেলে দিয়ে যেন আমার কথার জবাব দেয়।কিন্তু আমার নিম গাছের কাছে আসা আমার শশুর বাড়ির লোকজন পছন্দ করে না।আমার শাশুড়ি বলে এভাবে জংগলের মধ্যে নিম গাছের কাছে গিয়ে বসে থাকা নতুন বউয়ের জন্য ঠিক না।এসব ভালো না মানুষজন খারাপ ভাববে।কিন্তু তাও নিম গাছের কাছে না গেলে আমার যেন ভালো লাগে না।এজন্য আমার স্বামির হাতে অনেকবার মারও খেয়েছি।তাও সারাদিন কাজ করে যখন বিকেল এ একটু অবসর সময় পাই তখন লুকিয়ে নিম গাছের কাছে চলে আসি ঠিক তেমনি আজ বিকেলে নিম গাছটির কাছে বসে আছি।তো কতক্ষণ যে নিমগাছটির নিচে বসে ছিলাম জানি না।এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে আমায় যদি আমার শাশুড়ি বা শশুড় বাড়ির কেউ দেখে ফেলে তাইলে বাড়িতে সেই অশান্তির সৃষ্টি হবে।তাই বাড়ির দিকে চলে গেলাম।এভাবেই প্রতিদিন কাজ শেষে যখন সময় পাই নিম গাছের কাছে গিয়ে বসি।কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার চলে আসি যাতে কেউ বুঝতে না পারে।আবার নিজে যেইটুকু পারি নিম গাছের আশপাশ পরিষ্কার করি।এভাবেই চলে গেল আরো অনেকদিন। হঠাৎ একদিন রাতে আমার শশুড় শাশুড়ি আমার স্বামিকে গিয়ে বললো যে নিম গাছটি এভাবে জংগলের মধ্যে আছে।নিম গাছটি তো আমাদের আর কোনো কাজেও আসছে না তাই তুই গাছটি কেটে ফেল এতে আমাদের হাতে কিছু টাকাও আসবে আর তারপর না হয় সেই জায়গায় অন্য কোনো ফলের গাছ লাগিয়ে দিলি।আমি এই কথাটি দরজার আড়ালে লুকিয়ে থেকে শুনলাম।কথাটি শোনা মাত্র আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে গেল।যেই নিম গাছের কাছে গিয়ে আমার মনের মাঝে জমে থাকা কথাগুলো বলি।আর আমার সেই একমাত্রে বন্ধু নিম গাছকে কি না কেটে ফেলবে।তারপর আমি আমার শশুড়, শাশড়ি,ও স্বামির কাছে গিয়ে বললাম যেন নিম গাছটি না কাটে কিন্তু ওরা কেউ আমার কথা শুনলো না।আমার স্বামি তার বাবা মায়ের কথা শুনে নিম গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নিল।ওইদিন রাতে আমার ঘুম আসলো না।নিম গাছের কথা ভেবে শুধু চোঁখের পানি ফেললাম।পরেরদিন সকালে দেখি গাছ কাটার কয়েকজন লোক এসেছে।তাই দেখে আমি আবারও প্রতিবাদ করলাম যেন গাছ না কাটে।কিন্তু কেউ আমার কথা শুনলো না বরং উল্টে আমার স্বামি আমায় ধরে নিয়ে গিয়ে ঘরে আটকে রাখলো।আমি অনেকবার ঘরের দরজা ধাক্কালাম কিন্তু কেউ দরজা খুলে দিল না।ওদিকে নিম গাছাটি কাটা শুরু করে দিয়েছে।সেই শব্দ আমার কানে আসলো এবং নিম গাছকে হারিয়ে ফেলার বেদনায় আমার চোঁখ দিয়েও অবিরাম ধারায় পানি পড়া শুরু করলো।আমার মাথায় শুধু একটা কথাই আসছে তা হলো নিম গাছটির কতই না কষ্ট হচ্ছে।গাছের ও তো জীবন আছে তাইলে নিশ্চয়ই নিম গাছটির কষ্ট হচ্ছে।কিন্তু নিম গাছটি তো আর বলতে পারবে না যে আমায় কেটো না আমায় এখানে থাকতে দাও।হয়তো সে কথাটি তার ভাষায় বলে যাচ্ছে কিন্তু সেই ভাষাতো এই পাষাণ হৃদয়ের মানুষেরা বুঝবে না।কিন্তু এই নিম গাছ যে আমাদের এত সাহায্য করছে এটা কি কেউ দেখছে না।আমার শাশুড়ির একবার পক্স হয়েছিল তখন নিম গাছের পাতা পানিতে ডলে সেই পানি দিয়ে আমার শাশুড়ি গোসল করেন।কিছুদিন পর আমার শাশুড়ির গায়ের পক্স কমে যায় এবং তিনি সুস্থ হয়ে যান।আর আজ সেই শাশুড়ি বলেন যে নিম গাছটি আমাদের কোনো উপকার করে নি।সত্যি আমরা মানুষ কেনো এত অকৃতজ্ঞ? নিম গাছটি কাটা শেষে যখন নিম গাছটির সব অংশগুলো নিয়ে চলে গেলো তখন আমার ঘরের দরজা খুলে দেওয়া হল।দরজা খুলে দিতেই আমি দৌড় দিয়ে নিম গাছটি যেখানে ছিল সেখানে গিয়ে দেখি জায়গাটা ফাকা।গাছ কাটার শুধু চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি।যেই নিম গাছের কাছে আমার মনের জমে থাকা কষ্টগুলো বলতাম আর আজ সে আর নেই।এসব ভেবে একনাগাড়ে চোঁখের পানি ফেলেই যাচ্ছিলাম।নিম গাছটি কাটার পর আমি অনেক চুপচাপ হয়ে যাই এবং নিরবে সংসারের কাজ করে যাই।কারও সাথে তেমন কথা বলি না।এভাবেই চলে গেল আরো কয়েক মাস।এখন আমি একটু স্বাভাবিক হয়েছি।আসলে স্বাভাবিক তো হতেই হবে কারণ আমি একটা পরিবারের বউ।সেই পরিবারের প্রতি আমার দায়িত্বগুলো আমাকে তো পালন করতেই হবে।কিন্তু সেই নিম গাছের কথা আমি এখনও ভুলি নাই।যখন সময় পাই তখন নিম গাছের সেই জায়গাটা তে যাই কিন্তু নিম গাছটিকে আর দেখি না।সেই জায়গায় জংগল গজিয়েছে শুধু নিম গাছটাই হারিয়ে গেছে।নিম গাছ হারিয়েছে কিন্তু একটি শিক্ষা দিয়ে গেছে তা হলো একটি বৃক্ষ নিরবে মানুষের উপকার করে যায় আর সারাজীবন তা করে যাবে।মানুষের মত উপকারির অপকার করা বৃক্ষরা শিখে নি বরং তারা ফুল,ফল,শিকড়, ইত্যাদি সবকিছু দিয়েই উপকার করেই যাবে।বৃক্ষের এই শিক্ষা মানুষ স্বীকার করুক বা না করুক মানুষ কিন্তু ঠিকই বৃক্ষ থেকে তার সুবিধা ভোগ করে যাবে এবং বৃক্ষ সেই সুবিধা মানুষকে দিয়েই যাবে।আর যখন মানুষ আর সুবিধা পাবে না তখন বৃক্ষের উপকার ভুলে গিয়ে বৃক্ষটিকে কেটে ফেলবে।হয়তো এটাই দুনিয়ার নিয়ম কিন্তু এই নিয়মের ফাকেও কিছু ভালোবাসা, কিছু মায়া থেকে যাবে যা বাইরে প্রকাশ পাবে না।যা শুধু মনের গভিরে চাপা কষ্ট হিসেবে থেকে যাবে বা হয়তো লোকচক্ষুর আড়ালে কান্না হয়ে ঝড়ে পড়বে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...